অজুহাত-এর কয় হাত : শুবাচির পোস্ট বা যযাতির মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য

ড. মোহাম্মদ আমীন

অজুহাত-এর কয় হাত : শুবাচির পোস্ট বা যযাতির মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য

অজুহাতের কয় হাত : Barun Talukder-এর পোস্ট

জনাব  Barun Talukder-এর পোস্ট “কেউ কি দয়া করে ‘অজুহাত’ শব্দটির বুৎপত্তির উপর আলোকপাত করবেন ? উপকৃত হতাম।” 

এই যযাতি বা পোস্টের প্রথম মন্তব্যকারী জনাব অসীম ভৌমিক। তিনি মন্তব্যজানালায় লিখেন,  “অজুহাত [ওজুহাত্] (বিশেষ্য) কারণ; হেতু; ছুতা; বাহানা; ওজর আপত্তি। {(আরবি) রজুহাত্}। খন্দকার মুক্তাদীর হোসাইন লিখেছেন: ‘অজুহাত’ আরবি ‘অজাহাত’ শব্দ থেকে এসেছে। অর্থ- কারণ দর্শানো, হেতু বর্ণনা, আত্মসমর্পণ করা ইত্যাদি। বাংলায় ‘অজুহাত’ শব্দটি বাহানা, ছুতা, ধোঁকা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

এরপর জনাব Hamba Roy লিখেছেন: তাহলে হেতু, হাত, হস্ত এগুলিও আরবি শব্দ নাকি? না হাত শব্দটি আরবরা ভারত থেকে নিয়েছে আর ভারতীয়রা অজু শব্দটি আরবদের থেকে নিয়েছে । কোনটা ঠিক ? উত্তরবঙ্গে রাম শব্দ আম হয়, তেমনি রক্ত হয় অক্ত, রজ হয় অজ । Shibu P. Majumder, Hamba Roy-কে  উদ্দেশ করে লিখেন:  অজুহাতের ‘হাত আর বাংলা হাত এক নয়। Hamba Roy জানতে চান, তাহলে আরব রুট হাতের অর্থ কি ? আর ভারতীয় হেতুর অর্থ কি ? Shibu P. Majumder জানান, হেতু অর্থ কারণ, হাত নয়। আরবি ভাষায় অজুহাত শব্দটি যদি মৌলিক শব্দ হয় তাহলে অজুহাতের হাত এর বিশেষ কোনো অর্থ নেই। বাংলা ভাষায় গঠনগত ভাবে মৌলিক শব্দের অংশবিশেষের যেমন কোনো অর্থ থাকে না

 
খন্দকার মুক্তাদীর হোসাইন, Hamba Royকে উদ্দেশ করে বলেন, অজুহাত শব্দটি আরবি ‘অজাহাত’ থেকে এসেছে। মূল ধাতু ওয়া-জা-হা। আরবি বেশিরভাগ শব্দের শেষে ছোটো ‘তা’ যুক্ত হয়। যেমন- রহমত (রাহমাহ), বরকত (বারাকাহ), খয়রাত (খাইরাহ), সালাত (সলাহ), ইবাদত (ইবাদাহ) এরকম অসংখ্য শব্দ পাবেন। তাই ‘অজুহাত’-এর হাতের সাথে আমাদের হাতের কোনো সম্পর্ক নাই।
 
 
Hamba Roy জনাব খন্দকার মুক্তাদীর হোসাইনকে বলেন, জনাব, ওয়াজাহাত, বজুহাত, ব্যজাহা, কেয়া বাজাহাত হ্যায়, কেয়া বাজাহ হ্যায়, কেয়া হেতু হ্যায়, কেয়া কারন হ্যায়…….. ওজর ব্যজর চলবে না । এটি একটি রুট যা গোটা ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশে সহ বিস্তৃর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে আছে । হস্ত, হেতু ইন্ডো এরিয়ান এই রুট হতে উৎপন্ন সবচাইতে পুরোনো উদাহরণ গুলির মধ্যে একটি পুরোনো উদাহরণ । উদাহরণ – ঘটনা ঘটার পেছনে এরকম কারো কোন কোন হাত নেই । বাজু, বাজু বন্ধ, ডাইনা বাজু । খন্দকার মুক্তাদীর হোসাইন, Hamba Roy-কে বলেন, না জেনে ভুল ব্যাখ্যা করবেন না। আগে শব্দটির মৌলিক ধাতু জেনে তারপর ব্যাখ্যা করুন।
 
 
Shamsul Alam বলেন, জাম্বুরা একটি ফল। কদিন পর পাব্লিক জানতে চাইবে – জাম আর বুরার সাথে কি সম্পর্ক ? Ashim Chakraborty, Shamsul Alam-কে উদ্দেশ করে বলেন,  জানতে চাইলেও ক্ষতি নেই । এটা তো বিদগ্ধ লোকেদের forum নয়। উদ্দেশ্য অসত্ না হলেই হলো ।
 
 
 
Rabiul Hasan লিখেছেন অজুহাত — মূলত ফার্সি শব্দ । যার অর্থ — যা কারণ নয় তা-ই কারণ বলে চালিয়ে দেওয়া। বি.দ্র. যারা আরবী বলে চালিয়ে দিচ্ছেন তারা ভুল করছেন। কেননা وضح মানে কারণ নয় বরং সুস্পষ্ট করা। আর যদি জী–ম অক্ষর দিয়ে বলি وجه তবে কারণ হয়। সে হিসাবে আরবীর وجه (ওয়াজহুন) কারণ, ও ফার্সির লম্বা তা যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ দাঁড়িয়েছে।
GirijaSankar Pandit লিখেছেন:  ফা: রুজূহাত = ওজর, অছিলা,ইং-এ্যালিবাই । আমার একটি আলাদা ব্যাখ্যা আছে। ফা: অজু= হস্তপদাতি প্রক্ষালন বা হাত পা ধোওয়া। এর সঙ্গে হস্ত বা হাত যোগে অজুহাত। এর বাংলায় একটি প্রচলিত সমার্থক শব্দ আছে হাতজোড়া। এটিও একটি ছুতা বা বাহানা।
 
Abdullah Al Mahmud  লিখেছেন:  আরবি ‘উজূহ’ শব্দটি ‘ওয়াজ্হ’ এর বহুবচন। এর একাধিক অর্থের একটি হল ‘কারণ’। উজূহ শব্দের শেষে আলিফ ও তা (ت) যুক্ত করা হয়েছে। ফলে উজূহাত ( وجوهات ) হয়েছে। এর অর্থ হল : বিভিন্ন / নানান কারণ। বাংলায় এটাকেই অজুহাত দেখানো বলে। মানে বিভিন্ন কারণ দর্শানো।
 
 
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লিংক:
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com
শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি
error: Content is protected !!