আজব ব্যাকরণ গজব কার্যকরণ

[su_heading size="35" margin="30"]আজব ব্যাকরণ গজব কার্যকরণ [/su_heading]

এক ক্রিয়ার বহু কর্তা

একাধিক কর্তাপদ একটা ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করলে তাকে বলা হয় ‘এক ক্রিয়ার বহু কর্তা’।যেমন: ফুটপাতের লোকেরা, চায়ের দোকানে ভিড়-করা ছেলেরা, বিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে-থাকা ছাত্রীরা, ভবনের ছাদে গল্পরত বুড়োরা, এমন কি ফুটপাতের ঘুমন্ত কুকুরটাও চমকে উঠল।

অতীতার্থক প্রত্যয়

যে প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদকে অতীত কালের দ্যোতক করে তুলে তা-ই অতীতার্থক প্রত্যয়। ইল্, ইত্‌ প্রভৃতি অতীতার্থক প্রত্যয়। ‘ইল্‌’ সাধারণ বা নিত্য অতীতে এবং ‘ইত্‌’ নিত্যবৃত্ত অতীতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: কর+ইল্+অ= করিল; বল+ইত্‌+অ= বলিত প্রভৃতি।

ব্যুৎপত্তি ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

ব্যুৎপত্তি: কোনও শব্দের বিশ্লেষণ ও তার ধাতু, প্রকৃতি, প্রত্যয় ইত্যাদির পরিচয়ের নাম ব্যুৎপত্তি। শব্দকে বিশ্লেষণ করে তার ধাতু প্রত্যয় ইত্যাদি বের করাকে বলা হয় ব্যুৎপত্তি নির্ণয়। ব্যুৎপত্তি নির্ণয়কে প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয়ও বলা হয়।

এরে

‘এরে’ একটি বাংলা বিভক্তি। একাধিক কারকে এ বিভক্তির ব্যবহার আছে তাই ‘এরে’ তির্যক বিভক্তি নামে পরিচিত। কবিতায় এর প্রয়োগ বেশি তবে গদ্যে তেমন একটা দেখা যায় না। যেমন:
কর্তৃকারকে : মহানেরে হতে হয় বিশাল-হৃদয়;
কর্মকারকে: “এক হাতে মোরা মগেরে রুখেছি”- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
সম্প্রদান কারকে: “ব্রাহ্মণেরে সমর্পিল শ্রেষ্ঠ ধন”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অসম্পূর্ণ ক্রিয়া

যে সব ক্রিয়াকে সব কালে ও ভাবে ব্যবহার করা চলে না, তাদের বলা হয় অসম্পূর্ণ ক্রিয়া বা অপূর্ণরূপ ক্রিয়া বা পঙ্গু ক্রিয়া। যে সব ধাতু থেকে এ ধরণের ক্রিয়া হয়, তাদের নাম অসম্পূর্ণ ধাতু বা পঙ্গু ধাতু। উদাহরণ : ‘আছ্‌’ ধাতুর ভবিষ্যৎকাল নেই, এ কালের জন্য ‘থাক্‌’ ধাতু ব্যবহার করতে হয়। আবার ‘বট্‌’ ধাতুর বর্তমানকাল ছাড়া অন্য কাল নেই। যেমন: আমি আজ চোর বটে। কিন্তু ‘বটব’, ‘বটতাম’ হয় না। যেমন: যা-ধাতুর ক্ষেত্রে অতীতকালের ‘গম’ ধাতুর সাহায্য প্রয়োজন হয়।যায়, যাবে কিন্তু গেল গেলাম।পুরাঘটিত বর্তমানেও তেমন।

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ

এটি সাধিত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনও শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করলে, তাতে যে যে অংশ পাওয়া যায়, সেই অংশগুলোর অর্থের সমন্বয়ে শব্দটির যে অর্থ হয়, তাকেই বলা হয় ব্যুৎপত্তিগত অর্থ। যেমন: করণীয় শব্দের ব্যুৎপত্তি : √কর্‌+ অনীয়। ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- যা করা উচিত। অনেক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থ একই হয় না। যেমন: পঙ্কজ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ : পঙ্কে যা জন্মায়; কিন্তু প্রচলিত অর্থে ‘পঙ্কজ’ বলতে পঙ্কে যা জন্মায় তার সবকিছুকে বোঝায় না। পঙ্কজ শব্দের প্রচলিত অর্থ পদ্ম।

Language
error: Content is protected !!