আস্ত-ত আর খণ্ড-ৎ

ড. মোহাম্মদ  আমীন
বাংলা বর্ণমালায় ‘খণ্ড-ৎ’ ও ‘আস্ত-ত’ ভিন্ন বর্ণ হিসেবে দেখানো হলেও ‘খণ্ড-ৎ’ প্রকৃতপক্ষে ‘ত’-এর খণ্ডিত রূপ। খণ্ড-ৎ সাধারণত শব্দের আগে বসে না, মধ্যে বা শেষে বসে। তবে কিছু বিদেশি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে শব্দের শুরুতে ‘খণ্ডৎ’-এর ব্যবহার দেখা যায়। যেমন : ৎসাহাস (একজন জার্মান লেখক)।
‘খণ্ড-ৎ’ বর্ণের সঙ্গে স্বরচিহ্ন অর্থাৎ /অ আ ই ঈ উ ঊ এ ঐ ও ঔ/ যুক্ত হয় না। তাই খণ্ডৎ এর উচ্চারণ হলন্ত। তবে খণ্ড-ৎ এর সাথে রেফ্ যুক্ত হতে দেখা যায়। যেমন: ভর্ৎসনা।
কোনো শব্দে ‘খণ্ড-ৎ’ না কি ‘আস্ত-ত’ বসবে সে বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হলে এবং কোনো অভিধান দেখারও সুযোগ না থাকলে খণ্ড-ৎ না বসিয়ে ‘আস্ত-ত’ বসালে ভুলের আশঙ্কা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। বিদেশি শব্দের বেলায় আস্ত-ত/ ও /খণ্ড-ৎ/ এর ব্যবহার এককালে সমভাবে প্রয়োগ করা হতো। প্রমিত বানানে বিদেশি শব্দে ‘আস্ত-ত’ ব্যবহার করা হয়। যেমন : মতলব, হিম্মত, ইজ্জত, কেয়ামত, তফাত, জিয়ারত, হযরত, দস্তখত, বহুত প্রভৃতি।

আইকন

আইকন শব্দটি অধুনা বেশ জনপ্রিয়। নানাজন নানাজনকে নানাভাবে আইকন বলে অভিহিত করেন। শব্দটি গ্রিক eikon থেকে উদ্ভূত।যার অর্থ ছিল পছন্দনীয়, বিখ্যাত, ভাবমূর্তি, প্রতিমূর্তি, উপমা, রূপক, প্রতিকৃতি, মূর্ত; ইংরেজিতে image, likeness, portrait। গ্রিক eikon লাতিনে গিয়ে হলো icon। তবে অর্থ পরিবর্তন করেনি। এখন আইকন বিশ্বশব্দের একটি। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশে পরিচিত।
শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
error: Content is protected !!