বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/৫

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস

ড. মোহাম্মদ আমীন

জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস : ২রা এপ্রিল

১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে জাতিসংঘের আহ্বানে ৩রা ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধীদিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশে জাতিসংঘের নির্দেশ অনুসারে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হচ্ছে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। প্রতিবছরই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য একেকটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়। অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকে প্রতিবছর এই দিবসটির সঙ্গে মিল রেখে একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন করা হয়।

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ : ১৪ই এপ্রিল

বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিন হিসেবে এদিন বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতিবছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়।

মুজিবনগর দিবস : ১৭ই এপ্রিল

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকার, গঠিত হয়। যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিলো। শেখ মুজিবুর রহমান এই সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। ওই দিনটিকে স্মরণ এবং কুশীলবদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এই দিবসে।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য সেফটি দিবস : ২৮  শে এপ্রিল

শ্রমিকের সুস্থতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের সঙ্গে উৎপাদনশীলতা নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। বিশ্ববাণিজ্যের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা সৃষ্টির বিষয়ে সর্বজনীন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৮ শে এপ্রিল দিবসটি পালন করা হয়।

মহান মে দিবস : ১লা মে

এটি মহান মে দিবস বা বিশ্ব শ্রমিক দিবস নামেও পরিচিত। শ্রমিকদের ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ওই বছর ১লা মে শ্রমিকরা ধর্মঘট আহবান করে। প্রায় তিন লাখ মেহনতি মানুষ ওই সমাবেশে অংশ নেয়।  পুলিশ গুলি চালালে ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়। আহত ও গ্রেফতার হন আরো অনেক শ্রমিক। পরবর্তীকালে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মধ্য থেকে ছয়জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। কারাগারে বন্দিদশায় এক শ্রমিক নেতা আত্নহননও করেন। এতে বিক্ষোভ আরো প্রকট আকারে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই জুলাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৮৯০ সাল থেকে ১ মে বিশ্বব্যাপী পালন হয়ে আসছে ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’।  বর্তমানে মে দিবসের সম্মানার্থে বাংলাদেশেও  ১ মে সরকারী ছুটির দিন। এদিন শ্রমিকরা মহা উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পালন করে মে দিবস।

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/১

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/২

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/৩

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/৪

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/১

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/২

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/৩

বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস/৪

error: Content is protected !!