আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা

আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা কী

পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান  শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

আগরতলা কেন

ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় এটাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র¿ মামলা বলা হয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়েরের তারিখ

৬ দফা আন্দোলনকে মুছে ফেলার জন্যই ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি  অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।

মামলায় দণ্ডবিধির ধারা

 মামলা  দায়ের করা হয় পাকিস্তান দ- বিধির ১২১ (এ) এবং ১৩১ ধারায় এবং শুনানিও হয় এই দুই ধারায়।

আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় সরকারের প্রেসনোট

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই জানুয়ারি এক প্রেসনোটে ঘোষণা করে যে, সরকার ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এক চক্রান্ত উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘোষণায় ২ জন সিএসপি অফিসারসহ ৮ জনের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ পায়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ভারতীয় সহায়তায় এক সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াসে লিপ্ত ছিল। স্বরাষ্ট্র দফতর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই জানুয়ারি অপর এক ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানকেও এ ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত করে।

নির্দোষ দাবি করে বিবৃতি

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ শে জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। এই বিবৃতি পড়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সৃষ্ট আন্দালন, গণ অভুঙ্খানে রূপ নেয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবকে আটক

নিরাপত্তা আইনে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই মে থেকে জেলে আটক শেখ মুজিব ও অন্যান্যদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে সামরিক আইনে পুনরায় গ্রেফতার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সামরিক আইনে বিচার নাকরার কারণ

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রথমে কোর্ট মার্শাল করার সিদ্ধান্ত নিলেও সরকার সত্তর  খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের কথা মনে রেখে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ বাঙালি  অফিসারদের  বেসামরিক  আইনে অভিযুক্ত করে।

সংগ্রাম পরিষদের দাবি দিবস ও কার্যক্রম

error: Content is protected !!