আমি শুবাচ থেকে বলছি: শুবাচির পোস্ট/যযাতি; মন্তব্য, প্রশ্ন উত্তর বিবিধ ২

ড. মোহাম্মদ আমীন

আমি শুবাচ থেকে বলছি: শুবাচির পোস্ট/যযাতি; মন্তব্য, প্রশ্ন উত্তর বিবিধ ২

এই পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-2/

আগের পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/

নাক উঁচু

ড. মোহাম্মদ আমীন
‘নাক উঁচু’ কথাটির আভিধানিক অর্থ— গর্বিত, আত্মাভিমানী, অসহনীয় রকমের পছন্দপ্রবণ। নাক ও উঁচু শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে ‘নাক উঁচু’ কথাটির সৃষ্টি। সে হিসেবে এর শাব্দিক অর্থ হয়— লম্বা বা উঁচু যে নাক। তবে ‘নাক উঁচু’ কথাটি বাংলার একটি বাগ্‌ধারা এবং বাগ্‌ধারা হিসেবে এটি গর্বিত, অত্মাভিমানী প্রভৃতি অন্তর্নিহিত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
নাক উঁচু শব্দের এমন অর্থ হওয়ার কারণ কী?
মূলত নাকের একটি অনৈচ্ছিক আচরণ থেকে কথাটির উদ্ভব। কোনো কিছু দেখে অবজ্ঞায় নাক সিঁটকালে নাকের ডগার দুপাশ সামান্য উঁচু হয়ে যায়। নাকের এ বিকৃত উঁচু-ভাবটাই বাংলা বাগ্ভঙ্গিতে ‘নাক উঁচু’ কথা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
——————–
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 

তুঙ্গস্থান: বৃহ্সপতি এখন আমার তুঙ্গে

ড. মোহাম্মদ আমীন
প্রত্যেকটি গ্রহের একটি করে উচ্চ বা তুঙ্গক্ষেত্র আছে। রবির তুঙ্গস্থান মেষরাশি; চন্দ্রের তুঙ্গস্থান বৃষরাশি; এভাবে, মঙ্গলের তুঙ্গস্থান মকর; বুধের তুঙ্গস্থান কন্যা; বৃহস্পতির তুঙ্গস্থান কর্কট; শুক্রের তুঙ্গস্থান মীন; শনির তুঙ্গস্থান তুলা; রাহুর তুঙ্গস্থান মিথুন ও কেতুর তুঙ্গস্থান ধনু। রাশির জন্য গ্রহ তুঙ্গে থাকা শুভফলপ্রদ।
বৃহস্পতি (শুভগ্রহ) কর্কট রাশিতে অবস্থান করলে এ রাশির জাতক বলতে পারে: ‘বৃহস্পতি আমার এখন তুঙ্গে’। মানে খুব ভালো অবস্থানে আছে, দিনকাল ভালো যাচ্ছে। জ্যোতিষীরা কিন্তু হাতের তালুতেও বৃহ্স্পতির দেখা পায়।
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

গোরুচোর

দাম্পত্য জীবনকে সুখানন্দে টিকিয়ে রাখতে হলে যে-কোনো একজনকে গোরুচোর হতে হয়। গোরু চোর হও, দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। মহৎ বলো আর ভীরু বলো তিনি একজন গোরুচোর। বাক্যগুলোয় বর্ণিত গোরুচোর শব্দের অর্থ কী?
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, গোরুচোর বাংলা শব্দ। এর অর্থ (বিশেষ্যে) অন্যের গোরু হরণকারী; (আলংকারিক) মুখ বুজে অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে এমন লোক; ভীরু স্বভাবের লোক।
উৎস:
পৌরাণিক শব্দের র উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com

রু+মাল= রুমাল

‘রুমাল’ একটি ফারসি শব্দ। কাপড়ের তৈরি এই আয়তাকার বস্তুটি দিয়ে মুখ মোছা হয়। টিস্যু আসার আগে রুমাল সর্বমহলে খুব জনপ্রিয় ছিল। টিস্যু তার জনপ্রিয়তা শেষ করে দিয়েছে। ফারসি ‘রু’ ও ‘মাল’ এর মিলনে সৃষ্টি হয়েছে ‘রুমাল। ফারসি ‘রু’ অর্থ— মুখ এবং ‘মাল’ অর্থ—‘যা মুছে দেয়’। তবে ‘মাল’ শব্দের প্রকৃত অর্থ—‘মুছে দাও’।‘মাল’ শব্দটা ‘রু’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর অর্থ হয়— ‘যা মুছে দেয়’।
সুতরাং, ‘রু+মাল’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায়— ‘মুখ মুছে দাও’। এটি একটি অনুজ্ঞা। সমাসে শেষ পদ হওয়ায় ‘মুছে দাও’ কথার অর্থ দাঁড়ায়— ‘মুছে দেয় যা’। সে হিসাবে রুমাল অর্থ— ‘যা মুখ মুছে দেয়’।
“মুরুব্বিরা কয়
রুমাল দিলে ঝগড়াঝাটি ছাড়াছাড়ি হয়।”
কিন্তু কেন? এর ব্যাখ্যা নেই। বাঙালির একটি কুসংসকার।
উৎস: বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস, ড. মোহাম্মদ আমীন।

আজ ১৫ই সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

জাতিসংঘ তার সদস্যভুক্ত দেশগুলো-সহ সারা বিশ্বে গণতন্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি, গণতন্ত্র চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য একটি বিশেষ দিন পালনের প্রয়োজনীয়তার অনুভব করে। তৎপরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিবছর ১৫ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহে প্রতিবছর ১৫ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে।

জুজুতসু ও যুযুৎসু

ড. মোহাম্মদ আমীন
উচ্চারণ অভিন্ন হলেও জুজুতসু ও যুযুৎসু শব্দ দুটির উৎস ও অর্থ অভিন্ন নয়। ‘জুজুতসু’ জাপানি শব্দ। তবে এখন শব্দটি বাংলাতেও বহুল প্রচলিত। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, জাপানি জুজুতসু অর্থ (বিশেষ্যে) খালি হাতে আকস্মিক আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষের শক্তি ও ওজন ব্যবহার করার জাপানি কসরত, জুডো। ‘জুজুতসু’ জাপানে অতি জনপ্রিয় একটি শারীরিক কসরত ও শক্তিপ্রদর্শনজনিত কুস্তি। জাপানি ‘জু’ শব্দের অর্থ মৃদু এবং ‘জুতসু’ অর্থ কৌশল। সুতরাং ‘জুজুতসু’ অর্থ মৃদুকৌশল। ‘জুজুতসু’ শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো- মৃদু কৌশলের মাধ্যমে শক্তিসাধ্য কাজ সম্পন্ন করা। যুযুৎসু সংস্কৃত শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, যযুৎসু (√যুধ্+সন্+উ) অর্থ (বিশেষণে) যুদ্ধ করতে উৎসুক।
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষেপিত
সংস্কৃত (সম্‌+√ক্ষিপ্+ত) অর্থ— (বিশেষণে) সংক্ষেপ করা হয়েছে এমন, হ্রাস করা হয়েছে এমন। সংক্ষেপিত (সম+ক্ষিপ্+ণিচ্+ত) অর্থ— (বিশেষণে) সংক্ষিপ্ত বা ছোটো করা হয়েছে এমন, হ্রাস করা হয়েছে এমন।
সুতরাং ,সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষেপিত পরস্পর সমার্থক।

খই ফোটা

‘খই ফোটা’ বাগ্‌ভঙ্গি দিয়ে অনর্গলভাবে অতিদ্রুত কথা বলা, বক্তৃতার মতো দ্রুত কথা বলা প্রভৃতি অর্থ প্রকাশ করা হয়। ‘খই’ ও ‘ফোটা’ শব্দ দিয়ে ‘খই ফোটা’ বাগ্‌ভঙ্গিটি গঠিত। ‘খই’ ধান্যজাত একপ্রকার শুকনো ও সুস্বাদু খাদ্য। এ খই প্রস্তুত-প্রণালির কার্যক্রম থেকে বাগ্‌ধারাটির সৃষ্টি। হাঁড়িতে বালু গরম করে তাতে ধান দিয়ে খই ভাজা হয়। তপ্ত বালিযুক্ত কড়াইতে ধান দিয়ে নাড়াচাড়া করলে তা অবিরাম শব্দে হাঁড়ির ভেতর ফুটতে থাকে। হাঁড়ির এ ধানকে কোনো অবস্থাতে সশব্দ ফোটা থেকে থামানো যায় না। ফুটতেই থাকে। এভাবে খই ফোটার কার্যক্রম ও ধরন থেকে বাংলা ‘খই ফোটা’ কথার উদ্ভব।
উৎস: পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও ক্রমবিবর্তন অভিধান

কৃপাপরায়ণ থেকে কৃপণ

অভিধানমতে, কৃপণ (কৃপ+অন) অর্থ (বিশেষণে) অত্যন্ত ব্যয়কুণ্ঠ, অনুদার। কৃপণ শব্দের মূল অর্থ কৃপাপরায়ণ। শব্দটি কৃপ ধাতু থেকে নিষ্পন্ন।যিনি কৃপাপরায়ণ এবং সবার প্রতি দয়ার্দ্র তাকে বলা হতো কৃপণ। পরবর্তীকালে কৃপণ শব্দটির মূল অর্থ কৃপাপরায়ণ পাল্টে গিয়ে হয়েছে ব্যয়কুণ্ঠ। অর্থটি সংস্কৃতেও আছে।
কেন এমন হলো?
কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি সবার প্রতি কৃপা দেখাত। ফলে কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি তার সমুদয় দান একজনকে না দিয় সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করত। সে কাউকে বঞ্চিত করতে পারত না। সবাইকে কিছু না কিছু দিত। ফলে সবার ভাগে কম পড়ে যেতে। প্রাপকগণ বলত, “ আমাদের কম দেওয়া হয়েছে’, লোকটি কম দেয়, ব্যয়ে কুণ্ঠ, দানে কুণ্ঠ। এভাবে পূর্বের কৃপাপরায়ণ ব্যক্তি ব্যয়কুণ্ঠ পরিচিতি পেয়ে যায়।
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।

সামর্থ্য ও সৌহার্দ নিমোনিক

ড. মোহাম্মদ আমীন

অর্ঘ্য, বর্জ্য, দৈর্ঘ্য, মর্ত্য প্রভৃতি বানানে যদি য-ফলা সাহেব, র-ফলা বাবুর ভার বহন করার সামর্থ্য রাখে তাহলে সামর্থ্য বানানের থাকবে না কেন? সামর্থ্য যখন আছে তখন তার য-ফলা বহনের সামর্থ্যও আছে। তাই সমর্থ্য বানানে থ-য়ে য-ফলা দেবেন। তবে ধৈর্য, সৌন্দর্য, কার্য বানানের মতো সৌহার্দ বানানের দ বর্ণে য-ফলা দেবেন না। কারণ সৌহার্দ দয়ার সাগর। য-ফলা দিয়ে সৌহার্দকে ভারী করে দেবেন না। সহ্য ক্ষমতা নেই বলে সৌহার্দ বানানে সহ্য বানানের য-ফলা দিতে নেই।
ড. মোহাম্মদ আমীন, নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান।
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা/৫

Girl শব্দের আদি অর্থ

Girl শব্দের আদি অর্থ ছিল“child” or “young person”। সৃষ্টিকালে Girl লিঙ্গনিরপেক্ষ ছিল এবং এর দ্বারা ছোটো বালক বা ছোটো বালিকা উভয়কে নির্দেশ করা হতো। পরবর্তীকালে শব্দটি লিঙ্গপক্ষ হয়ে যায়। এখন Girl অর্থ ছোটো মেয়ে।
 

কপিনাস

কপিনাস (কপি+নাস) হলো হনুমানের নাকসদৃশ বাদ্যযন্ত্রবিশেষ। এই বাদ্যযন্ত্রটি দেখতে হনুমানের নাকের মতো। এটি তৎসম এবং বিশেষ্য পদ।
ড. মোহাম্মদ আমীন।
 

সহশিক্ষক বনাম সহশিক্ষা

সহশিক্ষক: সংস্কৃত (তৎসম) শহশিক্ষক (সহ+শিক্ষক) অর্থ— (বিশেষ্যে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক; ইংরেজিতে assistant teacher। রঞ্জন বাবু এই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন।
সহশিক্ষা: সংস্কৃত (তৎসম) শহশিক্ষা (সহ+শিক্ষা) অর্থ— (বিশেষ্যে) একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে ও মেয়েদের একসঙ্গে অধ্যয়নের ব্যবস্থা; ইংরেজিতে বলা হয়: co-education। সহশিক্ষা ব্যবস্থা উত্তম শিক্ষা ব্যবস্থা।
সহশিক্ষক ও সহশিক্ষা উভয় শব্দের আগে বাংলায় ‘সহ’ থাকলেও ইংরেজিতে যথাক্রমে assistant ও co।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান।

পরামানিক অর্থ কী?

সংস্কৃত প্রামাণিক থেকে উদ্ভূত পরামানিক অর্থ— (বিশেষ্যে) নাপিত, নরসুন্দর; মোড়ল; বিজ্ঞ ব্যক্তি; পদবিবিশেষ (পিংকি পরামানিক)। পরামানিক শব্দটি তৎসম প্রামাণিক শব্দের কোমলরূপ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
প্রসঙ্গত, তৎসম প্রামাণিক (প্রমাণ+ইক) অর্থ— (বিশেষণে) প্রমাণসিদ্ধ, বিশ্বাসযোগ্য এবং (বিশেষ্যে) অধ্যক্ষ; পণ্ডিত ব্যক্তি; সমাজপতি; পদবিশেষ এবং (বাংলায়) নরসুন্দর, নাপিত।

হর হর হর হর ও হরিহর

ড. মোহাম্মদ আমীন
হর শব্দের অর্থ
অভিধানে হর শব্দের চারটি পৃথক ভুক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে তিনটি হর তৎসম এবং একটি হর ফারসি। জানুন এবার হর-কাহন।
প্রথম হর: সংস্কৃত হরি (√হৃ+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) শিব; হিন্দুদের দেবতাবিশেষ।
হরিহর বাবু হর ঘরে হরপূজায় মগ্ন।
দ্বিতীয় হর: সংস্কৃত (√হৃ+অ) অর্থ— (বিশেষণে) হরণ করে এমন, নাশক; দূরকারী; সংগ্রহকারী।
পরাজিতের যা পাও সব ইচ্ছেমতো হর। স্যাকরা হরিহরকে বলল, হরি হর।
তৃতীয় হর: এই হর গাণিতিক। সংস্কৃত হর (√হৃ+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) ভাজক বা বিভাজক।
চতুর্থ হর: এটি ফারসি হর। ফারসি হর অর্থ — (বিশেষণে) প্রতি (হররোজ); বিবিধ, নানা (হরবোলা)।
হররোজ ভিক্ষুকটি বিরক্ত করে।
যে অন্যের কণ্ঠ নকল করতে পারে তাকে হরবোলা বলা হয়।
 

গোরা: ইংরেজদের গোরা বলা হতো কেন?

ড. মোহাম্মদ আমীন, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)
সংস্কৃত গৌর থেকে গোরা শব্দের উদ্ভব। গোরা অর্থ (বিশেষণে)— গৌরবর্ণ, ফরসা; শ্বেতাঙ্গ এবং (বিশেষ্যে)— শ্রীচৈতন্য, গৌরাঙ্গ; ইউরোপের অধিবাসী।
ইউরোপের অধিবাসীরা সাধারণত ফরসা বা গৌরর্ণের ছিল। তাই ভারতীয়রা তাদের গোরা বলত। এভাবে গোরা শব্দটি ইউরোপের অধিবাসী কথার সমার্থক হয়ে পড়ে।

পাঁপড় বনাম পাঁপর

পাঁপড়: সংস্কৃত পর্পট থেকে উদ্ভূত পাঁপড় অর্থ— (বিশেষ্যে) ডালের গুঁড়ো ও মসলা সহযোগে প্রস্তুত তেলে ভাজা পাতলা মচমচে রুটিসদৃশ খাদ্যবস্তুবিশেষ।
পাঁপর: আঞ্চলিক পাঁপর অর্থ— (বিশেষ্যে) আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যার মোকদ্দমার ব্যয় সরকার বহন করে।
নিমেনিক: পাঁপড় পর নয়, কিন্তু পাঁপর পর। তাই খাদ্য অর্থদ্যোক পাঁপড় বানানে র দিতে নেই।

ভিস্তি বনাম ভিস্তিওয়ালা

ভিস্তি ফারসি শব্দ। ভিস্তি থেকে ভিস্তিওয়ালা। অভিধানমতে, ভিস্তি অর্থ— ১.পানি বহনের জন্য চর্মনির্মিত এক প্রকারের থলি, মশক। ২.মশকে করে পানি বহনকারী; মশকে পানি সরবরাহকারী; ভিস্তিওয়ালা। অর্থাৎ ভিস্তি ও ভিস্তিওয়ালা সমার্থক। “জুতা আবিষ্কার” কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—
“তখন বেগে ছুটিল ঝাঁকে ঝাঁক
মশক কাঁখে একুশ লাখ ভিস্তি।
পুকুরে বিলে রহিল শুধু পাঁক,
নদীর জলে নাহিকো চলে কিস্তি।”
এখানে ভিস্তি মানে ভিস্তিওয়ালা, ভিস্তি তো আর ছুটতে পারে না। এখন কেউ মশকে পানি সরবরাহ করে না। অভিধানে বর্ণিত মশকও নেই। তাই বর্তমানে ভিস্তি ও ভিস্তিওয়াল শব্দদুটোর প্রচলন নেই।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ফারসি ভিস্তি অর্থ— (বিশেষ্যে) অধুনালুপ্ত জলবহনের জন্য ব্যবহৃত মেষাদি পশুর চামড়ার তৈরি থলি, মশক; মশক ভরে জল সরবরাহ যার পেশা।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান।
 
 

সফলতা বনাম সার্থকতা

ড. মোহাম্মদ আমীন
সফলতা: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত সফল (সহ+ফল) অর্থ— বিশেষণে ফলযুক্ত, ফলবান, কৃতকার্য (পরীক্ষায় সফল)। সফল থেকে সফলতা (সফল+তা)। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সফলতা অর্থ— কৃতকার্যতা, সার্থকতা, যুক্তিযুক্ততা। যেমন: বৃত্তিটা তার একাগ্র শ্রমের পরম সফলতা।
সার্থকতা: একই অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত সার্থকতা (সার্থক+তা) অর্থ— সফলতা, যুক্তিযুক্ততা, কৃতকার্যতা প্রভৃতি। যেমন: বৃত্তিটা তার একাগ্র শ্রমের পরম সার্থকতা।
কেউ প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে তাকে বলা হয় সফল এবং লক্ষ্য অর্জনটাই হচ্ছে সফলতা। অনুরূপভাবে, কেউ প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে তাকে বলা হয় সার্থক এবং ওই অর্জনটাকে বলা হয় সার্থকতা। সফলতা ও সার্থকতা উভয়ে বিশেষ্য এবং তা-প্রত্যয়ে গঠিত। উভয়ের আভিধানিক অর্থও অভিন্ন। সফল হলে সার্থকতা আসে। সার্থক হলে বলা হয় সফলতা অর্জিত হযেছে।
অতএব, সফলতা ও সার্থকতা সমার্থক।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন। কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

অংশগ্রহণ এবং অংশ গ্রহণ

অংশ’ ও ‘গ্রহণ’ শব্দদুটোপরস্পর সেঁটে বসে গঠন করেছে নতুন শব্দ অংশগ্রহণ। এখানে ‘অংশ’ ও ‘গ্রহণ শব্দের সার্থক মিলন ঘটেছে। ফলে উভয়ের অর্থ বা মৌলিকত্ব বহুলাংশে ক্ষুণ্ন হয়েছে। যেমনটি হয়ে থাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে।
অন্যদিকে, ‘অংশ গ্রহণ’ দুটি পৃথক শব্দ নিয়ে গঠিত। এখানে ‘অংশ’ ও ‘গ্রহণ’ পরস্পর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থানপূর্বক বাক্য-সমাজের শালীন শব্দ-ফাঁক বজায় রেখে অবস্থান করে। তাই অবিবাহিত নারী-পুরুষের মতো উভয় শব্দের অর্থ বা মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন থেকে যায়।
‘অংশগ্রহণ’ শব্দের অর্থ যোগ দেওয়া। যেমন : সভাপতি সাহেব যথাসময়ে সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। ‘অংশ গ্রহণ’ বাগ্‌ভঙ্গির অর্থ ভাগ নেওয়া। যেমন : সমিরা তার পিতার সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করেছেন। অতএব ‘অংশগ্রহণ’ অর্থে ‘অংশ গ্রহণ’ লেখা সমীচীন নয়।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন। কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
 
 
 
স্ত ও স্থ
যে সকল শব্দের শেষে ‘দন্ত্য-স’ আছে সে সকল শব্দের শেষে ‘ত’ কিংবা সংস্কৃত ‘ক্ত’ প্রত্যয়যুক্ত করা হলে শব্দের শেষে ‘স্ত’ হবে এবং শব্দটি বিশেষণে পরিণত হয়। যেমন: বিন্যাস- বিন্যস্ত, আশ্বাস- আশ্বস্ত, সন্ত্রাস- সন্ত্রস্ত ইত্যাদি।
শব্দের অর্থ ‘যে বা যে স্থানে’ প্রকাশ করলে শব্দটির সঙ্গে ‘স্থ’ যুক্ত হবে।
যেমন: গ্রহস্থ, কণ্ঠস্থ ।
কোন শব্দে ‘স্ত’ বা ‘স্থ’ বসানো নিয়ে ঝামেলায় পড়লে প্রথমে শব্দটি হতে ‘স্থ’ বাদ দিয়ে দিন। এরপর অবশিষ্ট শব্দাংশ অর্থবোধক হলে নিশ্চিত ‘স্থ’ বসানো যাবে, অন্যথায় ‘স্ত’
যেমন: অধীনস্থ, অন্তঃস্থ, নিকটস্থ, পকেটস্থ, দ্বারস্থ, পরিবারস্থ, কণ্ঠস্থ, ভূগর্ভস্থ, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, মনস্থ ইত্যাদি শব্দগুলো হতে ‘স্থ’ বাদ দিলেও প্রত্যেকটি শব্দ অর্থবোধক থাকে।
অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত শব্দগুলো হতে ‘স্ত’ বাদ দিলে শব্দগুলো আর অর্থবোধক থাকে না।

সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন। কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

দাদা ভাই ও দাদাভাই

দাদা: সংস্কৃত তাত থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা দাদা অর্থ (বিশেষ্যে)— পিতামহ, দাদু; জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে সম্মানসূচক সম্বোধনে ব্যবহৃত শব্দ; পৌত্র, দৌহিত্র বা কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে আদরসূচক সম্বোধনে ব্যবহৃত শব্দ। দাদু হলো— দাদার আদরসূচক শব্দ, পিতামহ বা মাতামহ। দাদি অর্থ— পিতামহী, ঠাকুরমা।
ভাই: সংস্কৃত ভ্রাতৃ থেকে উদ্ভূত ভাই অর্থ— (বিশেষ্যে) একই পিতামাতার পুত্র, ভ্রাতা, সহোদর, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয়ে পুত্র; ভ্রাতৃস্থানীয় ব্যক্তি। হিন্দু সমাজে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাতুল্য শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি বা বড়ো বোনের স্বামীকে দাদাভাই হিসেবেও সম্বোধন করা হয়। বড়ো বোনকে ডাক হয় দিদিভাই।
>> ড. মোহাম্মদ আমীন<<
— — — — — —
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, নিমোনিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান।
 

বাণীমন্দির

বাণীমন্দির মানে কী? বাণীমন্দির মানে— স্কুল, পাঠশালা, বিদ্যালয়, শিক্ষালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। কিন্তু কেন এমন নাম? বাণী ও মন্দির মিলে— বাণীমন্দির। সংস্কৃত বাণী অর্থ— (বিশেষ্যে) শব্দ, উক্তি, ভাষণ; সরস্বতী দেবী (বাণীবন্দনা); উপদেশমূলক উক্তি। সংস্কৃত মন্দির অর্থ— পূজা বা উপাসনার গৃহ; দেবালয়; গৃহ, ভবন, পবিত্র স্থান, মনকে পবিত্র করে এমন স্থান।
সুতরাং, বাণীমন্দির অর্থ— এমন একটি গৃহ বা ভবন যেখানে শব্দ, উক্তি, ভাষণ, উপদেশমূলক কথা প্রভৃতি শেখানো হয়। অর্থাৎ বিদ্যালয়, শিক্ষালয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার প্রভৃতি।
——————————–
বাকি ও অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

বধূ শব্দের আদি অর্থ

ড. মোহাম্মদ আমীন
বধূ শব্দের বর্তমান ও প্রচলিত অর্থ: বিবাহিত স্ত্রী, বিয়ের কনে, ছেলের বউ প্রভৃতি। এটি সংস্কৃত শব্দ। ‘বধূ’ শব্দের মূল ও আদি অর্থ ‘যে যুবকের মন বাঁধে’। বধূ ছাড়া আর কেউ যুবকের মন বাঁধতে পারে না। তাই উচ্ছল-উদ্‌বেল-সমুদ্র-চঞ্চলময় যুবকও বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর নিরীহ ও গোবেচারা বলদ হয়ে যায়। কনে, বধূ হয়ে যুবকের মন এমন শক্ত করে বেঁধে রাখে যে, তার আর নড়াচড়ার সুযোগ বলতে গেলে থাকেই না। বিয়ের আগে বধূ থাকে কনে, কনে হচ্ছে বাঁশির মতো সুরেলা মোহনীয় আবেশ। সেই কনে বধূ হওয়া পর বাঁশ হয়ে যুবককে লাশের মতো নির্জীব করে দেয়।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন বাংলা বানান: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

শুবাচ গ্রুপের লিংক: WWW.DRAMINBD.COM

কাতলা না কি কাতল

কাতল মাছের পাতলা কান
আ-কার দিলেও যায় না মান।

কাতল একটি মাছবিশেষ। কাতলা বললেও অশুদ্ধ হবে না। দুটোই প্রমিত। কাতল ও কাতলা দেশি শব্দ। কাতানও (শাড়িবিশেষ) দেশি শব্দ। তবে কাতার আরবি। কাতারবন্দি শব্দটি আরবি ‘কাতার’ ও ফারসি ‘বন্দি’ শব্দের মিলন। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, কাতল ও কাতলা দুটোই প্রমিত। অতএব, কাতল মাছে আ-কার দিলেও যা, না-দিলেও তা।
কাতলা মাছের বিশাল আকার
কেন দেবেন আবার আ-কার?
 

উপরোক্ত উপরিউক্ত এবং উর্পযুক্ত

ড. মোহাম্মদ আমীন
‘উপরি’ থেকে ‘উপর’ এবং তা থেকে উপরিউক্ত এবং উপর্যুক্ত। বাক্যে অব্যয় ও ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘উপরি (ঊর্ধ্ব+রি) শব্দ হতে ‘উপর’ শব্দের উদ্ভব। কাজেই ‘উপরি’ সংস্কৃত শব্দ নয়, বাংলা শব্দ। ‘উপর’ শব্দের সঙ্গে ‘উক্ত’ শব্দের সন্ধির ফলে ‘উপরোক্ত’ শব্দ গঠিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘উপর’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত “উক্ত (√বচ্ + ক্ত)” শব্দটি তৎসম।
সংস্কৃতঘেষা বৈয়াকরণগণ মনে করেন, একটি অতৎসম শব্দের সঙ্গে আরেকটি তৎসম শব্দের সন্ধি বিধেয় নয়। যেমন : বিধেয় নয় ব্রাহ্মণ শূদ্র সামাজিক সম্পর্ক, প্রেম-পিরিত। তাই বৈয়াকরণগণ এ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলা তথা শূদ্র ‘উপর’ শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত তথা ব্রাহ্মণ ‘উক্ত’ শব্দের সন্ধি না-করে সংস্কৃত ‘উপরি’ শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত ‘উক্ত’ শব্দের সন্ধি করাই সমীচীন। সেক্ষেত্রে এই সন্ধির ফলে জাত শব্দটি হয় : উপরি-উক্ত বা উপরিউক্ত। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কেবল এই উপরিউক্ত শব্দটিকে প্রমিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংস্কৃত ‘উপরি’ শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত ‘যুক্ত (√যুজ্+ত)’ শব্দের সন্ধি করলে পাওয়া যায় : “উপরি+যুক্ত= উপর্যুক্ত’’। তাই বৈয়াকরণগণ, উপরোক্ত শব্দের পরিবর্তে উপরিউক্ত বা উপর্যুক্ত লেখা সমর্থন করে এই শব্দটিকে প্রমিত নির্দেশ করেছে। যদিও বাংলামতে, উপরোক্ত লেখা দূষণীয় হবে না। কারণ, বাংলা সংস্কৃত ভাষা নয়; আলাদা একটি ভাষা।
তাই বাংলা ব্যাকরণ এবং সংস্কৃত ব্যাকরণও এক নয়। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “সংস্কৃত সন্ধির নিয়ম বাঙ্গালার পক্ষে খাটে না-বাঙ্গালাসন্ধির অন্য নিয়ম আছে”
বাকি অংশ ও অন্যান্য নিচের লিংকে:
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি

ফষ্টিনষ্টি বা ফস্টিনস্টি শব্দের অর্থ হাসিঠাট্টা, লঘু পরিহাস, ফাজলামি প্রভৃতি। এটি অতৎসম শব্দ। সে হিসেবে বানান হওয়া উচিত ‘ফস্টিনস্টি’। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দটির বানান মূর্ধন্য-ষ দিয়ে লেখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন পণ্ডিতের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চারণের কথা ভেবে অতৎসম সত্ত্বেও ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে অনেকে ফষ্টিনষ্টি লেখার পক্ষপাতী। তাই তারা ‘ফষ্টিনষ্টি’ লিখেন। বাংলা একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ্যাকাদেমিকে অনুসরণ করতে গিয়ে ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে ‘ফষ্টিনষ্টি’ করে দিয়েছেন।
‘বাংলা একাডেমি’ প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী অতৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ প্রয়োগ নিষিদ্ধ। সেখানে কেবল উচ্চারণের দোহাই দিয়ে অতৎসম ‘ফষ্টিনষ্টি’ শব্দকে প্রমিত ঘোষণা, বাংলা ভাষা নিয়ে একাডেমির ফষ্টিনষ্টির একটি খারাপ নজির। অবশ্য এরূপ আরো নজির রয়েছে। উচ্চারণ অনুযায়ী বানান নির্ধারণ করতে গেলে, বাংলা একাডেমিকে, তাদের রীতি ভেঙে আরো অনেক অতৎসম শব্দের বানান পরিবর্তন করতে হয়।আমি মনে করি বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী শব্দটির বানান ‘ফস্টিনস্টি’ হওয়া সমীচীন।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য বিষয়ের জন্য নিচের লিংক:
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
 
 

অভ্যন্তরীণ, আভ্যন্তরীণ, আভ্যন্তর, আভ্যন্তরিক

অভ্যন্তর (অভি + অন্তর) শব্দের অর্থ ভেতর, মধ্য, অন্তপুর। এটি বিশেষ্য। ‘অভ্যন্তরীণ’ শব্দের অর্থ মধ্যবর্তী, অভ্যন্তরে আছে এমন, ভেতরের প্রভৃতি। এটি বিশেষণ। ‘আভ্যন্তর’ শব্দের অর্থ ভেতর, মধ্য প্রভৃতি। এটিও বিশেষ্য। ‘আভ্যন্তরিক’ শব্দের অর্থ অভ্যন্তরস্থ, অভ্যন্তরীণ প্রভৃতি। এটি বিশষণ। ‘অভ্যন্তর’ শব্দের সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় যুক্ত হয়ে শব্দগুলো গঠিত হয়েছে। যেমন : অভ্যন্তর + অ = আভ্যন্তর; অভ্যন্তর + ঈন = অভ্যন্তরীণ; অভ্যন্তর + ইক = আভ্যন্তরিক।
বাকি অংশ ও অন্যান্য নিচের লিংকে:
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন: বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

কাঞ্জনজঙ্ঘা

ড. মোহাম্মদ আমীন
কাঞ্জনজঙ্ঘা শব্দটির অর্থ কী? এটি কি তৎসম শব্দ? অনেকে বলেন, এটি তৎসম শব্দ নয়। শব্দটির ব্যুৎপত্তি বিস্তারিত জানাবেন। ( প্রশ্নটি করেছেন: Jobaida Akter)
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, কাঞ্চনজঙ্ঘা [কাঞ্চন+√জঙ্ঘ+অ+ আ(টাপ)] অর্থ— (বিশেষ্যে) কাঞ্চনপ্রভ জঙ্ঘা; (আলংকারিক) উদীয়মান সূর্যের আলোয় সোনালি রং ধারণ করে বলে হিমালয় পর্বতমালার একটি শৃঙ্গের নাম।
প্রসঙ্গত, কাঞ্চন শব্দের অর্থ— (বিশেষ্যে) সোনা এবং (বিশেষেণে) স্বর্ণময়, স্বর্ণবর্ণবিশিষ্ট। সুতরাং, কাঞ্চনপ্রভা অর্থ— সোনালি আভা, সুবর্ণপ্রভা।
অনেকে বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা শব্দটি তৎসম নয়। তাদের অভিমত, এটি স্থানীয় “কাং চেং জেং গা” কথা থেকে উদ্ভূত। তেনজিং নোরগে তাঁর , ম্যান অব এভারেস্ট (Man of Everest) গ্রন্থে শব্দটির অর্থ লিখেছেন— “তুষারের পাঁচ ঐশ্বর্য”। তবে তেনজিং সাহেবের এই বর্ণনা সঠিক হলেও শব্দটি অতৎসম হয়ে যায় না। কাঞ্চনজঙ্ঘা নামটি অনেক প্রাচীন। সংস্কৃত বিভিন্ন গ্রন্থে এর উপস্থিতি রয়েছে।
কাঞ্চন মানে সোনা, জঙ্ঘা মনে উরু। এই পাহাড়ে সূর্য়ের আলো পড়লে মনে হয় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় কারো নাঙ্গা উরুদ্বয়ে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এর নাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। আবার অনেকের মতে, কাঞ্চনজঙ্ঘার পাঁচটি চূড়া হচ্ছে— ঈশ্বরের পাঁচ সম্পদের ভাণ্ডার বা প্রতীক। এই পঞ্চ সম্পদ হচ্ছে— স্বর্ণ, রূপা, রত্ন, শস্য, এবং পবিত্র পুস্তক।
সুতরাং, নামকরণের কারণ যাই হোক না, কাঞ্চনজঙ্ঘা তৎসম শব্দ
বাকি অংশ ও বিস্তারিত নিচের লিংকে দেখুন:

শুবাচ গ্রুপের লিংক: WWW.DRAMINBD.COM

গোশত, মাংস ও মাংশ

“ আমাকে কি কেউ বুঝাবেন ‘মাংস’ আর ‘গোশত’ শব্দের পার্থক্য কী?
আমি এটা নিয়ে দ্বিধায় আছি।”
গোশত, মাংস ও মাংশ
গোশত: ফারসি গোশত অর্থ জীবদেহের অভ্যন্তরে হাড়কে আবৃত করে রাখে এমন নরম কোমল পেশি বা কোষগুচ্ছ, জীবদেহের অভ্যন্তরস্থ হাড় এবং চামড়ার মধ্যবর্তী নরম ও কোমল অংশ, মাংস।
মাংস: সংস্কৃত মাংস অর্থ জীবদেহের অভ্যন্তরস্থ হাড় এবং চামড়ার মধ্যবর্তী নরম ও কোমল অংশ, গোশত (কোরবানির মাংস), মাস , মানুষের আহার্য মনুষ্যেতর প্রাণীর আমিষ বা পলল। চর্যাপদেও শব্দটির বাংলা বানান মাস (মাংস); আপণা মাসে হরিণা বৈরী।
মাংশ: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে মাংশ বানানের কোনো শব্দ নেই। অনেকে বলেন মাংশ মানে মায়ের অংশ, কীভাবে বলেন জানি না। শব্দটি কোথায় পেয়েছেন তাও জানি না। যাদের বাংলা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা আছে তারা এমন বলতে পারেন না। যাই হোক, হয়তো মাংশ মানে মায়ের অংশ বলেই অভিধানে এমন শব্দ নেই। এবং কেউ (বাংলা বানান জানেন) মাংশ লেখেন না। চর্যাযুগেও ছিল না।
আপণা মাসে হরিণা বৈরী।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
মাংস= মায়ের অংস।
 

লুচ্চা লোচ্চা লুচি ও লুচ্চামি

(‘লুচ্চা’ শব্দের উৎপত্তি, অর্থ, প্রয়োগক্ষেত্র ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জানতে চাই।

প্রশ্নটি করেছেন জনাব ফরিদ উদ্দিন মাসউদ )

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, লুচ্চা হিন্দি উৎসের শব্দ। বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হিন্দি লুচ্চা অর্থ— চরিত্রহীন, লম্পট। লুচ্চার সমার্থক লোচ্চা
প্রয়োগ: যে দেশের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও আমলাদের অধিকাংশ লম্পট সে দেশের অধিকাংশ জনগণও লম্পট। মাথা ঘুরলে পা স্থির থাকতে পারে না।
অধুনা বাংলায় লুচ্চা শব্দটি দিয়ে মেয়েলোলুপ কিংবা মেয়েদের প্রতি যৌন বাসনায় লোলুপ পুরুষদের প্রকাশ করার অধিক প্রবণতা লক্ষণীয়। যেমন: শালা একটা লুচ্চা, মেয়ে দেখলে আর ঠিক থাকতে পারে না।
সংস্কৃত লোচিকা থেকে উদ্ভূত লুচি অর্থ— (বিশেষ্যে) ময়দার তৈরি তেল বা ঘিয়ে ভাজা পাতলা ও ছোটো পুরি। লুচ্চার সঙ্গে লুচির খাওয়াগত সম্পর্ক থাকলেও চরিত্রগ বা আচরণগত কোনো সম্পর্ক নেই।
——————————-
ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন, বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
বাকি অংশ ও অন্যান্য: https://draminbd.com/সাত-সকাল-3/
 
 

নিদারুণ

ড. মোহাম্মদ আমীন
[‘নিদারুণ’ শব্দটির অর্থ কী? ‘নিদারুণ’ বলতে আসলে কী বুঝায়? এই নিদারুণ শব্দটা দিয়ে কয়েকটা বাক্য বলে যান। প্রশ্ন করেছেন: জনাব Aktharuzzaman Islam]
সংস্কৃত নিদারুণ (নি+দারুণ) অর্থ— (বিশেষণে) অতিশয়, ভীষণ, প্রচণ্ড। কঠোর। অসহ্য। দুঃসহ।
অতিশয়, ভীষণ প্রচণ্ড: নিদারুণ অভাবে আছি করোনাকলে।
কঠোর: এমন করলে তোমাকে নিদারুণ শাপ্তি পেতে হবে।
অসহ্য: নিদারুণ গরম, এক বিন্দু জল পাই কোথা?
দুঃসহ: উহ, কী নিদারুণ ব্যথা! সহ্য হয় না আর।

মমি শব্দের ব্যুৎপত্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ইংরেজি মমি (mummy) অর্থ— (বিশেষ্যে) প্রাচীন মিশরে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মরদেহ। তবে ইংরেজি মমি শব্দ ফারসি মোম থেকে আগত। ফারসি মোম অর্থ (বিশেষ্যে) ঠান্ডায় জমে যায় এমন আঠালো হাইড্রোকার্বনবিশেষ যা দিকে মৌচাক তৈরি হয়। মোমবাতি তৈরি ও প্রতিমাশিল্পের কাজে ব্যবহৃত হাইড্রোকার্বনবিশেষ। মোম-এর সঙ্গে মমির উৎপাদনগত সম্পর্ক নিবিড়। মৃতদেহ বেশ কয়েকদন বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করার গলন্ত মোমে ডুবিয়ে সংরক্ষণের সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন করার পর যা হয়, তাকে বলা হয় মমি। লিংক: https://draminbd.com/কালীর-দোহাই-কালির-জন্য-কা/
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান (প্রকাশনীয়)।

কালীর দোহাই, কালি বের করার জন্য কালি নিয়ে কালি চলে এসো।

কালি কালি কালি ও কালী
অভিধানে কালি শব্দের তিনটি পৃথকভুক্তি দেখা যায়। যথা:
সংস্কৃত কালী থেকে উদ্ভূত ও বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত কালি অর্থ— লেখার জন্য ব্যবহৃত কালো তরল পদার্থ। মলিনতা। কলঙ্ক। বিশেষণে এই কালি শব্দের অর্থ—কৃষ্ণবর্ণ। প্রসঙ্গত, সংস্কৃত কালী (কাল+ঈ) অর্থ— শিবের পত্নী, দশ মহাবিদ্যার অন্যতম, চণ্ডিকার একটি রূপ।
সংস্কৃত কল্য থেকে উদ্ভূত কালি অর্থ— বিশেষ্যে (কাব্যে) আগামীদিন, পরদিন, আগেরদিন, পূর্বদিন, গতকাল।
সংস্কৃত কাল থেকে উদ্ভূত এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত কালি অর্থ— ক্ষেত্র বা ঘন পদার্থের আয়তন, বর্গফল, ঘনফল, সংকলন।
তিন কালিই খাঁটি বাংলা শব্দ।
প্রয়োগ: কালি বের করার জন্য এক দোয়াত কালি নিয়ে কালি চলে আসবে।
উপরের বাক্যের তিন কালির অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
১. কালি: ক্ষেত্র বা ঘন পদার্থের আয়তন, বর্গফল, ঘনফল, সংকলন।
২. কালি: লেখার জন্য ব্যবহৃত কালো তরল পদার্থ।
৩. কালি:আগামীদিন।
সূত্র: ড. মোহাম্মদ আমীন, কোথায় কী লিখবেন বাংলা বানান প্রয়োগ অপপ্রয়োগ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
বাকি অংশ এবং অন্যান্য: https://draminbd.com/কালীর-দোহাই-কালির-জন্য-কা/

পান্ডা

জনাব SHAH AL HADI-এর প্রশ্ন “মন্দির বা আশ্রমের সেবায়েতগণকে ‘পাণ্ডা’ বলা হয় কেন?”

মন্দির বা আশ্রমের সেবায়েতগণকে পাণ্ডাবলা হয় না; পান্ডা বলা হয়। তাঁরা ‘পান্ডা’ বলে তাঁদের পান্ডা বলা হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, হিন্দি পান্ডা অর্থ— (বিশেষ্যে) তীর্থস্থানের পূজারী; (ব্যঙ্গে) প্রধান ব্যক্তি। নেপালি পান্ডা অর্থ ভালুকজাতীয় সাদাকালো রঙের লাজুকপ্রকৃতির ছোটো প্রাণী।
>> ড. মোহাম্মদ আমীন<<
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য নিচের লিংক:

আকাম ও আকামা

আকাম: ‘আকাম’ আঞ্চলিক শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, আকাম অর্থ (বিশেষ্যে) কুকাজ, নিন্দনীয় কাজ।
আকামা: ‘আকামা’ আরবি শব্দ। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, এর অর্থ (বিশেষে) বহিরাগতদের আরব দেশে অবস্থান ও কাজ করার অনুমতিপত্র।
 

বরখাস্ত শব্দের উৎসকথন

ড. মোহাম্মদ আমীন
‘বরখাস্ত’ ফারসি শব্দ। বাংলায় এর আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ— চাকরিচ্যুত, ছাঁটাই, কর্মচ্যুত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত। কর্ম থেকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতিই মূলত ‘বরখাস্ত’।
ফারসি ভাষায় ‘বরখাস্ত’ শব্দের অর্থ— ছিল জেগে-ওঠা, ওপরে-ওঠা, অদৃশ্য হওয়া, বিলীন হওয়া, হারিয়ে-যাওয়া প্রভৃতি। কিন্তু বাংলায় অতিথি হয়ে এসে ফারসি ‘বরখাস্ত’ তার পূর্বের অর্থ হারিয়ে ‘কর্মহীন’ অর্থ প্রকাশে ডুবে গেছে। কিন্তু কেন এমন হলো?
যার চাকরি আছে তার জীবন আসলেই নিরুদ্‌বিগ্ন। হাবাগোবার মতো সকালে অফিসে যায়, সন্ধ্যায় ফেরে এবং মাস শেষে বেতন নিয়ে জীবনধারণ করে। কোনোদিকে তার খেয়াল থাকে না, কোনো চিন্তা থাকে না, ঢেউহীন নদী বা পুকুরের মতো জীবন প্রবাহিত হয়। কিন্তু এমন নিরুদ্‌বিগ্ন জীবনের আধার চাকরিটা চলে গেলে সে অস্থির হয়ে পড়ে। প্রবল আবেগে সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। অনেকে আবার চাকরি হারানোর পর লজ্জা, সংকোচ বা চাকরির খোঁজে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। মূলত চাকরিচ্যুতির পর ব্যক্তির এমন আচরণের অনুষঙ্গে ফারসি জেগে উঠা বা অদৃশ্য হওয়া ‘বরখাস্ত’ বাংলায় এসে চাকরিটা সত্যি সত্যি হারিয়ে জেগে উঠেছে।
এখন সে বুঝতে পারছে জীবনটা শুধু চাকরি নয়, বরং চাকুরি না হওয়াই ভালো। জীবনের এক দ্বার বন্ধ হলে হাজার দ্বার খুলে যায়।
সূত্র : ড. মোহাম্মদ আমীন, পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য নিচের লিংক

বশংবদ

ড. মোহাম্মদ আমীন
‘বশংবদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ— অনুগত, অধীন, হুকুমের আওতায়, বশবর্তী প্রভৃতি। বশংবদ সংস্কৃত শব্দ। এর আদি ও মূল অর্থ দ্বারা এমন আচরণের ব্যক্তিকে নির্দেশ করত ‘যিনি বলেন— আমি নিশ্চিত বশ’। মূলত যে পূর্ব থেকে অন্যের বশে বা অধীনে বা অনুগত হওয়ার নিশ্চিত ঘোষণা দিয়ে বসে আছে, সেই ‘বশংবদ’। বাংলায় শব্দটির অর্থ-পরিবর্তন হয়নি। কারণ যিনি অনুগত, অধীন তিনিই বশংবদ। তবে এককালে সম্মানিত ব্যক্তি ও মুরব্বিদের চিঠি লেখার সময় চিঠির শেষে, প্রেরক সম্মান বা কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ ‘বশংবদ’ লিখত। পুরনো ব্যক্তিগত পত্রে এটি দেখা যায়। এখন কিন্তু সম্মানের নিদর্শনস্বরূপ শাব্দিক অর্থে দৃশ্যত বশংবদ লেখা না-হলেও চিঠিপত্রে কিন্তু বশংবদ রয়েই গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক পত্রে ‘আপনার অনুগত’ শব্দ এখন বশংবদের বাবা হয়ে অবস্থান করছে। কারণ অনুগত মানে বশংবদ এবং বশংবদ মানে অনুগত। অবশ্য এ অনুগত শব্দটি এখন প্রাচীন বশংবদ শব্দের ন্যায় সম্মান প্রদর্শনের জন্য লেখা হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:

শুবাচ গ্রুপের লিংক: WWW.DRAMINBD.COM

সূত্র পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. (প্রকাশনীয়)
ড. মোহাম্মদ আমীন
বিন্দুবিসর্গ
শব্দটির আভিধানিক ও প্রচলিত অর্থ— অতিসামান্য অংশ, আভাসমাত্র প্রভৃতি। ‘বিন্দু’ ও ‘বিসর্গ’ শব্দের সমন্বয়ে ‘বিন্দুবিসর্গ’ বাগ্ভঙ্গির উৎপত্তি। বিন্দু সাধারণত ইংরেজি ফুলস্টপের ন্যায় একটি চি‎হ্ন। গাণিতিক ভাষায় বিন্দু এমন একটি প্রত্যয় যার অবস্থান আছে, কিন্তু কোনো দৈর্ঘ্য-প্রস্থ নেই। তবে বিন্দুবিসর্গ শব্দের বিন্দু বলতে অনুস্বার বোঝানো হয়। বাংলা বর্ণমালার শেষ দুটি অক্ষর যথাক্রমে অনুস্বার (ং) ও বিসর্গ (ঃ) বর্ণদ্বয় ‘বিন্দুবিসর্গ’ শব্দের প্রতিভূ। বিন্দু বলতে কোনো ছোট বা সামান্য জিনিসকে বোঝানো হয়। বিন্দু বা অনুস্বারের পাশে অবস্থিত বিসর্গ দুটো বিন্দুর একটি কলাম। এটিও ক্ষুদ্র কিছু প্রকাশে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে ‘বিন্দুবিসর্গ’ শব্দটি বাংলা ভাষায় ‘অতিসামান্য কোনো বিষয়’ প্রকাশে একটি উত্তম সংযোজন।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:

শুবাচ গ্রুপের লিংক: WWW.DRAMINBD.COM

সূত্র পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. (প্রকাশনীয়)

বাহিনী কী: কয় জন সৈন্য থাকে এতে

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাহিনী একটি অতি প্রাচীন শব্দ। ভারতীয় পুরাণে শব্দটি নানা জায়গায় পাওয়া যায়। ‘বাহ’ শব্দ থেকে ‘বাহিনী’ শব্দের উৎপত্তি। বাহ শব্দের অর্থ— অশ্ব এবং বাহিনী শব্দের অর্থ— অশ্ব বা ঘোড়া যার প্রধান সেনাঙ্গ। এ বিবেচনায় বলা যায়, যে দলে অশ্বারোহী সৈন্যরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে, সেটাই বাহিনী। তবে বাহিনীতে প্রাচীনকালে বিদ্যমান সব প্রকৃতির সেনার সমাবেশ ছিল। একসময় গাড়ি ছিল না। দ্রুতগামী ছিল বলে অশ্বই গাড়ির ভূমিকা পালন করত। বিমানও ছিল না। আরও প্রাচীনকালে নৌ-সামরিক দপ্তরের ভূমিকাও ছিল অতি নগণ্য। মূলত অশ্বারোহী বাহিনীই দেশের সামরিক ব্যবস্থাপনার পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করত। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাহিনী (বাহ+ইন্‌+ঈ) অর্থ— (বিশেষ্যে) সৈন্যদল। পৌরাণিক ৮১টি হাতি, ৮১টি রথ, ২৪৩টি ঘোড়া এবং ৪০৫ জন পদাতিক নিয়ে গঠিত সেনাসমাবেশকে বলা হয় বাহিনী। বর্ণিত সংখ্যক সেনাসমাবেশ ছিল আদর্শ সমাবেশ। তাই শব্দটি সামরিক সমাবেশের প্রতিশব্দ হিসেবে স্থান পেয়ে যায়। বাহিনী(বাহ+ইন্‌+ঈ) শব্দের আর একটি ভুক্তি আছে। তার অর্থ প্রবাহিণী, নদী।
 
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:

শুবাচ গ্রুপের লিংক: WWW.DRAMINBD.COM

সূত্র পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. (প্রকাশনীয়)
 
 

তদবির ও তকদির

ড. মোহাম্মদ আমীন
তদবির আরবি শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) সুপারিশ (চাকুরির তদবির); চেষ্টাচরিত্র, জোগাড়যন্ত্র (তদবির করো, যাতে কাজটা হয়।); প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ (তদবির না করলে তকদির মেলে না)।
তকদির আরবি শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) ভাগ্য, অদৃষ্ট, কপাল, নসিব।
তকদির তদবিরের অনুগত সুজন।
— — — — —
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় নিচের লিংকে:

ইদানীং বনাম ইদানীং কাল

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত ইদানীং (ইদম্+দানীম্) অর্থ: (অব্যয়/ ক্রিয়াবিশেষণে) আজকাল, সম্প্রতি, অধুনা, বর্তমান, এখন, এই সময়, এখনকার। ইদানীং শব্দের মধ্যে কাল/সময় রয়ে গেছে। তাই শব্দটির সঙ্গে পুনরায় কাল যুক্ত করা সমীচীন নয়। যেমন: “ইদানীং খুব গরম পড়ছে।” বাক্যের অর্থ— আজকাল খুব গরম পড়ছে। যদি লেখা হয়, “ইদানীংকাল খুব গরম পড়ছে।” তখন বাক্যটির অর্থ হয়ে যাবে— আজকাল-কাল খুব গরম পড়ছে। যা সমীচীন হবে না।
নিমোনিক: ইদানীং বানানের অর্থ সম্প্রতি। তাই প্রথম বা সম্প্রতি থেকে শুরু করতে হয়। প্রথম হচ্ছে ই। এজন্য ই দিয়ে শুরু করুন। এরপর ন-য়ে ঈ-কার। সোজাকথায়, ই এর পর ঈ। তেমনি, ইদানীন্তন, তদানীন্তন, তদানীং। তিনটি শব্দই তৎসম এবং নী যুক্ত।
বাকি অংশ দেখার জন্য নিচের লিংক:
সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ

এই বাগধারাটির উৎস, অর্থ, প্রয়োগ ও ব্যবহার।
ড. মোহাম্মদ আমীন
আশুতোষ দেব সংকলিত ও দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত নূতন বাঙ্গালা অভিধান প্রবচন-সংগ্রহ (সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ) গ্রন্থে আছে, “শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ “ অর্থ— শঠের সহিত শঠতাই বিধেয়। যেমন: কুকুর, তেমন মুগুর; ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়; Tit for tat. প্রভৃতি “শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ “ কথার প্রায় সমার্থক।এটা একটা উপদেশমূলক প্রাচীন গল্পের সারকথা এবং নিচে বর্ণিত সংস্কৃত পঙ্‌ক্তি হতে গৃহীত।
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ।।”
অর্থ: স্বর্ণখণ্ড হয়েছে তাম্র, বণিকপুত্র হয়েছে মর্কট(বানর) কাজেই সরলের সঙ্গে সারল্য করবে, শঠের সঙ্গে করবে শঠের সমান আচরণ। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের হিতোপদেশমূলক একটি গল্পের কাহিনি থেকে শ্লোকটি গৃহীত ও প্রচলিত। গল্পটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ— এক পণ্ডিত তীর্থযাত্রাকালে প্রতিবেশী এক বণিকের কাছে স্বর্ণমূদ্রা ভর্তি একটি থলে গচ্ছিত রাখতে গেলেন। বণিক বললেন, “আপনি স্বর্ণমুদ্রাগুলো নিজহাতে আমার সিন্দুকে রেখে যান।” পণ্ডিত সিন্দুকে স্বর্ণমুদ্রাগুলো রেখে তীর্থযাত্রায় চলে গেলেন। পণ্ডিত কয়েক মাস ফিরে এলেন। বণিকের কাছে গিয়ে স্বর্ণমুদ্রা ফেরত চাইলে বণিক বললেন, ‘কর্তা আপনি যেভাবে রেখে গিয়েছিলেন আপনার স্বর্ণমুদ্রার থলেটি ঠিক সেভাবেই আমার সিন্দুকে আছে। নিজহাতে নিয়ে যান।” পণ্ডিত তাই করলেন। কিন্তু বাড়ি এসে পণ্ডিত দেখলেন থলের ভেতর কোনো স্বর্ণমুদ্রা নেই। সব তাম্রমুদ্রা। পণ্ডিত আর কিছু বললেন না। কিছুদিন পর সদ্য বিপত্নীক বণিক, বাণিজ্যযাত্রার পূর্বে তার একমাত্র পুত্রকে পণ্ডিতের বাড়িতে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পণ্ডিত বললেন, আপনার পুত্রকে নিজ হতে ওই ঘরে রেখে যান। বণিক তাই করলেন। কয়েক মাস পর ফিরে এসে বললেন, কর্তা, আমার ছেলে কোথায়? পণ্ডিত বললেন, “যে ঘরে রেখে গিয়েছিলেন সেখানেই আছে। আপনি নিজ হাতে আপনার সন্তানকে নিয়ে যান।” বণিক গিয়ে দেখলেন: ওই ঘরে একটি বানর (মর্কট) বাঁধা আছে।
“স্বর্ণখণ্ডং ভবেৎ তাম্রং বণিকপুত্র মর্কটং
সরলে সারল্যং কুর্যাৎ, শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ।।
——–
বাকি অংশ ও অন্যান্য:
 
 

মাঝিমাল্লা শব্দের মাল্লা অর্থ কী?

মাঝি ও মাল্লা শব্দের মিলনে মাঝিমাল্লা শব্দের উদ্ভব। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা মাঝিমাল্লা অর্থ: মাঝি ও তার সহকর্মী। নৌযানের মাঝি এবং মাঝিকে নৌ পরিচালনার কাজে সহায়তাকারীদের একত্রে মাঝিমাল্লা বলা হয়। আরবি মল্লাহ্ থেকে উদ্ভূত মাল্লা অর্থ: (বিশেষ্যে) নৌকার মাঝি বা তার সহযোগী, মাঝির সহযোগী, নাবিক।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:
 
 

টয়লেট এর বাংলা: টয়লেট ওয়াটার

ড. মোহাম্মদ আমীন
টয়লেট: টয়লেট ইংরেজি শব্দ নয়। ফরাসি শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ফরাসি টয়লেট অর্থ (বিশেষ্যে) শৌচাগার।
টয়লেট ওয়াটার: টয়লেট ওয়াটার (toilet water) অর্থ— শৌচাগার জল নয় বা শৌচাগারে ব্যবহার্য জলও নয়। টয়লেট ওয়াটার অর্থ— দেহকে সজীব ও স্নিগ্ধ করে এমন গায়ে মাখার সুগন্ধ ও উদ্‌বায়ী তরল পদার্থ। তবে টয়লেট পেপার অর্থ— শৌচাগার কাগজ। শৌচাগারে ব্যবহার্য কোমল কাগজকে টয়লেট পেপার (toilet water) বলা হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:

প্রক্ষালন ও প্রক্ষালন কক্ষ

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত প্রক্ষালন (প্র+√ক্ষালি+অন) অর্থ— (বিশেষ্যে) ধৌতকরণ। প্রক্ষালক অর্থ— ধৌতকারী। যে কক্ষে ধৌত করা হয় তাকে বলা হয় প্রক্ষালন কক্ষ
ধৌতককর্ম এবং মলমূত্র ত্যাগ ও মলমূত্র ত্যাগের কারণে অত্যাবশ্যক ধৌতকর্মাদি একই কক্ষে করা হয়। যে কক্ষে মলমূত্র ত্যাগ করা হয় সে কক্ষে ধৌত বা শৌচকরণ কার্য অনিবার্য। তাই মঞ্জুভাষ হিসেবে মলমূত্র ত্যাগ করা যায় এমন কক্ষকে সাধারণত প্রক্ষালন কক্ষ বলা হয়।
তবে কিছু কিছু কক্ষ আছে যেখানে কেবল প্রক্ষালন কর্ম করা যায়, মলমূত্র ত্যাগ করা যায় না। এগুলোকেও প্রক্ষালন কক্ষ বলা হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:

রশনা কী?

রশনা মহিলাদের অলংকারবিশেষ। নারীর কটিদেশে পরিধেয় মেখলা, চন্দ্রহার প্রভৃতি রশনা নামে পরিচিত। রশনা (√রশ্‌+অন+আ) তৎসম শব্দ এবং বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:

স্বচ্ছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য বানান মনে রাখার নিমোনিক

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত ‘স্বচ্ছন্দ(স্ব+ছন্দ)’ অর্থ— অবাধ, স্বাধীন, সুস্থ, অযত্নসম্ভূত, স্বীয় ইচ্ছা, স্বেচ্ছাচার প্রভৃতি। সংস্কৃত ‘স্বাচ্ছন্দ্য (স্বচ্ছন্দ+য)’ শব্দের অর্থ স্বচ্ছন্দতা, বাধাহীনতা, সুস্থতা, স্বাধীনতা প্রভৃতি। অনেকে শব্দটির বানান লিখেন ‘সাচ্ছন্দ’ কেউ লিখেন, ‘সাচ্ছন্দ্য’ আবার অনেকে লিখেন স্বাচ্ছন্দ। উচ্চারণ এবং যুক্তাক্ষরজনিত জটিলতার কারণে বানানে এমন সংশয় সৃষ্টি হয়। একটি নিমোনিক থাকলে বানান সংশয় কেটে যায়।
নিমোনিক:
‘স্বচ্ছন্দ’ এবং ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ শব্দের অর্থের সঙ্গে ‘স্ব (নিজ)’ এবং স্বাধীনতা কথাটি জড়িত। তাই উভয়র শব্দের বানান ‘স্ব’ দিয়ে শুরু করুন, দন্ত্য-স দিয়ে নয়। জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনা যেমন জটিল তেমন কষ্টের। তাই বানানটিও জটিল। ‘স্বচ্ছ’ ও ‘স্বাধীন’ না থাকলে ‘অনিন্দ্য’ হওয়া যায় না।এজন্য ‘স্বচ্ছ’ ও ‘অনিন্দ্য’ মিলে‘ স্বাচ্ছন্দ্য’। ফলে ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ বানান শেষ হয় ‘ন্দ্য’ দিয়ে।
আপনি আরও সুন্দর নিমোনিক তৈরি করে মন্তব্য কলামে দিতে পারেন। আমরা ঋদ্ধ হব।
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 

Sequoia (সিকুইয়া): দুর্লভ বানান

Sequoia শব্দটির সরল বাংলা উচ্চারণ সিকুইয়া। এটি বৃক্ষবিশেষ। সাধারণভাবে ক্যালিফোর্নিয়া রেডউডকে সিকুইয়া বলা হয়। Sequoia একটি চমৎকার শব্দ। ইংরেজি ৭ বর্ণে গঠিত এই শব্দে খুব কম ব্যবহৃত q এবং ৫টি vowel রয়েছে। q-এর সঙ্গে vowel-এর এমন দুর্লভ মিলন আর কোনো শব্দে নেই।
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
শুবাচ -ওয়েবসাইট: www.draminbd.com
 
 

রয়ানি

রয়ানি দেশি শব্দ। মনসামঙ্গলের গানকে রয়ানি বলা হয়। একসময় রয়ানি বাংলাদেশের সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় ছিল। মনসামঙ্গলের কবিগণ রয়ানির মূল রচয়িতা।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:

দীর্ঘপাদ

দীর্ঘ ও পাদ মিলে দীর্ঘপাদ শব্দের উদ্ভব। দীর্ঘপাদ শব্দের দীর্ঘ অর্থ— লম্বা এবং পাদ অর্থ— পা। সুতরাং, দীর্ঘপাদ অর্থ— লম্বা পা। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত দীর্ঘপাদ (দীর্ঘ+√ পদ্‌+অ) অর্থ— (বিশেষণে) লম্বা পা-বিশিষ্ট (উট বক সারস প্রভৃতি প্রাণী)।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

সংস্কৃত অকাম ও বাংলা অকাম

বাংলা ভাষায় দুটি অকাম আছে। একটি সংস্কৃত অকাম এবং আর একটি বাংলা অকাম। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অকাম (ন+√কম্‌+অ) অর্থ— (বিশেষণে) নিষ্কাম, জিতেন্দ্রিয়, ইন্দ্রিয়পরায়ণ নয়, যংযমী; অত্যন্ত চরিত্রবান এমন। অর্থাৎ অত্যন্ত চরিত্রবান এবং ভালো ও সংযমী মহৎ ব্যক্তি সংস্কৃত অকাম গুণের অধিকারী হয়।
বাংলা অকাম অর্থ— (বিশেষ্যে) অকাজ, কুকাজ, চরিত্রহীনের কাজ। বাংলা অকাম খারাপ। সংস্কৃত অকাম ভালো।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
রাজাকার বনাম যুদ্ধপরাধী
রাজাকার: রাজাকার ফারসি শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত রাজাকার অর্থ— বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে (১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে) নারীনির্যাতন ও গণহত্যা-সহ বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটতরাজের জন্য দায়ী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তাকারী ব্যক্তি; (২) ঘৃণ্য ব্যক্তি; (৩) গালিবিশেষ; (৪) স্বেচ্ছাসেবক। শব্দটির অর্থ একসময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ইতিবাচক ছিল। তবে এখন এটি মারাত্মক নেতিবাচক একটি শব্দ। ব্যক্তির কাজ শুধু ব্যক্তিকে নয়, শব্দকেও দূষণীয় করে দেয়। যেমন: মীরজাফর, হিটলার, বয়কট প্রভৃতি।
যুদ্ধপরাধী: সংস্কৃত যুদ্ধপরাধী (যুদ্ধ+অপরাধ+ইন্) অর্থ— যুদ্ধ চলাকালে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জেনেভা কনভেনশনের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে যুদ্ধপরাধী শব্দের আর একটি অর্থ দেওয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে— বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ব্যাপক নারী-নির্যাতন, গণহত্যা-সহ বলপূর্বক ধর্মান্তরণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তিবর্গ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, রাজাকার কেবল তারাই যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে (১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে) নারীনির্যাতন ও গণহত্যা-সহ বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটতরাজের জন্য দায়ী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করছে। কিন্তু অনুরূপ অপরাধকারী ও সহায়তাকারী উভয়ে যুদ্ধপরাধী। সুতরাং, সকল রাজাকার যুদ্ধপরাধী, কিন্তু সকল যুদ্ধপরাধী রাজাকার নয়।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

ঝোপ, ঝাড় ও ঝোপঝাড়

ঝোপ ও ঝাড় মিলে ঝোপঝাড় । সংস্কৃত ক্ষুপ থেকে উদ্ভূত ঝোপ অর্থ — (বিশেষ্যে) মাঝারি উচ্চতার বিভিন্ন উদ্ভিদের ঝাড় বা জঙ্গল। ঝোপঝাড় শব্দের সঙ্গে যুক্ত ঝাড় দেশি শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) ছোটো গাছের জঙ্গল, ঝোপ। এছাড়া দেশি ঝাড়-এর আরও কিছু অর্থ আছে। যেমন— স্তবক, গুচ্ছ; গোষ্ঠী, বংশ; শাখাপ্রশাখা দীপাধার। অভিধানে পৃথক ভুক্তিতে আর একটি ঝাড় রয়েছে। সেটি হিন্দি ঝাড়। এর অর্থ— পরিমার্জন, পরিষ্করণ; ভর্ৎসনা, প্রহার, অপহরণ। আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, ঝোপঝাড় অর্থ— (বিশেষ্যে) গুল্ম ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত স্থান।
ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে আাছে কয়েকটি শিয়াল।
গ্রামেও এখন ঝোপঝাড় তেমন দেখা যায় না।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 
 

ক্ষেত্রজ কী কাদের ক্ষেত্রজ বলে

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত ক্ষেত্রজ (ক্ষেত্র+√জন্‌+অ) অর্থ— (বিশেষণে) জমিতে উৎপন্ন, কৃষিজাত; খেত থেকে উৎপন্ন ( ফসলাদি); নিজ পত্নীর গর্ভে, কিন্তু অন্য পুরুষের ঔরসজাত।
কারও স্ত্রীর গর্ভে অন্য পুরুষের শুক্রাণু থেকে জাত সন্তানকে বলা হয় ক্ষেত্রজ সন্তান বা ক্ষেত্রজ পুত্র। মহাভারতে যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জুন ক্ষেত্রজ বা ক্ষেত্রজ পুত্র।
পাণ্ডু রাজাকে কিমিন্দম মুনি অভিশাপ দিলেন যে, কোনো নারীর সঙ্গে সংগম করলে পাণ্ডু মারা যাবেন।। তাই তিনি স্ত্রী সংগম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন। ফলে তিনি তাঁর স্ত্রীদ্বয়ের গর্ভে সন্তান লাভ করতে পারলেন না। এ অবস্থায় পাণ্ডু তাঁর স্ত্রী কুন্তীকে ক্ষেত্রজ সন্তান উৎপাদনের জন্য অন্য পুরুষকে গ্রহণ করার অনুরোধ করেন।
কুন্তী সন্তান কামনায় তিনবার তিন দেবতাকে আহ্বান করেন। প্রথমে তিনি ধর্মকে এবং দ্বিতীয় বার পবনকে সন্তান প্রদানের জন্য আহ্ববান করেন। ধর্মের ঔরসে যুধিষ্ঠির এবং পবনের ঔরসে ভীম জন্মগ্রহণ করেন। শেষবার কুন্তি দেবরাজ ইন্দ্রকে আহ্বান করেন। ইন্দ্রের ঔরসে অর্জুনের জন্ম হয়। এজন্য অর্জুন তৃতীয় পাণ্ডব নামে পরিচিত।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

বৎসর ও বছর

বৎসর: সংস্কৃত বৎসর (বৎ+সর) অর্থ— (বিশেষ্যে) বারো মাসকাল, বছর, বর্ষ; অব্দ, সন।
বছর: সংস্কৃত বৎসর থেকে উদ্ভূত বছর অর্থ ১২ মাসব্যাপী কালপর্ব; বৎসর-এর চলিত রূপ।
অর্থাৎ বছর হলো বৎসর শব্দের চলিত রূপ। উভয় শব্দ সমার্থক।
— — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

ল্যাটা ও ল্যাঠা

দেশি ল্যাটা অর্থ (বিশেষে) মাছবিশেষ, লইট্টা, লটে, লটিয়া। অন্যদিকে, দেশি ল্যাঠা অর্থ (বিশেষ্যে) উৎপাত, ঝামেলা, বিপদ, বিঘ্ন, সংকট।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য নিচের লিংক:

বাংলা লাইনোটাইপের উদ্ভাবক ও লাইনো টাইপের প্রথম ছাপা

১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে প্রবাসী পত্রিকায় বাংলা টাইপ ও কেস শিরোনামে অজরচন্দ্র সরকারের একটি প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলা টাইপসংখ্যা ৫৬৩ এবং টাইপ কেসসংখ্যা ৪৫৫। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে সেপ্টেম্বর সুরেশচন্দ্র মজুমদার ও রাজশেখর বসু বাংলা লাইনোটাইপ উদ্ভাবন করেন। লাইনোটাইপে বাংলা টাইপসংখ্যা ৫৬৩ থেকে কমে ১৭৪-এ চলে আসে। ফলে বাংলা ছাপায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রথম লাইনোটাইপে ছাপা শুরু হয়।
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 

বাড়ির ত্রিসীমানা

ড. মোহাম্মদ আমীন
বাড়ির ত্রিসীমানায় আসবে না। এখানে বর্ণিত ত্রীসীমানা কী?
ত্রিসীমানা = তিন সীমানা যার। যেকোনো জায়গার সীমানা থাকে তিনিটি। যেমন: দৈর্ঘ্যসীমা, প্রস্থসীমা এবং উল্লম্বসীমা। অর্থাৎ: দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা। যাকে গাণিতিক বা হিসাবের ক্ষেত্রে ঘনমাত্রা বলা হয়। এজন্য যে-কোনো বস্তু, প্রাণী বা স্থানকে ত্রিমাত্রিক বলা হয়। এথানে ত্রিসীমানা হচ্ছে: ঊর্ধ্ব, নিচ এবং চারপাশ। কোথাও কারো প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে রোধ করতে হলে বর্ণিত ত্রীসীমানা বন্ধ করা আবশ্যক।

বদ্ধ বন্‌ধ বন্দ ও বন্ধ

ড. মোহাম্মদ আমীন
বদ্ধ: সংস্কৃত বদ্ধ (√বধ্‌+ত) অর্থ— (বিশেষণে) বাঁধা, আবদ্ধ (নিয়মবদ্ধ, জলাবদ্ধ)। গ্রথিত (বেণিবদ্ধ কবরী)। রুদ্ধ (বদ্ধপথ, বদ্ধদরজা)। গতিহীন (বদ্ধস্রোত, বদ্ধজীবন)। বন্দি, আটক (পিঞ্জরাবদ্ধ পাখি)। যুক্ত (বদ্ধাঞ্জলি)। স্থির(বদ্ধদৃষ্টি)। সজ্জিত, সুবিন্যস্ত (শ্রেণিবদ্ধ পুস্তক)। দৃঢ় ও অনমনীয় (বদ্ধমূল বিশ্বাস)। নিরেট, সম্পুর্ণ, পুরেপুরি (বদ্ধ উন্মাদ)। নজরুল লিখেছেন: থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে- – -।
বন্‌ধ: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত বন্ধ থেকে উদ্ভূত বন্‌ধ অর্থ— (বিশেষ্যে) বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ শক্তি প্রদর্শন বা শ্রমিক সংগঠনের দাবি আদায়ের জন্য আহুত ধর্মঘট, হরতাল। বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ জনগণকে আগামী তিন দিন বন্‌ধ পালনের আহ্বান করেছেন। ভারতে আজ বন্‌ধ।
বন্দ: ফারসি বন্দ (উচ্চারণ বন্দো) অর্থ— দৈর্ঘ্যপ্রস্থের সমষ্টির পরিমাণ। অংশ। অবরোধ।
বন্ধ:সংস্কৃত (√বন্ধ+অ) অর্থ— বাঁধার উপকরণ, বন্ধনী (কোমরবন্ধ, বাজুবন্ধ)। বন্ধন, বাঁধন (মুক্ত করো হে বন্ধ, রবীন্দ্রনাথ)। রোধ (দমবন্ধ, নিঃশ্বাস বন্ধ)। গ্রন্থন, সংযোগ (সেতুবন্ধ)। আবেষ্টন (ভুজবন্ধ)। ছুটি, অবকাশ (আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, রবীন্দ্রনাথ)। বিশেষণে বন্ধ অর্থ— রুদ্ধ (বদ্ধ কপাট)। আড়ি (কথা বন্ধ)। স্থগিত আছে এমন ( নিয়োগ বন্ধ, চলাচল বন্ধ)। অচল, নিশ্চল, নষ্ট (বন্ধ ঘড়ি)। বাধাপ্রাপ্ত । আটক, বন্দি (বন্ধ শিশু)। বন্ধ করো সব অনৈতিক কাজকর্ম।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

লবণ লাবণ লাবণি ও লাবণ্য

সংস্কৃত লবণ (√লু+অন) অর্থ— (বিশেষ্যে) সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমাণুর রাসায়নিক বিক্রিয়াজাত কেলাসিত খনিজপদার্থ, সমুদ্রের জল শুকিয়ে প্রাপ্ত লবণাক্ত সাদা যৌগবিশেষ, নুন। ইংরেজিতে যাকে বলা হয়: salt. সংস্কৃত লবণাক্ত (লবণ+অক্ত) অর্থ— (বিশেষণে) লবণমিশ্রিত, ক্ষারযুক্ত, লোনা স্বাদযুক্ত, লোনা, নোনা। লাবণ (লবণ+অ) অর্থ— (বিশেষণে) লবণাক্ত, লোনা, নোনা। অর্থাৎ, লবণাক্ত ও লাবণ সমার্থক।
লাবণি ও লাবণ্য শব্দের উদ্ভব লবণ থেকে। তবে শব্দদুটোর সঙ্গে তাদের জন্মদাতা লবণের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। সংস্কৃত লাবণ্য থেকে উদ্ভূত লাবণি অর্থ— (বিশেষ্যে) সৌন্দর্য, কান্তি, শ্রী, শোভা, লাবণি। অর্থাৎ লাবণি ও লাবণ্য (লবণ+য) সমার্থক।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

-জি জি

-জি হচ্ছে নামান্তে ব্যবহৃত সম্মানসূচক শব্দ। যেমন: মিয়াজি, লতাজি, প্রণবজি। -জি সম্মানসূচক ও সম্বোধনবাচক শব্দ হিসেবেও নামের শেষে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওস্তাদজি, গুরুজি, নানাজি।
জি মান্যব্যক্তির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত -জি বা জি আরবি উৎসের শব্দ। তাই বানানে ঈ-কার বিধেয় নয়।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

গৎবাঁধা

ড. মোহাম্মদ আমীন
গৎবাঁধা কথাটির আভিধানিক অর্থ— নিয়ম বাঁধা, রুটিনমাফিক, একই প্রকার, অভিন্ন, গতানুগতিক প্রভৃতি। এটি একটি সংগীতসম্পৃক্ত শব্দ। ভারতীয় সংগীতে শব্দটির বহুল প্রচলন লক্ষণীয়। ‘গৎ’ শব্দের মূল অর্থ হলো— বাজনার বোল। বোলের ওপর নির্ভর করে যন্ত্র বাজানোর উপযোগী ছন্দোবদ্ধ সংগীতই হলো ‘গৎ’। ‘গৎ’ মূলত খেয়াল গানের অনুকরণে রচিত একটি সংগীত কৌশল। ‘গৎ’-এর মাধ্যমে ধীরগতি ছন্দের খেয়াল চয়নের একটি সুনির্দিষ্ট অনড় নিয়ম আছে। এ নিয়ম সর্বত্র অভিন্ন এবং অপরিবর্তনীয়। এর মাধ্যমে পুরো সংগীত অভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। কখনো কোনো হেরফের হয় না। গানের এ দৃঢ় রীতিটি মানুষের নিয়মবদ্ধ গতানুগতিক প্রাত্যহিক জীবনের একঘেয়েমি ও অভিন্নতা প্রকাশে ব্যবহার করা হয়।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

বানান ও অর্থ

স্থূল বুদ্ধি: সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধিহীন। অগভীর জ্ঞানসম্পন্ন।
বিকৃতবুদ্ধি: বুদ্ধির বিকার ঘটেছে এমন। যথাযথ চিন্তাচেতনাহীন।
বুলি: যথাযথ অর্থ বহন করে না এমন কথা যা অভ্যাসের বশে বলা হয়ে থাকে। যে কথা পরবর্তীকালে আর খেয়াল থাকে না, মূল্য থাকে না।
 
মনুষ্যত্ব: মানবোচিত সদগুণাবলি। মানুষের বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্য।
তপোবন: অরণ্যে ঋষির আশ্রম। মুনি ঋষিরা তপস্যা করে এমন বন।
চর্মচক্ষু: দৈহিক চক্ষু। [মানসিক বা দিব্যদৃষ্টির বিপরীত]
 
নতি: অবনত ভাব। বিনয, নম্রতা।
সাধনা: সাফল্য বা সিদ্ধি অর্জনের জন্য নিরন্তন প্রচেষ্টা।
সৃজনশীল: নির্মাণ সৃষ্টি তৎপর।
 
সৃষ্টিধর্ম: সৃষ্টি বা সৃজনের বৈশিষ্ট্য।
আত্মিক: মনোজাগতিক। চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে।
আর্থিক: অর্থ-সম্পদবিষয়ক, টাকাপয়সা ও ধনদৌলতসংক্রান্ত।

উরু বনাম ঊরু

উরু: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে,সংস্কৃত উরু (√ঊর্ণূ+উ) অর্থ— (বিশেষণে) প্রশস্ত, বিশাল, মহৎ।
প্রয়োগ: উরু বক্ষে তার অনন্ত দয়ার মহিমা। যেমন উরু তার বক্ষ তেমন উরু তার হৃদয়।
ঊরু: সংস্কৃত ঊরু (√ঊর্ণু+উ) অর্থ— (বিশেষ্যে) মানবদেহের কুঁচকি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ। এর সমার্থক শব্দ উরুত।
যেমন: দুর্ঘটনায় তার ঊরুর হাড় ভেঙে গেছে।
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

শব্দার্থ ও বানান: অনতি যখন যুক্ত হয়

অনতি: সংস্কৃত অনতি (ন+অতি) অর্থ বেশি নয়, অল্প; তেমন বেশি নয় প্রভৃতি। অনতি অন্য শব্দের পূর্বে বসে অল্পতা প্রকাশ করে। যেমন:
অনতিকাল: অল্পসময়, বেশি সময় নয়।
অনতিক্রম: অতিক্রম না করে, লঙ্ঘন না করে।
অনতিদীর্ঘ: বেশি লম্বা নয় এমন, অল্প লম্ব।
অনতিদূর: খুব বেশি দূরে নয় এমন, অল্পদূরত্ববিশিষ্ট।
অনতিপক্ব: অল্প পাকা, বেশি পাকা নয়, ডাঁসা, অল্পবয়সি।
অনতিপূর্বে: ক্ষণকাল পূর্বে, অল্পকাল পূর্বে, একটু আগে।
অনতিবিলম্বে: খুব বেশি দেরি না করে, অল্প সময়ের মধ্যে।
অনতিব্যক্ত: প্রায় অপ্রকাশিত, খুব স্পষ্ট নয় এমন, অস্পষ্টভাবে ব্যক্ত।
অনতিমূল্যবান: তেমন মূল্যবান নয় এমন, সাধারণ।
অনতিস্ফুট: পুরোপুরি ফোটেনি এমন।
অনতীত: অতিক্রান্ত হয়নি এমন।
অনতীতবাল্য: বাল্যকাল অতিক্রম হয়নি এমন।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

ছদ্মবেশী সমাস কী

যে শব্দ বা পদ সমাসবদ্ধ, কিন্তু ধ্বনিগত পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিশেষ গঠনের ফলে সমাসবদ্ধ পদ কি না সহজে বোঝা যায় না, তাকে ছদ্মবেশী সমাস বলে। মূল সমাসবদ্ধ পদ পরিবর্তিত শব্দের মধ্যে ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে। তািই এদের ছদ্মবেশী সমাস বলে। যেমন— ভ্রাতৃ-জায়া থেকে ভাজ। ভাজ শব্দের মধ্যে ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছে ভ্রাতৃ ও জায়া। কিন্তু ‘ভাজ’ শব্দটি দেখে তা বোঝা যায় না। অনুরূপ: ভ্রাতৃ ও শ্বশুর থেকে ভাশুর। তেমনি কুমোর < কুম্ভকার, কামার < কর্মকার, চামার< চর্মকার, অঘ্রান < অগ্রহায়ন, বাসর < বাসগৃহ, ধোঁয়াশা< ধোঁয়া ও কুয়াশা প্রভৃতি।
— — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

বাক্যাশ্রয়ী সমাস

বাক্যের মধ্যে লুকায়িত বা আপাতদৃষ্টে বাক্যের অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সমাসকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলা হয়। যদি কোনো সমাসবদ্ধ পদ একটি বাক্যের ন্যায় গঠন নিয়ে বাাক্যের মতো অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। প্রথমে মনে হয় এগুলো সমাসবদ্ধ পদ নয়, ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, সমাসবদ্ধ পদ।
যেমন: পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন। রক্তদান কর্মসূচি। কোরোনা প্রতিরোধ করো। দুনিয়ার মজদুর এক হও।
 
— — — — — — — — —- — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

অলুক সমাস

‘লুক’ অর্থ ‘লোপ’। সুতরাং অলুক (অ+লুক) অর্থ ‘যার লোপ নেই’।যে সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি সমস্তপদ গঠিত হওয়ার পরও লোপ পায় না, তাকে অলুক সমাস বলে।
যেমন: চোখের বালি = চোখের বালি। এখানে ‘চোখের বালি’ সমস্যমান পদের ‘চোখের’ পদটিতে ষষ্ঠী বিভক্তি (র) আছে এবং সমস্তপদ গঠিত হওয়ার পরও সেই ষষ্ঠী বিভক্তি বিদ্যমান রয়েছে; অর্থাৎ কোনো বিভক্তি লোপ পায়নি। তাই এটি অলুক সমাস। অনুরূপ: ঘরের বউ, নদীর জল, হাতেনাতে প্রভৃতি।
বাংলা সমাসে তিন প্রকার অলুকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, অর্থাৎ অলুক সমাস তিন প্রকার। যথা: ১) অলুক দ্বন্দ্ব, ২) অলুক তৎপুরুষ, ৩) অলুক বহুব্রীহি।
— — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

শুবাচির প্রশ্ন থেকে শুবাচির উত্তর সমগ্র

হরির লুস থেকে হরিলুট

ড. মোহাম্মদ আমীন
শুবাচি অসিত দাস তাঁর ‘নামধামের উৎসকথা গ্রন্থে লিখেছেন, “বহুল প্রচলিত হরিলুট কথাটির আদি রূপ ছিল হরির লুস। লুস কথাটির প্রাচীন অর্থ ভোজন।”
পরবর্তীকালে হরির লুস কথাটি হয়ে যায় হরিলুট। কিন্তু, এমন হওয়ার কারণ কী? প্রধান কারণ— লোকনিরুক্তি। হরিলুট কথাটি লোকনিরুক্তির কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের মুখে এসে হরিলুট হয়ে গেছে। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ অভিধানেও লুস কথাটির অর্থ দেওয়া হয়েছে ভোজন। সে হিসেবে হরির লুস অর্থ— হরির ভোজন।
মূলত হরি বা ঈশ্বরের উদ্দেশে নিবেদিত অর্ঘ্য বা ভুজ্যি, মিষ্টি প্রভৃতি প্রসাদ ভক্তদের দিকে ছুড়ে দেওয়ার দীর্ঘ সংস্কার হরির লুস নামে প্রচলিত ছিল। লুস শব্দর অর্থ, যে ভোজন তা অধিকাংশ বাঙালি জানত না। তারা দেখত— যা হরির লুস নামে পরিচিত তা অসংখ্য লোকজন লুটেরার মতো হুড়োহুড়ি করে লুটিয়ে নিচ্ছে। এখানে কোনো শৃঙ্খলা নেই। লুটের মতো যার শক্তি বা লোকবল বেশি সে অধিক পাচ্ছে। যারা নিরীহ তারা কিছুই পাচ্ছে না। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এমন ঘটনা লুটের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে লুস কথাটি হয়ে যায় লুট। ফলের হরির লুস হয়ে যায় হরির লুট বা হরিলুট।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত হরি ও বাংলা লুট শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হরিলুট অর্থ— (বিশেষ্যে) হরি সংকীর্তনের পর ভক্তদের মাঝে হরির নামে বাতাসা প্রভৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার সংস্কার। এটি নেতিবাচক নয়। অভিধানে যাই থাকুক না কেন, বর্তমানে হরিলুট শব্দটি নেতিবাচক অর্থেই ব্যবহৃত হয়। অধুনা এর আলংকারিক ও বহুল প্রায়োগিক অর্থ— জোর যার মুল্লুক তার, সরকারকা মাল, দরিয়ামে ঢাল। অর্থাৎ, সেই বেশি ভোগ করতে পারবে, যার শক্তি বেশি। যার শক্তি ও ক্ষমতা নেই সে ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটানোর সুযোগও পাবে না।
তেলাপোকার দৌঁড় আর ইুঁদরের খুট,
সরকারি টাকাপয়সার চলছে হরিলুট।
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 

হিম্মত

ড. মোহাম্মদ আমীন
হিম্মত আরবি উৎসের শব্দ। আগে শব্দটির বানানে খণ্ড-ৎ ছিল। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে আস্ত-ত দিয়ে প্রমিত নির্দেশ করা হয়েছে। বাক্যে সাধারণভাবে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হিম্মত অর্থ— সাহস, মনোবল; ক্ষমতা, শক্তি, বীরত্ব।
সাহস, মনোবল:
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ(নজরুল)
ক্ষমতা, শক্তি, বীরত্ব:
হিম্মত দেখানোর আগে হিম্মত সঞ্চয় করো।
হিম্মত যার কিসমত তার।
— — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

হতশ্রী হতভাগা হতাস্মি হত আছে যত

ড. মোহাম্মদ আমীন
হত ও শ্রী যুক্ত হয়ে হতশ্রী। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, হত (√হন্‌+ত) অর্থ— (বিশেষণে) মৃত, নিহত। ব্যাহত,, বাধাপ্রাপ্ত। লুপ্ত (হতগৌরব)। অশুভ, মন্দ (হতভাগা) প্রভৃতি।
কোনো বিষয় হত, লুপ্ত, আহত, ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত, দুর্দশাগ্রস্ত, নষ্ট, ধ্বংস হয়েছে কিংবা হ্রাস পেয়েছে বা অপমানিত হয়েছে প্রভৃতি প্রকাশ করার জন্য শব্দের আগে হত যুক্ত করা হয়। যেমন:
হতগৌরব (গৌরব ধূলিসাৎ হয়েছে এমন), হতচকিত (হতভম্ব), হতচেতন (অচেতন, অজ্ঞান), হতচ্ছাড়া (দুর্দশাগ্রস্ত), হতজীব (প্রাণহীন, মৃত), হতজ্ঞান (অচেতন, হতচেতন), হতত্রপ (নির্লজ্জ, বেহায়া), হতদরিদ্র, হতধী (বুদ্ধিহীন, বুদ্ধিহারা), হতপ্রভ (নিষ্প্রভ, ম্লান), হতপ্রায় (মুমূর্ষু, মৃতপ্রায়), হতবল (দুর্বল), হতবাক (নির্বাক, বিস্মিত), হতবুদ্ধি (হতভম্ব), হতভাগা (মন্দভাগ্য), হতমান (অপমানিত, অপদস্থ), হতমূর্খ (মহামূর্খ), হতলক্ষ্মী (লক্ষ্মীছাড়া), হতশ্রদ্ধ (শ্রদ্ধাহীন, বীতশ্রদ্ধ), হতশ্রী (শ্রীহীন, হতভ্যাগ্য, লক্ষ্মীছাড়া, সম্পদহীন), হতাদর (অনাদৃত, অনাদর, অমর্যাদা), হতাশা (হত+আশা), হতাশ্বাস (আশা-প্রত্যাশা লুপ্ত হয়েছে এমন), হতাস্মি [(হত+অস্মি); অর্থ: আমি মরে গেলাম, আমি শেষ হয়ে গেলাম এরূপ খেদোক্তি] প্রভৃতি হত দিয়ে গঠিত কয়েকটি শব্দ।
এত হত থেকে হওয়া শব্দকে মুক্ত রাখার জন্য হওয়া অর্থ প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত শব্দের বানানে ত-য়ে ও-কার দিতে হয়। যেমন:
তেমন যদি হতো
ইচ্ছে হলে সবাই হতো ধানের গোলার মতো।
— — — —— — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
অঙ্ক বা সংখ্যার পর ম য় র্থ ষ্ঠ শ তম প্রভৃতি বসে কেন? (১০৩)

ড. মোহাম্মদ আমীন

সংখ্যার পূরকে কোনোটির পর  (১ম), কোনোটির পর  (২য়), কোনোটির পর র্থ (৪র্থ), কোনোটির পর  (২০শ) আবার কোনোটির পর তম (৮৭তম) প্রভৃতি বর্ণ বা যুক্তব্যঞ্জন বসে। কিন্তু কেন বসে? এ বর্ণচিহ্নগুলো হচ্ছে অঙ্ক বা সংখ্যার পূরক নামের সংক্ষিপ্ত রূপ। বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো?
১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১১৮ ৩০৪০ ৪৮ ৪৯৫০ ৫৯৯০ ৯৩১০০ ১০০০ প্রভৃতি হচ্ছে সংখ্যা। এসব সংখ্যার পূরক হলো যথাক্রমে— প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম ষষ্ঠ সপ্তম অষ্টম নবম দশমএকাদশ অষ্টাবিংশ ত্রিংশচত্বারিংশ অষ্টচত্বারিংশঊনপঞ্চাশত্তমপঞ্চাশত্তমঊনষষ্টিতমনবতিতম ত্রিনবতিতম শততম এবং সহস্রতম। এই পূরকসমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ যথাক্রমে— ১ম ২য় ৩য় ৪র্থ ৫ম ৬ষ্ঠ ৭ম ৮ম ৯ম ১০ম ১১শ১৮শ ৩০শ ৪০শ ৪৮শ ৪৯তম ৫০তম ৫৯তম ৯০তম ৯৩তম ১০০তম ১০০০তম। সংখ্যার সঙ্গে পূরকের পূর্ণ নামের শেষ অংশটি দিয়ে সংক্ষিপ্ত পূরক লেখা হয়। যেমন—
১ প্রথম (১ম)
২ দ্বিতীয় (২য়)
৪ চতুর্থ (৪র্থ)
৫ পঞ্চম (৫)ম
৬ ষষ্ঠ (৬ষ্ঠ)
১১ একাদশ (১১শ)
৩০ ত্রিংশ (৩০শ)
৪৯ ঊপঞ্চাশত্তম>ঊনপঞ্চাশত্‌তম (৪৯তম)।
৫০ পঞ্চাশত্তম> পঞ্চাশত্‌তম (৫০তম)
৫৯ ঊনষষ্টিতম (৫৯তম)
১০০০ সহস্রতম (১০০০তম)
বাকি অংশ:
— — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

বুদ্ধিজীবিনয়, বুদ্ধিজীবী (১০৬)

গতকাল (১৪ই ডিসেম্বর) গেল শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। অনেকে লিখেছেন: বুদ্ধিজীবি । শুদ্ধ হচ্ছে— বুদ্ধিজীবী। যে-কোনো জীবী দুটো ঈ-কার নিয়ে চলে। যেমন: মৎস্যজীবী, শ্রমজীবী, চিকিৎসাজীবী, কৃষিজীবী – – -।
জীবি কখনো শুদ্ধ নয়।
মনে রাখুন, √জীব+ইন্‌= জীবী। -জীবী ইন্‌-প্রত্যয়ন্ত শব্দ। ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দে ইন্‌-এর পরিবর্তে ঈ-কার হয়।

সূত্র: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

— — — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

নদীশাসন

ড. মোহাম্মদ আমীন
এ কূল ভেঙে ও কূল তুমি গড়ো,
যার এ কূল ও কূল দু-কূল গেল তার লাগি কী করো- – -।
নদী ও শাসন মিলে নদীশাসন। এটি অনেকটা ব্যক্তি বা প্রাণী বা প্রাতিষ্ঠানিক সত্তা প্রভৃতির স্বাধীন চলাচল বা ইচ্ছাকর্মকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো একটি ব্যবস্থা। রাষ্ট্রশাসন, প্রশাসন প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন কৌশল। প্রত্যেকটির উদ্দেশ্য বৃহত্তর কল্যাণ সাধন। কাউকে শাসন করা মানে তার স্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। নদীকে শাসন করা মানে নদীর স্বাধীন চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করা।
নদীশাসন বলতে এমন কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা বোঝায়, যাতে নদী প্রকৃতির ইচ্ছেমতো দামাল রূপ নিয়ে যেদিকে খুশি ছুটে যেতে না পারে। তার গতিপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করার নামই হচ্ছে নদীশাসন। নদী প্রাকৃতিক কারণে ইচ্ছেমতো ধাবিত হয়। দুকূল উপচে তীর-পাড় ভেঙে যখন যেদিকে খুশি চলে যায়। নদীশাসন বলতে এমন কিছু কার্যক্রম গ্রহণ বোঝায়, যাতে নদী তার ইচ্ছেমতো যাতে তীর-পাড় ভেঙে যেদিকে খুশি সেদিকে যেতে না পারে।
নদী প্রতিনিয়ত ধেয়ে চলে। চলার পথে উভয় পাড়ের ভুমি ক্ষয় করে। একূূল ভাঙে ওকূল গড়ে। আবার উভয় পাড় ভেঙে অনির্ধারিত পথে ছুটে চলে। ক্ষতি করে জনপদের, লোকবল আর সহায়সম্পদের। ধ্বংস করে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু। এসব ক্ষয়ক্ষতি রোধ করার লক্ষ্যে নদীপৃষ্ঠ থেকে উভয় পারের নির্ধারিত উচ্চতা পর্যন্ত পাথরাদি ফেলে বা অন্যকোনো উপায়ে নদীর স্বাধীন প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টাকে নদীশাসন বলা হয়। নদীর স্বাধীন প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণপূর্বক মানুষের সহায়সম্পদ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা নদীশাসনের উদ্দেশ্য। এর ভালো ও খারাপ উভয় দিক রয়েছে। হেমন্তের গানে ধ্বনিত হয় নদীশাসনের আবশ্যকতা:
এ কূল ভেঙে ও কূল তুমি গড়ো,
যার এ কূল ও কূল দু-কূল গেল তার লাগি কী করো- – -।
নদীশাসনের উদ্দেশ্য হচ্ছে — নদী দ্বারা সৃষ্ট ভবিষ্য-ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আক্ষেপকে প্রত্যাশয় বারিত করা।
— — — — — — —— — — — — — — — — — — — — — —
অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংকসমূহ দেখতে পারেন:
 
 

বাংলা বানান (১১৫)

ড. মোহাম্মদ আমীন

নয়ন কিন্তু পরিণয়ন।
নাম কিন্তু পরিণাম।
নেতা কিন্তু পরিণেতা।
বহন কিন্তু পরিবহণ।
বাহন কিন্তু পরিবাহণ
যান কিন্তু পরিযাণ।
সেক কিন্তু পরিষেক।
সেবক কিন্তু পরিষেবক।
সেবা কিন্তু পরিষেবা।
পরিষ্কার কিন্তু পরিষ্করণ।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

শুবাচির প্রশ্ন থেকে শুবাচির উত্তর সমগ্র

লাল সালাম

ড. মোহাম্মদ আমীন
লাল সালাম ( red salute ) বা লাল সেলাম কথাটি বিপ্লবী স্লোগান, দলীয় বিপ্লবী অভিবাদন, শ্রদ্ধা নিবেদনমূলক অভিব্যক্তি, সমর্থকদের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা জ্ঞাপন প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত অভিবাদন হিসেবে কথাটির প্রয়োগ সর্বাধিক। অনেক সময় বিশেষ বার্তা, বাণী বা ইঙ্গিত প্রদান কিংবা বিশেষ নির্দেশ জ্ঞাপনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। রক্তের রং লাল। বিপ্লবে রক্তপাত হয়, প্রয়োজনে রক্ত বা জীবন দানের শপথ নিতে হয়। তাই লাল দ্বারা বিপ্লব বোঝানো হয়। এজন্য বিপ্লবীদের পতাকার রংও লাল।
কোনো কমিউনিস্ট নেতা মারা গেলে তাঁর সম্মানার্থে surkh salam শব্দটিও ব্যবহার করা হয়। ফারসি surkh শব্দের অর্থ লাল। এটা দক্ষিণ এশিয়া— বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কমরেড বা কমিউনিস্টগণ বলে থাকেন। কমিউনিস্টদের মধ্যে পরস্পর প্রাত্যহিক অভিবাদন হিসেবেও কথাটি ব্যবহৃত হয়। এখন কমিউনিস্ট ছাড়াও উদারপন্থি অনেক রাজনীতিক দলের সমাবেশে কথাটি শোনা যায়।
 
— — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 

কৃত বনাম ক্রীত (১১৭)

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত কৃত (√কৃ+ত) অর্থ (বিশেষণে)— রচিত (সৈয়দ মুজতবা আলী কৃত পুস্তক)। সম্পাদিত (সুকৃত সংকলন, প্রকৃত কর্ম)। লব্ধ, সুশিক্ষিত (কৃতবিদ্য, কৃতজ্ঞান)। নির্মিত, গৃহীত (লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি কৃত চিত্রকর্ম)। পূর্ণ, সফল (কৃতকার্য) এবং (বিশেষ্যে)— পুরাণে কল্পিত সৃষ্টির আদি যুগ, সত্যযুগ।
সংস্কৃত ক্রীত (ক্রী+ত) অর্থ (বিশেষণে)— অর্থের বিনিময়ে লব্ধ। যেমন: ক্রীতদাস, ক্রীতপুস্তক, ক্রীতবাড়ি, ক্রীতগাড়ি, ক্রীতজমি। যা ক্রয় করা হয়েছে তা ক্রীত। অনেকে লিখেন: ক্রয়ক্রীত। তা বাহুল্য। ক্রীত শব্দের মধ্যে ক্রয় করা হয়েছে অর্থ নিহিত।
কৃত হতে হলে চেষ্টা, জ্ঞান, মহানুভবতা, প্রজ্ঞা, বিদ্যা, কর্ম, চেতনা, বোধ প্রভৃতি বিষয় জড়িত। কৃত হতে হলে প্রজ্ঞার স্ফুরণ ঘটানো অনিবার্য। প্রত্যক্ষভাবে শুধু অর্থ দিয়ে এসব করা যায় না। কিন্তু ক্রীত অর্জনে শুধু অর্থ হলেই চলে।
অর্থ-সম্পদ থাকলে একজন মূর্খ মানুষও সহস্র কোটি ডলারের বই কিনে বিশাল পাঠাগার দিতে পারে, কিন্তু কৃতবিদ্য হতে পারবেন না। প্রজ্ঞা-অধ্যবসায় প্রভৃতি না-থাকলে কারও পক্ষে কৃতবিদ্য বা সুকৃত ইত্যাদি হওয়া সম্ভব নয়।
— — — — — — — — — — — — — — — — — — —
বাকি অংশ এবং অন্যান্য (১—১২০) প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক
 

জগদ্দল পাথর

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
জগদ্দল ও পাথর মিলে জগদ্দল পাথর। আবার জগৎ ও দল মিলে জগদ্দল। দলন (দল্‌+অন) থেকে উদ্ভূত দল অর্থ— (বিশেষ্যে) মর্দন, চূর্ণীকরণ, নিপীড়ন; যা দলিত করে। যা দলন করে তাই দলন বা দল। সুতরাং, জগদ্দল কথার আক্ষরিক অর্থ— জগতের দলন কর্তা; জগৎকে দলনে সক্ষম গুরুভার পাষাণ, নিপীড়ক, কষ্ট দেয় এমন। জগৎকে দলিত করতে সক্ষম পাথর কত ভারী হতে পারে তা সহজে অনুমেয় হলেও অত ভার বহন করা সম্ভব নয়।
জগদ্দল পাথর অর্থ এমন একটি পাথর যা দলিত করে, দলন করে, পীড়া দেয় এবং যে পাথরের গুরুভার বহন করা কষ্টসাধ্য; কিংবা আদৌ সম্ভব নয়।
যখন কোনো অব্যক্ত বেদনা বা সীমাহীন কষ্ট জগদ্দলের মতো পাথর হয়ে বুকের ওপর চেপে বসে তখন কথাটি ব্যবহার করা হয়। যেমন: একমাত্র সন্তানের মৃত্যুকথা পিতার বুকে জগদ্দল পাথর হয়ে আছে। এটি এমন একটি ঘটনা বা বিষয় যা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবল চেষ্টা সত্ত্বেও সম্ভব হয় না।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, জগদ্দল (জগৎ+দল) কথার অর্থ— অতি বিশাল ও গুরুভার, অত্যন্ত ভারি।
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার জগদ্দল গ্রামে জগদ্দল বিহার নামের একটি বিহার রয়েছে। এই বিহারের চারপাশে অনেক ভারি পাথর ছিল এবং এখনো আছে। অনেক ভারি ভারি পাথর দিয়ে বিহারটি নির্মিত। কথিত হয়, পাথরসমূহ কারও পক্ষে উত্তোলন করা সম্ভব হতো না। এসব পাথর জগতের বুকে অলৌকিকভাবে চেপে বসা ছিল। তাই নাম হয় জগদ্দল বিহার। (ছবি: জগদ্দল বিহার)
 
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

কিন্ডারগার্টেন (kindergarten)

ড. মোহাম্মদ আমীন
(ছবি: কিন্টারগার্টেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেডরিখ ফ্রোবেল)
কিন্ডারগার্টেন (kindergarten) শব্দটির প্রবক্তা জার্মান শিশু-শিক্ষাবিদ ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল (Friedrich Wilhelm August Froebel)। এর বাংলা অর্থ— হয় শিশুদের বাগান। ফ্রোয়েবল ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাড ব্ল্যাংকেনবার্গ শহরে শিশুদের জন্য একটি শিক্ষপ্রতিষ্ঠান খুলেন। এই প্রতিষ্ঠানে খেলাচ্ছলে শিশুদের পড়ানো এবং খেলাধুলা-সহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয় যুক্ত করা হয়। ফ্রোয়েবল এর নাম দেন কিন্ডারগার্টেন।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, জর্মন কিন্ডারগার্টেন অর্থ (বিশেষ্যে) যে বিদ্যালয়ে ক্রীড়াচ্ছলে শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়, শিশুদের প্রারম্ভিক বিদ্যালয়।
১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে দার্শনিক ও শিশু-শিক্ষাবিদ রবার্ট ওয়েন স্কটল্যান্ডের নিউ ল্যানার্ক এলাকায় তাঁর বাসস্থানের কাছে ‘ইনফ্যান্ট স্কুল’ নামের একটি শিশুশিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বলা হয়— এটিই শিশু শিক্ষার বর্তমান চলমান ধারার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে শিশু-শিক্ষাবিদ স্যামুয়েল ওয়াইল্ডারস্পিন লন্ডনে আরেকটি শিশু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে মে কাউন্টেস থেরেসা ব্রুন্সভিক (১৭৭৫-১৮৬১) হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট-এর নিজ বাড়িতে ‘এঙ্গিয়েলকার্ট’ বা পরিদের বাগান নামের একটি শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলেন। অল্পসময়ে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এখান থেকে প্রাণিত হয়ে ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন কিন্ডারগার্টেন
বাকি অংশ এবং অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর দেখার জন্য নিচের লিংক

শুবাচির প্রশ্ন থেকে শুবাচির উত্তর সমগ্র

দারুল উলুম মাদ্রাসা মানে কী?

(প্রশ্নটি করেছেন জনাব ASHRAFUZZAMAN LITON)

দারুল উলুম কথাটি আরবি। এর অর্থ— জ্ঞানালয়, জ্ঞানগৃহ, জ্ঞানাগার, যেখানে জ্ঞান দান করা হয়, শিক্ষা দেওয়া হয়। কথাটি দ্বারা সাধারণত ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষালয় বোঝানো হয়।
দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের একটি ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইসলামি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে কয়েকজন ইসলামি পণ্ডিত উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। দারুল উলুম অন্যান্য মাদ্রাসার অনুরূপ হলেও এতে বিশেষ পাঠ্যসূচি রয়েছে।
সেলজুক সাম্রাজ্যের নিজামিয়া ইসলামিক বিদ্যালয়গুলো থেকে দারুল উলুম-এর উদ্ভব। বাংলাদেশে অবস্থিত দারুল উলুম নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ দারুল উলুম দেওবন্দকে অনুসরণ করে থাকে।
প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক নিচে দেওয়া হলো:

শুবাচ ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান অভিধান সর্বশেষ সংশোধন-সহ

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম

‘ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না’ প্রবাদ বাক্যটির মর্মার্থ কী?
ড. মোহাম্মদ আমীন
কথাটির আলংকারিক অর্থ বুঝেও না বোঝার ভান করা। জেনেও না জানার অজুহাত উপস্থাপন করা। ভাজা মাছ উলটে খাওয়া সহজ কাজ। যে-কেউ এটি পারে। কিন্তু যখন কেউ এমন ভান করে যে সহজ কাজটি পারে না বা পারলেও নিজেকে নিরীহ প্রমাণের জন্য না-জানার বা না পারার অজুহাত তুলে নিষ্ক্রিয় থাকে তখন তাকে উদ্দেশ করে কথাটি বলা হয়। একটি নেতিবাচক কথা। কারো থালায় খাবার হিসেবে মাছ দেওয়া হলো। খাদকটি এতই ন্যাকা বা ভান ধরতে ওস্তাদ যে মাছের এক পাশ খাবার পর আরেক পাশ উল্টালেই যে একই আরেকটি পাশ পাওয়া যাবে, সে তা ন্যাকামি বা ভান করে এড়িয়ে যায়। ভান করে অন্যের সহানুভূতি আদায়ের অপপ্রয়াস প্রকাশেও কথাটি ব্যবহৃত হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য:

কিভাবে না কি কীভাবে?

কি এবং কী— এ দুটির পার্থক্য থেকেই এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। হ্যাঁ বা না দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া গেলে ‘কি’ হয়। অন্যসব ক্ষেত্রে লেখা হয় ‘কী’। ‘কীভাবে’ কথার সঙ্গে যুক্ত বিষয়ের উত্তর হ্যাঁ বা না দিয়ে দেওয়া যায় না। তাই ‘কীভাবে’ শুদ্ধ। আবার ‘কি ভাবে’, ‘কী ভাবে’ এগুলোও শুদ্ধ। যেমন
সে কী ভাবে? ( What does he think?)
সে কী ভাবে? (Does he think?)
সে কীভাবে এটা করল? (How did he do it?)
বাকি অংশ ও অন্যান্য:

অতলান্তিক থেকে Atlantic

ড. মোহাম্মদ আমীন
অতলান্তিক সংস্কৃত শব্দ। এর ব্যুৎপত্তি হচ্ছে, অতল+ আন্তিক। সংস্কৃত ‘অতল’ শব্দের অর্থ— বিশেষণে তল নেই এমন, গভীর, অথৈ, অগাধ এবং বিশেষ্য পুরাণে বর্ণিত সাতটি পাতালের প্রথমটির তলদেশ। সুতরাং অতলান্তিক অর্থ যার তলদেশ অত্যন্ত গভীর। পৃথিবীতে এখনো এ নামের একটি মহাসাগর আছে। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Atlantic Ocean, এই সাগরের তলদেশ অত্যন্ত গভীর। মূলত ভারতীয় পুরাণে বর্ণিত অতল + আন্তিক = অতলান্তিক সাগরই ইউরোপে Atlantic নামে পরিচিত। সংস্কৃত অতলান্তিক থেকে ইংরেজি Atlantic এবং তা থেকে Atlantic মহাসাগর নামের উদ্ভব।এর অর্থ: যার তলদেশ অত্যন্ত গভীর।
বাকি ও অন্যান্য অংশ:

অপেরা

ড. মোহাম্মদ আমীন
ইতালীয় অপেরা (Opera) শব্দের বাংলা গীতিনাট্য। এর উদ্ভব ইতালিতে। পরবর্তীকালে তা সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। এটি পাশ্চাত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় গীতিনির্ভর বিশেষ ধরনের নাটক।
অপেরা পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি প্রধান শাখা। অভিনয়, পোশাকসজ্জা এবং কখনো কখনো নৃত্য সহকারে মঞ্চে গীতিনাট্য পরিবেশন করা হয়। সহজ কথা, সংগীত-প্রধান নাটককে অপেরা বা গীতিনাট্য বলা হয়।
অপেররার কাহিনি ও চরিত্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সংগীত চয়ন করা হয়। শকুন্তলা বাংলা ভাষার প্রথম অপেরা বা গীতিনাট্য।
বাকি ও অন্যান্য অংশ:
ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলাও—একথার ব্যাখ্যা জানতে চাই।
ভিক্ষে করতে এসে গৃহস্থের কুকুরের পাল্লায় পড়ে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত তখন ভিক্ষুক ভিক্ষার প্রত্যাশা ত্যাগ করে নিজেকে কুকুরের আক্রমণ হতে রক্ষা করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন তার মনে ধ্বনিত হয়, “ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলাও”।
অর্থাৎ, লাভের উদ্দেশ্যে গিয়ে যখন দেখে আসলটাও যাচ্ছে, কিংবা প্রাপ্তির চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি; তখন লাভ নয়, আসলটা রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কেউ যখন কারো কাছে উপকারের প্রত্যাশায় গিয়ে তার কাছে অপকারের আশঙ্কায় পড়ে যায় তখন কথাটি বলা হয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য:

শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ) প্রমিত বানানবিধি

এমভি মানে কী

ড. মোহাম্মদ আমীন
বিভিন্ন লঞ্চ ও জাহাজের নামের আগে এম.ভি লেখা থাকে। যেমন- এমভি সোনার তরী, এমভি মাহবুব, এমভি বাংলার জয় প্রভৃতি। এম ভি কথার পূর্ণরূপ হলো: Motor Vessel or Marine Vehicle. তখনকার দিনে বেশিরভাগ জাহাজ কয়লা জ্বালিয়ে চলানো হতো। সেসব জাহাজকে বলা হতো Steam Ship বা S.S।
পরবর্তীকালে তেল চালিত জাহাজ চালু হয়। সেগুলোকে বলা হতো Motor Vessel অথবা MV। যে কোনো সমুদ্রগামী জাহাজকেই Marine Vessel অথবা Ocean going vessel দেশের জলসমীয় চলাচলকারী জাহাজকে Inland Vessel বলা হয় ।
TITANIC সিনেমার জাহাজটি. Steam Ship; আবার সমুদ্রগামী হওয়ার কারণে এটি একই সঙ্গে marine vessel / Ocean going ও ছিল ।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য:

নয়নাসার

নয়নাসার অর্থ কী?
সংস্কৃত নয়নাসার (নয়ন+আসার) অর্থ— (বিশেষ্যে) কান্না, অশ্রুবর্ষণ। তোমার নয়নাসার
আমার সীমাহীন পারাবার।
শুবাচ গ্রুপ এর লিংক: www.draminbd.com

আসক্তি বনাম আসত্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন
আসক্ত থেকে আসক্তি। সংস্কৃত আসক্তি (আ+√ সন্‌জ্‌+তি) অর্থ— (বিশেষ্যে) গভীর অনুরাগ ( আসত্তি ভালোবাসার হার্দিক উপাদান); লিপ্সা, ভোগবিলাস (সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসত্তি ঠিক নয়); সংসক্তি, অভিনিবেশ।
আসত্তি (আ+√ সদ্+তি) অর্থ— (বিশেষ্যে) নৈকট্য, সন্নিধি; মিলন। ব্যাকরণে শব্দটির অর্থ— বাক্যে পরস্পর অন্বিত পদসমূহের সন্নিহিত অবস্থান, বাক্যের পদসমূহের সর্বাধিক সুশোভন এবং অর্থবহ অবস্থান, যে অবস্থানের পরিবর্তন বাক্যের আদর্শ মান ও উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
বাকি অংশ ও অন্যান্য:

আসক্তি বনাম আসত্তি, অ-সঙ্গ বনাম অসঙ্গ; ধূসর বানানে ষ নয় কেন

মুক্তহস্ত ও মুক্তহস্তে দান

ড. মোহাম্মদ আমীন
মুক্ত ও হস্ত মিলে মুক্তহস্ত। মুক্তহস্ত শব্দের মুক্ত অর্থ— উদার, নিঃস্বার্থ, সর্বজনীন বোধ, অবাধ, বন্ধনহীন এবং হস্ত অর্থ হাত, মন, বাসনা, ইচ্ছা। সুতরাং, মুক্তহস্ত অর্থ— উদার মনে দান, নিঃস্বার্থভাবে দান, অবাধভাবে দান, কোনোরূপ উপকারের প্রত্যাশা না করে উদারতার সঙ্গে সবাইকে দান, উপকারে সর্বজনীন বোধের বিদ্যমানতা।সে হিসেবে মুক্তহস্তে দান করা মানে উদারচিত্তে দান করা।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, মুক্তহস্ত অর্থ— (বিশেষণে) বদান্য, দানশীল, উদার।
বাকি ও অন্যান্য অংশ দেখার জন্য নিচের লিংক:
 

বীতশ্রদ্ধ: অর্থ ও ব্যুৎপত্তি

ড. মোহাম্মদ আমীন
 
বীত ও শ্রদ্ধা মিলে বীতশ্রদ্ধ।
সংস্কৃত বীত (বি+√ই+ত) অর্থ— (বিশেষণে) চলে গিয়েছে বা দূর হয়েছে এমন, বিগত; অপগত (বীতশোক), হৃত। সুতরাং, বীতশ্রদ্ধা (বীত+শ্রদ্ধা) অর্থ— (বিশেষণে) শ্রদ্ধা হারিয়েছে এমন (বীতশ্রদ্ধনীতি), আস্থাহীন (জনগণ তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে); বিরক্ত (সাধারণ মানুষ প্রশাসণের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেছে।)।
বীতশ্রদ্ধ শব্দের অনুরূপ গঠনের শব্দ: বীতকাম (কামনাশূন্য), বীতভয় (ভয়মুক্ত), বীতরাগ (নিস্পৃহ), বীতশোক (শোকমুক্ত), বীতস্পৃহ (নিরাকঙ্ক্ষ), বীতহব্য (হোম বা যজ্ঞ ত্যাগ করেছে এমন)।
বাকি অংশ এবং অন্যান বিষয় দেখার জন্য নিচের লিংক:

বীতশ্রদ্ধ, বীতি ও বীথি, হতশ্রী, হতভাগা ও হতাস্মি

আর্দ্র

আর্দ্র শব্দের উচ্চারণ জানতে চাই

সংস্কৃত আর্দ্র (√অদ্+র) অর্থ (বিশেষণে) সিক্ত (আর্দ্র ভূমি); ভেজা (আর্দ্রবসন); কোমল (দয়ার্দ্র)।

শব্দটির উচ্চারণ হলো: আর্‌দ্রো।

এখানে র্দ্র= র্‌+দ্র
মনে রাখবেন, রেফ-যুক্ত শব্দে মূল শব্দের আগে র্‌ উচ্চারিত হয়। যেমন: অর্থ (অর্‌থে); আর্ত (আর্‌তো); শূর্প (শুর্‌পো), ব্যাসার্ধ (ব্যাসার্‌ধো); ব্যর্থ (ব্যার্‌থো)। এখানে প্রথম বন্ধনীর ভেতরের লেখাটি উচ্চারণ-নির্দেশনা, বানান নয়।
বাকি অংশ ও অন্যান্য বিষয়:
 

ভাইভাই

ভাইভাই বহুবচনবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ নয়। এটি বাংলা শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভাইভাই অর্থ: ভাইয়ের মতো সম্পর্ক।
ভাইভাই ভাউলিয়া বায়।
দেখুন নিচের লিংক:

অলিক না কি অলীক

শব্দটির বানান অলীক। ঈ-কার অপরিহার্য। অলীক (√অল্‌+ঈক) তৎসম শব্দ। এর অর্থ— (বিশেষ্যে) মিথ্যা, অসত্য; কপাল, ললাট, ভাগ্য এবং (বিশেষণে) কাল্পনিক। তবে অলিকুল বানানে ই-কার। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, অলিকুল (অলি+কুল) অর্থ— (বিশেষ্যে) ভ্রমরের ঝাঁক, ভ্রমরকুল।
প্রয়োজনীয় লিংক

WWW.DRAMINBD.COM

আশি আশী আশীর্বাদ ও আশীর্বাদি

আশি আশী: সংস্কৃত আশীতি থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা শব্দ আশি অর্থ— (বিশেষ্যে) ৮০ সংখ্যা এবং (বিশেষণে) ৮০ সংখ্যক। সংস্কৃত আশী (আ+√শাস্+ক্বিপ) অর্থ— (বিশেষ্যে) সাপের বিষদাঁত।
ওষুধ হিসেবে সেবনের জন্য তিনি আশি টাকা দিয়ে এক ফোঁটা আশী কিনে আনলেন।
 
আশীর্বাদ ও আশীর্বাদি: দুটোই তৎসম শব্দ। আশীর্বাদ অর্থ— (বিশেষ্যে) কল্যাণ বা মঙ্গলসূচক উক্তি, শুভেচ্ছা, দোয়া, মঙ্গল কামনা। আশীর্বাদি অর্থ— আশীর্বাদের সঙ্গে প্রদেয় অর্থ বা উপহার।
ইদের দিন আশীর্বাদের সঙ্গে পাঁচশ টাকা আশীর্বাদি পেয়ে খুশি কী খুশি!
প্রয়োজনীয় লিংক

WWW.DRAMINBD.COM

আহম্মক আহম্মকি আহম্মুকি

আহম্মক, আহম্মকি এবং আহম্মুকি আরবি উৎসের শব্দ। আহম্মক অর্থ— নির্বোধ, কাণ্ডজ্ঞানহীন, স্থূলবুদ্ধি। এটি বিশেষণ। আহম্মক শব্দের বিশেষ্য হচ্ছে— আহম্মকি ও আহম্মুকি। এর অর্থ— মূর্খতা, বোকামি, নির্বুদ্ধিতা প্রভৃতি।
 
দেখুন নিচের লিংক:

ইস্তিরি ও ইস্পাত কোন দেশি শব্দ?

ইস্তিরি ও ইস্পাত পোর্তুগিজ শব্দ। তবে ইস্তফা আরবি, ইস্তক হিন্দি, ইস্ক্রুপ ফরাসি এবং ইস্কাপন ওলন্দাজ এবং ইলেকশন লাতিন উৎসের শব্দ।
শুবাচ লিংক:

আনাচকানাচ

আনাচ ও কানাচ মিলে আনাচকানাচ। শব্দটি দেশি। বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত আনাচকানাচ অর্থ— গলিঘুঁজি, আড়াল, ছাঁচতলা, আদার-পাঁদাড়, অস্থান-কুস্থান; জানা-অজানা সব জায়গা।
প্রসঙ্গত, ফারসি কানাচ অর্থ— (বিশেষ্যে) দেওয়ালের বাইরে স্থিত চালাঘরের ছাচঁ; ছাচঁতলা।
দেখুন নিচের লিংক:

তরে অর্থ কী জানতে চাই?

বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত এবং সংস্কৃত অন্তর থেকে উদ্ভূত তরে অর্থ— উদ্দেশে, জন্য। শব্দটি মূলত কবিতায় ব্যবহৃত হতো। তবে আধুনিক কবিতায় এর ব্যবহার তেমন দেখা যায় না।
প্রয়োগ: সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। (কামিনী রায়)
শুবাচ ওয়েবসাইট:

www.draminbd.com

মজা মজা: মজা পুকুরে মজা নেই

ড. মোহাম্মদ আমীন
অভিধানে মজা শব্দের দুটি পৃথক ভুক্তি। একটি ফারসি মজা আর একটি বাংলা মজা। দেখুন দুই দেশি দুই মজার কাণ্ডকারখানা।
ফারসি মজা অর্থ— (বিশেষ্যে) আমোদ, তামাশা, রঙ্গ, ঠাট্টা, এবং (বিশেষণে) আন্দজনক ও সুস্বাদু।
প্রয়োগ: পিকনিকে গিয়ে মজা করে এলাম। মায়ের হাতের গজা, খেতে ভারি মজা।
বাংলা মজা অর্থ— (ক্রিয়াবিশেষণে) বুজে যাওয়া, শুকিয়ে জলশূন্য হওয়া ( ভবনটি হয়েছে মজা নদীর ওপর); অনুরক্ত হওয়া (প্রেমে মজা); পরিণত হওয়া এবং (বিশেষণে) শুকিয়ে জলশূন্য হয়েছে এমন (মজা পুকুর); সুপক্ব (মজা আম, মজা কাঁঠাল); জলে পচানো (মজা সুপারি)।
 
বাকি অংশ ও অন্যান্য নিচের লিংকে:
 

বর্ণমালা

বিশ্বের দুই প্রধান বিখ্যাত ভাষা সংস্কৃত এবং ইংরেজি। এই দুই ভাষার একটারও নিজস্ব বর্ণমালা নেই। সুতরাং, বিখ্যাত ভাষা হওয়ার জন্য বর্ণমালা অপরিহার্য নয়। অপরিহার্য হলো ভাষাভাষী ও তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড।
সাদ্দাম হুসেইন: রোমান্টিক ঔপন্যাসিক
সাদ্দাম হুসেইন শুধু সামরিক অফিসার বা ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। ঔপন্যাসিকও ছিলেন। ‘Zabiba and the King’ সাদ্দাম হুসেইন-এর লেখা একটি রোমান্টিক উপন্যাস। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে উপন্যাসটি ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। এখন এটি পৃথিবীর কয়েকটি শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক উপন্যাসের অন্যতম একটি হিসেবে স্বীকৃত। পড়ে দেখতে পারেন। এটি ছাড়াও তিনি একাধিক বইয়ের লেখক।
 

নারীমুক্ত লাইব্রেরি

আইওয়া রাজ্যের অ্যাটর্নি টি এম. জিংক (T M Zink) ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। তিনি এত নারীবিদ্বেষী ছিলেন যে, মৃত্যুর আগে নারীমুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ফাউন্ডেশ করে ৫০,০০০ ডলার রেখে যান।
শর্ত ছিল: এই লাইব্রেরিতে কোনো মহিলার প্রবেশাধিকার থাকবে না। এমন কি কোনো মহিলা লেখকের সাহিত্যকর্ম, আর্ট, চার্ট, মহিলার বা মহিলার আঁকা ছবি, মহিলার ছবি ও নামযুক্ত বই লাইব্রেরিতে স্থান পাবে না।
মিস্টার জিংক তাঁর মেয়ে

দেশি টোপর ও টোপলা

টোপর ও টোপলা দেশি শব্দ। অভিধানমতে, টোপর অর্থ— (বিশেষ্যে) বড়ো টুপি, বরের মাথার মুকুট, শিরোস্ত্রাণ, চূড়া, উঁচু জায়গা প্রভৃতি। টোপলা অর্থ— (বিশেষ্যে) পুঁটলি, পোঁটলা।
প্রয়োগ:
টোপর উলটালে টোপলা। টোপলা উলটালে টোপর।
এমন জিনিস মাথায় দিয়ে। বউ-আনতে যায় বর।

সাঁই আর গোঁসাই

ড. মোহাম্মদ আমীন
অভিধানে সাঁই শব্দের তিনটি পৃথক ভুক্তি দেখা যায়। যথা:
১. সংস্কৃত স্বামিন্ থেকে উদ্ভূত খাঁটি বাংলা সাঁই অর্থ— (বিশেষ্যে) গুরু, প্রভু, স্বামী; বৈষ্ণব সন্ন্যাসী, গোঁসাই; ফকির, দরবেশ। এই সংস্কৃত সাঁই থেকে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী গোঁসাই। বাংলােদেশের শরিয়তপুর জেলায় গোঁসাইর হাট নামের একটি উপজেলা রয়েছে।
২. ধ্বন্যাত্বক সাঁই অর্থ— (অব্যয় ও বিশেষ্যে) জোরো বাতাস চলাচলের অনুকার ধ্বনি। বাতাসে সাঁইসাঁই কুঁড়ে ভয়ে কাঁপে তাই।
৩. বাংলা সাঁই অর্থ— (বিশেষ্যে) পদার্থবিশেষ।
বাকি অংশ, বিস্তারিত ও অন্যান্য:

অজানা অনেক মজার বিষয়

সাউ সাউকার সাউকারী

ড. মোহাম্মদ আমীন
সাউ: হিন্দি সাহু থেকে উদ্ভূত সাউ অর্থ— (বিশেষ্যে) বণিক, মহাজন, বড়ো ব্যাবসায়ী। পদ হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। সাহু পদবিধারী অনেক নাম রয়েছে।
সাউকার সাউকারী: বাংলা সাউকার অর্থ— (বিশেষ্যে) বড়ো ব্যাবসায়ী, বণিক, বেপারি প্রভৃতি। শব্দটি ব্যঙ্গার্থে মাতব্বর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সাউকারী অর্থ (বিশেষ্যে) মহাজনের বৃত্তি।ব্যঙ্গার্থে মাতব্বরি, মুরুব্বিয়ানা। সাউকারী দেখায়, দুপয়সার মুরোদ নেই!
বাকি অংশ, বিস্তারিত ও অন্যান্য:

সহিত বনাম সহিত

ড. মোহাম্মদ আমীন
অভিধানে সহিত শব্দের দুটি ভুক্তি রয়েছে। তাদের অর্থ ভিন্ন। অর্থ ভিন্ন বলে ব্যুৎপত্তিও ভিন্ন। যদিও বানান এবং উচ্চারণ অভিন্ন। দেখুন দুই সহিত-এর মাধুর্য:
১. সংস্কৃত সহিত (সম্‌+√ধা+ত) অর্থ — (বিশেষণে) সংযুক্ত, সমন্বিত; সংশ্লিষ্ট। সহিত শব্দটি এই অর্থে প্রধানত সাধুভাষায় ব্যবহৃত হয়। এর চলিত রূপ সঙ্গে। তোমার সহিত তার কী সম্পর্ক? অব্যয়ে এর অর্থ (বাংলায়) সঙ্গে। আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ– (রবি)।
২. সংস্কৃত সহিত (সহ+হিত) অর্থ — (বিশেষণে) হিতকর। তাঁর সহিত কাজ জনমনে দাগ কেটেছে প্রবল।
সমন্বিত প্রয়োগ: সবার সহিত মিলিয়া তোমার দ্বারা কৃত সহিত কাজ জাতি ভুলবে না কখনো।
বাকি অংশ, বিস্তারিত ও অন্যান্য:
 

জনাব ও বাবু

জনাব: জনাব আরবি শব্দ। এটি বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ— ব্যক্তি নামের পূর্বে ব্যবহৃত সম্মানসূচক শব্দ, মহাশয়, শ্রী। শব্দটি একসময় কেবল মুসলিমদের নামের পূর্বে ব্যবহৃত হতো। এখন নারী-পুরুষ আর ধর্ম-নির্বিশেষে সবার নামের আগে ব্যবহৃত হয়। তবে অমুসলিমদের ক্ষেত্রে জনাব কম ব্যবহৃত হয়। তারা শ্রী বা মহাশয় শব্দটি অধিক ব্যবহার করে থাকে।
 
বাবু: বাবু হিন্দি শব্দ। শব্দটি বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ (বিশেষ্যে) শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভদ্রলোক; বাঙালি ভদ্রলোকের নামের শেষে ব্যবহৃত সম্মানসূচক আখ্যা ( রমণীবাবু, শরৎবাবু খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে); অফিসের কেরানি (বড়োবাবু আজ অফিসে আসেননি); গৃহকর্তা, গৃহস্বামী, শৌখিন বিলাসী লোক প্রভৃতি। সম্মানসূচক পদ হিসেব বাবু শব্দটি সাধারণত অমুসলিমদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
সম্মানসূচক পদ হিসেবে জনাব ব্যবহৃত হয় নামের আগে এবং বাবু ব্যবহৃত হয় নামের পরে। যেমন: জনাব মনীন্দ্র। মনীন্দ্রবাবু। জনাব কামাল হোসেন। হরিশবাবু। বড়োবাবু।
বিস্তারিত এবং অন্যান্য বিষয় দেখুন নিচের সংযোগে: https://draminbd.com/আঁতেল-ও-আঁতলামো-অন্তর্হি/

হাঁকোয়া ও যুদ্ধোত্তর বাংলা শব্দ

ড. মোহাম্মদ আমীন

হাঁঁকোয়া (heating): এটি যুদ্ধোত্তর নতুন বাংলা শব্দ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শব্দটির উদ্ভব। এর অর্থ— মাচানের নিরাপদ উচ্চতায় বসে গুলি চালিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে শব্দের তাণ্ডব সৃষ্টি করে চারদিক হতে নানা জন্তু বা প্রত্যাশিত জন্তুকে একপাশে তাড়িত করা।
যুদ্ধোত্তর বাংলা শব্দ: ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সংঘটিত যুদ্ধসমূহের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে নানাভাবে নানা কারণে উদ্ভূত শব্দকে যুদ্ধোত্তর শব্দ বলা হয়। যুদ্ধকালীন বা যুদ্ধের পর সংবাদপত্র-সহ নানা প্রচার মাধ্যম; কবিসাহিত্যিকদের রচনা; গবেষকদের গবেষণা এবং আরো নানা ক্ষেত্রে এসব নতুন যুদ্ধোত্তর শব্দ সৃষ্টি হয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
যুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তরকালে সৃষ্ট বা উদ্ভূত নতুন পরিবেশ-প্রতিবেশ, পরিস্থিতি, নতুন ভাব-ভাবনা, গবেষণা, অভিজ্ঞতা, পেশা, প্রাত্যহিক চাহিদার বহুমুখীনতা, আবিষ্কার প্রভৃতিকে ভাষায় অর্থপূর্ণভাবে প্রকাশের জন্য যুদ্ধোত্তর শব্দ প্রয়োজন হয়।
বাংলায় যুদ্ধত্তোর ও যুদ্ধকালীন বা যুদ্ধজাত শব্দের তালিকা দেখার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করতে পারেন:

নির্ঘাত অর্থ বজ্রপাত: নিশ্চিতভাবে হলো কেন

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংস্কৃত নির্ঘাত(নির্+√হন্‌+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) প্রচণ্ড বাতাসের পরস্পর প্রবল সংঘাত; বজ্রপাত প্রভৃতি। বজ্রপাত ও প্রচণ্ড বাতাসের সংঘাত অত্যন্ত কঠিন, কঠোর, প্রবল, প্রচণ্ড এবং নিশ্চিত ও অনিবার্য। বিশেষ্য হিসেবে নির্ঘাত শব্দের এসব গুণ বিবেচনা করে এর বৈশেষণিক অর্থ করা হয়েছে— প্রবল, প্রচণ্ড, কঠোর; অব্যর্থ। ক্রিয়াবিশেষেণে শব্দটির অর্থ নিঃসন্দেহে, নিশ্চিতভাবে।
শুবাচ লিংক:

নিকষকালো: নিকষ ও কালো

নিকষ ও কালো মিলে নিকষকালো শব্দ গঠন করেছে। নিকষ অর্থ— (বিশেষ্যে) কষ্টিপাথর, কষ্টিপাথরে ঘষার চিহ্ন, তরোয়ালের খাপ। তবে নিকষকালো শব্দে বিদ্যমান নিকষ অর্থ— কষ্টিপাথর।
সুতরাং, নিকষকালো অর্থ— কষ্টিপাথরের মতো কালো।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, নিকষকালো অর্থ— কষ্টিপাথরের মতো কালো, ঘোর অন্ধকার।
——————————-
অন্যান্য বিষয় নিচের সংযোগে:

দালাল ও দালালি

ড. মোহাম্মদ আমীন
দালাল: দালাল আরবি উৎসের শব্দ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত দালাল অর্থ— (১) পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যাবসাবাণিজ্য বা ক্রয়বিক্রয়ে মধ্যস্থতা করা যার পেশা। যেমন: গোরুটি কেনার জন্য দালালকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়েছে। (২) যে ব্যক্তি স্বার্থোদ্ধারের আশায় বিশেষ কোনো পক্ষ অবলম্বন করে তাকেও দালাল বলে। যেমন: মালিকের দালাল, সরকারের দালাল।
ইদানীং দালাল শব্দটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নেতিবাচক দ্বিতীয় অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
দালালি: ফারসি দালালি অর্থ (বিশেষ্যে) দালালের বৃত্তি, দালালের পারিশ্রমিক, অনাহূত মধ্যস্থতা। দালালি করো না, নিজের চরকায় তেল দাও গিয়ে।
প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে, দালাল শব্দকে আরবি এবং দালালি শব্দকে ফারসি দেখানো হয়েছে।
বিস্তারিত এবং অন্যান্য বিষয় দেখুন নিচের সংযোগে: https://draminbd.com/আঁতেল-ও-আঁতলামো-অন্তর্হি/

আঁতেল ও আঁতলামো

ড. মোহাম্মদ আমীন
আঁতেল: আঁতেল ফরাসি উৎসের শব্দ। বাক্যে সাধারণত বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত আঁতেল অর্থ— পণ্ডিত। ইংরেজিতে যাকে বলা হয়— intellectual, বুদ্ধিজীবী। শব্দটির ব্যঙ্গার্থ— শিক্ষিত না হয়েও যে বুদ্ধিজীবীর চালচলন অনুকরণ করে, পণ্ডিতম্মন্য। ইদানীং আঁতেল শব্দটি নেতিবাচক অর্থে সমধিক ব্যবহৃত, যদিও এর ইতিবাচক অর্থ রয়েছে।
আঁতলামো: ফরাসি উৎসের শব্দ। বুদ্ধিজীবীর হাবভাব বা চালচাল অনুকরণ, পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের চেষ্টা প্রভৃতি অর্থ প্রকাশে নেতিবাচক বাগ্‌ভঙ্গি হিসেবে আঁতলামো শব্দটির বহুল ব্যবহার লক্ষণীয়। আঁতলামো তাকে হাস্যকর করে তুলেছে।
বিস্তারিত এবং অন্যান্য বিষয় দেখুন নিচের সংযোগে:

ধর্মকর্ম বনাম ধর্মকাম

কর্ম ও কাম সমার্থক হলেও ধর্মকর্ম ও ধর্মকাম সমার্থক নয়। ধর্মকর্ম অর্থ— ধর্মশাস্ত্রে নির্দেশিত ক্রিয়াকর্ম, ধর্মানুষ্ঠান। ধর্মকর্ম শব্দটি বিশেষ্য। অন্যদিকে, ধর্মকাম অর্থ— পুণ্যলাভের আশায় ধর্মকর্ম করে এমন। এটি বিশেষণ। ধর্মকর্ম অনুসারে ধর্মকাম সম্পাদিত হয়।
ধর্মকাম ঠাকুরদা সারাক্ষণ ধর্মকর্মে ব্যস্ত থাকেন।

পূর্বিতা অর্থ কী

সংস্কৃত পূর্বিতা (পূর্ব+ইন্+তা) অর্থ— (বিশেষ্যে) অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্যতা, পূর্বে গণ্য হওয়ার যোগ্যতা, অগ্রগণ্যতা, সবার আগে মূল্যায়িত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, ইংরেজিতে priority. আমার এক ছাত্রীর নাম ছিল পূর্বিতা। পূর্বি ডাকলে নাখোশ হতো সে।

পরামর্শ বনাম পরামর্ষ

বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘পরামর্শ (পরা + √মৃশ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ মন্ত্রণা, উপদেশ, কর্তৃব্যের বিষয়ে অভিমত, বিবেচনা প্রভৃতি। অন্যদিকে, বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘পরামর্ষ (পরা + √মৃষ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ সহ্যকরণ, সহন; ক্ষমা প্রভৃতি।
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির পরামর্ষ ঘোষণা কার্যকর করা হলো।
বাকি অংশ ও অন্যান্য নিচের সংযোগে:

ভেক্সিলিলোজি

পতাকাবিষয়ক অধ্যয়নকে ভেক্সিলিলোজি (vexillology) বা পতাকাবিদ্যা বলা হয়। লাতিন ভাষায় ভেক্সিলাম (vexillum) অর্থ পতাকা। ইংরেজি ভাষায় এটাকে বলা হয় ফ্ল্যাগ।
বাকি অংশ ও বিস্তারিত অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য নিচের সংযোগ

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, এককালীন এমএনএ এবং বিকেবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ।
ইবরাহীম খাঁ টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সাদত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন।
বাকি অংশ বিস্তারিত এবং অন্যান্য তথ্য নিচের সংযোগে:

বরাহূত রবাহূত অনাহুত

ড. মোহাম্মদ আমীন
কোনো ‌অনুষ্ঠান বিশেষ করে বিবাহ প্রভৃতিজাতীয় সামাজিক বা নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক ছাড়া সাধারণত আরো তিন পক্ষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সেই তিনটি পক্ষ হলো: (১) বরাহূত, (২) রবাহূত এবং (৩) অনাহুত।
বরাহূত: বরের সঙ্গে কিংবা বরের আহ্ববানে বা আমন্ত্রণে যারা আসেন অথবা যারা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত তারা বরাহূত (বর+আহূত)। বরাহূতগণ আমন্ত্রিত অতিথি। এদের উপলক্ষ্যে এবং এদের জন্যই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাই অনুষ্ঠানে এরা সম্মানিত, প্রত্যাশিত এবং বরণীয়।
রবাহূত: যারা অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান না, অনিমন্ত্রিত; কিন্তু রব, আওয়াজ, শোরগোল শুনে কিংবা লোকমুখে অনুষ্ঠানের খবর শুনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে চলে আসেন; অবাঞ্ছিতের মতো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তারা রবাহূত। প্রায় সব অনুষ্ঠানে এদের দেখা যায়। রবাহূতগণ অপ্রত্যাশিত না-হলেও অনিমন্ত্রিত, অবাঞ্ছিত, বিরক্তিকর এবং ক্ষেত্রবিশেষে গলগ্রহ ও উপদ্রব হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত রবাহূত (রব+আহূত) অর্থ— (বিশেষণে) লোকমুখে শুনে বিনা নিমন্ত্রণে আগত, অনিমন্ত্রিত আগন্তুক।
অনাহুত: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত অনাহুত (ন+আ+√হ্বে+ত) অর্থ— (বিশেষেণে) অনিমন্ত্রিত, রবাহূত। শব্দটির বানানে হু (হ্+উ) অপরিহার্য। এরা অপ্রত্যাশিতভাবে চল আসেন। অনাহুত শব্দের আর একটি ভুক্তি আছে। তবে ব্যুৎপত্তি ভিন্ন। সংস্কৃত রবাহুত (ন+আ+ √হু+ত) অর্থ— (বিশেষণে) আহুতি দেওয়া হয়নি এমন এবং (বিশেষ্যে) অপ্রদত্ত হোম।
অনাহুত বনাম বরাহূত বরাহূত এবং বিস্তারিত অন্যান্য বিষয় নিচের সংযোগে: https://draminbd.com/চেষ্টা-বনাম-প্রচেষ্টা-আহ/
 
 
 
 
 
 
 
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
 
 
 
 
— √
All Link: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-all-link/
 
৩. পোস্টের সংযোগ https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-3/

২. পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-2/

১. পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/

 
 
 
 
error: Content is protected !!