অবাক বানান কৌশল সহজ সূত্রে কঠিন বানান নিমোনিক বাংলা বানান অভিধান অভিধান

ড. মোহাম্মদ আমীন

 
 
 
অকস্মাৎ, অগ্নিসাৎ, অগ্নিসাক্ষী: নিমোনিক প্রমিত বানান
সংস্কৃত অকস্মাৎ (ন+কস্মাাৎ) [উচ্চারণ অকোশশাঁত্] অর্থ হঠাৎ, সহসা, মুহূর্তের মধ্যে। ষত্ববিধি অনুযায়ী ক-এর পরের স, ষ হওয়ার কথা। এখানে হয়নি কেন? কারণ সাৎ প্রত্যয়ের দন্ত্য-স, মূর্ধন্য-ষ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ভূমিসাৎ, ধূলিসাৎ, বারিসাৎ। এটি না-হয় সাৎ প্রত্যয়ের জন্য হলো না, কিন্তু অগ্নিসখা (অগ্নি+সখা), অগ্নিসাক্ষী (অগ্নি+সাক্ষী), অগ্নিসেবন (অগ্নি+সেবন), অগ্নিস্ফুলিঙ্গ (অগ্নি+স্ফুলিঙ্গ) বানানে মূর্ধন্য-ষ হলো না কেন? কারণ এগুলো সমাসবদ্ধ/সমাসসাধিত পদ। এখানে সখা, সাক্ষী, সেবন ও স্ফুলিঙ্গ প্রত্যেকটি অর্থবহুল একক শব্দ এবং বানানে ষ নেই, স রয়েছে। সমাসবদ্ধ পদ না হলে অগ্নিসখা, অগ্নিসাক্ষী, অগ্নিসেবন, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ শব্দগুলোতে স-এর স্থলে ষ হতো। কারণ ষত্ববিধি মতে একই শব্দে অ আ ভিন্ন স্বর, ক্ এবং র্ পরবর্তী বিভক্তি বা প্রত্যয়ের স, মূর্ধন্য-ষ হয়ে যায়।
 
আঁধার ও আধার
তদ্ভব ‘আঁধার’ শব্দের অর্থ অন্ধকার, আলোর অভাব, অন্ধকারাচ্ছন্ন, বিষণ্ন, গম্ভীর প্রভৃতি। অন্যদিকে, তৎসম ‘আধার (আ+ √ধৃ+অ)’ শব্দের অর্থ পাত্র, স্থান, আশ্রয়, অবলম্বন এবং তদ্ভব ‘আধার’ শব্দের অর্থ মাছ বা পাখির খাদ্য, দানাপানি প্রভৃতি।
লেখার সময় প্রায়োগিক অর্থ বিবেচনায় কোন বানানটি শুদ্ধ হবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। মনে রাখবেন, সংস্কৃত ‘অন্ধকার’ হতে ‘আঁধার’। ‘অন্ধকার’ শব্দের দন্ত্য-ন চ্যুত হয়ে চন্দ্রবিন্দু এসে আঁধার হয়েছে। তাই অন্ধকার, আলোর অভাব, অন্ধকারাচ্ছন্ন, বিষণ্ন, গম্ভীর প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে লিখুন ‘আঁধার’। পাত্র, স্থান, আশ্রয়, অবলম্বন, মাছ বা পাখির খাদ্য, দানাপানি প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে লিখুন ‘আধার’।
 
 
এক্ষণ ও এক্ষণে এক্ষনি নিমোনিক
এক্ষণ, এক্ষণে, এক্ষুনি তিনটিই অতৎসম এবং বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত ‘এক্ষণ’ শব্দের অর্থ এই সময়, এই মুহূর্ত, বর্তমান কাল। ‘এক্ষণে’ শব্দের অর্থ এই মুহূর্তে, এখন, এই সময়ে, বর্তমানকালে; শব্দটি বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত ‘এক্ষুনি’ শব্দের অর্থ এখনই।
তিনটি শব্দের বানান ও অর্থ প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় কোন শব্দে দন্ত্য-ন এবং কোন শব্দে মূর্ধন্য-ণ বসবে তা নিয়ে গণ্ডগোল লেগে যায়। গণ্ডগোল এড়ানোর জন্য নিচের নিমোনিকটি মনে রাখতে পারেন :
এক্ষণ, এক্ষণে ও এক্ষুনি শব্দের উচ্চারণ যথাক্রমে এক্‌খন, একখ্‌নে এবং একখুনি। খুনি বানানে দন্ত্য-ন। তাই এই তিনটি শব্দের যে শব্দে খুনি উচ্চারিত হয় সে শব্দের বানানে দন্ত্য-ন, বাকি দুটোতে মূর্ধন্য-ণ।
[ আমার অজ্ঞতা : এক্ষণ ও এক্ষণে অতৎসম শব্দ, তবু কেন মূর্ধন্য-ণ!]

অহর্নিশ অহর্নিশি অহরহ অহোরাত্র

সংস্কৃত অহর্নিশ [(অহন্ঃ+নিশা/ অহঃ+নিশা(নিশ)] অর্থ (ক্রিবিশেষণে) দিবারাত্র, নিশিদিন, সর্বদা। সংস্কৃত অহর্নিশ থেকে উদ্ভূত অহর্নিশি ও অহর্নিশ পরস্পর সমার্থক।
নিমোনিক ও বানানসূত্র: স্বরবর্ণ পরে থাকলে অহন্ পদের পরবর্তী বিসর্গ, র/রেফ হয়ে দ্বিতীয় পদের প্রথম বর্ণে যুক্ত হয়। তবে, রাত্রি শব্দ পরে থাকলে ও-কার হয়। যেমন: অহঃ+নিশ= অহর্নিশ; অহঃ+অহঃ= অহরহ, অহঃ+রাত্রি = অহোরাত্র।

অসূর্যম্পশ্যা

“বানানটি ভুলে যাই বারবার, কীভাবে মনে রাখব? এর অর্থ কী?”
অসূর্যম্পশ্যা শব্দের উচ্চারণ অশুর্‌জম্‌পোশ্‌শা। সংস্কৃত অসূর্যম্পশ্যা অর্থ (বিশেষ্যে) যে নারীকে সূর্যকিরণও স্পর্শ করেনি, অন্তঃপুরবাসিনী, যে নারী কঠোরভাবে পর্দ মেনে চলে। অনেকে লিখেন অসূর্যস্পশ্যা। অসুর্যস্পশ্যা লিখবেন না। এখানে স্পর্শের কিছু নেই। বরং স্পর্শহীনতা আছে। তাই লিখুন অসূর্যম্পশ্যা।
নিমোনিক:অসূর্যম্পশ্যা অর্থ এমন একজন মহিলা যে সর্বদা পর্দা মেনে চলে, এমন পর্দা-কর মহিলা যাকে সূর্যের আলো পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি। তাই সূর্য শব্দের পর মহিলা বানানের ম্ দিতে হয়। অতঃপর ম-এর সঙ্গে পর্দা বানানের প্ যুক্ত করে দিন। কারণ মহিলাকে পর্দা-যুক্ত না করলে অসূর্যম্পশ্যা হবে কীভাবে?

উৎপত্তি বনাম ব্যুৎপত্তি

সংস্কৃত উৎপত্তি (উৎ+√পদ্‌+তি) অর্থ— (বিশেষ্যে) উৎস, উদ্ভব, শুরু, জন্ম, সূচনা, প্রকাশ, অভ্যুদয়। যেমন:
বিশ্বের উৎপত্তি, প্রাণের উৎপত্তি, পানির উৎপত্তি, মানুষের উৎপত্তি, ভাষার উৎপত্তি, রাষ্ট্রের উৎপত্তি, বিজ্ঞানের উৎপত্তি, ধর্মের উৎপত্তি, বাংলাদেশের উৎপত্তি, সাগরের উৎপত্তি; অগ্নিপরীক্ষা কথার উৎপত্তি, ব্যাকরণের প্রভৃতি।
ব্যুৎপত্তি মূলত একটি ব্যাকরণিক শব্দ।বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান মতে ব্যুৎপত্তি (বি+উদ্‌+√পদ্‌+তি) অর্থ (ব্যা.) প্রকৃতি-প্রত্যয়াদি বিশ্লেষণদ্বারা শব্দের গঠনবিচার’; যেমন:
অগ্নিপরীক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তি— [স. অগ্নি+পরীক্ষা]’;
ব্যুৎপত্তি শব্দের ব্যুৎপত্তি—[স. বি+উদ্‌+√পদ্‌+তি];
প্রত্যেক শব্দের ব্যুৎপত্তি— [স. প্রতি+এক];
ব্যূহ শব্দের ব্যুৎপত্তি— [স. √বি+ঊহ্‌+অ]।
মনে রাখুন, য-ফলা পরের বিষয়। ভাষার উৎপত্তির পর শব্দের ব্যুৎপত্তি। তাই উৎপত্তিতে য-ফলা নেই, ব্যুৎপত্তিতে আছে।
ক্রমশ

তিনটি বানান: নিমোনিক-সহ

উচিত লিখুন। উচিৎ লিখবেন না। উচিত জিনিস খণ্ড হবে কেন?
অগণিত, কিন্তু অগনতি। অগণিত তৎসম, অগনতি অতৎসম।গণ থেকে গণিত। গণ বানানের ণ, স্বাভাবিক ণত্ব।
সালিশ অর্থ বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি। প্রথমে দন্ত্য-স, শেষে
তালব্য-শ। মনে করুন সর্দার শাল পরে সালিশি করতে যান। ফারসি শব্দ। তাই বানানে ই-কার।
[বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সালিশ ও সালিশি ফারসি শব্দ।]

ব্যাকরণ ছাড়া প্রমিত বাংলা বানান শেখার কৌশল

প্রথমে বলে রাখি, নিমোনিক কোনো বিধিবদ্ধ ব্যাকরণ বিধি নয়। স্মৃতিজাগানিয়া উপায়ে সহজে প্রমিত বানান রপ্ত করার একটি কৌশল মাত্র। আমাদের মতো সাধারণ বাংলাভাষীর জন্য এসব প্রণীত। অতএব ব্যাকরণবিদগণ এগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন। যাঁরা সহজ উপায়ে বাংলা বানান শিখতে চান,তাঁদের জন্য নিমোনিকগুলো হয়তো কাজে লাগতে পারে।
হরিণ ও হরিনাম: হরিণ একটি চঞ্চল, কিন্তু নিরীহ বন্যপশু। এর বানানে ‘মূর্ধন্য-ণ’ আবশ্যক। কিন্তু ‘হরিনাম’ বানানে ‘দন্ত্য-ন’। কারণ, হরিনাম করতে হরিণ লাগে না। ‘হরি’ আর ‘নাম’ হলেই চলে। অধিকন্তু, বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য হরিণের লম্বা পা লাগে। মূর্ধন্য-ণ’-এর পা ‘দন্ত্য-ন’ এর চেয়ে লম্বা।
হরীতকী: হরীতকী একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন ফল। এটি হরি নয়, হরী। তাই বানানে ‘ঈ-কার’।হরিনামের ‘হরি’ শব্দের সঙ্গে ‘হরীতকী’র ‘হরী’ গুলিয়ে যেতে পারে, তাই বৈয়াকরণগণ এ ফলটির বানান রেখেছেন ‘হরীতকী’। এখানে দুটোই ঈ-কার। এটি একটি কষজাতীয় ফল। তাই খেতে দীর্ঘসময় লাগে।এজন্য বানানে ‘ঈ-কার’ আবশ্যক হয়ে পড়েছিল।
হর্ম্য: ‘হর্ম্য’ অর্থ প্রাসাদ। শব্দটির বানানে ‘য-ফলা’ অনিবার্য। কেননা, প্রাসাদ শক্তপোক্ত করতে হলে ‘য-ফলা’র মতো জটিল ও শক্ত ভিত লাগে। লোহাকে বাঁকাতে হয়।
হস্তী— ‘হস্তী’ তৎসম। তাই বানানে ‘ঈ-কার’। হাতি বানানে ই-কার, এটি অতৎসম। বঙ্গদেশের জমিদারগণ হাতির পিঠে ছাতা দিয়ে চলত। তাই হাতি বানানে ছাতা মানে ‘ই-কার’।
 
 
পাণিনি নিমোনিক
‌‘পাণিনি’ খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সংস্কৃত ব্যাকরণ প্রণেতা। তাঁর নাম লিখতে অনেক ভুল করে বসেন, দ্বিধায় পড়ে যান – প্রথমে মূর্ধন্য-ণ না কি দন্ত্য-ন। মনে রাখবেন, বর্ণমালায় মূর্ধন্য-ণ আগে। পাণিনি প্রথম বৈয়াকরণ, তাই তাঁর নামের বানানে প্রথমে মূর্ধন্য-ণ এবং তারপর দন্ত্য-ন।
ই-কার কেন? পাণিনি পুরুষ, তাই তাঁর নামে কোনো ঈ-কার নেই। পাণি অর্থ হাত। তিনি হাত দিয়ে ব্যকরণ লিখতেন- মনে মনে এমনটাও ভাবতে পারেন। কী ভাববেন সেটি বিষয় নয়, আসল বিষয় হচ্ছে – সঠিক বানানটি লেখা।
 
 
চৌকশ নিমোনিক :
বাংলায় বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হিন্দি ‘চৌকশ’ শব্দের অর্থ — সব বিষয়ে অভিজ্ঞ, চতুর, চারিদিকে দৃষ্টি আছে এমন প্রভৃতি। শব্দটির বানানে শ, ষ নাকি দন্ত্য-স হবে তা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। ‘চৌকশ’ ব্যক্তি সবার আগে থাকে। তাই শব্দটির বানানে তালব্য-শ। কারণ বাংলা বর্ণমালার তিন-শয়ের মধ্যে তালব্য-শ অগ্রবর্তী।

এযবাৎ

যাবৎ অর্থ পর্যন্ত এবং এযাবৎ অর্থ এ পর্যন্ত, এখন পর্যন্ত, অদ্যাবধি। অনেকে লেখেন এযাবত। যাবৎ বানানে ৎ দেওয়া উচিত। তবে উচিত বানানে ৎ দেওয়া অনুচিত।
 
নিমোনিক: মনে রখাবেন, এযাবত= এ যাব ত। এরূপ হয় না। এমন ভাবলে এ যাবৎ শব্দের পরে খণ্ড-ৎ দিতে ভুল হবে না।
 
শব মানে মরদেহ। শব থেকে শবাদার। মানুষ মরলে শব হয়। শবকে শবাদারে করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্মশানে মরদেহ দাহ করা হয়। মরণের পর শব, শবাদারে শয়ন করে দাহ হতে  যায়। তাই শব ও মরণের চিহ্ন হিসেবে শ্মশান বানানের প্রথম শ-এর নিচে ম দিতে হয়।মনে রাখবেন, শব  ও মরণ পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। তাই শ্মশান বানানে শ্ম।  শব-এর চিহ্ন হিসেবে পরবর্তীটাও শ। এভাবে পৃথিবীতে যত শ্মশান আছে সব শ্মশান একই। যেমন: শ্মশানকালী, শ্মশানঘাট, শ্মশানপুরী, শ্মশানবন্ধু, শ্মশানবাসী, শ্মশানভূমি, শ্মশানযাত্রী।
 
 
শ্মশ্রু অর্থ দাড়িগোঁফ। দাড়ি বানানে চন্দ্রবিন্দু নেই, কিন্তু গোঁফ বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে। মুখের দাড়ি নিচের দিকে ঝুলে থাকে। চন্দ্রবিন্দু দিলে পড়ে যাবে। তাই মুখের দাড়ি বানানে চন্দ্রবিন্দু দেওয়া হয় না। কিন্তু গোঁফ ঝুলে থাকে না। চাঁদের মতো বাঁকা হয়ে নাকের নিচে এবং মুখের ওপরে চাঁদের মতো লেগে থাকে। বিখ্যাতদের গোঁফ চাঁদের মতো হয়। তাই গোঁফ বানানে চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। ওসমানীর গোঁফ চাঁদের মতো। চাঁদ বানানে চন্দ্রবিন্দু আছে। তাই গোঁফ বানানেও চন্দ্রবিন্দু। তাহলে বাক্যের দাঁড়ি বানানে চন্দ্রবিন্দু কেন? কারণ বাক্যের দাঁড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। তাই দাঁড়ানো বানানের মতো দাঁড়ি বানানেও চন্দ্রবিন্দু দিতে হয়। বাক্যের দাঁড়ি মুখের দাড়ির মতো ঝুলে থাকে না।
 
 
তাহের মামার বউয়ের বাবা অশ্ব শিশুর মালিক।   তাই তাহের মামা তাকে ডাকত শ্বশুর। শ্বশুর মানে অশ্ব শিশুর মালিক। তাহলে, বউয়ে মাকে শাশুড়ি ডাকত কেন? তাহের মামার বউয়ের মা সারাক্ষণ শাল পরে শুয়ে মুড়ি খেত। তাই তাহের মামা তাকে ডাকত শাশুড়ি।
একদিন শাশুড়ি তাহের মামাকে বলল, বাবা, আমাকে শাশুড়ি ডেক না। এটি জাত শব্দ নয়। শুনতে কেমন জানি খেত খেত লাগে। আমার কোনো সন্তান নেই। শাশুড়ি অশ্রু ভারাক্রান্ত চোখে বলল, আমাকে তুমি মাতা ডাকবে।
তাহলে আমার মাকে কী ডাকব?
অশ্রু বিগলিত গলায় বলল, তুমি তোমার শ্বশুরের শ্ব এর সঙ্গে আমার অশ্রুর শ্রু লাগিয়ে শ্বশ্রু ডাকবে।
তাহলে যে  শ্বশ্রু মানে শ্বশরের অশ্রু হয়ে যাবে।  কী করব?
শ্রু-এ ঊ-কার দিয়ে শ্বশ্রূ করে দাও।
সে থেকে তাহের মামার শাশুড়ি সংস্কৃত শ্বশ্রূ বা শ্বশ্রূমাতা।
শ্বশ্রূ মা, শ্ব মানে তো কুকুর। শ্বশুর যদি মাইন্ড করেন।
সে একটা গণ্ডমূর্খ। শ্ব অর্থ যে কুকুর, তা সে জানে না।
তাহলে ঠিক আছে।
ক্রমশ

error: Content is protected !!