অশ্রুজল ও অশ্রুবারি: শুদ্ধ না অশুদ্ধ

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/অশ্রুজল-ও-অশ্রুবারি-শুদ্-2/

অশ্রুজল ও অশ্রুবারি: শুদ্ধ না অশুদ্ধ

 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অশ্রুজল (অশ্রু+জল) এবং সংস্কৃত অশ্রুবারি (অশ্রু+বারি) শব্দের অর্থ, নয়নবারি। শব্দদুটো ‘অশ্রু’র সমার্থক। অনেকে বলেন, ‘অশ্রুজল’ ও ‘অশ্রুবারি’ বাহুল্য। তাদের যুক্তি— যেখানে অশ্রু অর্থ চোখের জল, সেখানে অশ্রু শব্দের সঙ্গে পুনরায় জল ও বারি লেখা হলে ‘অশ্রুজল/অশ্রুবারি’ শব্দের অর্থ হয়ে যায় : নয়নের জল জল, চোখের জল জল ইত্যাদি।
 
এ যুক্তি ঠিক নয়; ঠিক হতো যদি ‘অশ্রু’ ও ‘বারি এবং ‘অশ্রু ও ‘জল’ পরস্পর ফাঁক রেখে যথাক্রমে ‘অশ্রু জল’/‘অশ্রু বারি’ লেখা হতো।‘অশ্রুজল/অশ্রুবারি’ সন্ধিজাত শব্দ, যা অশ্রু শব্দের সমার্থক। প্রসঙ্গত, অশ্রুজল ও অশ্রুবারি শব্দকে সমাসবদ্ধ শব্দ হিসেবেও নির্দেশ করা যায়। যেমন : অশ্রুর জল= অশ্রুজল, অশ্রুর বারি= অশ্রুবারি। এমন হলেও শব্দদুটোকে বাহুল্য বলা যায় না। কারণ সমাসবদ্ধ হলে অনেক সময় ব্যাসবাক্যের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। ছাগীর দুগ্ধ = ছাগদুগ্ধ; ছাগদুগ্ধ অর্থ যেমন ছাগলের দুগ্ধ নয়, তেমনি অশ্রুজল বা অশ্রুবারি অর্থ নয়নের জল জল নয়। হংসডিম্ব, আশীবিষ, ছাপোষা, দশুভুজা, দশানন— এরূপ আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। সুতরাং অশ্রুজল ও অশ্রুবারি বাহুল্য নয়।
 
অশ্রুজল যদি বাহুল্য হয় তাহলে, বইপুস্তক, বসবাস, দাবিদাওয়া, জলপানি, প্রভৃতি শব্দ বাহুল্য বা অসিদ্ধ হবে না কেন? অথচ, এসব শব্দ আমরা হরহামেশা লিখে যাচ্ছি কাগজপত্রে। কথাবার্তা আর চিঠিপত্রের কথা নাই বা বললাম।‘জামবাটি’ বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। অথচ জাম শব্দের অর্থ বাটি। তাহলে ‘জামবাটি’ কেন অসিদ্ধ হবে না? পাউ বা পাঁউ শব্দের অর্থ রুটি, তো পাউরুটি বলি কেন? ‘অশ্রুজল’ বাংলা একাডেমির অভিধানে প্রমিত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অতএব, অশ্রুজল অশুদ্ধ নয়। এটি শুদ্ধ, সিদ্ধ ও প্রমিত। প্রয়োজনে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান দেখুন।
————————————————————————
সূত্র:
১. বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, সম্পাদক, জামিল চৌধুরী, বাংলা একাডেমি।
 
error: Content is protected !!