আমি আসল আসলাম: I am Aslam : অভ্যন্তরীণ আভ্যন্তরীণ আভ্যন্তর আভ্যন্তরিক

ড. মোহাম্মদ আমীন

 
ব্যাকরণের কাজ হচ্ছে ভাষাকে ভাসিয়ে যাওয়া হতে সযত্ন আদরে রক্ষা করা, ঠিক যেটি করে থাকে ভেলা বা আধুনিক জলযান। কিন্তু জলযান যখন নিজেই ডুবিয়ে মারার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষ ওই জলযানকে ভেঙে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করে।
শব্দ, বাক্য ও ভাষাকে দ্ব্যর্থহীন প্রাঞ্জলতা, সর্বজনীন নান্দনিকতা এবং আদর্শ অবয়ব প্রদানপূর্বক কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠাই ব্যাকরণের উদ্দেশ্য। তাই এটি একটি নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ করে চলে, কিন্তু যেক্ষেত্রে ব্যাকরণবিধি নিজেই কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে কিংবা অর্থদ্যোতনায় সংশয় আনে, সেক্ষেত্রে ব্যাকরণকে সরিয়ে ফেলাই উত্তম। কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া যাক :
ব্যাকরণমতে যদি বলি তাহলে,
করিলাম থেকে করলাম (সাধু থেকে চলিত)।
বলিলাম থেকে বললাম
ধরিলাম থেকে ধরলাম
চলিলাম থেকে চললাম
কিন্তু,
‘আসিলাম থেকে আসলাম’ ব্যাকরণসম্মত হলেও লেখা সমীচীন নয়।
কেন?
একমাত্র কারণ সংশয়মূলক অর্থ। “আমি আসলাম “, শব্দের অর্থ হতে পারে -I came, বা I am Aslam. এমন দ্ব্যর্থবোধকতা হতে পাঠক-শ্রোতাকে রক্ষা করার জন্য লিখতে হবে, “আমি আসলাম” বাক্যের ‘আসলাম’ শব্দের পরিবর্তে লিখুন “আমি এলাম।”
যদি আপনার বক্তব্য, I am Aslam হয়, তাহলে লিখতে পারেন, “আমি আসলাম”।
আর একটা উদাহরণ দেখুন:
ব্যাকরণ বিধিমতে যদি বলা হয়, তাহলে –
বলিল থেকে বলল
ধরিল থেকে ধরল
মরিল থেকে মরল
এগুলো বিধিসম্মত;
কিন্তু
“আসিল’ থেকে ‘আসল’ ব্যাকরণসম্মত হলেও লেখা সমীচীন নয়। কারণ, সেক্ষেত্রে শব্দটির অর্থদ্যোতনায় সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। যদি বলা হয়, “সে আসল। এর অর্থ হতে পারে He is real, অথবা “He came”। কিন্তু আপনি যদি লিখেন সে এল, তাহলে অর্থদ্যোতনায় কোনো সংশয় সৃষ্টি হবে না।
আর একটি শব্দ, কমল।
‘কমল’ শব্দটির অর্থ হতে পারে পদ্ম অথবা কমিল, আবার কারও নামও হতে পারে। সাধু ‘কমিল’ শব্দের চলিত রূপ ‘কমল’ ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ হলেও প্রায়োগিকভাবে প্রত্যাশিত নয়।
কারণ– “জল কমল” — বাক্যের অর্থ হতে পারে ‘জল কমে গেল’। আবার হতে পারে ‘জলের পদ্ম’। বক্তা বা লেখক কোনটা বলতে চাইছেন, তা ‘জল কমল’ বাক্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।
তাই লিখুন, “জল কমে গেল”, যদি সত্যি সত্যি জল কমে যায়।
‘কমল’ দিয়ে পদ্ম বোঝালে আমার আপত্তি নেই।
 

অভ্যন্তরীণ আভ্যন্তরীণ আভ্যন্তর আভ্যন্তরিক


অভ্যন্তর (অভি + অন্তর) শব্দের অর্থ ভেতর, মধ্য, অন্তপুর। বাক্যে সাধারণত এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘অভ্যন্তরীণ’ শব্দের অর্থ মধ্যবর্তী, অভ্যন্তরে আছে এমন,ভেতরের প্রভৃতি। এটি সাধারণত বিশেষণ হিসেবে পাওয়া যায়। ‘আভ্যন্তর’ শব্দের অর্থ ভেতর, মধ্য প্রভৃতি। এটিও সাধারণত বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘
আভ্যন্তরিক’ শব্দের অর্থ অভ্যন্তরস্থ, অভ্যন্তরীণ প্রভৃতি। এটি বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘অভ্যন্তর’ শব্দের সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দগুলো গঠিত হয়েছে। যেমন: অভ্যন্তর + অ = অভ্যন্তর; অভ্যন্তর + ঈন = অভ্যন্তরীণ; অভ্যন্তর + ইক = আভ্যন্তরিক।
 
error: Content is protected !!