//

//

গোসল ও স্নান এবং শ্রদ্ধা ও মর্যাদা

ড. মোহাম্মদ আমীন

গোসল ও স্নান

বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত আরবি ‘গোসল’ শব্দের অর্থ জল দিয়ে শরীর প্রক্ষালন, অবগাহন, স্নান ইত্যাদি। অন্যদিকে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেব ব্যবহৃত সংস্কৃত (√স্ন+অন) স্নান শব্দের অর্থ— জলে অবগাহন, শরীর ধৌতকরণ, গোসল। অভিধার্থ পর্যালোচনায়

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

দেখা যায়— শব্দ দুটি সমার্থক। তবে ব্যবহারকারীর ধর্মীয় বিশ্বাস শব্দদুটোর প্রয়োগকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। সাধারণত মুসলিমরা ‘গোসল’এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ‘স্নান’ শব্দটি অধিক ব্যবহার করে।

এর কারণ হচ্ছে ‘গোসল’ আরবি শব্দ এবং ‘স্নান’ সংস্কৃত শব্দ। স্নান নিয়ে বাংলায় আরও কিছু শব্দ আছে। যেমন— স্নানযাত্রা (জ্যৈষ্ঠের পূর্ণিমায় জগন্নাথের স্নান উপলক্ষ্যে পালিত উৎসব), স্নানাগার (কলঘর, গোসলখানা), স্নানীয় (স্নানের উপযুক্ত, স্নান সম্বন্ধনীয়), স্নানোদক ( স্নানের জল, গোসল করার জল), স্নাপক (যে ব্যক্তি স্নান করায় এমন), স্নাপন ( স্নান করানোর কাজ), স্নাপিত (স্নান করানো হয়েছে এমন, গোসল করানো হয়েছে এমন)। স্নান সম্পর্কিত আর একটি উল্লেখযোগ্য শব্দ হলো স্নাতক (ডিগ্রি)। যদিও এখন শব্দটির সঙ্গে স্নানের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। 
স্নান সহযোগে গঠিত এই শব্দগুলো সংস্কৃত। তাই এসব শব্দের সঙ্গে আরবি গোসল যায় না। আরবি গোসল ও ফারসি খানা শব্দের মিলনে গঠিত একটি শব্দ আছে— গোসলখানা। এছাড়া গোসল নিয়ে গোসল সম্পর্কিত আর কোনো শব্দ নেই। গোসাঘর নামের একটি শব্দ আছে। সেটি কিন্তু গোসলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, গোসা বা রাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজা জমিদার প্রমুখ ক্রোধান্বিত হলে মহিলারা অন্তঃপুরের যে গৃহে আশ্রয় নিতেন সেটি গোসাঘর নামে পরিচিত ছিল।
শ্রদ্ধা ও মর্যাদা
বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘শ্রদ্ধা [শ্রথ্+√ধা+অ+আ(টাপ্)]’ শব্দের অর্থ— কোনো ব্যক্তির প্রতি) বিশেষ সম্মান, ভক্তি, সমীহ। গভীর আস্থা, নির্ভরতা। নিষ্ঠা। অন্যদিকে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘মর্যাদা [মরি+আ+√দা+অ+আ(টাপ্)]’ শব্দের অর্থ— সম্মান (মর্যাদারক্ষা)। গৌরব (বংশমর্যাদা)। সম্ভ্রমপূর্ণ। ন্যায়সংগত নীতি (মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার)। দক্ষিণা। অর্থ

প্রকাশক: পুথিনিলয়

পর্যালোচনায় দেখা যায়, শব্দ দুটো সর্বাংশে সমার্থক নয়, তবে পরস্পর নির্ভরশীল।  শ্রদ্ধা ও মর্যাদা উভয় শব্দের একটি সাধারণ অর্থ সম্মান। এ হিসেবে কোথাও কোথাও ‘শ্রদ্ধা’ ও ‘মর্যাদা’ সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তা বিরল।  শব্দদুটো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাক্যের গঠন অভিন্ন রাখা যায় না। যেমন: “আমি তাকে শ্রদ্ধা করি” বলা  গেলেও “আমি তাকে মর্যাদা করি” বলা শ্রুতিমধুর মনে হয় না। সেক্ষেত্রে বলতে হয় তার প্রতি আমার মর্যাদা আছে। যার মর্যাদা আছে বা যিনি মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছেন তিনি শ্রদ্ধা অর্জনের যোগ্য। যেমন: মর্যাদাবান ব্যক্তি শ্রদ্ধার্হ। শ্রদ্ধার ফল হলো— মর্যাদা। তাই ‘শ্রদ্ধা’ ও ‘মর্যাদা’ সমার্থক মনে হলেও বাক্যে সর্বত্র একই অর্থ প্রকাশে ব্যবহার করা মঞ্জুপ্রকাশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় না।

——————————————————————————————————————————————-

All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

Share This
Language
error: Content is protected !!