আদ্যক্ষর না কি আদ্যাক্ষর, উচিত বনাম উচিৎ; উচিৎ লেখা উচিত নয়, নয়নাসার

ড. মোহাম্মদ আমীন

আদ্যক্ষর না কি আদ্যাক্ষর, উচিত বনাম উচিৎ; উচিৎ লেখা উচিত নয়, নয়নাসার

আদ্যক্ষর না কি আদ্যাক্ষর

আদি ও আদ্য শব্দের সঙ্গে অক্ষর শব্দ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে যথাক্রমে আদ্যক্ষর ও আদ্যাক্ষর। আদি ও আদ্য অর্থ প্রথম। সংস্কৃত আদ্যক্ষর ও আদ্যাক্ষর অর্থ (বিশেষ্যে) প্রথম অক্ষর। সুতরাং, উভয় শব্দ সমার্থক। কিন্তু কোন শব্দটি শুদ্ধ?
 
পবিত্র সরকার প্রমুখ সংকলিত আকাদেমি বানান অভিধান অনুযায়ী আদ্যক্ষর (আদি+অক্ষর) এবং আদ্যাক্ষর (আদ্য+অক্ষর) উভয় বানানই
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
ব্যাকরণসম্মত ও শুদ্ধ। তাই ওই অভিধানে আদ্যক্ষর ও আদ্যাক্ষর উভয় শব্দকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কেবল আদ্যাক্ষর বানানকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাক কীভাবে উভয় বানান শুদ্ধ ও ব্যাকরণসম্মত হয়।
 
আদ্যক্ষর= আদি+অক্ষর। কারণ: ই/ঈ ছাড়া স্বরবর্ণ পরে থাকলে ই/ঈ-স্থানে য-ফলা হয় এবং সৃষ্ট য-ফলা শেষ পদের প্রথম স্বর নিয়ে প্রথম পদের শেষ বর্ণে যুক্ত হয়। এভাবে গঠিত হয়েছে: আদি+অক্ষর= আদ্যক্ষর। অনুরূপ: অতি+অন্ত= অত্যন্ত, আদি+অন্ত= আদ্যন্ত, প্রতি+অহ= প্রত্যহ। প্রতি+আশা= প্রত্যাশা, ইতি+আদি= ইত্যাদি, অভি+উদয়= অভ্যুদয়, অতি+উচ্চ= অত্যুচ্চ, প্রতি+ঊহ্= প্রত্যূহ, প্রতি+এক= প্রত্যেক, যদি+অপি= যদ্যপি।
 
আদ্যাক্ষর= আদ্য+অক্ষর। কারণ: অ/আ-এর পর অ বা আ থাকলে উভয় বর্ণ মিলে আ হয় এবং সৃষ্ট আ পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। সেভাবে গঠিত হয়েছে: আদ্য+অক্ষর= আদ্যাক্ষর। অনুরূপ: অদ্য+অপি=অদ্যাপি; অদ্য+অবধি= অদ্যাবধি, অন্য+অন্য= অন্যান্য, কাব্য+অংশ= কাব্যাংশ, বাক্য+অতীত= বাক্যাতীত, মধ্য+অহ্ন= মধ্যাহ্ন; সাধ্য+অতীত= সাধ্যাতীত, কাব্য+অলংকার= কাব্যালংকার ইত্যাদি।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত আদ্যাক্ষর= আদ্য+অক্ষর= (আদ্য্+অ)+অক্ষর। এই অভিধানে আদ্যক্ষর (আদি+অক্ষর) শব্দকে স্থান দেওয়া হয়নি। যদিও আদ্যন্ত (আদি+অন্ত) শব্দকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আদ্যন্ত স্থান পেলে আদ্যক্ষর কী দোষ করল?
 
উপসংহার: ব্যাকরণিক গঠন অনুযায়ী আদ্যক্ষর ও আদ্যাক্ষর উভয় বানান শুদ্ধ। তবে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কেবল আদ্যাক্ষর শব্দকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
 
উচিৎ  লেখা উচিত নয়, অনুচিত কেন
 
শুবাচের অনেকে উচিত বানান লেখেন খণ্ড-ৎ দিয়ে। উচিত বানানে খণ্ড-ৎ দেবেন না, সর্বদা আস্ত-ত দেবেন। তৎসম উচিত অর্থ যোগ্য, যথার্থ, সবদিক থেকে পরিপূর্ণ প্রভৃতি।
কিন্তু খণ্ড-ৎ হবে না কেন?
খণ্ডিত কোনো কিছু উচিত হতে পারে না। সম্পৎ আছে বলে গিন্নির জন্য বাজার থেকে হঠাৎ করে খণ্ডিত শাড়ি নিয়ে এলেন, কী বিপৎ হবে বুঝতে পারছেন?
খণ্ড-ৎ মূলত আস্ত-ত এর অর্ধাংশ। খণ্ডিত বলে খণ্ড-ৎ বর্ণটি উচিত বানানের জন্য খণ্ডিত শাড়ির মতো অনুচিত। তাই উচিত বানানে অনুচিত খণ্ড-ৎ দিতে নেই। উচিত বানানে হঠাৎ করে হঠাৎ বানানের খণ্ড-ৎ না দিয়ে তফাত বানানের আস্ত-ত দিন।
যদি খণ্ড-ৎ এর প্রতি আপনার খুব বেশি আগ্রহ থাকে তাহলে আপৎ, বিপৎ, সম্পৎ প্রভৃতি বানানে খণ্ড-ৎ দিতে পারেন। এতে আপনার বিপদ না হলেও বিপৎ হবে না। তবে উচিত বানানে খণ্ড-ৎ দিলে আপনার আপৎ ও বিপৎ দুটোই হতে পারে।
খণ্ডিত জিনিস কেউ পছন্দ করুক বা না করুক আপনার কোনো প্রিয়জন পছন্দ করবে না। উচিত জায়গায় উচিত বর্ণ দিন।
এতবার উচিত দেখলেন, আর ভুল হবে কি?
 

নয়নাসার

নয়নাসার অর্থ কী? সংস্কৃত নয়নাসার (নয়ন+আসার) অর্থ— (বিশেষ্যে) কান্না, অশ্রুবর্ষণ। তোমার নয়নাসার, আমার সীমাহীন পারাবার।
 
 
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি
শুবাচ আধুনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান
 
এক মিনিট সময় দিন বানানগুলো শিখে নিন
error: Content is protected !!