অভিমান ও রাগ

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অভিমান (অভি+√মন্‌+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) (১) নিকট জনের উপেক্ষা বা ত্রুটিপূর্ণ আচরণজনিত ক্ষোভ এবং (২) অহংকার, গর্ব; আত্মমর্যাদাবোধ। তবে ১ নম্বরে প্রদত্ত অর্থে শব্দটির বহুল ব্যবহার দেখা যায়। অর্থাৎ অতি নিকটজনের অবহেলা থেকে অভিমান সৃষ্টি হয়।
 
সুতরাং নিকটজন, অধিকার বা ভালোবাসা অভিমানের উৎস। সাধারণভাবে, অভিমান হচ্ছে—প্রিয়জনের আচরণজনিত মনোবেদনা বা ক্ষোভ। 
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
অভিমান শুধু প্রিয়জনের আচরণের কারণে জন্মে। ফলে কেবল প্রিয়জনের প্রতি অভিমান করা যায়। অধিকার না থাকলে তার প্রতি অভিশান অর্থহীন। সম্পর্ক যত গভীর হয় অভিমান তত নিবিড় হয়। সে ক্ষেত্রে সামান অভিমান মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সংস্কৃত রাগ অর্থ (√রন্‌জ্‌+অ) অর্থ— বিশেষ্যে রঞ্জকদ্রব্য বা তার আভা (অরুণরাগ), (২) প্রণয় (পূর্বরাগ). (৩) সংগীতের স্বরবিন্যাস প্রকারভেদ (রাগপ্রধান গান), (৪) ক্রোধ, রোষ (রাগ করা)
 
সাধারণভাবে, অভিমান হচ্ছে—প্রিয়জনের আচরণজনিত মনোবেদনা বা ক্ষোভ। ‘রাগ’ শব্দের অর্থ: ক্রোধ, রোষ, প্রভৃতি। তবে সংগীতের ‘রাগ’ কিন্তু ক্ষোভ বা রোষ নয়।  রাগ যে কোনো ব্যক্তির আচরণে জন্ম নিতে পারে। তাই যে-কোনো ব্যক্তির ওপর রাগ দেখানো যায়। জানা-অজানা অধিকার-অনধিকার নির্বিশেষে সবার প্রতি রাগ করা যায়।
 
অভিমান প্রধানত প্রচ্ছন্ন ভালবাসা, বিমল অনুযোগ, আনন্দময় প্রাপ্তির মধুর প্রত্যাশা এবং প্রিয়জনকে আরও নিবিড়ভাবে পাওয়ার অভিনয় প্রভৃতি হৃদয়গঠিত নমনীয়তার নন্দিত বিকাশ। কিন্তু রাগের মধ্যে ঘৃণা, ক্ষোভ, হিংস্রতা, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ পরায়ণতা প্রভৃতি নিন্দিত ও পাশব বিষয়গুলো পশুর মতো নৃশংসতায় জেগে উঠতে পারে। অভিমানের পশ্চাতে সম্পর্ককে আরও নিবিড় ও মধুর করার প্রত্যাশা থাকে এবং নৈকট্যের তীব্রতা প্রবল মমতায় উছলে ওঠে। অভিমানে প্রতিপক্ষের ক্ষতির কোনো ইচ্ছা থাকে না। কিন্তু রাগে প্রতিশোধ আর প্রতিপক্ষের ক্ষতি করার ইচ্ছা প্রচণ্ড রুদ্রতায় মারাত্মক হয়ে ওঠে। অভিমান ও রাগের মিল : দুটোই প্রতিপক্ষের আচরণ ছাড়াও ব্যক্তির আত্মমর্যাদাবোধ দ্বারা তাড়িত হয়।
 
 
 
লিংক: https://draminbd.com/অভিমান-ও-রাগ/
 
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
error: Content is protected !!