অলৌকিক শিশু: এক মলাটে অলৌকিক শিশু

ড. মোহাম্মদ আমীন

অলৌকিক শিশু: এক মলাটে অলৌকিক শিশু

এক মলাটে পুরো উপন্যাস নিচের লিংকে:
https://draminbd.com/অলৌকিক-শিশু-এক-মলাটে-অলৌক/
অলৌকিক শিশ

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

অজানা অনেক মজার বিষয়

১. স্যমন্তকএক মলাটে স্যমন্তক সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

২. অর্হণা: অর্হণা : এক মলাটে সম্পূর্ণ উপন্যাস অর্হণা

৩. সন্মিত্রা: সন্মিত্রা সম্পূর্ণ উপন্যাস : প্রথম থেকে শেষ পর্ব

৪. তিনে দুয়ে দশ: তিনে দুয়ে দশ সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

৫. তিনে দুয়ে দশ: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী সমগ্র পর্ব

— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —

অলৌকিক শিশু: এক মলাটে অলৌকিক শিশু

ভূমিকা

পাঠক যদি একই সঙ্গে পঠমান উপন্যাসের চরিত্র হয়ে যান, তো কেমন লাগবে? এই উপন্যাসে এমন কাণ্ড ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। উপন্যাসের নায়ক গোপাল। কোনো নায়িকা নেই। আমি জানি না গোপাল এখন কোথায়। এটাও জানি না, মার্কিন গবেষক ও মিশনারি দলের সঙ্গে চলে যাবার পর তার আগের নাম বহাল আছে কি না। থাকার কথা নয়, তবে থাকতেও পারে। নামটি কিন্তু তার পছন্দের ছিল না। বারবার বলত পালটে দেব একদিন।

সেই ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ, এখন ২০২১। ত্রিশ বছর গোপালের সঙ্গে দেখা নেই। গোপালের কথা মনে পড়লে শুধু চোখে ভাসে গোপালের গড়াগাড়ি আর অদ্ভূত ভঙ্গিমায় বলে যাওয়া মেথর-ছড়া। এতদিন পর তাকে দেখলেও চিনতে পারব বলে মনে হয় না।

যত বার আমেরিকা গেছি ততবার মনে পড়েছে গোপালের কথা। ইচ্ছে করত আমেরিকার সব ইউনিভার্সিটি খুঁজে শিশু গোপালের মুখটা একটু দেখি। কিন্তু এটি সম্ভব ছিল না। গুগুলে সার্চ দিলে অনেক গোপাল আসে— হাজার হাজার। কিন্তু আমার গোপাল আসে না। আমার গোপাল শিশু গোপাল, দাড়িমোজহীন কৃষ্ণ গোপাল। তুলতুলে মায়ায় কৃষ্ণপরাগ। গুগুলের সব গোপাল দাড়িমোজ কিংবা বয়সে বয়সে একাকার ন্যুব্জ। তাছাড়া সে ইউনিভার্সিটিতে আছেÑ এটাই বা কীভাবে নিশ্চিত হব?

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র গোপালের চেহারা গুগুলে নেই। এখন গোপালের বয়স বিয়াল্লিশ ছাড়িয়ে। প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির সময় প্রধান শিক্ষক গোপালের জন্ম তারিখ লিখেছিলেন ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর। যদিও গোপালের প্রকৃত জন্মবর্ষ ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ। চল্লিশে চেহারা দেখে ষোল বছরের গোপালকে আমার পক্ষে খুঁজে নেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি সামনে দাঁড়ালেও।

আমেরিকার মতো এত বড়ো দেশ থেকে গোপালকে শুধু নাম দিয়ে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। তবু চেষ্টা করেছি। পাইনি। এখন স্মৃতির ওপর লম্বা বিস্মৃতির কঠিন আস্তর। খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে ইচ্ছে আর করে না।

নন্দীর হাট ছেড়ে আসার সময় গোপালকে একটা কলম দিয়েছিলাম। পার্কার। আকিদের বাবা মুহিবুল কাদের চৌধুরী কলমটি দিয়েছিলেন। আমি জানি না, গোপালের কাছে কলমটি আছে কি না।

সুপ্রিয় পাঠক, আমেরিকায় গোপাল নামের কারো সঙ্গে দেখা হলে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীর হাটে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম হলে জিজ্ঞেস করবেন আমাকে চেনে কি না। যদি বলে চিনে, তাহলে আমাকে খবর দেবেন। আমি গোপালের মুখটা দেখতে চাই। দেখতে চাই গোপাল কত বড়ো হয়েছে। কেমন হয়েছে তার অবয়ব, কণ্ঠের স্বর, চোখের নাচন এবং ইচ্ছার পাতন।

ভূমিকা উপন্যাসের সারসংক্ষেপ নয়, লেখকের অকথিত কথার বিশুদ্ধ রূপ। লেখক যে কথা উপন্যাসে বলতে পারেন না, বা কৌশলগত কারণে বলা সম্ভব হয় না, ভূমিকায় সেটি সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তাই ভূমিকা পড়লে পাঠক উপন্যাসের বাইরেও একটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারেন। সেটি হচ্ছে উপন্যাসের ইতিহাস। লেখকের তাড়নার উৎসে রচিত অন্তর্বিলাপ।

উপন্যাস জীবন-কাহিনির সুপ্ত কথামালার শৈলী প্রকাশ। এখানে লেখক নিজের মনের ইচ্ছা মিশিয়ে কল্পনাকে বাস্তবতার এবং বাস্তবতাকে কল্পনার শৈলী ঢালায় উপস্থাপন করেন। এখানে কল্পনা আছে কিন্তু মিথ্যা নেই। অতিরঞ্জন আছে, কিন্তু অসম্ভব কিছু নেই।
এটাই সাহিত্য।

তাই উপন্যাস হচ্ছে বাস্তবতা আর কল্পনার মিলনে সৃষ্ট এক পরাবাস্তব প্রকৃতি। এই উপন্যাসের ক্ষেত্রেও এটি সত্য। চরিত্রগুলোকে যথাসম্ভব তাদের সঞ্চারিত ক্ষেত্রে অবিকল চরিত্রে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর অনেকের নাম ভুলে গিয়েছিলাম। তাই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সেলিম ও আনোয়ার মাসুমকে মোবাইল করে জেনে নিতে হয়েছে।
গোপাল আমার চোখের সামনে নেই।

এই উপন্যাসে গোপাল বেঁচে থাকবে। হয়তো কোনোদিন চোখেও পড়ে যেতে পারে বইটি। সে আশায় রইলাম। কিন্তু সে কি এখন বাংলা জানে?
আর একটা কথা। এরমধ্যে যদি কোনোভাবে গোপালের দেখা হয়ে যায়, তাহলে বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে আর একটা অধ্যায় বাড়ব।

ড. মোহাম্মদ আমীন

অলৌকিক শিশু: প্রথম পর্ব

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল।
এত ভোরে ঘুম ভাঙলে ভালো লাগে না। আমি ভোরঘুমো মানুষ।
বিরক্ত হয়ে কান পাতলাম। বাতাসের কাঁধে চড়ে প্রচণ্ড জোরে কান্নার আওয়াজ ধেয়ে আসছে। কানের পর্দা কাঁপছে আওয়াজের ধাক্কায়। স্বেচ্ছায় ঘুম ভাঙার আগে ঘুমটা ভেঙে দিল চিৎকার। মেজাজ খারাপ হওয়ার জন্য এর চেয়ে বেশি কিছু লাগে না। ভাগ্য খারাপ হলে এমনই হয়। ধ্যাৎ, শালা!
কিশোরবেলায় নইমি হুজুরের ওয়াজে শুনেছিলাম, ভোরের ঘুমে শয়তান আরামদায়ক উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। যাতে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে দেরি এবং ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যায়। শয়তানের কাজ যতই খারাপ হোক, তার ভোরের ঘুমপাড়ানি পিসিমাসির কাজটা আমার খারাপ মনে হয় না। বরং খুব ভালো লাগে। ঘড়ি দেখলাম, ছয়টা পনের।
রাত দশটা পর্যন্ত লজিং বাড়ির ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে হয়। এরপর নিজের পড়া। বিছানায় যেতে যেতে একটার বেশি বেজে যায়। ঘুম আসে আরো আধ ঘণ্টা পর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব জরুরি কিছু না-থাকলে সাধারণত নয়টার আগে ঘুম থেকে উঠি না। বন্ধ থাকলে শুক্রবার ছাড়া অন্যদিন বিছানা ছাড়তে ছাড়তে দশটা বেজে যায়।

ড. মোহাম্মদ আমীন।

বিশ্ববিদ্যালয় যাব না।
এরশাদ ভ্যাকেশন চলছে। এরশাদ ভ্যাকেশন মানে এরশাদের পতনের দাবিতে হরতাল। হরতালে ক্লাস হয় না। মিছিল হয়; স্লোগান হয়। আমার মতো সাধারণ ছাত্র মিছিলে যায় না। তাদের লক্ষ্য নেতা হওয়া নয়; কেরানি হওয়া। কেরানি হতে হলে মিছিলে যাওয়া চলে না। ভেবেছিলাম, দশটার আগে উঠব না। কিন্তু চার ঘণ্টা আগে উঠে যেতে হলো। রাগে বুক আর মাথা দুটোই গজগজ করছে। কপালটা ছোটো ছোটো ব্যথায় চিন চিন জপে মগ্ন।
শয়তানের অভিশাপ।
ততক্ষণে কান্না আরও জোরালো হয়ে উঠে। কান্নার সঙ্গে ভেসে আসছে চাটগাঁইয়া- নোয়াখাইল্যা ভাষার মিশ্রণে সৃষ্ট উদ্ভট খিচুড়ি গালি। কান খোলা রাখা কষ্টকর হয়ে উঠল। কে কাঁদছে দেখার জন্য উত্তরের জানালার ডানাংশ সামান্য ফাঁক করে ঊঁকি দিলাম।
সাত-আট বছরের একটা শিশু পুকুর পাড়ে শানবাঁধানো ঘাটের অদূরে মাটিতে বসে তীব্রস্বরে কাঁদছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা। ফাঁক দিয়ে শীত এসে খামচি দিল মুখে। তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কাঁদুক গে।
ঘুম আসছে না।
শিশুটির কান্না দম্ভোলির চেয়ে তীব্র হয়ে কানে এসে লাগছে। এভাবে ঘুমানো অসম্ভব। গামছা দিয়ে জোরে দুকান বেঁধে ঘুমাতে চেষ্টা করলাম। কোনো সুফল পেলাম না। এমন তীব্র কান্নায় কুম্ভকর্ণও জেগে উঠতে বাধ্য। আমি কোন ছাড়! উত্তরের দরজা খুলে বের হলাম।
কুয়াশায় চারদিক ঝাপসা। ঠান্ডা তো আছেই। শিশুটাকে ভেতরে নিয়ে আসা প্রয়োজন। নইলে সে কাঁদতেই থাকবে। গায়ে চাদর জড়িয়ে শিশুটির কাছে গেলাম। তার একটি পা শিকল দিয়ে জাম্বুরা গাছের সঙ্গে বাঁধা। পায়ে আর গাছের শেকলের সঙ্গে দুটো মাঝারি সাইজের তালা। চাবি ছাড়া মুক্ত করা সম্ভব নয়।
চাবি কার কাছে জানি না।
শিশুটিকে আনা গেল না। কান্নাও থামানো গেল না। বরং আমার সহানুভূতি দেখে সে কান্নার শব্দ আরো বাড়িয়ে দিল। খারাপ মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল। শীতে শিশুটির শরীর রংধনুর মতো বাঁকা হয়ে আসছে। নাক দিয়ে হিংগেল ঝরছে অবিরত। চোখের পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়ার ন্যায়। আমার সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলো। নেই। সিগারেট আনাতে হলে নন্দির হাট যেতে হবে। এ মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। নেশাটা চেপে গেলাম।
তোমার নাম কী? শিশুটিকে বললাম।
: গোপাল। মায়ে গোপাইল্যা ডাকে। বাপে ডাইকত গোয়াইল্যা।
: কে বেঁধে রেখেছে ?
: মায়ে।
: কেন?
: দাদা-ভাই মরি গেছে ইতাল্লাই। গু ফেলাইবার হামত ন-যাই ইতাল্লাই।
: তোমার বাবা কোথায়?
: ইতা মাল-দারু হাই মরি গেছে-গা। মরনের পরে গাড়ির টায়ার দি ইতারে অইনত পুড়ি ফেলাইয়ে।
: মাল-দারু কী?
: পলা পানি। আন্নি হান না?
: কী রকম?
: জলের লান। বোতলত গরি আনি জল দি মিশায় হাই। হাইয়েরে পল অই যাইগই। হাইয়েরে মারে (মাকে) মারে। আঁরে মারে। ঠাকুম্মারে মারে, ঠাকুর্দ্দারে মারে। আলার পোয়া বেশি হারাপ আছিল। মরি গেইদে বেশি ভালা অঁইয়ে।
: তোমাদের বাড়ি?
: ন জানি। আগে নোয়াহালি থাইকতাম।
: এখন কোথায় থাক?
: মেথর পট্টিত।
পাশের বাড়ির নুরুল ইসলামের কাছে জানা গেল আসল খবর। শিশু গোপাল ডাক্তার বাড়ির নতুন ঝাড়ুদার প্রভাতির ছেলে। আগের ঝাড়ুদারের নাম ছিল তপতী। তিনি ত্রিশ বছর এই বাড়িতে ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন। এখন অসুস্থ, নড়তে পারেন না। অবসওে গেছেন গতকাল। আজ থেকে মেয়ে প্রভাতিকে তার কাজে নিয়োগ করেছেন।
আমি ডাক্তার বাড়িতে লজিং থাকি। ডাক্তার মানে ছালেহ আহমদ ডাক্তার।
প্রভাতি সকাল ছয়টা থেকে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ শুরু হয়। তাই ছয়টার আগেই চলে আসতে হয়।তার কাজ বাইরে— উঠানে, বারান্দায়, পাকঘরের পেছনে এবং বাথরুমে। ঘরের জন্য আলাদা ঝাড়ুদার। একটা গৃহকর্মীও আছে। বড়ো লোকের বড়ো কারবার। টাকা থাকলে জিলাপি বানিয়ে হাগা যায়Ñ চাটগাঁইয়া প্রবাদ।
তপতীও ছয়টার আগে চলে আসতেন। আমি কোনোদিন টের পাইনি। প্রভাতির উপস্থিতিও টের পাওয়ার কথা না। তার ছেলে তো আর গোপালের মতো কাঁদত না। ভাবছি— প্রতিদিন যদি এভাবে কাঁদে তাহলে আমার কপালে খারাবি আছে। ঘুমানো না গেলে মাথা ব্যথা করবে। ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া যাবে না। সেলিমাকে পড়ানোর জন্যও যাওয়া যাবে না। অন্য টিউশনিগুলোও করা যাবে না ঠিকমতো।
গোপালের পাশে আমাকে দেখে প্রভাতি ছুটে এলেন। চোখে একটু দ্বিধা।
হাতের ঝাড়ুটা মাটিতে শুইয়ে দিয়ে বললেন: স্যার, ইবা আর পোঁয়া।
: এই শীতে এমনভাবে বেঁধে রেখেছেন কেন? মরে যাবে যে।
: মইত্ত ন স্যার। ছাড়ি দিলে মরিবুদে।
: কী বলছ তুমি?
: আঁছা হইদ্দি। আঁর আরেক পোয়া আছিল। গোপাইল্যার বড়ো, ইতার নাম আছিল দে তমাইল্যা। সেরাজুল হক স্যারে ডাইকতেন তামাল। এক বছর আগে গাড়িত পড়ি মরি গিয়েগই। এতল্যাই হাজ গইত্তাম আইলে শুয়োর গোপাইল্যারে গাছর লই বাঁধি রাহি।
: আপনার স্বামী কোথায়?
: মাল-দারু হাইতে হাইতে বমি গরি-গরি মরি গিয়েগই। ভালা অইয়ে। আরামির পুত মরার পর চাওরগা পেট ভরি হাইত পারি। ভাদাইম্মা বাঁচি থাইলে মাল-দারু কিনিবারলাই বেতনর ব্যায়াক ট্যাঁয়া দি ফেলন পইত্তু । যোয়ান বেডি লই রাইত দিন ফডর ফডর গইত্ত। কিছু হইলে ওক্কুর ওক্কুর কিলাইতো।
প্রভাতি নিজের পুরানো গামছাটা খুলে গোপালের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে চলে গেল। আমি রুমে এসে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
পারলাম না।
গোপাল বিরামহীনভাবে কেঁদে যাচ্ছে বাঘের মতো গর্জন করে। মাঝে মাঝে গালাগালি করছে তার মাকে, বাবাকে আর গোষ্ঠিসুদ্ধ সাবইকে।
রুম থেকে দুটি বিস্কুট দিয়ে এলাম গোপালকে।
বিস্কুট পেয়ে সে কান্না বন্ধ করে দিল। আমি বিছানায় গেলাম। ঘুম আসছে আসছে করার আগে আবার ভেঙে গেল। গোপাইল্যা আবার কাঁদতে শুরু করেছে। এবার আরো জেরে। বিস্কুট খেয়ে শক্তি পেয়েছে মনে হয়।
তার বিস্কুট শেষ হয়ে গেছে।
বিস্কুট শেষ হয়ে গেলে বাচ্চারা কাঁদে।
টাকা শেষ হয়ে গেলে কাঁদে বাবারা। টাকা দিয়ে বাবাদের বিস্কুট কিনতে হয়। বাবাদের টাকা ছেলেদের বিস্কুট। দুটোই জীবনের জন্য খুব প্রয়োজন। তবে বাচ্চাদের কান্নায় শব্দ হয়। কিন্তু বাবাদের কান্নায় শব্দ হয় না। বুকের ভেতর গুমরে মরে।
গেপালকে সান্ত্বনা দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
না, ঘুম আসে না।
মনে মুখ নয়, কানে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে অবিরাম।

এক মলাটে পুরো উপন্যাস নিচের লিংকে:
https://draminbd.com/অলৌকিক-শিশু-এক-মলাটে-অলৌক/

 

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

All Link : শুবাচে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ লেখা

All Link

All Links/1

All Links/2 শুবাচির প্রশ্ন থেকে উত্তর

All Links/3

অজানা অনেক মজার বিষয়

১. স্যমন্তকএক মলাটে স্যমন্তক সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

২. অর্হণা: অর্হণা : এক মলাটে সম্পূর্ণ উপন্যাস অর্হণা

৩. সন্মিত্রা: সন্মিত্রা সম্পূর্ণ উপন্যাস : প্রথম থেকে শেষ পর্ব

৪. তিনে দুয়ে দশ: তিনে দুয়ে দশ সম্পূর্ণ উপন্যাস একসঙ্গে

৫. তিনে দুয়ে দশ: এক মলাটে নিউটনের ছাত্রী সমগ্র পর্ব

৬. অলৌকিক শিশু: অলৌকিক শিশু: এক মলাটে অলৌকিক শিশু

error: Content is protected !!