আমার সন্তান জারজ হয়ে যায় যেভাবে

ড. মোহাম্মদ আমীন

একজনের লেখা থেকে চুরি করলে হয় কুম্ভিলকবৃত্তি, শজনের লেখা ডাকাতি করলে হয় গবেষণা। গবেষণায়, যাদের কাছ থেকে লেখা চুরি করা হয় তাদের নাম এবং উৎসস্থল উল্লেখ থাকে, কিন্তু কুম্ভিলকরা তা এড়িয়ে যায়। এটিই হচ্ছে গবেষক ও কুম্ভিলকের পার্থক্য।
অনেকে প্রকৃত লেখকের নাম এবং লেখাটির উৎসস্থল উল্লেখ না করে নিজের ফেসবুক-জানালায় অবিকল প্রকাশ করে দেন। আবার অনেকে ধূর্তামির আশ্রয় নিয়ে পরিবর্তনের অজুহাতে দু-একটা লাইন এদিক-ওদিক করে অন্যের লেখাকে নিজের লেখা বলে চালিয়ে দেন। অন্যের সন্তানের বাবা হওয়ার এত সখ কেন? নপুংসকরাই এমন করে। এমন পরিবর্তনকে মনে হয়, আমার সন্তানটিকে অপরিচিত করে তোলার জন্য বিকৃতি করে দেওয়া। অনেকে মূল লেখকের উদারহণটা পর্যন্ত অবিকল তুলে ধরে দাবি করেন-এটি আমার লেখা। প্রতিবাদ করলে চোরের মায়ের মতো বড়ো গলায় কথা বলেন।তাঁদের আবার সমর্থন করার লোকেরও অভাব হয় না।
প্রবাদ-প্রবচন ছাড়া অন্য কোনো লেখায় ‘সংগৃহীত’ দেওয়া উচিত নয়। তবে কোনটি প্রবাদ-প্রবচন তা সহজে বোঝা যায়। প্রবাদ-প্রবচনে লেখকের নাম না দিলেও উৎস দিতে হয়। লেখার নিচে লেখার উৎস হিসেবে দেওয়া ‘সংগৃহীত’ শব্দটির মধ্যে রয়েছে ভণ্ডামি, প্রতারণা এবং আত্মবিকৃতির মনোভাব। ঐশী বাণী ছাড়া কোনো লেখা আকাশ থেকে পড়ে না। ঐশী বাণী লিখতেও উৎস দিতে হয়। লেখা কুড়িয়ে পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলে তারও একটি ইতিহাস থাকে। তাই লেখকের নাম এবং উৎসস্থল না-দিয়ে শুধু ‘সংগৃহীত’ লিখে অন্যের লেখা প্রচার করা কেবল চুরি নয়, প্রতারণাও। এটি চুরির মাল জেনেও চুরি করার মতো জঘন্য অপরাধ- তা যেই করুক না কেন।
একই বিষয়ও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়। একই শব্দ ভিন্ন লোকের মুখ থেকে ভিন্ন দ্যোতনায় দ্যোতিত হয়। কোনো লেখা যখন অন্য কারও লেখার অবিকল হয়ে যায়, তেমন লেখা পুনরায় লেখার কী প্রয়োজন? পৃথিবীতে লেখার বিষয়ের কি অভাব আছে? বিদ্যমান লেখার অবিকল লেখা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। যদি আবশ্যক মনে হয়, তাহলে বিদ্যমান লেখাটি তুলে ধরা যায় উৎস-সহ। এটাই তো সহজ কাজ, যা গবেষণার মর্যাদায় উন্নীত হয়। এমন অবিকল লেখা স্বাভাবিকভাবে চৌর্যবৃত্তির পর্যায়ে পড়ে। কুম্ভিলক ছাড়া এমন কাজ কেউ করে না। তবে কোনো লেখকের লেখা থেকে অংশবিশেষ উদ্ধৃতি করে নতুন কোনো ধারণা প্রদান করা হলে সেটি গবেষণা হয়ে যায়। চুরি আর গবেষণার মধ্যে এটিই পার্থক্য।
চোরের মায়ের বড়ো গলা’- প্রবাদের মতো অজুহাত না-দিয়ে প্রত্যেকের উচিত এমন প্রতারণা হতে দূরে থাকা। এমন করলে প্রকৃত লেখকগণ নিরুৎসাহিত হন। আমি আগে আমার ফেসবুক ওয়ালে বড়ো বড়ো লেখা প্রচার করতাম। প্রচার করার কিছুক্ষণ পর দেখতাম- সেগুলো বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে কপি হয়ে গেছে। এমনও দেখেছি আমার কয়েকটি লেখা বিভিন্ন অনলাইন টিভিতে প্রচার হচ্ছে, আমার নাম ছাড়াই। আবার অনেকে লিখছে ‘সংগৃহীত’। এখনও হচ্ছে অহরহ। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া আমার লেখায় আমার নাম থাকলে আমি আরও লেখায় উৎসাহিত হতাম। এখন প্রচণ্ডভাবে নিরুৎসাহ বোধ করি।
লেখা অনেকটা নিজের সন্তানের মতো। নিজের ঔরসজাত সন্তান যদি অন্যকে জন্মদাতা ডাকে- তো কার ভালো লাগে? ‘সংগৃহীত’ বসিয়ে প্রচার করা মানে তো জারজ বানিয়ে দেওয়া! ‘সংগৃহীত’ কীভাবে লেখক হয়? এভাবে আমার অনেক লেখা জারজ হয়ে গেছে। তাই এখন আর আগের মতো লিখতে ইচ্ছে করে না। আমার সন্তান আর কতো জারজ আখ্যায়িত হবে?
——————

All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

 

error: Content is protected !!