আর্ষপ্রয়োগ

ড. মোহাম্মদ আমীন

আর্ষপ্রয়োগ

পড়শি সোনা মিয়ার কাছ থেকে শোনা একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। রবীন্দ্রনাথ কোনও একটা গান বা কবিতায় লিখেছিলেন, ‘বনবেতসের বাঁশিতে’ বা  এ রকম একটা লাইন। যাতে ‘বনবেতসের বাঁশিতে’ কথাটি  ছিল। চারুচন্দ্র চমকে উঠে বলেছিলেন, “গুরুদেব, বেতস তো বাঁশ নয়, বেত। ও দিয়ে তো বাঁশি

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

তৈরি হয় না।” গুরুদেব একটু ভেবে শব্দটি কাটতে গিয়েও হাত গুটিয়ে নিয়ে বলেছিলেন, “আজ থেকে বেতসের বিকল্প অর্থ বেত হবে, আর্ষপ্রয়োগ ধরে নাও।” কী বুঝলেন পাঠক? যে যেখানে পেরেছে সেখানে স্বেচ্ছাচার চালিয়েছে বাংলার ওপর, বাংলা ভাষার ওপর, স্বেচ্ছাচারী হয়েছে নির্বিচারে। রবীন্দ্রনাথের মতো গুণী যদি এমন হন তো অন্যদের আচরণ কী হতে পারে বলাই বাহুল্য।

আর্ষ মানে ঋষির উক্তি। পণ্ডিত ও খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকগণও ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ অনেক শব্দ অনেক সময় তাঁদের সাহিত্যকর্মে বসিয়ে দেন। ভুল বা অসাবধানতা ছাড়াও ছন্দ-মেলানো, উপযুক্ত ও লাগসই শব্দভান্ডারের অপর্যাপ্ত আয়ত্ত এমন ভুল প্রয়োগের আড়ালে কলকাঠি নাড়ে। যদিও এগুলো ভুল তবু লেখকের আকাশচুম্বী খ্যাতির কারণে অশুদ্ধ বা ভুল বাতিল করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। প্রধানমন্ত্রীর ভুল কী মন্ত্রীরা ধরিয়ে দেন? না, বরং সানন্দে মেনে নেন। কালক্রমে অভিধানেও দোকানের মতো শব্দগুলো স্থান করে নেয়। শুধু তাই নয় বৈয়াকরণগণও এসব অশুদ্ধ শব্দকে ‘আর্ষপ্রয়োগ’ প্রত্যয়ের আড়ালে মেনে নিতে বাধ্য হন। কারণ কবিসাহিত্যিকগণের জনপ্রিয়তার কাছে অখ্যাত বৈয়কারণগণ অসহায়। তাছাড়া অভিধান তো শব্দের দোকানমাত্র। এখানে জনগণ যা চাইবে তা-ই ভালোমন্দনির্বিশেষে রাখাই সংগত।আর্ষগণের ভুলের এমন প্রয়োগকে বলা হয় আর্ষপ্রয়োগ।
বাসায় রবীন্দ্রসংগীত শুনছিলাম। ইন্দ্রাণী সেন মনের মাধুরী মিশিয়ে গাইছেন- ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে…। তবলার রেওয়াজ থামিয়ে আবীর সুর করে গেয়ে উঠে : ভেঙে মোর ঘরের চাবি কেমনে নিবি নে আমারে, ও বন্ধু আমার; এ তোমার বড় জ্বালা ভাঙতে হবে ওই যে তালা।
কী আবোল-তাবোল বলছ। ধমকে একটুও কুণ্ঠিত না-হয়ে বলল : চাবি ভেঙে কীভাবে নিয়ে যাবে? নিতে হলে তো তালাই ভাঙতে হবে। বুঝতে না পেরে বললাম : কোথায় তালাচাবি?
তোমার রবীন্দ্রসংগীতে। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে। চাবি ভেঙে কোনও কিছু নেওয়া যায় না। কিছু নিতে হলে তালা ভেঙে নিতে হয়। কিছুদিন আগে স্টোর রুমের তালাটা খোলার সময় চাবিটা ভেঙে গিয়েছিল। জিনিস নিতে পেরেছিল? মায়ের বকুনিটা কি মনে নেই? ইমরানকে দিয়ে তালা খুলে স্টোর রুমে ঢুকতে হয়েছিল।
মনে পড়ে?
‘অশ্রুজল’ ‘পূজারিণী’, ‘সঞ্চয়িতা’ প্রভৃতি শব্দ ব্যাকরণের নিয়মানুসারে অশুদ্ধ কিন্তু রবীন্দ্রনাথ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন। তাই এগুলো আর্ষপ্রয়োগ। ‘কাবুলিওয়ালা’ শব্দটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট হলেও রবীন্দ্রনাথও এমন  করতে সংকোচ করেননি। রবীন্দ্রনাথের দেখাদেখি আমরাও করি। বাবা যা করেছেন আমরাও তা করব। শরৎচন্দ্রের ‘অভাগী’ শব্দও অশুদ্ধ। শব্দগুলো আর্ষপ্রয়োগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তবে একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, প্রচলিত

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

সব অশুদ্ধ শব্দ কিন্তু আর্ষপ্রয়োগ নয়। ঋষি বা খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের ব্যবহৃত অশুদ্ধ শব্দ সাধারণ্যে বহুলভাবে প্রচলিত হওয়ার কারণে বৈয়াকরণগণ স্বীকৃতি দিলেই কেবল কোনো শব্দকে আর্ষপ্রয়োগ বলা যায়। অনেকে আর্ষপ্রয়োগের দোহাই দিয়ে ভুল শব্দ প্রচলনের অপচেষ্টার মাধ্যমে ঋষি হওয়ার অপপ্রয়াস চালিয়ে থাকেন। কিন্তু ঋষি হওয়া যে সহজ নয়, এটা অনেকে ভুলে যান।
অশ্রু একটি ঋষিপ্রিয় আর্ষপ্রয়োগ। শব্দটি বেদ গ্রন্থেও রয়েছে। এর আদি অর্থ ‘যা ব্যাপ্ত করে’। মধ্যযুগে ‘অশ্রু’ ‘অঝরু’ বা ‘অঝোর’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যোগেশচন্দ্র রায় লিখেছেন, ‘কৃত্তিবাস, চণ্ডীদাস প্রমুখ প্রাচীন কবির প্রিয় শব্দ ছিল অঝরু ও অঝোর। চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে রয়েছে ‘অঝোর নয়নে সবে করেন ক্রন্দন’। এখনও অশ্রু একটি পরিচিত শব্দ। হিন্দিতে অশ্রু সমতুল শব্দ আঁসু। অশ্রু শব্দের অর্থ চোখের জল। সুতরাং অশ্রু শব্দের সঙ্গে পুনরায় জল শব্দের ব্যবহার সমীচীন নয়। তবে ভুল হাস্যকর হোক বা যাই হোক, আর্ষদের হাতে পড়লে আর্ষপ্রয়োগই হয়ে যায়। বাংলা একাডেমির অভিধানেও ‘অশ্রুজল’ শব্দকে সংগতকারণে অশুদ্ধ বলা হয়েছে।

কথিত হয়, বিহারীলাল চক্রবর্তী ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যে ‘প্রফুল্ল কপোল বহি বহে অশ্রুজল’ লিখে এ বিতর্কিত শব্দটির জন্ম দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ বিহারীলালের ভুল শব্দটিকে গদ্য-পদ্যে এমনভাবে ঠাঁই দিয়েছেন, কেউ আর শব্দটার বিরোধিতা বা ভুল ধরার সাহস পাননি। এতে উৎসাহিত হয়ে শরৎচন্দ্রও শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ শুধু ‘অশ্রুজল’ ব্যবহার করে থেমে থাকেননি, অশ্রুবারি ও অশ্রুসলিল শব্দ দুটোও তাঁর লেখায় দেখা যায়। তারপরও অনেকে ‘অশ্রুজল’ শব্দটিকে অশুদ্ধ দাবি করেন। অশ্রু অর্থ চোখের জল। ‘বৃষ্টি’ অর্থ যেমন মেঘের জল। তবে বৃষ্টির জলকে কেউ অশুদ্ধ না-বললেও বৃষ্টিজল কেউ ব্যবহার করেননি। শব্দদ্বিত্বের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই যেখানে ‘শব্দতত্ত্ব’ ও ‘বাংলাভাষা পরিচয়’ গ্রন্থে সোচ্চার

ড. মোহাম্মদ আমীন

হয়েছেন সেখানে অশ্রুজল ব্যবহার তাঁর সাংঘর্ষিক মনোভাবের পরিচয় বইকি। রবীন্দ্রনাথের এ ভুলকে পুঁজি করে অনেকে দিব্যি লিখে যাচ্ছেন ‘অশ্রুজল’ স্বেদবারি, অশ্রুবারি, আঁখিবারি, শিশির-সলিল, সচল, সঠিক, সকরুণ, সকাতর প্রভৃতি শব্দ। সৈয়দ মুজতবা আলী গুরুর আর্ষপ্রয়োগে উৎসাহিত হয়ে ‘কত না অশ্রুজল’ নামের একটি প্রবন্ধই লিখে গেছেন। এগুলো আর্ষপ্রয়োগের প্রতিক্রিয়া। তাই বানান ও শব্দচয়নে ঋষিদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

অবশ্য এটা ঠিক যে, শব্দের গঠন সব সময় ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত হয় না। এ কারণে আর্ষপ্রয়োগ, নিপাতনে সিদ্ধ ইত্যাদি বাগ্‌ভঙ্গি ব্যাকরণে চালু রয়েছে। তাই বলে ভুল শব্দ ব্যবহার করতে হবে এমন না। যদি শব্দ নতুন বানাতে হয় তা হলে তা ব্যাকরণ রীতি অনুসারে শুদ্ধ হয় এমনভাবেও বানানো যায়, যদি প্রতিভা থাকে। আর চিন্তাহরণ চক্রবর্তী শব্দগুলোকে বলেছেন, ‘আতিশয্যবাচক স্বতন্ত্র শব্দ’।

আমাদের দেশে রাজনীতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা রাজনীতির ক্ষেত্রে, প্রাশাসনিকভাবে ক্ষমতাধরগণ প্রশাসনে এবং সাহিত্যে ক্ষমতাসম্পন্ন লেখকগণ সাহিত্যের উপর স্বেচ্ছাচার বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায়; আমরা কিছু বলি না। ভদ্র বলে কিছু বলি না, না কি মেরুদণ্ডহীন কিংবা অজ্ঞ বলে? কারণ অসৎ লোকরা একতাবদ্ধ, তাদের সাধারণ লক্ষ্য আছে। সৎ লোকরা একতাবদ্ধ নয় কারণ তাদের সাধারণ উদ্দেশ্য নেই-কেউ সৎ ধর্মীয় কারণে, কেউ বা রুচির কারণে, কেউ ভয়ের কারণে আর কেউ সুযোগের অভাবে সৎ থাকার চেষ্টা করে, আসলে ভান করে।
আর্ষপ্রয়োগ ছাড়াও আরও নানা ধরনের ভুল দেখা যায় খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের লেখায়, যদিও তারা অন্যকে ওই রকম লিখতে নিষিদ্ধ করেন। উদাহরণ দিই একটা :
“আমরা সবাই মিলে বনভোজন করতে যাব।” গৃহশিক্ষক বাক্যটি কেটে দিয়েছে। মনির বলল, স্যার আমার ভুল হয়েছে কোথায়? শিক্ষক বললেন, তুমি একই সঙ্গে একই বিশেষ্যের জন্য দুটো বহুবচন ব্যবহার করেছ।
কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তো অমন করেছে। আমি গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গান থেকে নিয়েছি।
শিক্ষক বললেন : রবীন্দ্রনাথ এমন করতেই পারেন না।
মনির বলল, আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে…।
এটা আর্ষপ্রয়োগ।
আমি এক্ষুনি বাহিরব, তাই উঠে দাঁড়াইলাম’-এ বাক্যটাও আপনি কেটে দিয়েছেন।
সাধুচলিত মিশ্রণ দূষণীয়। তুমি সাধুর সঙ্গে চণ্ডালকে মিশিয়ে গুরুচণ্ডালী দোষ করেছ। আর বাহিরিব এমন বিদঘুটে শব্দই বা কোথায় পেলে?
আমি ভুল করিনি স্যার।
বাহিরিব মানে কী?
বাহির হইব।
এ রকম বিদঘুটে বাংলা তোমাকে কে শিখিয়েছে?

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সংক্ষেপে রবি ঠাকুর ওরফে সূর্য ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ লিখলে দীর্ঘ ঈ-কার, সংক্ষেপে রবি।
তাঁকে কোথায় পেলে?
সূর্য তো সর্বত্র বিদ্যমান। স্যার, আপনার প্রিয় গান ‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে বনের পাখি ছিল বনে’ গানের পঞ্চম ও ষষ্ঠ লাইন গাইব?
গাও।
“বনের পাখি বলে, না, আমি শিকলে ধরা নাহি দিব/খাঁচার পাখি বলে, হায়, আমি কেমনে বাহিরিব”।
শিক্ষক : রবি ঠাকুর ছন্দ মেলানোর জন্য করেছেন।
এ জন্যই তো আলোকে আলা বানিয়ে ছেড়েছেন। “কাঁপে আমার দিবানিশির সকল আঁধার আলা! নিত্য রবে প্রাণ-পোড়ানো গানের আগুন জ্বালা। হাস্যকর অর্থ, হাস্যকর বাণী। ছন্দ মেলানোর জন্য বাংলা ভাষার উপর রবীন্দ্রনাথের মতো এত বেশি অত্যাচার আর কেউ করেননি।
তবু তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
নোবেল প্রাইজ ইংরেজি অনুবাদের উপর পেয়েছেন। যারা পুরস্কার কমিটিতে ছিলেন তাঁরা বাংলা জানলে রবীন্দ্রনাথ মজাটা বুঝতেন।
কিন্তু তুমি সাধুচলিত মিশ্রণ করেছ কেন?
রবীন্দ্রনাথ হতে চাই আমি।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন : আমরা সবাই রাজা আমাদের এ রাজার রাজত্বে।
আর কোথাও তিনি সাধু চলিত মিশ্রণ করেননি।
ভাবিতেছিলাম উঠি কি না উঠি/ অন্ধ তোমার গেছে কি না ছুটি। লাইন দুটো রবীন্দ্রনাথের সুপ্রভাত কবিতার। এখানেও সাধু চলিত মিশ্রণ আছেÑ এটাও গুরুচণ্ডালী। আর একটা বলব?
বল।
তুমি পড়িতেছ হেসে, তরঙ্গের মতো এসে, হৃদয়ে আমার। আরও বলব স্যার।
বল।
‘আকাশে তো আমি রাখি নাই , মোর
উড়িবার ইতিহাস তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস। আরও বলব স্যার।
না।
বিখ্যাতরা দু একটা ভুল করতে পারেন। করতেই পারেন।
যদি বেশি করেন?
তা উচিত হবে না।
ছেলে তার শিক্ষক বাবার কাছে জানতে চাইল : পাকিস্তানের অধিবাসীদের কী বলা হয়?
পাকিস্তানি।
কাবুলের অধিবাসীদের কী বলা হবে?
কাবুলি।
হয়নি। কাবুলের অধিবাসীদের বলা হয় কাবুলিওয়ালা।
চুপ, এমন আজেবাজে বাক্য বলবে না। তোমার আম্মুকে বলে দেব।
রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্প পড়েননি স্যার?। রহমত কাবুলের লোক। তাই রবিঠাকুর তাকে কাবুলিওয়ালা বলেছেন।
তিনি বলতে পারবেন। কারণ তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
তা হলে আমিও করব। আমিও নোবেল পুরষ্কার পেতে চাই।
করতে পার কিন্তু তার আগে নোবেল পুরস্কার পেয়ে নাও।
নোবেল পুরস্কার আগে নাকি কাবুলিওয়ালা আগে? আচ্ছা বাবা, নোবেল পুরস্কার পেলে কী ভাষা নিয়ে, ব্যাকরণ নিয়ে যা ইচ্ছে তা করা যায়?
রাজনীতিকভাবে ক্ষমতাধর ব্যক্তি যদি রাজনীতিতে যা ইচ্ছে তা করতে পারেন, প্রশাসনে ক্ষমতাধর ব্যক্তি যদি প্রাশাসনিক ক্ষেত্রে যা খুশি তা করতে পারেন তা হলে সাহিত্যের ক্ষমতাধর রবীন্দ্রনাথ কেন করতে পারবেন না?
বুঝেঝি।
কী বুঝেছ?
সব শিয়ালের একই রা।

সূত্র: বাংলা ভাষার মজা, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সলি.


শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
—————————————————–
————————————————————
error: Content is protected !!