Warning: Constant DISALLOW_FILE_MODS already defined in /home/draminb1/public_html/wp-config.php on line 102

Warning: Constant DISALLOW_FILE_EDIT already defined in /home/draminb1/public_html/wp-config.php on line 103
আপদ্‌ বনাম বিপদ : বিপৎকাল না কি বিপদকাল – Dr. Mohammed Amin

আপদ্‌ বনাম বিপদ : বিপৎকাল না কি বিপদকাল

আপদ্‌ বনাম বিপদ : বিপৎকাল না কি বিপদকাল

ড. মোহাম্মদ আমীন

বাংলায় ‘আপদ’ দুই প্রকার।যথা: (১) আপদ্‌ ও (২) আপদ। দুটাই এসেছে সংস্কৃত থেকে। প্রথম ‘আপদ্‌’ ভয়ানক, তাই এতে হসন্ত আছে। এটাকে বলতে পারেন হসন্ত-বিপদ।এই আপদে কেউ যদি হসন্ত না-দিয়ে থাকেন, তাহলে ‘বিপদ’ অনিবার্য। দ্বিতীয় ‘আপদ’ রোমাঞ্চকর, তাই হসন্ত নেই। তবে হসন্ত থাকেলেও উভয় ‘আপদ’-এর ডাক মানে উচ্চারণ অভিন্ন। 

বাংলার প্রথম আপদ্‌: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘আপদ্‌(আ+ √পদ্‌+ক্বিপ)’ শব্দের অর্থ (১) বিরক্তিকর ব্যক্তি বস্তু বা বিষয় (২) বিপদ, (৩) দুর্গতি, (৪) ঘোষ বর্ণের পূর্বে ‘আপৎ’ শব্দের রূপ। এই ‘আপদ্‌’ সংস্কৃত হতে আসার সময় হসন্তের নিচে করে নিয়ে এসেছে ‘বিপদ’। দ-এর নিচে হসন্ত, বিপদ নয় তো কী? এই ‘আপদ্‌’ হচ্ছে  বিপদের জন্মদাতা।

বাংলার দ্বিতীয় আপদ: বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘আপদ (আ+√পদ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ— (পা হতে) মাথা পর্যন্ত। মনে রাখবেন, পা আছে বলে এই ‘আপদ’ হসন্তবিহীন। আমাদের আলোচনা হসন্ত ‘বিপদ্’ নিয়ে।অতএব, দ্বিতীয় ‘বিপদ’ ঊহ্য থাকবে আজকের মতো। এবার দেখি ‘আপদ্‌’; ‘আপদ্’‘বিপদ’-এর পার্থক্য এবং ‘বিপৎকাল’ লিখব না কি ‘বিপদকাল’ লিখব। 

বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘বিপদ (বি+ √পদ্‌+ক্বিপ)’ শব্দের অর্থ— (১) সন্ধি ও সমাসে অঘোষ বর্ণের পূর্বে ‘বিপৎ’ শব্দের রূপ; (২) আপদ, বিপত্তি; (৩) দুর্দশা, দুরবস্থা এবং (৪) ঝঞ্ঝাট প্রভৃতি। সন্ধি ও সমাসে অঘোষ বর্ণের পূর্বে ‘বিপদ’ শব্দের রূপ ‘বিপৎ’। তাই ‘বিপৎ’ থেকে সৃষ্ট শব্দ হিসেবে লিখতে হবে—বিপৎকাল, বিপৎকালীন, বিপৎচিহ্ন, বিপৎসংকুল, বিপৎসংকেত, বিপৎসীমা, বিপত্তারণ, বিপত্তারিণী প্রভৃতি। এসব শব্দে ‘ৎ’-এর স্থলে ‘দ’ বিধেয় নয়।

আভিধানিক অর্থ বিশ্লেষণে ‘বিপদ’ ও ‘আপদ্‌’ সমার্থক মনে হলেও  প্রায়োগিক ক্ষেত্রে শব্দ দুটোর ব্যাপক পার্থক রয়েছে। সাধারণত ‘বিপদ’ বলতে ‘বিরক্তিকর ব্যক্তি বস্তু বা বিষয়’ প্রকাশ করা হয়ে থাকে—  যা মূলত ‘আপদ্‌’-এর সন্তান।  এই বিরক্তিকর ব্যক্তি বস্তু বা বিষয় যে বা যেসব বিপত্তি, দুর্দশা, দুরবস্থা, ঝঞ্ঝাট নিয়ে আসে সেটিই হচ্ছে বিপদ। অর্থাৎ ‘আপদ্‌’ হচ্ছে কারণ আর ‘বিপদ’ হচ্ছে কারণের ফল বা প্রতিক্রিয়া। একটি বাক্যে ‘আপদ্‌’‘বিপদ’ শব্দের প্রয়োগ দেখা যাক: সাইক্লোন একটা আপদ্‌, এটি এলে জনগণের বিপদ বেড়ে যায়। বহুল শ্রুত একটি গল্প শুনুন। তাহলে আপদ বিপদের পার্থক্য আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 চাকুরির সাক্ষাৎকারে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে এক ইংরেজ প্রশাসক বললেন, আপড (আপদ্‌) আর বিপডের (বিপদের) মধ্যে পার্ঠক্য ( পার্থক্য) কী?’

বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন, বাঙালি হয়েও আমাকে একজন ইংরেজের কাছে বাংলা ভাষার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। আপনারা হচ্ছেন— আপদ্‌। আপনারা মানে আপদ্‌ এসে আমাদের পুরো দেশটা দখল করে শাসন করছেন, আমাকে আপনাদের কাছে বাংলা পরীক্ষা দিতে হচ্ছে—  এসব হচ্ছে গিয়ে বিপদ

জল বনাম পানি

খাঁটি গোরুর দুধ শুদ্ধ না কি অশুদ্ধ

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন

আশীর্বাদ দোয়া : আদব ও আদাব 

নিচ নীচ বনাম নিচে নিচু

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবিলিকেশন্স লি.।