অপনিহিতি : বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র

[su_heading size="35" margin="30"]অপনিহিতি : বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র [/su_heading]

ড. মোহাম্মদ আমীন

অপিনিহিতি : শব্দের মধ্যে ‘ই’ কিংবা ‘উ’-ধ্বনি থাকলে সে ‘ই’ বা ‘উ’- কে যথাস্থানের আগে উচ্চারণ করার প্রবণতা বাংলা ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য। এভাবে ‘ই’, ‘উ’-এর উচ্চারণ আগে এসে পড়াকে ব্যাকরণের ভাষায় অপিনিহিতি বলে। যেমন: আজি শব্দের ধ্বনিক্রম আ + জ্ + ই। ‘ই’ যদি স্থান পরিবর্তন করে ‘আ’ ও ‘জ’-এর মধ্যে ঢুকে পড়ে, তাহলে শব্দটির উচ্চারণ হয়ে যায় ‘আইজ’। ‘আজি’ শব্দের ‘আইজ’-এ রূপান্তরের কারণ হলো অপিনিহিতি। এরূপ আরও কয়েকটি উদাহরণ: কালি> কাইল; জলুয়া> জউলুয়া > জউলা। যাবি> যাইবি। রাতি > রাইত প্রভৃতি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষায় এর প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়। এমনকি, য-ফলার অন্তর্নিহিত ই-ধ্বনিরও অপিনিহিতি হয়। যেমন- ভাগ্য> ভাইগ্য; বাক্য> বাইক্য; কন্যা> কইন্যা, বন্যা> বইন্যা। এছাড়া জ্ঞ, ক্ষ যার উচ্চারণ য-ফলা-যুক্ত ব্যঞ্জনের কাছাকছি সেখানেও অপিনিহিতি হয়ে থাকে। যেমন- বক্ষ> বইক্ষ; লক্ষ> লইক্ষ; যজ্ঞ> যইজ্ঞ, সখ্য> সইখ্য। প্রসঙ্গত, প্রমিত চলিত বাংলা ও সাধু ভাষায় অপিনিহিতি নেই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

ধ্বনি পরিবর্তনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বা ধাপ বা নিয়ম:

১. আদি স্বরাগমঃ শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে, ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে আদি স্বরাগম বলা হয়। যেমন:

স্কুল > ইস্কুল।

স্ত্রী > ইস্‌ত্রি।

স্নেহ > ইস্‌নেহ।

স্টেশন> ইস্টেশন।

স্মার্ট> ইস্মার্ট

২. মধ্যস্বরাগমঃ সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝে স্বরধ্বনি এলে, ধ্বনি পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়াকে মধ্য স্বরাগম বলা হয়। যেমন:

গ্রাম > গেরাম।

রত্ন > রতন।

ধর্ম > ধরম।

ফিল্ম > ফিলিম।

স্নান > সিনান।

৩. অন্ত্য স্বরাগমঃ শব্দের শেষে স্বরধ্বনি এলে ধ্বনি পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়াকে অন্ত্য স্বরাগম বলা হয়। যেমন:

দিশ্ > দিশা।

সত্য > সত্যি।

বেঞ্চ > বেঞ্চি।

ট্যাক্স > ট্যাক্‌সো।

৪. অপনিহিতিঃ পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে, ধ্বনি পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়াকে অপনিহিতি বলা হয়।যেমন:

আজি > আইজ।

বাক্য > বাইক্য।

ভাগ্য > ভাইগ্য।

কাব্য> কাইব্য।

নাব্য> নাইব্য।

সত্য > সইত্য।

৫. স্বরসঙ্গতিঃ একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে অপর স্বর পরিবর্তিত হলে, ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে স্বরসঙ্গতি বলা হয়।যেমন:

কুলা> কুলো।

চুলা> চুলো।

দেশি > দিশি।

বিলাতি > বিলিতি।

মুলা > মুলো।

তুলা > তুলো।

[আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তখন ধ্বনির  যে পরিবর্তন হয় সেটি প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।]

৮. অন্তর্হতিঃ পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লুপ্ত হলে, ধ্বনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে অন্তর্হতি বলা হয়। যেমন:
error: Content is protected !!