আফগানিস্তান পাকিস্তান গুলিস্তান, কিন্তু রাজস্থান ও হিন্দুস্থান: পটল পটোল বানান পরিবর্তন

ড. মোহাম্মদ আমীন

আফগানিস্তান পাকিস্তান ও গুলিস্তান, কিন্তু রাজস্থান ও হিন্দুস্থান: পটল পটোল বানান পরিবর্তন

সংযোগ: https://draminbd.com/আফগানিস্তান-পাকিস্তান-গু/

আফগানিস্তান পাকিস্তান ও গুলিস্তান কিন্তু হিন্দুস্থান: ‘স্তান’ ফারসি শব্দ এবং ‘স্থান’ সংস্কৃত শব্দ। পাক-ই-স্তান পাকিস্তান এবং আফগান-ই-স্তান = আফগানিস্তান। তাই উৎস বিবেচনায় এই দুই শব্দের বানানে ‘স্থান’ লেখা সমীচীন নয়। যদিও শব্দের ব্যবহার, প্রয়োগ, প্রচলন বা জনপ্রিয়তা শব্দের উৎস কিংবা উৎপত্তির ধার ধারে না। অনেকে ‘আফগানিস্থান’ লিখে থাকেন। সৈয়দ মুজতবা আলী ‘বড়বাবু’ গ্রন্থে লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে আফগানিস্থানের মনের মিল নেই, এদিকে তেমনি আফগান পাকিস্তানীতে মন-কষাকষি চলছে।” সৈয়দ মুজতবা আলী কেন ‘পাকিস্তান’ ও ‘আফগানিস্তান’ নামের দুই দেশের নামের বানানে একটিতে ‘স্তান’ এবং অন্যটিতে ‘স্থান’ লিখেছেন তার কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। যদিও ফারসি ‘স্তান’ এবং সংস্কৃত ‘স্থান’ প্রায় সমার্থক। তবে গুল এর সঙ্গে স্তান দিয়ে গুলিস্তান লিখুন। গুলিস্থান লিখলে গোলাগুলির স্থান হয়ে যেতে পারে।
 
সুভাস ভট্টাচার্যের মতে, “তবু ইসলামি দেশনামে ‘স্তান’ লেখাই রীতি এবং হিন্দুস্থান শব্দে ‘স্তান’ লেখা সমীচীন নয়। ‘হিন্দুস্থান’ নামের উর্দু উচ্চারণ ‘হিন্দোস্তাঁ’ হলেও দীর্ঘ কাল ধরে হিন্দুস্থান’ বানানই বাংলায় বহুল প্রচলিত।” হয়তো ‘হিন্দু’ আর ‘স্থান’ শব্দের অভিন্ন উৎসই এর অন্যতম কারণ।
 
পটল ও পটোল: ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে গরুপটলবড়,ছোট, ঘুষ, খ্রিস্টাব্দ, ব্যবহারিক (ব্যবহার+ইক) ইত্যাদি বানান পরিবর্তন করে যে, যথাক্রমে গোরু, পটোল, বড়ো, ছোটো, ঘুস, খ্রিষ্টাব্দ ও ব্যাবহারিক(ব্যবহার+ইক) বানানকে একমাত্র বানান নির্দেশ করা হয়েছে তা এখনও অনেকে জানেন না।
‘বাংলা একাডেমি’র ক্ষেত্রে একাডেমি, অন্যান্য ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমি
 
জিরা ও মৌরি: মৌরি মাসলা জাতীয় উদ্ভিদ। দেখতে জিরার মত হলেও স্বাদে হাল্কা মিস্টি ও হাল্কা সুগন্ধি মসলা। তবে অনেক এলাকায় মিষ্টি জিরা হিসেবেও পরিচিত। অনেকে বলে গুয়া মুহুরি। মুখে দিয়ে চিবায়ে মিষ্টি স্বাদ নিতাম।  জিরা রান্নায় ব্যবহার হয়। মৌরীকে আমরা গুয়ামশুরী বলি।পাঁচফোড়ন এ থাকে। পানের সাথে খায়। দেখতে প্রায় একই, তবে মৌরি একটু বড়। এছাড়া দুটোর ঘ্রাণ দু’রকম। টেস্টও আলাদা। জিরা রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত। কাঁচা মৌরি হোটেলে খাবার পরে পিরিচে দেয়া হয়। মৌরি এটার আসল নাম। গ্রামাঞ্চলে গুয়ামরি বলে আবার মিষ্টি জিরা ও বলে। সব রান্নায় দেওয়া যায়না। মেজবানি মাংস, আচার কিংবা চিকেন রোস্ট এ দিলে খুব ভাল টেস্ট আসে। মৌরি পাঁচফোড়নের সঙ্গে থাকে। মৌরি আর জিরা যেন আপন দুই ভাই। দেখতে প্রায় একই কিন্তু মৌরি একটু বড়ো ও স্থুল আর জিরা একটু ছোটো ও চিকনা। মৌরির গাছও জিরা গাছের তুলনায় একটু বড়ো। দুটোই সুগন্ধি যুক্ত মসলা। মৌরি বিভিন্ন স্থানে গুয়ামুরি, গুয়ামুহুরি, গুয়ামুসরি, শুলজ, মিঠাজিরা, মিঠাসজ, মিঠাহজ ইত্যাদি নামেও পরিচিত। ভূত চতুর্দশীর ভোগের চৌদ্দ শাকের মিশ্রনে অন্যতম একটি উপাদান শুলজের বা মৌরির শাক। কোনো কোনো এলাকায়  ধনিয়াকে বলে হজ, আর মৌরিকে বলে গমুরি হজ। পূর্বে রান্নাবান্নায় এটা ব্যবহার হলেও এখন আর হয় না। ইংরেজিতে মৌরিকে বলা হয়: fennel এবং জিরাকে বলা হয়: Cumin, এদের স্বাদ, গন্ধ, আকার আলাদা।  মৌরিকে বাংলাদেশে  মিষ্টি জিরাও বলা হয়। এটা বিভিন্ন দেশীয় পিঠাতে ব্যবহার করা হয়।
 
সুসংবাদ:পৃথিবীর অনেক দেশে রাষ্ট্রীয় ভাষা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত বানান বিধি ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশে নেই।
 
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
— — — — — — — — — — — — — — — — —
Spelling and Pronunciation
error: Content is protected !!