//

//

আমি কেন ইদ বানানে হ্রস্ব-ই সমর্থন করি

Jihan RH
ইদ, ইমান, নবি, রসুল, ইসা শব্দগুলো বাংলায় এসেছে বিদেশি ভাষা থেকে। তা যেকোনো ভাষা থেকেই আগত হোক না কেন এখন তা বাংলা শব্দ, বাংলা ভাষার শব্দ।
আরবি ভাষায় নাকি শব্দগুলোর উচ্চারণে দীর্ঘস্বর ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এক ভাষার শব্দ যখন অন্য ভাষায় প্রবেশ করে তখন উৎস ভাষার উচ্চারণরীতিকে বহন করে নিয়ে যায় না। উৎস ভাষায় শব্দটি যাই হোক না কেন তার উচ্চারণ পরিবর্তিত হতে পারে। এমনকি পুরো শব্দ ওলটপালট হতে পারে।
Jihan RH

চীনা শব্দ তাইফাং, জাপানিতে হয় তাইফুন, আরবিতে টুফুন, ফারসিতে তুফান। শেষে বাংলাতেও তুফান। কবুল, কলম, মরসিয়া, এলাকা ইত্যাদি বাংলায় এসেছে আরবি থেকে। বাংলায় এদের উচ্চারণ বদলে গেছে। আরবি অলাক়া (ealaqa) বাংলায় হয়েছে এলাকা। কবুল, কলম এর মূল আরবি উচ্চারণ বাংলা বর্ণমালায় দেখানো কঠিন। উল্লেখ্য, কলম মূলত গ্রিক শব্দ কলমোস থেকে আরবিতে এসেছে; তারপর বাংলায়। এখানে তো উৎস ভাষার বানানরীতি, উচ্চারণরীতির দোহাই দিয়ে অর্থ বিকৃতির শঙ্কা করা হয় নি।মূল আরবিতে ইদ, নবি শব্দগুলোর উচ্চারণ যাই হোক না কেন ওগুলো বাংলা ভাষাতে প্রবেশ করেছে বাংলা ভাষার শব্দ হিসেবে। বাংলা ভাষার শব্দে আরবি উচ্চারণরীতি প্রযোজ্য নয়।

আরবি ব্যাকরণে কলকলা বলে একটা ব্যাপার আছে। কলকলা যুক্ত কোনো আরবি শব্দ যদি বাংলায় আসে (যেমন: কলম, কবুল) তবে তো সেই শব্দকে কলকলাসহ উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ বাঙালিই তা পারবে না। আবার আরবি ভাষার ‘ভ’ [bh] ধ্বনিটি নেই। তাহলে বাংলা ভালোবাসা শব্দটি যদি আরবিতে প্রবেশ করে তাহলে কীভাবে উচ্চারিত হবে? এজন্য তো বাংলা ভাষা থেকে আরবিতে রপ্তানি হবে না। তারা উচ্চারণ করবে আরবি বর্ণ ب (Arabic Letter Beh) দিয়ে— বালোবাসা। এখন তো এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতেই পারে এতে ভালোবাসা এর অর্থ বিকৃতি হচ্ছে। কিন্তু তার কোনো অবকাশ নেই। অনুরূপভাবে ইদ, নবি ইত্যাদি বানানে আরবি উচ্চারণের অজুহাত অপ্রয়োজনীয়। একটি ভাষাকে অন্য আরেকটি বহুদূরের ভাষার ব্যাকরণ শাসন বা শোষণ করবে সেটি কোনো ভাষার জন্য সুখকর নয়।
এর চেয়ে একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে— বাংলা ভাষার জন্মকাল থেকেই ই ঈ এর উচ্চারণ একই। আমি লিখলেই যে দীর্ঘ করে উচ্চারণ করব তা নয়। আপনি ইদ নবি ই ঈ যাই দিয়ে লিখুন না কেন দুইক্ষেত্রে উচ্চারণ একই করবেন— হ্রস্বস্বর। কারণ বাংলায় ই ঈ এর উচ্চারণ দীর্ঘ না হ্রস্ব হবে তা নির্ধারিত হয় ধ্বনিটি শব্দের কোথায় উচ্চারিত হচ্ছে তার উপর। বাংলা ভাষায় সকল অ-তৎসম শব্দের বানানে হ্রস্বস্বর ব্যবহৃত হচ্ছে। সে অনুযায়ী বানান দাঁড়াচ্ছে ইদ, ইমান, নবি। তবে ঈদ বানানটি প্রথাগত; আমরা দেখতে অভ্যস্ত। গরু বানানটি ব্যাকরণিকভাবে অশুদ্ধ হলেও শুদ্ধ বানান গোরু কেবল ব্যাকরণিকভাবেই শুদ্ধ হয়ে আছে; কেউ ব্যবহার করে না।
—————————————————————————————————————————————————–

All Link

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

Share This
Language
error: Content is protected !!