আপোকপা: মণিপুরী: বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী

ড. মোহাম্মদ আমীন
শুবাচির প্রশ্ন: জানতে চাই আপোকপা কী?
আপোকপা মণিপুরিদের ধর্মীয় উপাসনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পালনীয় একটি অত্যাবশ্যকীয় অর্ঘ্যক্রম। এজন্য বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের আদিধর্ম ‘আপোকপা ধর্ম’ নামেও পরিচিত।

সাধারণভাবে আপোকপা হলো মণিপুরিদের নিজস্ব লৌকিক ধর্ম।

আপোকপা শব্দের উদ্ভব: আপোকপা শব্দটি এসেছে মণিপুরি মৈতৈ ভাষার ‘পোকপা’ থেকে। ‘পোকপা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ— যিনি জন্ম দিয়েছেন, যার কাছ থেকে আমি সৃষ্ট, জন্মদাতা, পূর্বপুরুষ। আলংকারিক অর্থ— পূজাবিশেষ, ধর্মবিশেষ।
পৃথিবীর অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্বপুরুষকে দেবতা মান্যে পূজা (Ancestor Worship) করা হয়। আপোকপাও এমন একটি পূজা। বিষু বা বছরের শেষ দিনে রাস্তায় পূর্বপুরুষের স্মরণে খাবারের ভোগ দেওয়ার রীতিই হচ্ছে আপোকপার মূল বিষয়। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের মধ্যে আপোকপা পূজা অবশ্যকর্তব্য। প্রতিটি গোষ্ঠী (শিংলুপ) বছরে কমপক্ষে একবার হলেও আপোকপা পূজার আয়োজন করে থাকে।
মণিপুরি পুরাণগুলোয় তিন প্রকার আপোকপা দেখা যায়। যথা:
  • ইমুঙপোকপা (Family Ancestors) বা পারিবারিক আপোকপা: মৃত পূর্বতন তিন পুরুষকে ইমুঙপোকপা বা গরর দৌ বলা হয়। সাধারণত নবান্নের সময় এই পূজা দেওয়া হয়।

পূজার উপকরণ— চিনিমাখা খই, মুড়ি, চিড়া, তিলের মোয়া, কলা, মিষ্টি আলু, পেঁপে, কাঁঠাল প্রভৃতি।

  • সাগেইপোকপা (Group Ancestors) বা গোষ্ঠীয় আপোকপা বা কুলদেবতা: কোনো গোষ্ঠীর পূর্বপুরুষকে (সাগেই) ওই গোষ্ঠীর আপোকপা বলা হয়। গোষ্ঠীভেদে এরা ভিন্ন। তাই এক গোষ্ঠীর আপোকপা পূজায় অন্য গোষ্ঠী অংশ নেয় না। এই পূজা সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে হয়ে থাকে।

পূজার উপকরণ— ভাত, টাকিমাছ, শোলমাছ, বোয়ালমাছ, আইড়মাছ, চ্যাংমাছ প্রভৃতি।

  • য়েকপোকপা (Clan Ancestors ) বা গোত্রীয় আপোকপা: এটি গোত্র প্রধানের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আপোকপা। মণিপুরিদের সাতটি গোত্রের সাতজন ভিন্ন আপোকপা রয়েছে।

পূজার উপকরণ— ফুল, ধূপ, সরিষার দানা, চাল, চালের গুড়া, পানপাতা, সুপারি, মাটির কলসি, কাপড়, তামার পয়সা ইত্যাদি।

মণিপুরি ভারত ও বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নাম। আদি নিবাস ভারতের মণিপুর রাজ্যে। মণিপুরিদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি রয়েছে। ভারতের মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।

মণিপুরিদের মাতৃভাষার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি । তিন লাখ মানুষ এই ভাষায় কথা বলে । ভাষাটিকে ইউনেসকো (UNESCO) বিপন্ন হিসাবে ঘোষণা করেছে।

বিশেষণ পদ লেখার নিয়ম

 বিশেষণ পদ সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদ থেকে নিজেকে ফাঁক রেখে বসে। কোনো পদের পূর্বে বিশেষণ বসানো প্রয়োজন হলে কাঙ্ক্ষিত বিশেষণটি পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত না-করে পৃথক রাখা সমীচীন। যেমন: নীল আকাশ, জ্যোৎস্না রাত, লাল শাড়ি, পাকা বাড়ি। তবে বিশেষ্যের সঙ্গে যে বিশেষণ বসানো হয় তার কোনো বিশেষণ থাকলে পদদ্বয় একত্রে বসানো যায়। যেমন: বিশ্বসুন্দরী, রক্তলাল, দুগ্ধধবল, শ্বেতহস্তী ইত্যাদি।
তবে ফাঁক রেখে লিখলেও দূষণীয় হবে না। বাংলায় সমাসবদ্ধ পদ ফাঁক রেখে এমন বাক্য হিসেবেও লেখার ব্যাকরণিক বিধান রয়েছে। যেমন: বিজয় দিবস, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্বাধীনতা দিবস। যে শব্দ বা পদ সমাসবদ্ধ, কিন্তু ধ্বনিগত পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিশেষ গঠনের ফলে সমাসবদ্ধ পদ কি না সহজে বোঝা যায় না, তাকে ছদ্মবেশী সমাস বলে। বাক্যও সমাস হতে পারে।
বাক্যের মধ্যে লুকায়িত বা আপাতদৃষ্টে বাক্যের অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সমাসকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলা হয়। যদি কোনো সমাসবদ্ধ পদ একটি বাক্যের ন্যায় গঠন নিয়ে বাাক্যের মতো অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। প্রথমে মনে হয় এগুলো সমাসবদ্ধ পদ নয়, ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, সমাসবদ্ধ পদ।
যেমন: পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন। রক্তদান কর্মসূচি। কোরোনা প্রতিরোধ করো। দুনিয়ার মজদুর এক হও।
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
error: Content is protected !!