//

//

দৈনন্দিন বিজ্ঞান : বর্ণালী রং : জাতীয় রং: রঙধনু : শব্দ : শব্দের গতি : ইনফ্রা সাউন্ড, আল্ট্রা সাউন্ড ও সুপারসনিক

বর্ণালী রং জাতীয় রং রঙধনু : শব্দ শব্দের গতি ইনফ্রা সাউন্ড, আল্ট্রা সাউন্ড  সুপারসনিক

ড. মোহাম্মদ আমীন

দৃশ্যমাণ বর্ণালী
দৃশ্যমান বর্ণালি বা দৃশ্য বর্ণালি বা আলোক বর্ণালি হচ্ছে তড়িচ্চুম্বকীয় বর্ণালীর সেই অংশ যা মানুষের চোখ দেখতে পায় এবং চিহ্নিত করতে পারে। এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িচ্চুম্বকীয বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বা শুধু আলো অভিহিত করা হয়। মানুষের চোখ ৩৮০ থেকে ৭৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে সাড়া দেয়। কম্পাঙ্কে এই সীমা ৭৯০ টেরাহার্জ থেকে ৪০০ টেরাহার্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। মানুষের চোখ সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫৫ ন্যানোমিটার পর্যন্ত দেখতে পারে যা দৃশ্যমান বর্ণালির সবুজ রঙের এলাকায় অবস্থিত। দৃশ্যমান বর্ণালীর ক্ষুদ্রতম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে রং বেগুনি এবং বৃহত্তম তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাল। তরঙ্গ দর্ঘ্য বাড়লে শব্দের তীক্ষèতা কমে যায়।

রংধনু
রংধনু, একটি দৃশ্যমান ধনু আকৃতি আলোর রেখা যা বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত জলকণায় সূর্যালোকের প্রতিফলন এবং প্রতিসরণের ফলে ঘটিত হয়। সাধারণত বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে রংধনু দেখা যায়। রংধনুতে সাতটি রঙের সমাহার দেখা যায়। বর্ণালীদৈর্ঘ্যরে ক্ষুদ্রতর দৈর্ঘ্য হতে বৃহত্তরতর বিবেচনায় রং সাতটি হলো : বেগুনী (violet), নীল (blue), আসমানী (indigo), সবুজ (green), হলুদ (yellow), কমলা (orange) ও লাল (red); বাংলাতে এই রংগুলোকে তাদের আদ্যক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে বলা যায় বেনীআসহ কলা।

মৌলিক রং
লাল (red), সবুজ (green), নীল (blue) হচ্ছে মৌলিক রং। সংক্ষেপে বলা হয় : RGB । পৃথিবীর অসংখ্য রং এই তিন রং হতে সৃষ্ট। দর্শনযোগ্য টিভি, ডিজিটাল ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, এলসিডি স্ক্রিন, এল ইডিটিভি প্রভৃতি মাধ্যম B তার রং দেখানোর ক্ষেত্র এই RGB সম্পর্কিত তত্ত্ব অনুসরণ করে। ব্যতিক্রম হচ্ছে ছাপাখানার বর্ণীয় ফর্মূলা। ছাপাখানায় মূল রং CMYK।

জাতীয় রং
জাতীয় রঙ হচ্ছে একটি দেশের জাতীয় প্রতীকসমূহের একটি অংশ। অনেক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে “জাতীয় রঙ” হিসাবে রঙের একটি সেট গ্রহণ করেছে। আবার কোনো কোনো দেশ জাতীয় পতাকার রঙকেই জাতীয় রঙ হিসেবে ব্যবহার করে। জাতীয় রঙ প্রায়ই বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে জাতীয় পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শব্দ
শব্দ হলো এক ধরনের তরঙ্গ যা পদার্থের কম্পনের ফলে সৃষ্টি হয়। মানুষের কানে এই কম্পন ধৃত হলে শ্রুতির অনুভূতি সৃষ্টি হয়। শব্দতরঙ্গ বায়বীয়, তরল এবং কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। মাধ্যমের কণা বা স্তরসমূহের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এই তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। শব্দের প্রতিফলন ও প্রতিসরন ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাতাসে শব্দের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৬৮.১ মাইল এবং প্রতিসেকেন্ড ৩৪৩.৪ মিটার। পদার্থের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার সময় ওই পদার্থের সকল কণা স্পন্দিত হতে থাকে। প্রতি সেকেন্ডে একবার স্পন্দনকে বলা হয় ১ হার্জ। সকল স্পন্দন মানুষের কানে ধরা পড়ে না তথা শ্রুতির অনুভূতি সৃষ্টি করে না। শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র অডিও মিটার।

ইনফ্রা সাউন্ড, আল্ট্রা সাউন্ড এবং সুপারসনিক
সাধারণভাবে মানুষের কানে ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ স্পন্দনের শব্দ তরঙ্গ শ্রুত হয়। পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যকর শব্দের তীব্রতা- ৬০ ডেসিবল। এই পরিধির কম হলে শব্দকে হলা হয় ইনফ্রা সাউন্ড এবং এর বেশি হলে বলা হয় আল্ট্রা সাউন্ড। কোন বস্তু শব্দের চেয়ে বেশী গতিতে বাতাসের মধ্য দিয়ে ধাবিত হলে তাকে বলা হয় সুপারসোনিক।

শব্দের গতি
শব্দ কোনো মাধ্যমে একক সময়ে যে দুরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বলে। এস্ আই পদ্ধতিতে শব্দের গতির একক মিটার প্রতি সেকেন্ড(মিটার/সেকেন্ড)। শব্দ সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। শব্দের বেগ জড় মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাই বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ বিভিন্ন হয়। এজন্য কঠিন, তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগের তারতম্য হয়। ২০ডিগ্রিC তাপমাত্রায় বায়ুতে, পানিতে ও লোহায় শব্দের বেগ যথাক্রমে ৩৩২মি/সে, ১৪৫০মি/সে ও ৫১৩০মি/সে। অর্থাৎ বায়ুতে শব্দের বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি এবং কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি। মাধ্যমের প্রকৃতি ছাড়াও তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতার উপরেও শব্দের বেগ নির্ভর করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বায়ুতে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায় এবং একইভাবে বায়ুর আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলেও শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।


দৈনন্দিন বিজ্ঞান : অক্সিজেন আলো আলোর বেগ রঙ আলোর পথ ও আলোর নীতি

কীভাবে হলো দেশের নাম

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

শুদ্ধ বানান চর্চা/১

শুদ্ধ বানান চর্চা/২

শুদ্ধ বানান চর্চা/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা/৪

 

Share This
Language