ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা সমগ্র/৩

ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা/২১

লিনচ: Lynch, Lynching শব্দের উদ্ভব: গণপিটুনি

Lynch শব্দের অর্থ আইনানুযায়ী বিচার না-করে কাউকে হত্যা করা, বিনা বিচারে প্রাণে মারা, জনতার রায়ে দোষীসাব্যস্ত করে কাউকে মৃত্যুদণ্ড বা অন্যকোনো শাস্তি প্রদান, হুজুগে বিচার, বিনা বিচারে

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

জনসাধারণ দ্বারা কাউকে শাস্তিপ্রদান বা হত্যা, গণপিটুনি, গুজবের ওপর ভিত্তি করে কাউকে হত্যা বা অন্যবিধ শাস্তি প্রদান। বিনা বিচারে  এরূপ শাস্তি প্রদানকারীদের আইনকে Lynching Law বলা হয়। যেখানে অনুরূপ বিচার করা হয় তাকে Lynching Court বলা হয়। এরূপ বিচার রাস্তাঘাট কিংবা অন্য যে-কোনোস্থানে যে কারো দ্বারা সংঘটিত হতে পারে।   কর্নেল চার্লস লিন‌চ (Judge Colonel Charles Lynch) নামের জনৈক আমেরিকান বিপ্লবীর নাম থেকে Lynch, Lynching Law ও Lynching court শব্দসমূহের উদ্ভব।  এখন দেখা যাক চার্লস লিনস কে এবং কেন আর কীভাবে তার নাম গণপিটুনির মতো একটি নৃশংস শব্দের উৎস হয়ে গেল।

ভার্জিনিয়ার প্রভাবশালী ভূস্বামী, রাজনীতিবিদ এবং আমেরিকান বিপ্লবী  চার্লস লিন‌চ ১৭৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ভার্জিনিয়ার জেমস নদীর তীরে চেস্টনাট হিল নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে এখানে তার ভাই জেমস লিনচ ‘লিনচবার্গ ( Lynchburg)’ শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রসঙ্গত, লিনচ-এর বাবা ১৭২৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে যুক্তরাজ্যের আয়ারল্যান্ড থেকে ইংরেজ কলোনি ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী হন।

চার্লস লিনস ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে  ভার্জিনিয়ার বেডফোর্ড কাউন্টির জাস্টিস অব দ্যা পিস হন। মিলিশিয়া কর্নেল হওয়ার পর তিনি ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ অবধি ভার্জিনিয়া হাউস অব ভার্গেসেস এবং কনভেনশনে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি সময়ে সময়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক আদালত বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিচার করতেন। বিপ্লবের পর চার্লস ১৭৮৪ থেকে ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার সিনেটেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ শে অক্টোবর তিনি মারা যান।

চার্লস  লিনচ আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে মিলিশিয়া কর্নেল থাকাকালীন ভার্জিনিয়ায় একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খণ্ডকালীন আদালতের বিচারক হয়ে মিলিশিয়া কর্মকর্তা এবং  কিছু   জাস্টিস অব দ্যা পিস মিলে সংক্ষিপ্ত বিচারের নামে  ব্রিটিশ বাহিনী বা ব্রিটিশ সরকারের অনুগত হিসেবে সন্দেহভাজন বহু লোককে ধরে  এনে কেবল সন্দেহের বশে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড-সহ আরও নানাবিধ শাস্তি প্রদান করেন। ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দে ভার্জিনিয়া জেনারেল অ্যাসেম্বলি (Virginia General Assembly) চার্লস লিনচ-এর এ বৈচারিক কার্যক্রমকে বৈধ ঘোষণা করে। অ্যাসেম্বলির মন্তব্য ছিল, যুদ্ধকালীন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে  প্রচলিত বিধি পুরোপুরি মেনে বিচার করার সুযোগ ছিল না।

যাই হোক, লিনচ-এর এই আদালতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো বিধিবদ্ধ বৈচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো না। প্রকৃত অর্থে আসল ঘটনা কী তা যাচাই-বাছাই না করে লিনচ তার দলবল মিলে সন্দেহ বা জনশ্রুতির ভিত্তিতে ‍উত্তেজিত হয়ে দ্রুত শাস্তির  আদেশ দিয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে ফেলতেন। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও এই অনানুষ্ঠানিক আদালতে অন্যান্য যেসব শাস্তি প্রদান করা হতো তন্মধ্যে  বেত্রাঘাত, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, বাধ্যতামূলক আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি এবং সামরিক নিবন্ধন প্রভৃতি ছিল অন্যতম।

লিনচ-এর এই প্রকৃত আইন বহির্ভূত জনহুজুগের ভিত্তিতে সম্পাদিত বিচার ব্যবস্থা থেকে ইংরেজি অভিধানে lynch, lynching,  lynching court প্রভৃতি কথার উদ্ভব। উত্তেজিত জনগণের পিটুনিতে মৃত্যু বা জনতার দ্বারা কাউকে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডকেও লিনচিং বলা হয়।  কোনো দেশের আ্ইন-শৃঙ্খলা যখন যথাযথভাবে কার্যকর থাকে না বা কার্যকর করার সুযোগ থাকে না অথবা সরকার যখন দুর্বল  হয়ে পড়ে কিংবা জনগণ সরকারের ওপর আস্থাহীনতায় ভোগে তখন এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশে প্রায় সময় গুজবের কারণে  লিনচিং বা গণপিটুনির ঘটনা এবং এর মাধ্যমে মানুষ হত্যার ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।  পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’ গুজবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অনেক গণপিটুনি বা লিনচিং ঘটেছে।  ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি লিনচিং-এর একটি মারাত্মক উদাহরণ।  ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টায় চার পুলিশকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ডাকাত সন্দেহে অনেককে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলা হয়। এসব ঘটনাকে ইংরেজিতে লিনচিং বলা হয়।

১. ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা সমগ্র/১

লিংক: https://draminbd.com/ইংরেজি-ভাষা-জানা-অজানা/

২. ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা সমগ্র/২ 

লিংক: https://draminbd.com/ইংরেজি-ভাষা-জানা-অজানা-সম/

৩. ইংরেজি ভাষা: জানা-অজানা সমগ্র/৩

লিংক: https://draminbd.com/ইংরেজি-ভাষা-জানা-অজানা-সম-2/

error: Content is protected !!