আমি শুবাচ থেকে বলছি: শুবাচির পোস্ট/যযাতি; মন্তব্য, প্রশ্ন উত্তর বিবিধ

ড. মোহাম্মদ আমীন

আমি শুবাচ থেকে বলছি: শুবাচির পোস্ট/যযাতি; মন্তব্য, প্রশ্ন উত্তর বিবিধ ১

এই পোস্টের সংযোগ — √
https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/
 
লগ্নক কী  
বাক্যের অন্তর্গত শব্দকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে সজ্জিত হয় তখন তাকে বলা হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার প্রকার। যথা: বিভক্তি, নির্দেশক, বচন এবং বলক।  
বিভক্তি
বিভক্তির সংজ্ঞার্থ ও প্রকার:
১.  বিভক্তি: বাক্যে ব্যবহৃত ‘শব্দ’গুলির গায়ে যে লগ্নক এসে জুড়ে পদে পরিণত করে সেগুলিকে সংস্কৃত ব্যাকরণে বলে ‘বিভক্তি’। অর্থাৎ,  যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ শব্দ ও ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের পদে পরিণত করে, সেই ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে বিভক্তি বলে। আধুনিক ব্যাকরণে ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে সেগুলো  বিভক্তি। যেমন: চল+লাম, কামাল+এর। এখানে লাম এবং এর হলো বিভক্তি।
বিভক্তি দুই প্রকার। যথা:
(১) ক্রিয়া বিভক্তি:  ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভক্তি। যেমন- ‘করলাম’, বললাম, খেলাম প্রভৃতি ক্রিয়াপদে সঙ্গে যুক্ত ‘লাম’ শব্দাংশ
(২) কারক বিভক্তি: বিশেষ্য ও সর্বনামে পদের সঙ্গে যুক্ত বিভক্তি।  ছেলের, বালকের, কামালের, কৃষকের প্রভৃতি পদের সঙ্গে যুক্ত ‘এর’ শব্দাংশ। প্রসঙ্গত, বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সম্পর্কের নাম কারক।
 
 
নির্দেশক কী ও এর ব্যবহার:
নির্দেশক: শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায় এমন লগ্নককে নির্দেশক বলে। অন্যভাবে বলা যায়: যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ শব্দ বা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বচন নির্দেশ করে  এবং তার  নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে তাকে নির্দেশক বলে। যেমন: -টা,-টি,-টুকু,-খানা,-খানি,-জন। নির্দেশক দুই প্রকার: পদাশ্রিত নির্দেশক ও শব্দাশ্রিত নির্দেশক। 
প্রয়োগ:
বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণপদে(টা,টি,টো,টে)-বাড়িটা,গাড়িটা,মেয়েটি,দিনটি,এটা,সেটা,দুটো,তিনটে ইত্যাদি।
মানুষের ক্ষেত্রে(জনযুক্ত): পণ্ডিতজন,বিজ্ঞজন একজন
অধিক সংখ্যা(জন পৃথকভাবে): পাঁচ জন, পঁচিশ জন
চলন্ত➤

নমস্কার

নমস্কার’ শব্দের অর্থ কী?” বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে সংস্কৃত নমস্কার (নমঃ+√কৃ+অ) অর্থ— (বিশেষ্যে) করজোড়ে কপাল ছুঁয়ে অভিবাদন, প্রণাম, সালাম।
নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম (নজরুল)।
 
কিম্ভূতকিমাকার (ড. মোহাম্মদ আমীন)
এর বাংলা আভিধানিক অর্থ বিকট, কুৎসিত, কদাকার বা অদ্ভূত। সংস্কৃতাগত বা সংস্কৃতরূপী শব্দ ‘কিম্ভূত’ ও ‘কিমাকার’ মিলে বাংলা ‘কিম্ভূতকিমাকার’ শব্দের গঠন। তবে ‘কিম্ভূত’ বা ‘কিমাকার’ শব্দের কোনটাতে বিকট বা কুৎসিত কিছু নেই। ‘কিম্ভূত’ সংস্কৃত ‘কিম ভূত’ হতে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে- কী প্রকার/ কীসের মতো/ কী ধরণের ইত্যাদি। অন্যদিকে কিমাকারের সংস্কৃত রূপ হল ‘কিম আকার’। এর অর্থ- কী তার আকার। অথচ বাংলায় শব্দ দুটি মিলিত হয়ে কেমন কদাকার হয়ে গেল। মনে হয়, ‘কিম্ভূত’ বা ‘কিম ভূত’ এর ভূত শব্দটা এ জন্য দায়ী। বাঙালিরা ভূতের ভয়ে এত তটস্থ থাকত যে, ‘কিম ভূত’ এর কী প্রকার অর্থটিকে শেষ পর্যন্ত ভূতের মতো অদ্ভুত বানিয়েই ছাড়ল।

পরিবহন না কি পরিবহণ

জ্যোতিভূষণচাকী বলেছেন, পরিবহন না পরিবহণ তার স্পষ্টত নির্ণায়ক সূত্র নেই। তা ঠিক নয়। নির্ণায়ক সূত্র আছে। প্র, পরা, পরি, নির্ প্রভৃতি উপসর্গের পর কিছু কিছু কৃৎ প্রত্যয়ের ন, ণ হয়ে যায়।

ণত্ববিধিমতে, প্রথমে ঋ ঋৃ র ষ-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য-ব-হ এবং অুনস্বারের ব্যবধান থাকে তাহলেও ন, ণ হয়ে যায়।পরিবহণ= প র্‌ ই ব্‌ অ হ্ অ্ ণ। এখানে ব্যবধান হলো ই ব্‌ অ হ্ অ্। তাই পরিবহন=পরি+√বহ্‌+অন।
অনুরূপ: পরিযাণ (পরি+ √যা+অন); নির্যান (নির্‌+√যা+অন), নির্মাণ (নির্+ √মা+অন); নির্বপণ (নির্+√বপ্+অন); নির্ণয় (নির্‌+ √নী+অ);পরিমাণ; প্রণত, প্রণতি, প্রণাম,প্রণম্য, প্রণয়ন, প্রণালি, প্রণীত, প্রণেতা, প্রণোদনা ইত্যাদি।
(প্রবহমাণ [প্র+বহ্+মান (শানচ)] (প্রচলিত প্রবহমান)]; ব্যাকরণিক গঠনমতে, প্রবহমাণ বানানে ণ আসার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ন। এরও কোনো যুক্তি পাওয়া যায় না। তাহলে পরিবহন বানানে ণ কেন?
যাই হোক, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে একমাত্র পরিবহণ(পরি+√বহ্‌+অন) বানানকে স্থান দেওয়া হয়েছে। ওই অভিধানে পরিবহন বানানের কোনো শব্দ নেই। পরিবহণ বানানই প্রমিত।

‘অক্ষর‘ এবং ‘বর্ণ’ এই দুটি শব্দের মধ্যে অর্থগত কোনো পার্থক্য আছে কি না?

ধ্বনি, বর্ণ, অক্ষর। ধ্বনি মুখনিঃসৃত; প্রত্যেক ভাষার ধ্বনির সংখ্যা নির্দিষ্ট। এক বা একাধিক ধ্বনির সংযোগে শ্রাব্য শব্দ গঠিত হয়। বর্ণ কি ধ্বনির চিত্ররূপ? না, সব ক্ষেত্রে একথা বলা যাবে না। উদাহরণ: (১) বাঙলা ‘বিসর্গ’ (অঃ, আঃ) একটি বর্ণের নাম, কোনো ধ্বনির নাম নয়। (২) ইংরিজি z (উচ্চারণ জেড, জি, ইজেড) বর্ণ যে-ধ্বনির দ্যোতক তা শুনতে অনেকটা ‘জ’-এর মতো। বস্তুত, সব ভাষাতেই বর্ণমালা হলো একগুচ্ছ বর্ণ বা চিত্রের সমাহার যা সে-ভাষার সামগ্রিক ধ্বনিমালাকে প্রকাশ করার শৈল্পিক কৌশল। সোজাসাপ্টা কথা হলো, একটি ভাষার বর্ণ সংখ্যা ও ধ্বনি সংখ্যা সমান নয়। ‘অক্ষর’ বাঙলা শব্দটিতে ৪টি ধ্বনি (অ, ক, খ, র) পাওয়া যাচ্ছে, বর্ণ‌ও ৪টি (অ, ক, ষ, র), কিন্তু অক্ষর ৩টি (অ/ক্ষ/র), মাত্রা ২ বা ৩টি (অক্+খর্) বা (অক্+খ+অর্)। এক নিঃশ্বাসে একত্রে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছকে অক্ষর বলে । যেমন- বাংলাদেশ ।(বাং +লা+দেশ) এখানে তিনটি অক্ষর , তিনটা স্বরধ্বনি(আ+আ+এ) । বর্ণ–( ব+আ+ং+ল+আ+দ+এ+শ) আটটি । *একটা শব্দে যতগুলো স্বরধ্বনি ততগুলো অক্ষর অর্থাৎ প্রত্যেকটা স্বরধ্বনি এক একটা অক্ষরের সৃষ্টি করে ।

সমার্থক শব্দের সমার্থকতার পরিধি
 
 
কোনো শব্দই অন্য কোনো শব্দের সঙ্গে সর্বত্র কিংবা পুরোপুরি এবং সর্বদা সমার্থক নয়, হতে পারে না—এমনকি জল পানি বারি প্রভৃতিও। অবিকল এবং সর্বত্র সমার্থকতা কখনো সম্ভব নয়, রীতিমতো প্রকৃতি বিরুদ্ধ। যদি একাধিক শব্দ পরস্পর অবিকল ও সর্বত্র সামগ্রিকভাবে সমার্থক হয় তো একাধিক শব্দের আবশ্যকতা অনাবশ্যক হয়ে যায়।
করিম ও রহিম যমজ। তারা একরকম। এর মানে এ নয় যে, তারা দুজন সবদিক দিয়ে সর্বত্র অভিন্ন। তারা আপাতদৃষ্টে যতই একরকম বা অভিন্ন হোক না, ভিন্ন দেহধারীর ব্যক্তির মতো ভিন্ন বানানধারী শব্দের প্রয়োগাচরণেও অবস্থা, দ্যোতনা, বাক্যভেদে কিছু না কিছু পার্থক্য থেকে যায়।
কোনো শব্দই অন্য কোনো শব্দের সঙ্গে সর্বত্র কিংবা পুরোপুরি এবং সর্বদা সমার্থক নয়, হতে পারে না—এমনকি জল পানি বারি প্রভৃতিও। অবিকল এবং সর্বত্র সমার্থকতা কখনো সম্ভব নয়, রীতিমতো প্রকৃতি বিরুদ্ধ। যদি একাধিক শব্দ পরস্পর অবিকল ও সর্বত্র সামগ্রিকভাবে সমার্থক হয় তো একাধিক শব্দের আবশ্যকতা অনাবশ্যক হয়ে যায়।
করিম ও রহিম যমজ। তারা একরকম। এর মানে এ নয় যে, তারা দুজন সবদিক দিয়ে সর্বত্র অভিন্ন। তারা আপাতদৃষ্টে যতই একরকম বা অভিন্ন হোক না, ভিন্ন দেহধারীর ব্যক্তির মতো ভিন্ন বানানধারী শব্দের প্রয়োগাচরণেও অবস্থা, দ্যোতনা, বাক্যভেদে কিছু না কিছু পার্থক্য থেকে যায়।
 
সম্মিলন বনাম সম্মেলন
 
সম্মিলন: সংস্কৃত সম্মিলন (সম+√মিল্‌+অন) অর্থ— (বিশেষ্যে) সম্যক মিলন, সংযোগ, অনেক লোকের একত্রে সমাবেশ, জনসমাবেশ, বিশেষ উদ্দেশ্যে বহু লোকের সমাবেশ, সম্মেলন, সাক্ষাৎকার।
প্রয়োগ: সম্মিলন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনগণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ল।
সম্মেলন: সংস্কৃত সম্মেলন (সম্‌+মেলন) অর্থ— (বিশেষ্যে) বিশেষ উপলক্ষ্যে অনেক লোকের সমাবেশ, সভা (সাংবাদিক সম্মেলন, সম্মিলন, সাহিত্য সম্মেলন), জনসংযোগ, জনসমাবেশ।
প্রয়োগ: সম্মেলন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনগণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ল।
অর্থগুলো বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান-সহ আরও কয়েকটি অভিধান থেকে গৃহীত। অভিধার্থে দেখা যায়— সম্মিলন ও সম্মেলন প্রায় সমার্থক।
একটা কথা মনে রাখা আবশ্যক, কোনো শব্দই পুরোপুরি সমার্থক নয় এবং হতে পারে না। করিম ও রহিম যমজ। তারা একরকম। এর মানে এ নয় যে, তারা দুজন অভিন্ন। যতই একরকম হোক ভিন্ন দেহধারীর ব্যক্তির মতো ভিন্ন বানানধারী শব্দের প্রয়োগাচরণেও কিছু না কিছু পার্থক্য থেকে যায়।
বাংলায় দুটি শব্দেরই প্রয়োগ আছে। শব্দ দুটি প্রায় সমার্থক ।পার্থক্যের মধ্যে এই যে সম্মেলন শব্দের প্রধান অর্থ সভা লোকসমাগম; meeting;conference, সম্মিলন শব্দের প্রধান অর্থ মিলন;সমন্বয়, সংযোগ, union. হরিচরণ সম্মেলন কে সংস্কৃত বলেছেন; সম্মিলন কে নয়। রবি ঠাকুর সম্মিলন শব্দটি চুটিয়ে ব্যবহার করেছেন; জনপ্রিয় করছেন। সূত্র: সুভাষ ভট্টাচার্য ।

অনুচর এবং সহচর অর্থ কী? এদের মধ্যে পার্থক্য জানাবেন। 

অনুচর: দাস, ভৃত্য; সহচর: সঙ্গী, সাথী। অনুচর আপনার অধীনে চলবে, সহচর আপনার সঙ্গে। অনুচর হচ্ছে অনুগমনকারী, সঙ্গী, ভৃত্য। সহচর হচ্ছে একত্রে বা সঙ্গে বিচরণকারী, সঙ্গী, সাথী, সখা, বন্ধু, সহকর্মী, অভিন্ন উদ্দেশ্যে অর্জনে নিয়োজিত সহকর্মী।
 
ঠিক এবং সঠিক এর মধ্যে পার্থক্য কি? 
বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাংলা ‘সঠিক’ শব্দের অর্থ নির্ভুল, প্রকৃত প্রভৃতি। সংস্কৃত ‘স্থিত’ শব্দ থেকে উদ্ভূত তৎসম ‘ঠিক’ শব্দের অর্থ সত্য, নির্ভুল, স্থিরকৃত, সম্পূর্ণ, হুবহু, প্রস্তুত, পরিপাটি প্রভৃতি। সুতরাং উভয় শব্দ সমার্থক। অনেকে মনে করেন (একসময় আমিও মনে করতাম), ‘সঠিক’ শব্দটি শুদ্ধ নয়; বাহুল্য এবং অপপ্রয়োগ। তাঁদের মতে, ‘সঠিক’ শব্দের ‘স’ একটি উপসর্গ। আসলে এ ধারণা সঠিক নয়। ‘ঠিক’ ও ‘সঠিক’ দুটি ভিন্ন শব্দ এবং সমার্থক। তাই শব্দ হিসেবে ‘সঠিক’ অবশ্যই ঠিক। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানেও ‘সঠিক’ শব্দটি প্রমিত হিসেবে পৃথক ভুক্তিতে স্থান পেয়েছে।
 
প্রবেশ আর অনুপ্রবেশ এর মধ্যে পার্থক্য কি?
অনুপ্রবেশ অর্থ: ভিতরে বা অন্তরে প্রবেশ; মর্মগ্রহণ। গোপনে বা অবৈধভাবে প্রবেশ। প্রবেশ অর্থ: ভিতরে গমন, ঢুকিবার ক্ষমতা বা অধিকার।
 
 
ধোয়া তুলসিপাতা- কথাটির অর্থ জানতে চাইছি।
ধোয়া তুলসীপাতা কথাটি ব্যাবহার হয় একেবারে খাঁটি বা নির্ভেজাল বুঝাতে।  হিন্দুধর্মে তুলসী গাছ পবিত্র হলেও ধর্মীয় মিথ অনুযায়ী তার  কিছু দোষ বা কলঙ্ক রয়েছে, যা ধুয়ে ফেললেই শেষ হয়ে যায় না। আর মানুষ সেটা থেকেই ধোয়া তুলসী পাতা বলে ব্যঙ্গ করে।
 
 
তুলসী: • তুল-এর শেষ যাহাতে, তাহার সক্রিয় আধার যে; অথবা, সকল তুলনার শেষ যাহাতে; অথবা, যাহার সহিত তুলনা করার ন্যায় আর কিছুই নাই। যাহাকে দেখিয়া আর্য্যগণ তাহার তুলনা দিতে অক্ষম হন। অতুলনীয়া, ‘বেনজির’, শঙ্খচূড় দানবের স্ত্রী, জলন্ধর-স্ত্রী; (সাদৃশ্যে) তুলসী গাছ।
‘সন্তুষ্ট ও সন্তুষ্টি, ব্যবহারের পার্থক্য কি?
সন্তুষ্ট বিশেষণ, সন্তুষ্টি বিশেষ্য।  তিনি আমার প্রতি #সন্তুষ্ট (বিশেষণ)।  আমি তার #সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই (বিশেষ্য)
 
 
ডাকসাইটে
বাংলা ডাকসাইটে অর্থ (বিশেষণে) দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, বিখ্যাত, প্রসিদ্ধ।   ডাকসিদ্ধ হতে ডাকসাইটে।  ডাকসিদ্ধ অর্থ (বিশেষণে) পিশাচ যার আজ্ঞাবহ; (বিশেষ্যে)  তন্ত্রবিদ্যায় সিদ্ধিপ্রাপ্ত ব্যক্তি; ডাকের বচনের শ্রষ্টা হিসেবে খ্যাত ডাক।  হিন্দু শাস্ত্রমতে ডাক বা পিশাচ শিবের আজ্ঞাবহ অনুচর। শিব প্রচণ্ড প্রতাপশালী ও ক্ষমতাবান। তাই শিবের পক্ষে ডাক বা পিশাচের মতো মহা ক্ষমতাধরকে  আজ্ঞাবহ অনুচরে পরিণত করে ডাকসিদ্ধ হওয়া সম্ভব হয়েছে।  আবার এমনও মনে করা হয় যে, প্রাচীন বাংলার খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী বচনকার ডাক পুরুষ নামে খ্যাত ডাক থেকে ডাকসাইটে কথাটির উদ্ভব। ডাক তৎকালে এমন খ্যতিমান ছিল যে, এক ডাকে বা এক নামে তাঁকে সবাই চিনত। তিনি তন্ত্রবিদ্যায়ও সিদ্ধিপ্রাপ্ত ছিলেন। কথিত হয়, খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত উত্তর ভারতে খনার বচনের চেয়েও ডাকের বচন অধিক জনপ্রিয় ছিল। ডাক ছিলেন একজন গোপ। স্বর্গধামে গমন করে স্বর্গ থেকে প্রয়োজনীয় উপদেশ এবং জ্ঞান নিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফেরত আসতেন বলে তাঁর নাম ‘ডাক পুরুষ’ যার অন্তর্নিহিত নাম ডাকসিদ্ধ পুরুষ।  মহাপ্রাজ্ঞ হিসেবে খ্যাত বচনকার ডাক যেমন ছিলেন পরিচিত তেমনি ছিলেন প্রতাপশালী।
এসব সূত্রে ডাকসিদ্ধ হতে উদ্ভূত ডাকসােইটে শব্দটি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী, বিখ্যাত, প্রসিদ্ধ প্রভৃতি অর্থ ধারণ করে। অধুনা শব্দটি দিয়ে প্রতাপ, প্রভাব, ক্ষমতা ও খ্যাতি প্রভৃতির বিস্তৃতি বুঝানো হয়। যেমন ডাকসাইটে লেখক, ডাকসাইটে খেলোয়াড়, ডাকসাইটে নেতা, ডাকসাইটে শিল্পী, ডাকসাইটে অভিনেতা,  ডাকসাইটে সুন্দরী প্রভৃতি।  
 
 
 
এই পোস্টের সংযোগ — √
https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/
 
 
 
@ এই চিহ্ন টার উচ্চারণ কি হবে?
At the rate of, At the rate বলা হয়। সাধারণ ও সহজভাবে বিশ্বব্যাপী  ‘at’। বাংলাদেশে At the rate বেশি প্রচলিত। বিশিষে করে ইমেইল ঠিকানায়।
 
‘চৌপর’ শব্দের অর্থটা কেউ বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ ..!?
চার প্রহর মানে পুরো দিন = ১২ ঘন্টা। কাপড় চোপড়।চৌ মানে চার,পর হলো প্রহর।দিন চার প্রহর,রাত চার প্রহর। মোট অষ্টপ্রহর। চব্বিশ ঘণ্টা।

লোকনিরুক্তি বা লোক-নিরুক্তি

অপরিচিতি বা ব্যুৎপত্তিগত বিস্মৃতির কারণে কিংবা প্রচলিত বিশ্বাস, জ্ঞান বা অনুমান বশত অনেক সময় মানুষ তার পরিচিত, প্রায়োগিক অর্থে সমতুল ও প্রায়-সমোচ্চারিত কোনো-কোনো শব্দের বানান বা উচ্চারণ পরিবর্তন করে অনুরূপ অর্থের নতুন শব্দ সৃষ্টি করে। এটি হচ্ছে লোকনিরুক্তি। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ জ্ঞান, বিশ্বাস, অনুমান, লোকশ্রুতি, প্রবীণদের মন্তব্য, অভিজ্ঞতা, সংস্কার, কুসংস্কার প্রভৃতির উপর নির্ভর করে মূল শব্দের যে ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে লোক-নিরুক্তি বলে। লোকনিরুক্তির ক্ষেত্রে আদি বানান ও পরিবর্তিত বানানের শব্দ বা শব্দগুচ্ছের বানান পরিবর্তিত হলেও অর্থ অভিন্ন থেকে যায়।
যেমন: ঊর্ণবাভ থেকে ঊর্ণনাভ, কালজার থেকে কালাজ্বর, টাকার কুবের থেকে টাকার কুমির, আর্ম চেয়ার থেকে আরাম কেদারা, বিস্ফোটক থেকে বিষফোড়া ইত্যাদি। সহজ কথায়, সাধারণ মানুষের ব্যবহার থেকে সৃষ্টি হওয়া শব্দকে লোকনিরুক্তি বলা যায়।
 
 
তড়াগ
উচ্চারণ: তড়াগ্; উৎস: তৎসম বা সংস্কৃত √তড়্‌+আক; অর্থ: দিঘি; গভীর জলাশয়; বৃহৎ পুষ্করিণী; উদাহরণ: “ডুবে গেছি বিস্মৃতির অতল তড়াগে”, মোহিতলাল মজুমদার। কলকাতার চৌরঙ্গির কাছে ময়দানে এক দিঘির নাম মনোহরদাস তড়াগ।
 
চেষ্টা বনাম প্রচেষ্টা
 
‘চেষ্টা’ ও ‘প্রচেষ্টা’ উভয় শব্দের অর্থ অভিন্ন হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কিছু তফাত আছে। ‘চেষ্টা’ অর্থ অভীষ্ট সাধনের নিমিত্ত যত্ন। যেমন :‘লক্ষ্যস্থলে পৌঁছতে আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব।’ এ বাক্য দ্বারা যত প্রকার উপায় আছে সব নিবেদিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ‘প্রচেষ্টা’ শব্দের অর্থ নিয়ন্ত্রিত বা সীমিত চেষ্টা বা এমন চেষ্টা যা প্রকৃত অর্থে পূর্ব হতে নির্ধারিত। প্রকৃত- চেষ্টা (নির্দিষ্ট) হচ্ছে প্রচেষ্টা। চেষ্টা বহুমুখী ও বিস্তৃত কিন্তু প্রচেষ্টার বিস্তার অপেক্ষাকৃত সীমিত। যেমন : ছেলেটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকের সব প্রচেষ্টা বিফলে গেল।’ এ বাক্য দ্বারা এটাই প্রকাশ করা হচ্ছে যে, একজন চিকিৎসক একটি শিশুকে নির্দিষ্ট রোগ হতে মুক্ত করার জন্য চিকিৎসা-বিজ্ঞানের যত কৌশল তার জ্ঞানের আয়ত্তে ছিল সবগুলো প্রয়োগ করেও ব্যর্থ হয়েছে।
যদি বাক্যটি এমন হতো : ‘মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচাতে পারল না।’ তাহলে শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞান বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসকের প্রচেষ্টা ছাড়াও মানুষ বাঁচার জন্য বা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঈশ্বর-মন্দির থেকে শুরু করে যে সকল প্রয়াস নিতে পারে সব বুঝানো
হয়েছে।
উপরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, চেষ্টা ও প্রচেষ্টার প্রয়োগে পার্থক্য
রয়েছে। বাক্য শব্দ-দুটোর প্রয়োগে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।
 
মাইকেলি ধাতু কী
 
ব্যাকরণের আলোচনায় বাংলা ধাতুগণের নির্দিষ্ট শ্রেণিভাগ রয়েছে। কর্, মার, মিটা, উঠ্, লিখ্, মুচড়া, চাহ্, খা, শু, হ প্রভৃতি সেসব ধাতুগণের কয়েকটি। এসব ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষ অনুসারে বিভক্তি (প্রত্যয়) যুক্ত করে বাক্যে ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাংলা ভাষায় এই নির্দিষ্ট ধাতুশ্রেণির বাইরে আরও একপ্রকার ধাতু রয়েছে, যা ‘মাইকেলি ধাতু’ নামে পরিচিত। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এধরনের ধাতুর ব্যবহার প্রচলন করেন বলে তাঁর নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। মাইকেলি ধাতু প্রকৃতপক্ষে কোনো ধাতু নয়, মূলত এগুলো কতিপয় বিশেষ্য ও বিশেষণ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত সেসব বিশেষ্য-বিশেষণের সঙ্গে ধাতুর অনুকরণে কাল ও পুরুষ অনুসারে বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে এধরনের শব্দ ‘মাইকেলি ধাতু’ তকমা পেয়ে গিয়েছে। পবিত্র থেকে পবিত্রি (পবিত্র করি), লক্ষ থেকে লক্ষি (লক্ষ করি/করে), উত্তর থেকে উত্তরিলা (উত্তর দিল/দিলো), ইচ্ছা থেকে ইচ্ছি (ইচ্ছে /করি/করে/হচ্ছে) প্রভৃতি এই শ্রেণিভাগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। নিম্নে মাইকেল মধুসূদন দত্তের “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” থেকে দুইটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করা হলো, যেখানে শব্দের এরূপ প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে—
১. ‘… উত্তরিলা কাতরে রাবণি;—
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে! …” ‘
২. ‘… উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে; …’
 
পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং দশসালা বন্দোবস্ত-এর অর্থ কী? ব্যাখ্যাসহ জানালে উপকৃত হব।
সাল শব্দটি ফারসি, এর অর্থ বছর। পাঁচসালা মানে পাঁচ বছর মেয়াদী, পঞ্চবার্ষিক। দশসালা মানে দশ বছর মেয়াদী, দশবার্ষিক।বন্দোবস্ত মানে ব্যবস্থা, আয়োজন। এ শব্দটি ফারসি, বন্দ-ও-বস্ত। বন্দোবস্ত বলতে এখানে শর্তাধীন চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা বোঝানো হচ্ছে বলে ধারণা করছি (উদাহরণ: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত)।
 
বৃটিশ আমলে সরকার থেকে জমি লিজ নিয়ে জমিদাররা প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতো। জমিদারদের কাছে জমির লাগিয়ত বাবদ টাকা বা খাজনা পরিশোধ করার মেয়াদ বা সময়সীমাগুলো ছিল, যথাক্রমে—
১. দশসালা বন্দোবস্ত (দশ বছর মেয়াদি)
 
২. পাঁচসালা বন্দোবস্ত (পাঁচ বছর মেয়াদি)।
 
৩. সূর্যাস্ত বন্দোবস্ত (এক বছর মেয়াদি) অর্থাৎ বাংলা চৈত্র মাসের শেষ তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আগে জমির লাগিয়ত পরিশোধ করতে হবে।
 
৪. সর্বশেষ লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে জমিদার প্রথার বিলুপ্তি ঘটে এবং জমির মালিকানা প্রজাদের কাছে আসে। এটাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে। আমার জানা মতে, এতটুকুই।
 
ভূজঙ্গ না কি ভুজঙ্গ 
ভূজঙ্গ নয়, ভুজঙ্গ। ভুজঙ্গ শব্দের ভূ বা ভূমির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আবার বাহুর অর্থ ভূজ নয়,ভুজ। ভুজ, অঙ্গ যার বা বাহুর সাহায্যে ভর দিয়ে চলে — এর কোনোটিই ঠিক নয়। এখানে ভুজ্ অর্র্থ  বক্রগতি এবং গ অর্থ গমন করা। অর্থাৎ ভুজগ বা ভুজঙ্গ =ভুজ্(বক্রাকৃতি) গমন করে যে। এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
 
টা, টি, গুলো এই ধরণের কথা কি শব্দের সাথে যুক্ত হবে? না কি আলাদা হবে?
 
 আলাদা হবে না। লেগে হবে। নির্দেশক প্রত্যয় সর্বদা সেঁটে বসে। যেমন:  জিনিসটা।  তোমার নামটি যেন কী বাবু?
 
 
বর্তমান অনুজ্ঞা ও ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের ব্যবহারে কিছু সাধারণ ভুল
বর্তমান অনুজ্ঞা ও ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের ব্যবহারে কিছু সাধারণ ভুল পরিলক্ষিত হয়।
বর্তমান অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের উদাহরণ: তুমি এখন যাও। আমাকে চিঠিটি দাও। তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদে লিখতে হয় ‘-য়ো’; ‘-ও’ হয় না।
শুদ্ধ প্রয়োগ:
এখন না; তুমি বিকালে যেয়ো। ভুল প্রয়োগ: এখন না; তুমি বিকালে যেও।
আমাকে প্রতি সপ্তাহে চিঠি দিয়ো কিন্তু। ভুল প্রয়োগ: আমাকে প্রতি সপ্তাহে চিঠি দিও কিন্তু।
বইটি পরে নিয়ো। ভুল প্রয়োগ: বইটি পরে নিও।
আচ্ছা আজ নয়; কাল যেয়ো। ভুল প্রয়োগ: আচ্ছা আজ নয়; কাল যেও।
একবারের বেশি বললে তবেই খেয়ো।ভুল প্রয়োগ: একবারের বেশি বললে তবেই খেও।
 
পুরোহিত শব্দের অর্থ কি?
পুরস্+হিত।
পুরস্ অর্থ সম্মুখে।হিত অর্থ মঙ্গল। অর্থাৎ সম্মুখে অবস্থান করে যিনি মঙ্গলকর্ম সম্পাদন করেন তিনিই পুরোহিত।এটি সংস্কৃত শব্দ।
পুরোহিত হবার জন্য প্রয়োজন সঠিক সংস্কার, বেদজ্ঞান,বিধান শাস্ত্রের জ্ঞান, পৌরহিত্যের জ্ঞান ও দক্ষতা।
পুরোহিত হচ্ছে সেই ব্যক্তি যাকে ধর্মকার্য সম্পাদনের জন্য যজমান সঠিক বরণ, স্বাগতম ও দক্ষিণার দ্বারা নিযুক্ত করেন।পুরোহিত সকলের অগ্রে উপস্থিত থেকে পূজার সংকল্পবদ্ধ সকল ব্যক্তির অভিলাষকৃত পূজা সম্পন্ন করেন।কোনো ব্যক্তি পূজার আয়োজন করলে তিনি নিজেও পুরোহিত হতে পারেন তবে তার জন্য সঠিক জ্ঞান আবশ্যক।বৈদিক শব্দানুসারে এঁনাদের যাজকও বলা হয়।
শব্দটিকে বর্তমানে নানা ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে।যেমন আমি একটি কাজ করার জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে পারি।তাদের দ্বায়িত্ব আমার সম্ভাষণের মর্যাদা দিয়ে আমার কাজ সম্পাদন করা এক্ষেত্রে এনাদেরও পুরোহিত বলা যাবে।তবে ধর্মীয় ব্যাপার অনেকেই যত্র তত্র এরূপ ব্যবহার ভালো চোখে দেখেন না। যিনি ঈশ্বরের কাছে পুরজনের হিত কামনা করে প্রার্থনা করেন তিনিই পুরোহিত।
 
যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা
নারি হল short form/কাব্যিক form of না পারি। যাকে দেখতে না পারি (অর্থাৎ পারি না) তার চলন সর্বদাই বাঁকা দেখি, সবেতে তার খুঁত দেখতে পাই। নারীজাতির সঙ্গে সম্পর্ক নেই। Similarly, নারে = না পারে
 
জুতো মেরে গোরু দান: প্রথমে অপমান করার পর সম্মান প্রদর্শন।
গোরু মেরে জুতো দান: অতি মূল্যবান কিছুর বিনিময়ে তুচ্ছ কিছু প্রদান। অন্যভাবে বলা যায়, সম্মানজনক কিছু প্রাপ্তির পরও অসম্মান প্রদর্শন।
 
বৈয়াকরণ ও বৈয়াকরণিক
 
বাক্যে বিশেষ্যে হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ব্যাকরণ (বি+আ+কৃ+অন) শব্দের সঙ্গে অ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে বৈয়াকরণ (ব্যাকরণ+অ)। প্রত্যয় যুক্ত হলে কখনো কখনো শব্দের আদিস্বরের বৃদ্ধি ঘটে।
তৎসম বৈয়াকরণ শব্দের অর্থ— (বিশেষণে) ব্যাকরণবিদ, ব্যাকরণ, ব্যাকরণসর্ম্পকীয় এবং (বিশেষ্যে) ব্যাকরণেপণ্ডিত। শুবাচের প্রধান উপদেষ্টা হায়াৎ মামুদ একজন বৈয়াকরণ)।
ব্যাকরণ শব্দের সঙ্গে একবার প্রত্যয় যুক্ত করে বিশেষণ পদ হিসেবে বৈয়াকরণ শব্দ গঠন করা হয়েছে। সুতরাং, বৈয়াকরণ শব্দকে বিশেষণ করার জন্য এর সঙ্গে পুনরায় ইক-প্রত্যয়যুক্ত করা বাহুল্য এবং দূষণীয়। এটি এক গলায় একসঙ্গে দুটো টাই পরার মতো হাস্যকর।
বৈয়াকরণ শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যাকরণবিদ লিখুন। বৈয়াকরণিক লিখেবেন না।
শুবাচের প্রধান উপদেষ্টা হায়াৎ মামুদ একজন বৈয়াকরণ।
শুবাচের প্রধান উপদেষ্টা হায়াৎ মামুদ একজন ব্যাকরণবিদ।

বাংলা ভাষা আান্দোলনের পথিকৃৎ

ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর রসিককৃষ্ণ মল্লিক (১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ। তিনি ছিলেন ভারতে আধুনিকতার পথিকৃৎ ডিরোজিওর ভাবশিষ্য। তিনি আদালতে ফারসি ভাষার পরিবর্তে বাংলা ভাষা প্রচলনের আন্দোলন শুরু করেন। রসিককৃষ্ণ মল্লিকের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে ফারসির পরিবর্তে আদালতের ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ হিসেবে তিনি বাংলাভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ।
ধুসর বানানে ‘ষ’ হয় না কেন?
ষ-ত্ব বিধানে বলা আছে, ই/উ-কারান্তের পরে ‘ষ’ হয়। যেমন – দুষ্কর/পুষ্প/ কিষাণ। ধূসর= ধূ+সর। কিন্তু ধুসর বানানে ষ হয় না। কারণ, এটি যূথবদ্ধ। সর একটি পৃথক শব্দ। তাই সর বানানের স পরিবর্তন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অ আ ভিন্ন স্বর, ক্ এবং র্ -এর পরবর্তী বিভক্তি বা প্রত্যয়ের স, মূর্ধন্য-ষ হয়। শব্দের স সাধারণ ষ-ত্বে পরিবর্তন হয় না।
 
স্বভাব-কবি
স্বভাব-কবি (বিশেষ্য পদ) কবিত্ব শক্তি যাঁর জন্মগত এবং স্বতঃস্ফূর্ত, যে কবি প্রধানতঃ নিসর্গ-শোভা বর্ণনা করেন। বাঙালিরা নাকি স্বভাব কবি এমন কথাও বলা হয়।
 
কপোত+অক্ষি= কপোতাক্ষ; তাহলে ময়ূর+অক্ষি= ময়ূরাক্ষ না হয়ে, ময়ূরাক্ষি হলো কীভাবে?
দেখুন,  (কপোত+ অক্ষি) নয়; বরং কপোত+ অক্ষ= কপোতাক্ষ। কপোত+অক্ষ= কপোতাক্ষ; ময়ূর+অক্ষি = ময়ূরাক্ষি। অক্ষ এবং অক্ষি দুটোর অর্থই চোখ। অক্ষআঁখ /অক্ষি- আঁখি। যেমন চক্ষুচোখ।
 
সচরাচর
 সংস্কৃত চরাচর  শব্দের অর্থ যা চলে এবং যা চলে না, জঙ্গম ও স্থাবর সমস্ত কিছু। পৃথিবী, বিশ্ব, জগৎ অর্থে শব্দটি বিশেষ্য। সমস্ত জগৎ অর্থে শব্দটি বিশেষণ। শব্দটি বাংলায় ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। যেমন: এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। দিনটিকে আমরা সচরাচর নববর্ষ নামে চিহ্নিত করে থাকি। উভয় বাক্যে সচরাচর শব্দের অর্থ সাধারণত, প্রধানত, প্রায়শ ইত্যাদি। সংস্কৃত সচরাচর শব্দটির গঠনে চরাচর শব্দটি বিদ্যমান। সংস্কৃত চরাচর শব্দটির গঠন চর্ + অ + অচর। চর্ ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ চরা শব্দের সৃষ্টি। অর্থ যা কিছু চলে। অচর চর্ ধাতুর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
 
 
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
 
 
 
 
— √
All Link: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-all-link/
৪. পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-4/
 
৩. পোস্টের সংযোগ https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-3/

২. পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ-2/

১. পোস্টের সংযোগ: https://draminbd.com/আমি-শুবাচ-থেকে-বলছি-শুবাচ/

 
error: Content is protected !!