অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম-এর আমলে বঙ্গভবন

ড. মোহাম্মদ আমীন

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির আমলে বঙ্গভবন
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ডিসেম্বর গভর্নর হাউজে মন্ত্রিপরিষদের সভা করেন। ওই সভায় গভর্নর হাউজকে ‘বঙ্গভবন’ নামে অভিহিত করা হয়। উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারির মধ্যে ৩৪টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। সবগুলি স্বীকৃতি প্রদানের সংবাদ আদানপ্রদানের সঙ্গে বঙ্গভবনের স্মৃতি বিজড়িত। ভুটান ও ভারত ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ডিসেম্বর, পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই জানুয়ারি বার্মা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই জানুয়াারি, নেপাল ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারি বার্বাডোস১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারি যুগোশ্লাভিয়া ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ জানুয়ারি, টোঙ্গা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন, চেকোস্লোভাকিয়া, সাইপ্রাাস, হাঙ্গেরি, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি ও নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি সেনেগাল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা জানুয়ারি যুক্তরাজ্য, পশ্চিম জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও ইসরায়েল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাপান স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি। লুক্সেমবুর্গ, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ড ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ইতালি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি, ফ্রান্স ও কানাডা ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি, সিঙ্গাপুর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ফেব্রুয়ারি এবং মরিশাস ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সর্বশেষ স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ চিন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ অগাস্ট চিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এই পর্যন্ত ১৫০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সুখময় চক্রবর্তী ও ড. পিএন ধর এবং অতিরিক্ত সচিব মিস্টার শেঠি বঙ্গভবনে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের কনসুলার-জেনারেল ভøাদিমির এম ক্যামিলিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈযদ নজরুল ইসলাম, নবনিযুক্ত চারজন মন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই চারজন মন্ত্রী হচ্ছে, শেখ আবদুল আজিজ, ফনিভূষণ মজুমদার, জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং আবদুস সামাদ আজাদ। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর নবনিযুক্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন। একই দিনে বঙ্গভবনে অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী মনসুর আলীর সঙ্গে সোভিয়েত মিশন প্রধান সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।


স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র : লিংক

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : অপারেশন জ্যাকপট

error: Content is protected !!