আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

ড. মোহাম্মদ আমীন 

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

সংযোগ: https://draminbd.com/আবদুল-করিম-সাহিত্যবিশারদ

বাংলার প্রাচীন পুথি সংগ্রহ ও সাহিত্যবিষয়ক ঐতিহ্য অন্বেষণকারী হিসেবে খ্যাত আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আবদুল করিম ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন। এরপর কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে চাকরি গ্রহণ করেন। এরপর পুনরায় শিক্ষকতার পেশায় চলে যান এবং বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক পদে উন্নীত হন। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা আবদুল করিমকে “সাহিত্যসাগর” এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ খেতাব ভূষিত করে। সহিত্যবিশারদ খেতাবটি তাঁর পছন্দের ছিল এবং তিনি নিজ নামের সঙ্গে এটি ব্যবহার করতেন।
১৯২০-২১ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে দুই খণ্ডে তাঁর লেখা বাংলা পুথির তালিকা ‘বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ’ নামে প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুথির তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘পুথি পরিচিতি’ নামে প্রকাশ পায়।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পাণ্ডুলিপিসমূহ থেকে জানা যায়, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। দৌলত কাজী, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখ শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবিদের অন্যতম বলে গণ্য। যাঁদের নাম ও রচনা সম্পর্কে আগে কিছুই জানা যায়নি এমন প্রায় একশ জন মুসলমান কবিকে তিনি পরিচিত করেন।
তাঁর সংগৃহীত পুথির অধিকাংশ মুসলমান কবিদের লেখা। এগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুথি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
‘ইসলামাবাদ’ চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে লেখা তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও মুহম্মদ এনামুল হক যৌথভাবে রচনা করেন বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য’।
সাহিত্যবিশারদের সম্পাদিত পুথিসমূহের মধ্যে জ্ঞানসাগর, গোরক্ষ বিজয়, মৃগলব্ধ, সারদা মুকুল, পদ্মাবতী প্রভৃতি অন্যতম।
এন্ট্রান্স পাশ হলেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির পরীক্ষার খাতার পরীক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন।
তিনি ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে সেপ্টেম্বর মারা যান।
Language
error: Content is protected !!