আশ্রম চতুরাশ্রম: ব্রহ্মচর্য গার্হস্থ্য বানপ্রস্থ সন্ন্যাস: স্নাতক সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েশন কনভোকেশন

ড. মোহাম্মদ আমীন

আশ্রম চতুরাশ্রম: ব্রহ্মচর্য গার্হস্থ্য বানপ্রস্থ সন্ন্যাস: স্নাতক সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েশন কনভোকেশন

এই পোস্টের লিংক: https://draminbd.com/আশ্রম-চতুরাশ্রম-ব্রহ্মচ/ 

আশ্রম: আশ্রম: আশ্রম হলো হিন্দুশাস্ত্রানুযায়ী নির্ধারিত মানবজীবনের চারটি স্তর। যথা: ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। ‘আশ্রম’ শব্দের আরও ব্যাপক অর্থ ছিল। যেমন, ‘আশ্রম’ শব্দের অন্য একটি বহুল প্রচলিত সাধারণ অর্থ: সংসার-ত্যাগীদের আবাসস্থল, সাধনা বা শাস্ত্রচর্চার কেন্দ্র। মুনি-ঋষিরা সেখানে সপরিবার বসবাস করতেন সেটিও আশ্রম। প্রাচীন ভারতের এমন আশ্রমভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাণিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন প্রথম বিদ্যাশ্রম প্রথম শুরু করেছিলেন।
 
ব্রহ্মচর্য আশ্রম: উপনয়নকৃত শিশু-বালক নিয়মনিষ্ঠ হয়ে গুরুগৃহে গিয়ে সেখানে অবস্থানপূর্বক বেদ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করত। এই অধ্যয়ন কালকে বলা হতো ব্রহ্মচর্য
 
গার্হস্থ্য আশ্রম: অধ্যয়ন সমাপ্ত হলে গুরুর আদেশ অনুযায়ী গার্হস্থ্যশ্রম শুরু হতো। বিবাহ, সন্তান উৎপাদন, পরিজনপোষণ, পালন, সামাজিকতা ইত্যাদি ছিল গার্হস্থ্য আশ্রমের কর্তব্য।
 
বানপ্রস্থ আশ্রম: পরিণত বয়সে গার্হস্থ্যবিষয়ক কর্তব্য সমাপন ও পৌত্রমুখ দর্শনের পর স্ত্রীকে পুত্রের কাছে রেখে কিংবা সঙ্গে নিয়ে বনে গিয়ে ঈশ্বরচিন্তা করার নাম বানপ্রস্থ। বানপ্রস্থকালে পূজার্চনা ছাড়া অতিথিসেবা, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদি কর্তব্য পালন করা হতো।
 
সন্ন্যাস আশ্রম: বয়স সত্তরে উপনীত হলে সবকিছু ত্যাগ করে কেবল ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন হওয়ার নাম সন্ন্যাস। এ সময়কে সন্ন্যাস আশ্রম বলা হয়। এই আশ্রমের কর্তব্য কেবল নির্জনে বসে ঈশ্বরচিন্তা করা।
 
চতুরাশ্রম: বর্ণিত চারটি স্তর বা আশ্রমকে একত্রে চতুরাশ্রম বলা হয়। চতুরাশ্রমের মধ্যে গার্হস্থ্যশ্রমকেই শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। কারণ ভিক্ষাজীবী, ব্রহ্মচারী সন্ন্যাসী সকলেই গৃহস্থের ওপর নির্ভরশীল। চতুরাশ্রমের মধ্যে গার্হস্থ্যশ্রমকেই শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। কারণ ভিক্ষাজীবী, ব্রহ্মচারী সন্ন্যাসী সকলেই গৃহস্থের ওপর নির্ভরশীল। গৃহস্থ তর্পণ দ্বারা পিতৃগণের, যজ্ঞ দ্বারা দেবগণের, অন্ন দ্বারা অতিথিগণের, বেদাধ্যয়ন দ্বারা মুনিগণের, অপত্যোৎপাদন দ্বারা প্রজাপতির, বলিকর্ম বা আনুষ্ঠানিক ভোজ্যদ্রব্য দান দ্বারা প্রাণিগণের এবং বাৎসল্য দ্বারা সমস্ত জগতের সন্তোষ বিধান করে থাকে। একমাত্র ব্রাহ্মণই চারটি আশ্রমের অধিকারী। ক্ষত্রিয় ও  বৈশ্য প্রথম তিনটিতে (মতান্তরে প্রথম দুটিতে) এবং  শূদ্র কেবল গার্হস্থ্যশ্রমের অধিকারী।
 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ধর্মকর্ম হিসেবে ব্যবহৃত আশ্রম:  ‘আশ্রম’ শব্দের আরও ব্যাপক অর্থ ছিল। যেমন, ‘আশ্রম’  শব্দের অন্য একটি বহুল প্রচলিত সাধারণ অর্থ: সংসার-ত্যাগীদের আবাসস্থল, সাধনা বা শাস্ত্রচর্চার কেন্দ্র। মুনি-ঋষিরা সেখানে সপরিবার বসবাস করতেন সেটিও আশ্রম। আশ্রমগুলো তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে এক বা একাধিক গুরু থাকতেন। তাঁরা ছাত্রদের রাজনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, শাস্ত্র, সাহিত্য, ব্যাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দিতেন।  নির্দিষ্ট একটি বয়সে পিতা-মাতা সন্তানদের আশ্রমে পাঠিয়ে দিতেন। তারা সেখানে অবস্থান করে লেখাপড়া শিখত।
 
স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েশন:  বিদ্যার্জন শেষ হলে অধীতীদের বিশেষ পদ্ধতিতে স্নান করানো হতো। স্নান সেরে আসার পর গুরুকে প্রণাম করত। গুরু তাদের আশীর্বাদ করে অধীত বিদ্যা যথার্থভাবে কাজে লাগানোর উপদেশ দিতেন। ছাত্রদের এ বিশেষ দিনে বিশেষ উদ্দেশ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে স্নান করে আসার পর তাদের বলা হতো স্নাতক। বর্তমানে স্নাতক হচ্ছে ইংরেজি Graduation শব্দের পরিভাষা।   
 
সমাবর্তন বা কনভোকেশন: স্নান শেষ হওয়ার পর অধীতীদের বিদায়ের পূর্বে  বিশেষ আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হতো। এই অনুষ্ঠানের নাম ছিল সমাবর্তন। যা ইংরেজি Convocation শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ।

প্রাচীন ভারতের এমন আশ্রমভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাণিত হয়ে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন প্রথম বিদ্যাশ্রম প্রথম শুরু করেছিলেন।  

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
 
 
 
 
 
error: Content is protected !!