আঁকড়ি ইলেক চৈতন পাগড়ি টিকি জোড়-আঁকড়ি মাত্রা -কার -ফলা

ড. মোহাম্মদ আমীন

আঁকড়ি ইলেক চৈতন পাগড়ি টিকি জোড়-আঁকড়ি মাত্রা -কার -ফলা

চৈতন টিকি:  ই ঈ উ ঊ ঐ ঔ ট ঠবর্ণের ওপর বিদ্যমান বাঁকানো চিহ্নটির নাম চৈতন। উড়ে বামুনদের মাথার চাঁদিতে একগোছা লম্বা চুল থাকে। সেটাকে বলা হয় চৈতন। ই ঈ উ ঊ ঐ ঔ ট ঠ প্রভৃতি বর্ণের মাথার ওপর যে চিহ্নটি রয়েছে সেটি দেখতে অনেকটা উড়ে বামুনের মাথার চাঁদিতে অবস্থিত চুলের গোছা বা টিকির মতো। এজন্য এ বর্ণগুলোর মাথার চিহ্নটিকে চৈতন বলা হয়। চিহ্নটি টিকি, উড়নি, উড়ানি, উড়না, শিখা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। ‘চৈতন’ বানানে ‘চৈতন’ আছে। আমার মা চিহ্নটিকে বলতেন, হাঁসের গলা। কারণ, চৈতন বা টিকি নামের চিহ্নটি দেখতে টিকি হাঁসের গলার মতো। ঐ-কার এবং ঔ-কার চিহ্নেও চৈতন আছে। ঢ-বর্ণের ওপরে চৈতন দিলে ট হয়, -এর ওপর দিলে হয় । এ-বর্ণের ওপর ডান পাশে চৈতন দিলে  হয়। ও-বর্ণের ডান পাশে চৈতন দিলে  হয়। এ-কার চিহ্নের ওপর চৈতন দিলে হয় ঐ-কারঅভিধানমতে, চৈতন অর্থ (বিশেষ্যে) বর্ণহিন্দুদের মাথার পিছনে সংরক্ষিত কেশগুচ্ছ, টিকি, শিখা।

আঁকড়ি:  ক-বর্ণ থেকে যা বাদ দিলে ব-বর্ণ, কিংবা ব-বর্ণের সঙ্গে যে চিহ্নটি যোগ করলে ক-বর্ণ হয় সেই চিহ্নটি আঁকড়ি নামে পরিচিত। ঋ-বর্ণ থেকে আঁকড়ি বাদ দিলে হয় ‘ঝ’। অভিধানমতে, আঁকড়ি বাংলা শব্দ। ক ফ ক্ষ ক্ত প্রভৃতি বর্ণচিহ্নের ডান দিকের বাঁকানো অংশকে আঁকড়ি বলা হয়। অঙ্কুশ বা ছোটো আঁকশিও আঁকড়া নামে পরিচিত। তবে এটি আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। বাংলায় ঋ, ক ধ ফ, ক্ষ প্রভৃতি বর্ণচিহ্নে আঁকড়ি আছে। ঞ-বর্ণে রয়েছে জোড়-আঁকড়ি। বর্ণ হতে আঁকড়িকে পৃথক করে নিলে যা পাওয়া পাওয়া যায় তা দেখতে অনেকটা বাংলা সংখ্যা ১ (এক)-এর মতো। বাংলা বর্ণচিহ্ন ৎ (খণ্ড-ত)-এর আকৃতিও আঁকড়ির মতো। ব-এর ডান পাশে আঁকড়ি বা ১ লাগালে ক, ব-এর মাথার একটু বামে উলটো করে আঁকড়ি বা ১ লাগালে ধ এবং য-এর ডানে সামান্য নিচে আঁকড়ি বা ১ দিলে ফ তৈরি হয়। ক্ত (ক্‌+ত), ঞ্চ (ঞ্+চ) প্রভৃতি যুক্তব্যঞ্জনের বাম পাশেও আঁকড়ি রয়েছে।  বর্ণে উলটো আঁকড়ি দিলে হয় রু
.
পাগড়ি: ঙ-বর্ণের মাথায় শুয়ে থাকা বাংলা এক (১)-এর মতো অংশটিতে বলা হয় পাগড়ি।
.
জোড়-আঁকিড়ি: ‘এ’-এর পিঠে দুটি বা জোড় আঁকড়ি দিলে হয় ‘ঞ’। তাই ঞ-র পিঠের বোঝাটিকে জোড়-আঁকড়ি বলা হয়।
.
ইলেক: ইলেক ছিল অঙ্কশাস্ত্রের সাথে জড়িত। টাকা আনা পাই,মন সের ছটাক,রতি ভরি প্রভৃতি লিখতে অনেক রকম চিহ্ন ব্যবহার করতে হত,সেগুলোই ছিল ইলেক। কিন্তু বাংলা লেখার ক্ষেত্রেও এর প্রচলন ছিল। বর্ণের বাঁ পাশে এ-কার,ঐ-কার-কে ইলেক বলা হত। 
.
মাত্রা: স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় মাটির সমান্তরাল সোজা যে  দাগ  দেখা যায় সেটাকে মাত্রা বলে। যেমন এ কিংবা ও বর্ণের উপরে মাত্রা থাকে না। মাত্রা দেওয়া মাত্রই ত্র আর ত্ত__সম্পূর্ণ ভিন্ন অক্ষরে রূপান্তরিত হয়ে যায়। মাত্রা-সহ এ হয়ে যায় ত-এ র-ফলা (ত্র),আর মাত্রা-সহ ও হয়ে যায় ত-এ ত (ত্ত)। তখন এদুটো স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, বাংলা বর্ণমালায় মাত্রা নেই এমন বর্ণ আরও রয়েছে: খ গ ঙ ঞ ণ থ ধ প এবং ৎ।
.

মাত্রা ও বাংলা বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রা হলো- স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের মাথায় সোজা দাগ। স্বরবর্ণ ‘এ’ কিংবা ‘ও’-এর মাথায় দাগ নেই সুতরাং ‘এ’ এবং ‘ও’ হলো মাত্রাহীন বর্ণ। আবার ‘এ’ এবং ‘ও’ -এর মাথায় দাগ দিয়ে দিলে (মাত্রা দিলে) হয়ে যায় যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ ‘ত্র’ (ত+র = ত-য়ে র-ফলা) আর ‘ত্ত’ (ত+ত= ত -য়ে ত)। বাংলা বর্ণে মাত্রা দুই প্রকার। যথা:  পূর্ণমাত্রা ও অর্ধমাত্রা। পূর্ণমাত্রার বর্ণ মোট ৩২টি। যথা : অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ক, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, দ, ন, ফ, ব, ভ, ম, য, র, ল, ষ, স, হ, ড়, ঢ় এবং য়। অর্ধমাত্রার বর্ণ আটটি। যথা : ঋ, খ, গ, ণ, থ, ধ, প এবং শ। বাংলা বর্ণমালার মোট ৫০ টি বর্ণের বাকি দশটি অক্ষর হলো মাত্রাহীন। সেগুলো হচ্ছে : এ, ঐ, ও, ঔ, ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, এবং ঁ।

-কার: ‘-কার’ হচ্ছে স্বরবর্ণের ধ্বনি চিহ্ন; এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণ বা যুক্তব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। -কার-চিহ্নের উদাহরণ হচ্ছে আ-কার (‌‌া), হ্রস্ব ই-কার (ি), দীর্ঘ ঈ-কার (ী), হ্রস্ব উ-কার (ু), দীর্ঘ ঊ-কার (ূ), ঋ-কার (ৃ), এ-কার (ে), ঐ-কার (ৈ), ও-কার (ো), এবং ঔ-কার (ৌ)। যেমন: বাবার, ভূত, চুল, ভৌগোলিক, অশ্রু, বেলা, 
.
ফলা: ‘ব্যঞ্জনবর্ণের বা যুক্তব্যঞ্জনবর্ণের নিচে আরেকটি ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্ত হলে যে-বর্ণটিকে যোগ করা হল তাকে বলা হয় ফলা। ণ ন বর্গীয়-ব ম য র ল অন্তঃস্থ-ব (অধুন ব্যঞ্জনবর্ণমালা হতে বাদ)– এই ৮টি বর্ণ যখন অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের পরে যুক্ত হয় তখন তাদের ফলা বলা হয়। যেমন:
ণ-ফলা: অপরাহ্ন, প্রাহ্ণ, রুগ্‌ণ, ক্ষুণ্ণ।
ন-ফলা: অগ্নি, মগ্ন, ভগ্ন।
ব-ফলা: বিদ্বান, দ্বিতীয়।
ম-ফলা: ভস্ম, যুগ্ম, সম্মান।
য-ফলা: দৈর্ঘ্য।
র-ফলা:  ত্রাণ, ঘ্রাণ,  প্রাণ।
ল-ফলা: অম্ল, ক্লাব।
 শব্দ বানান করার সময় ফলা কথাটি তেমন একটা বলা হয় না। তবে য-ফলা আর র-ফলা বলা হয়।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerlerpoodleköpek ilanlarıankara gülüş tasarımıantika alanlarPlak alanlarantika eşya alanlarAntika mobilya alanlarAntika alan yerler
Casibomataşehir escortjojobetbetturkeyCasibomataşehir escortjojobetbetturkey