অঙ্ক ও সংখ্যা লেখার নিয়ম, কারণ-সহ শুদ্ধ বানান, অঙ্ক্য ও অঙ্ক্য

ড. মোহাম্মদ আমীন

অঙ্ক ও সংখ্যা লেখার নিয়ম, কারণ-সহ শুদ্ধ বানান, অঙ্ক্য ও অঙ্ক্য

অঙ্ক বা সংখ্যা লেখার নিয়ম

সংখ্যার পূরকে কোনোটির পর (১ম), কোনোটির পর (২য়), কোনোটির পর র্থ (৪র্থ), কোনোটির পর (২০শ) আবার কোনোটির পর তম (৮৭তম) প্রভৃতি বর্ণ বা যুক্তব্যঞ্জন বসে। কিন্তু কেন বসে? এ বর্ণচিহ্নগুলো হচ্ছে অঙ্ক বা সংখ্যার পূরক নামের সংক্ষিপ্ত রূপ। বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো?
 
১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১১৮ ৩০৪০ ৪৮ ৪৯৫০ ৫৯৯০ ৯৩১০০ ১০০০ প্রভৃতি হচ্ছে সংখ্যা। এসব সংখ্যার পূরক হলো যথাক্রমে— প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম ষষ্ঠ সপ্তম অষ্টম নবম দশমএকাদশ অষ্টাবিংশ ত্রিংশচত্বারিংশ অষ্টচত্বারিংশঊনপঞ্চাশত্তমপঞ্চাশত্তমঊনষষ্টিতমনবতিতম ত্রিনবতিতশততম এবং সহস্রতম। এই পূরকসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ যথাক্রমে— ১ম ২য় ৩য় ৪র্থ ৫ম ৬ষ্ঠ ৭ম ৮ম ৯ম ১০ম ১১শ১৮শ ৩০শ ৪০শ ৪৮শ ৪৯তম ৫০তম ৫৯তম ৯০তম ৯৩তম ১০০তম ১০০০তম। সংখ্যার সঙ্গে পূরকের পূর্ণ নামের শেষ অংশটি দিয়ে সংক্ষিপ্ত পূরক লেখা হয়। যেমন—
১ প্রথম (১ম)
২ দ্বিতীয় (২য়)
৪ চতুর্থ (৪র্থ)
৫ পঞ্চম (৫)ম
৬ ষষ্ঠ (৬ষ্ঠ)
১১ একাদশ (১১শ)
৩০ ত্রিংশ (৩০শ)
৪৯ ঊপঞ্চাশত্তম>ঊনপঞ্চাশত্‌তম (৪৯তম)।
৫০ পঞ্চাশত্তম> পঞ্চাশত্‌তম (৫০তম)
৫৯ ঊনষষ্টিতম (৫৯তম)
১০০০ সহস্রতম (১০০০তম)
 

কারণ-সহ শুদ্ধ বানান

অংক নয়, অঙ্ক।ক-বর্গের ঙ। তেমনি: অঙ্কন, অঙ্কুর।
অংশীদারিত্ব নয়, অংশীদারত্ব (অংশীদার+ত্ব)।
অকষ্মাৎ নয়, অকস্মাৎ ( কারণ সাৎ প্রত্যয়ের স, ষ হয় না)।
অচিন্ত্যনীয় নয়, অচিন্তনীয়।
অন্তর্ভূক্ত নয়, অন্তর্ভুক্ত (ভুক্ত বানানে সর্বদা ভু হয়। ভূত বানানে হয় ঊ-কার)।

অঙ্ক্য ও অঙ্ক্য

অঙ্ক্য ভুক্তি দুটি। ১. অঙ্ক্য (√অঙ্ক্+য) অর্থ (বিশেষণে) সংখ্যেয়, গণনীয়; অঙ্কনীয়। অঙ্ক্‌ ধাতু যোগে গঠিত বলে এর অর্থে গাণিতিক বিষয় জড়িত। ২. অঙ্ক্য (অঙ্ক+য) অর্থ (বিশেষ্যে) কোলের ওপর রেখে বসে বাজানো হয় এমন বাদ্যযন্ত্র; পাখোয়াজ।
কোথায় কোন অর্থ হবে তা বাক্যের ওপর নির্ভর করে। এজন্য পদার্থ সুনির্দিষ্ট করে বলা যায়, কিন্তু শব্দার্থ সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না।
সূত্র: নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন।
 
 
প্রয়োজনীয় লিংক

অজানা অনেক মজার বিষয়

 
এই পোস্টের লিংক:  https://draminbd.com/অঙ্ক-ও-সংখ্যা-লেখার-নিয়ম-ক/
error: Content is protected !!