//

//

মিথস্ক্রিয়া এবং শ্রম ও পরিশ্রম

ড. মোহাম্মদ আমীন

মিথস্ক্রিয়া 

মিথস্ক্রিয়া এবং শ্রম ও পরিশ্রমের পার্থক্য

মিথস্ক্রিয়া শব্দটি ইংরেজি ‘interaction’ শব্দের বাংলা পারিভাষিক প্রতিশব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘মিথস্ক্রিয়া(মিথস্+ক্রিয়া)’ শব্দের অর্থ— পারস্পরিক ক্রিয়া, আন্তক্রিয়া। চাকুরি জীবনে

পাঞ্রেরী পাবলিকেশন্স লি.

একই ক্যাডারের বিভিন্ন সদস্য কিংবা বিভিন্ন ক্যাডারের সদস্যদের নিয়ে যেসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছি— সেই অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণার্থীদের পারস্পরিক মেলামেশাকে প্রশিক্ষকগণ মিথস্ক্রিয়াবলতেন।ওখানেই শব্দটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। ‘মিথস্ক্রিয়া’ শব্দের প্রায়োগ বিবেচনা করে বলা যায়— এক বা একাধিক উদ্দেশ্য সাধানের লক্ষ্যে একাধিক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা, পর্যালোচনা বা এরূপ সাংস্রবিক কার্যক্রমকে মিথস্ক্রিয়া বলে। এর উদ্দেশ্য পরস্পরের মধ্যে জ্ঞান, ধারণা, অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ইত্যাদি বিনিময়ের মাধ্যমে প্রত্যেকে নিজ নিজ বলয়ে প্রত্যাশিত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়া এবং উদ্দেশ্য হাসিলের পথ বিস্তৃত ও প্রসারিত করা। মিথস্ক্রিয়ার উদ্দেশ্যই হলো অংশগ্রহণকারী সবার পরস্পর সহযোগিতা এবং পরস্পরের অভিজ্ঞতার আদানপ্রদান।

পারস্পরিক এই সহযোগিতা কাউকে কোনো ধরনের ক্ষতি করে না বরং; উপকার করে এবং উদ্দেশ্যও থাকে এমন। সাধারণত মিথস্ক্রিয়া প্রত্যক্ষ হয়, তবে অধুনা দূরদর্শনের মাধ্যমেও মিথস্ক্রিয়া এবং তার উদ্দেশ্য সাধন করা যায়। পারস্পরিক আচরণগত প্রভাব এবং তৎমাধ্যমে কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জনকেও মিথস্ক্রিয়া বলা যায়। মিথস্ক্রিয়ার ফলে ক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীগণ পরস্পরের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে কিংবা পরস্পরের জ্ঞান-ধারণা ইত্যাদির বিনিময়ের মাধ্যমে ঋদ্ধ হতে পারে। মূলত এটিই মিথস্ক্রিয়ার উদ্দেশ্য এবং কারণ ও ফল।

শ্রম ও পরিশ্রম
বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘পরিশ্রম(পরি+√শ্রম্+অ)’ শব্দের অর্থ শ্রম, মেহনত, খাটুনি। আয়াস। ও ক্লেশ। অন্যদিকে বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত ‘শ্রম (√শ্রম্+অ)’ শব্দের অর্থ দৈহিক খাটুনি, মেহনত (শ্রমজীবী)। অভিধার্থ বিবেচনায় উভয় শব্দ সমার্থক। তবে বাক্যে শব্দদুটোর ব্যবহার সবসময় সমার্থে ব্যবহার করা হয় না। উপসর্গ যুক্ত হওয়ার পর বাক্যের অর্থ এবং

পুথিনিলয়

প্রায়োগিক উদ্দেশ্যের কিছুটা হলেও পরিবর্তন ঘটে। দৈহিক বা শক্তিনির্ভর পেশায় সাধারণত ‘শ্রম’ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পেশায় ‘পরিশ্রম’ শব্দটির অধিক প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। যেমন: শ্রমজীবী হয়, কিন্তু পরিশ্রমজীবী হয় না; শ্রমঘন হয়, কিন্তু পরিশ্রমঘন হয় না। বুদ্ধিবৃত্তিক কাজকে পরিশ্রম বলা হলেও ‘শ্রম’ বলার রেওয়াজ খুব বিরল। তাই বুুদ্ধিবৃত্তিক কাজে ‘শ্রম’ শব্দের চেয়ে ‘পরিশ্রম’ শব্দটি অধিক প্রয়োগ হয়। অন্যদিকে, দৈহিক কর্মের ক্ষেত্রে ‘শ্রম’ শব্দটির অধিক ব্যবহার দেখা যায়। একজন ডাক্তার বলতে পারেন “সারাদিন পরিশ্রম করে ক্লান্ত”, কিন্তু সাধারণত “সারাদিন শ্রম করে ক্লান্ত” বলেন না। অন্যদিকে, একজন শ্রমিক বলতে পারেন “সারাদিক পরিশ্রম করে ক্লান্ত বা সারাদিন শ্রম করে ক্লান্ত।” অতএব, সকল শ্রমই পরিশ্রম, কিন্তু সকল পরিশ্রম শ্রম নয়। এজন্য বলা হয়, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। এ পরিশ্রমের মধ্যে দৈহিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক তথা ‘শ্রম’ ও ‘পরিশ্রম’ দুটোই নির্দেশিত।


All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

Share This
Language
error: Content is protected !!