আমাদের টেপাভুল অনবধানতায়: শুদ্ধ বানান শুদ্ধ ভাষা ২

ড. মোহাম্মদ আমীন

এই  পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/আমাদের-টেপাভুল-অনবধানতায়/

আমাদের টেপাভুল অনবধানতায়: শুদ্ধ বানান শুদ্ধ ভাষা ২

বাম থেকে হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

আমাদের টেপাভুল অনবধানতায়: শুদ্ধ বানান শুদ্ধ ভাষা ২

#আমাদের_টেপাভুল_অনবধানতায় ১১
 
 
শুবাচে আমাদের লেখায় অনবধানতাবশত যে টেপাভুল বা মুদ্রণপ্রমাদ কিংবা অন্যান্য ভুল দেখা যায়, তা এই শিরোনামে তুলে ধরা হবে। বাংলা লেখায় সাধারণত এরকম ভুলই হয়। আমার লেখাতেও ভুল থাকতে পারে। সংশোধন কাম্য।
 
 
অপ্রমিত/ভুল >  প্রমিত/শুদ্ধ
আত্তার> আত্মার
সামর্থ> সামর্থ্য
ধানক্ষেত> ধানখেত
সাহরি> সেহরি
‘বেহেশত বাসি’> বেহেশতবাসী।
রবীন্দ্রনাথসহ> রবীন্দ্রনাথ-সহ
আহবান> আহ্বান 
শুদ্ধিকরণ> শুদ্ধীকরণ
অর্থগত কোন পার্থক্য আছে কি?> অর্থগত কোনো পার্থক্য আছে কি?
বছর কে স্বাগত> বছরকে স্বাগত
#আমাদের_টেপাভুল_অনবধানতায় ১২
 
কবি শে ফজলল করিম> কবি শেখ ফজলল করিম
ভান্ডারী> ভান্ডারি
 
 
#আমাদের_টেপাভুল_অনবধানতায়
 
শুবাচে আমাদের লেখায় অনবধানতাবশত যে টেপাভুল বা মুদ্রণপ্রমাদ কিংবা অন্যান্য ভুল দেখা যায়, তা এই শিরোনামে তুলে ধরা হবে। বাংলা লেখায় সাধারণত এরকম ভুলই হয়। আমার লেখাতেও ভুল থাকতে পারে। সংশোধন কাম্য।
 
অপ্রমিত/ভুল >  প্রমিত/শুদ্ধ
এক্ষুণি এক্ষুনি (অতৎসম, তাই ন)।
এতো এত (এত জল ও কাজল চোখে- – -।)
এতদ্‌সত্ত্বেও এতৎসত্ত্বেও (স-এর আগে ৎ হয়। যেমন: বিপৎসংকেত, বিপৎসীমা।)
এতুদ্দেশ্যে এতদুদ্দেশ্যে
এতৎবিষয় এতদ্‌বিষয়
এতদ্বারা এতদ্দ্বারা
 
এত এ তো (এ তো দেখার বিষয়)
এ ত এত (এত টাকা আমি কী করব?)
এবংপ্রকার এব্মপ্রকার
এবম্বিধ এবংবিধ
এমন কি এমনকি (এমনকি তোমার মুখও দেখব না।)
 
এত দেখুন কত
এত শব্দের পর প্রত্যয়যুুক্ত কয়েকটি শব্দ। এগুলো আমরা প্রায় ব্যবহার করি। কিন্তু অনেকসময় বানানে ভুল হয়ে যায়। একবার চোখ বুলিয়ে যান। স্মৃতিতে ভরে রাখুন। কাজে আসবে আজ কাল বা পরশু।
 
এত
এত (এই পরিমাণ, অনেক): এত খাব? না না, একটু কমাও।
এত এত (বিপুল পরিমাণ):  এত এত সম্পদ, কেউ নেই সংসারে খাবে কে বলুন?
এতকাল (এতদিন পর্যন্ত): এতকাল কোথায় ছিলে?
এতখানি (এতখানি): আর না, এতখানি দিলে হবে।
এতগুলি, এতগুলো (প্রচুর বা যথেষ্ট অর্থে): এতগুলি/এতগুলো লোক করছিলটা কী, আজিব তো!
এতটুকু (সামান্য):  এতটুকু ভাতে ছেলেটির পেট কি ভরবে?
 
এতৎ
এতৎ (অঘোষ বর্ণের পূর্বে এতদ্‌ শব্দের রূপ; উপস্থিত ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়; এটা, এই ইনি): এতৎসংক্রান্ত
এতদতিরিক্ত: (এছাড়া, এর বেশি, তদুপরি):  যা দিয়েছ যথেষ্ট,  এতদতিরিক্ত লাগবে না।
এতদবস্থা: (এই অবস্থা, এইরূপ):এতদবস্থায় বাইরে যাওয়া সমীচীন হবে না।
এতদর্থে (এই অর্থে, এই মর্মে, এই উদ্দেশ্যে): এতদর্থে ঘোষণা করা যাচ্ছে যে —।
এতদিন (এতকাল, এত সময়): এতদিন কোথায় ছিলেন?
এতদীয় (এতৎসংক্রান্ত, এতদ্‌বিষয়): এতদীয় বিবেচনায় সরকার চুক্তিটি বাতিল করে দিল। 
এতদুদ্দেশ্যে (এই অভিপ্রায়ে): এতদুদ্দেশ্যে তিনি ঢাকা গেলেন।
এতদুপলক্ষ্যে (এই উপলক্ষ্যে): এতদুপলক্ষ্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
 
এতদ্‌
এতদ্‌ (ঘোষ বর্ণের পূর্বে এতৎ শব্দের রূপ; উপস্থিত ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়; এটা, এই ইনি): 
এতদ্‌বিষয় (এই বিষয়): এতদ্‌বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এতদ্‌ব্যতীত (এছাড়া, ইহা ব্যতীত): এতদ্‌ব্যতীত আমার আর কোনো সম্পদ নেই।
এতদ্‌হেতু (এই কারণে, এজন্য):  জ্ঞানী হলেও তিনি অভদ্র; এতদ্‌হেতু সবাই তাকে এড়িয়ে চলে।
এতদ্দেশ (এই দেশ, এই স্থান)
এতদ্দেশীয় (এই দেশের, এই দেশে জাত)
এতদ্দ্বারা
এতদ্ভিন্ন
এতদ্রুপ
এতাদৃশ (এই প্রকার, এই রূপ)
এতাবৎ (এই পর্যন্ত)
এতাবৎকাল (এতদিন ধরে, আজ পর্যন্ত)
 
দ্রষ্টব্য:
অঘোষবর্ণ: ক চ ট ত প; গ ছ ঠ  থ ফ
ঘোষবর্ণ: গ জ ড দ ব, ঘ ঝ ঢ ধ ভ; ‍ঙ ঞ ণ ন ম
 
 
 
 
 
 
বিপৎ ও বিপদ
অভিধানমতে, বিপৎ ও বিপদ উভয় বানান শুদ্ধ। বাক্যে যে-কোনো একটি লেখা যায়। তবে বিভক্তি যুক্ত হলে ৎ, দ হয়ে যায়। যেমন:
১. চারদিকে শুধু বিপৎ আর বিপৎ।
২. চারদিকে শুধু বিপদ আর বিপদ।
বাক্য (১) ও (২) দুটোই শুদ্ধ।
কিন্তু,
“বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়- – -।”
এই বিপদে সর্বদা দ হবে। কারণ, ৎ-এর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয় না।
 
 
ঊর্ণিষা অর্থ কী (Anuradha Paul)
অনুরাধা পাল যা লিখেছেন, ঊর্ণিষা=ঊর্ণ +ঈষা। স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে শব্দটির বানান হওয়া উচিত ‘ঊর্ণেষ’।  যেমন গণেশ, ধর্মের ইত্যাদি। তবে শব্দ সর্বদা ব্যাকরণ মানে না। তাই এটি উর্ণিষা। সংস্কৃত “ঊর্ণ” শব্দের অর্থ বয়ন করা।  শব্দটি দিয়ে তন্তুও প্রকাশ করা হয়। এই জন্যই মাকড়সাকে ঊর্ণনাভ বলা হয়। সে হিসেবে ” ঊর্ণ” শব্দের একটি আলংকারিক ও প্রয়োগিক অর্থ সৃজনশীলতা। সংস্কৃত ঈষা শব্দের অর্থ আধার, পাত্র, ধারক। লাঙ্গলের ফলা প্রকাশেও  শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু “মনীষা” তে ‘ঈষা’ যেমন আধার অর্থে ব্যবহৃত হয়, ঊর্ণিষা শব্দেও তেমনি ঈষা শব্দটি আধার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সে হিসেবে,  ‘ঊর্ণিষা’  অর্থসৃজনশীলতার আধার, সৃজনশীলতার ধারক। প্রশ্ন আসতে পারে এমন হলে বানানে হ্রস্বই না হয়ে দীর্ঘই হওয়া উচিত। অর্থাৎ ঊর্ণিষা না হয়ে উর্ণীষা হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলা বানানের আধুনিক নিয়মে   অতৎসম শব্দে দীর্ঘই হয় না, তাই ঊর্ণিষা বানান ভুল নয়।
 
#আমাদের_টেপাভুল_অনবধানতায় 
 
হিন্দুরা কি এটা উপকার হিসেবে গ্রহন করবে ? এটা কোন কথা না > হিন্দুরা কি এটা উপকার হিসেবে গ্রহণ করবে? এটা কোনো কথা না।
 
এত দেখে জানা বানান ও ভুলে যাচ্ছি!> এত দেখে জানা বানানও ভুলে যাচ্ছি।
 
কর্ম কারক বুঝতে সমস্যা হচ্ছে , কোন বইতে ভালকরে লিখা আছে যেন সহজেই বুঝতে পারি ?> কর্মকারক বুঝতে সমস্যা হচ্ছে , কোন বইতে ভালো করে লেখা আছে যেন সহজেই বুঝতে পারি।
 
দুই লাইন পরপর দাড়ি দুইটা দেয়া হয়েছে কেন, এর কোন উদ্দ্যেশ্য আছে কী? আসলে কী তা দাড়ি না কি অন্য কিছু?> দুই লাইন পরপর দাঁড়ি দুইটা দেওয়া হয়েছে কেন? এর কোনো উদ্দ্যেশ্য আছে কি? আসলে কি তা দাঁড়ি না কি অন্য কিছু?
 
কর্মকর্তা আর কর্মচারীর মধ্যে পার্থক্য কি?> কর্মকর্তা আর কর্মচারীর মধ্যে পার্থক্য কী?
 
বাংলায় প্রচলিত অন্যতম প্রবাদ হল যত দোষ নন্দ ঘোষ।> বাংলায় প্রচলিত অন্যতম প্রবাদ হলো যত দোষ নন্দ ঘোষ।
 
কেউ জানালে ভাল হতো।> কেউ জানালে ভালো হতো।
 
স্বার্থপরের জীবন সার্থক হয়না।> স্বার্থপরের জীবন সার্থক হয় না
বুঝতে পারা অর্থে, সাধু ভাষায় — বুঝা, চলিত ভাষায় — বোঝা।
 
 
 
অসকৃৎ: সংস্কৃত অসকৃৎ(ন+সকৃৎ) অর্থ (অব্যয়ে) পুনঃপুন, বারবার, বহুবার। শব্দটির উচ্চারণ: অসক্‌কৃত্।
 
 
 
error: Content is protected !!