ইউনাইটেড স্টেটস (United States) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম ( উত্তর আমেরিকা)

ড. মোহাম্মদ আমীন

ইউনাইটেড স্টেটস (United States)

১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার বিশ্বের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এই মানচিত্রে তিনি ইতালীয় আবিষ্কারক ও মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে পশ্চিম গোলার্ধের নামকরণ করেন ‘আমেরিকা’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে পূর্বতন ব্রিটিশ

প্রকাশক: পুথিনিলয়। উত্তর আমেরিক।

কলোনিগুলো প্রথম দেশের আধুনিক নামটি ব্যবহার করে। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের  ৪ জুলাই Òunanimous Declaration of the thirteen united States of AmericaÓ নামে এই ঘোষণাপত্রটি “Representatives of the united States of America” গ্রহণ করে। ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দের  ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে আর্টিকলস অফ কনফেডারেশন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বর্তমান নামটি চূড়ান্ত হয়। এই আর্টিকেলে বলা হয়েছে : ÒThe Stile of this Confederacy shall be The United States of America.Ó সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে the United States নামটি গ্রহণ করা হয়। অন্যান্য প্রচলিত নামগুলি হলো :  the U.S., the USA, ও America । কথ্য নামগুলি হলো:  the U.S. of A. ও the States । ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামানুসারে কলম্বিয়া নামটি এককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ‘ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া’ নামের মধ্যে এই নামটির আজও অস্তিত্ব রয়েছে।

মার্কিন নাগরিকেরা সাধারণভাবে ‘আমেরিকান’ নামে পরিচিত। যদিও সরকারিভাবে বিশেষণ হিসেবে ‘ইউনাইটেড স্টেটস’ কথাটি ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত বিশেষণ হিসেবে ‘আমেরিকান’ ও ‘ইউ. এস’ দুটোই প্রচলিত (আমেরিকান মূল্যবোধ বা ইউ. এস. সামরিক বাহিনী) ইংরেজি ভাষায় খুব অল্প ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্যতীত অন্যদের বিশেষণ হিসাবে “আমেরিকা” কথাটি ব্যবহৃত হয়। আমেরিকার অধিবাসী বা আমেরিকা সম্বন্ধীয় বোঝাতে বাংলায় ‘মার্কিন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আমেরিকান শব্দের প্রথম অক্ষর বিচ্যুত হয়ে বাংলায়

প্রকাশক: পুথিনিলয়। ওশেনিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা।

হয় মেরিকান এবং মেরিকান থেকে মার্কিন। পূর্বে “দ্য ইউনাইটেড স্টেটস” কথাটি বহুবচনে ব্যবহৃত হত (“the United States are”)। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫  খ্রিস্টাব্দে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শব্দটিকে একবচন হিসেবে ঘোষণা করা হয় (the United States is)। বর্তমানে একবচন রূপটিই প্রামাণ্য।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়তন ৯৮,৫৭,৩০৬ বর্গকিলোমিটার বা ৩৮,০৫,৯২৭ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয় ভাগের পরিমাণ ৭.১ ভাগ। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩২,২০,১৪,৮৫৩ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯০.৬।  আয়তন ও মোট জনসংখ্যা উভয় বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটি বিশ্বের ১৮০-তম জনবহুল দেশ। তার মানে, পৃথিবীতে আরও ১৭৯ টি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি অথচ আয়তনে বেশি আছে মাত্র দুটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এবং বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীদের আমেরিকান বলা হয়। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের  ৪ জুলাই দেশটি যুক্তরাজ্য হতে স্বাধীনতা লাভ করে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের  হিসাবমতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি (পিপিপি) ১৭.৪১৯ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার (২য়) এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৫৪,৬২৯ ইউএস ডলার (১০ম)। অন্যদিকে, জিডিপি (নমিনাল) ১৭.৪১৯ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার (১ম) এবং মাথাপিছু আয় ৫৪,৬২৯ ইউএস ডলার (৫ম)। মুদ্রার নাম ইউএস ডলার। ইউএস ডলারকে পৃথিবীর সর্বজনীন মুদ্র বলা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত পঞ্চাশটি রাজ্য ও একটি যুক্তরাষ্ট্রীয়  জেলা নিয়ে গঠিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এ দেশটি ইউনাইটেড  স্টেটস, ইউএস, যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নামেও পরিচিত। মধ্য উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত আটচল্লিশটি রাজ্য ও রাজধানী অঞ্চলসহ

প্রকাশক: পুথিনিলয়। ইউরোপ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডটি পশ্চিমে প্রশান্ত ও পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরদুটোর মধ্যস্থলে অবস্থিত; এ অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত যথাক্রমে কানাডা ও মেক্সিকো রাষ্ট্রদ্বয়। আলাস্কা রাজ্যটি অবস্থিত মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে; এ রাজ্যের পূর্ব সীমায় কানাডা ও পশ্চিমে বেরিং প্রণালী পার হয়ে রাশিয়। হাওয়াই রাজ্যটি মধ্য-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন ৩.৭৯ মিলিয়ন বর্গমাইল বা ৯.৮৩ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩০৯ মিলিয়ন। আয়তনের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবী তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাষ্ট্র। এর পর চীন। একটি অঞ্চল নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় এই বিষয়ের সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। কেবল স্থলভাগের দিক দিয়ে বিবেচনা  করলে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র।  যার আগে কেবল রাশিয়া ও চীন এবং এর পরে রয়েছে কানাডা। আয়তনের ভিত্তিতে এর বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য হচ্ছে আলাস্কা। কানাডার মাধ্যমে পৃথকীকৃত এই রাজ্যটি প্রশান্ত ও আর্কটিক মহাসাগরকে স্পর্শ করেছে। উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের বুক অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এ দেশের অন্তর্ভুক্ত। দেশটির বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল পুয়ের্তো রিকো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যমণ্ডিত বহুজাতিক সমাজব্যবস্থা। বহু দেশ থেকে বিভিন্ন জাতির মানুষের অভিনিবেশের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ একটি বহুসংস্কৃতিবাদী দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় অর্থনীতি। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের  জিডিপি হার ছিল ১৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র বিশ্ব জিডিপির এক চতুর্থাংশ এবং ক্রয় ক্ষমতা সমতায় বিশ্ব জিডিপির এক পঞ্চমাংশ)।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে কানাডা এবং দক্ষিণে সংযুক্ত মেক্সিকান রাষ্ট্রসমূহ অবস্থিত। পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। এই দেশ। এছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলাস্কা অঙ্গরাজ্য এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন ভূমি এই রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। আমেরিকার আদিম অধিবাসীরা সম্ভবত এশীয় বংশোদ্ভুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এরা কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তবে নেটিভ আমেরিকানদের জনসংখ্যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর থেকে মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহের প্রকোপে ব্যাপক হ্রাস পায়।

প্রকাশক: পুথিনিলয়। দক্ষিণ আমেরিকা।

প্রাথমিক পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার তেরোটি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের  ৪ জুলাই এই উপনিবেশগুলো একটি স্বাধীনতার  ঘোষণাপত্র জারি করে। এ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে উপনিবেশগুলো আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ঘোষণা এবং একটি সমবায় সংঘের প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিদ্রোহী রাজ্যগুলো গ্রেট ব্রিটেনকে  শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে। এ যুদ্ধ ছিল ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে প্রথম সফল ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা যুদ্ধ। ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দের  ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া কনভেনশন বর্তমান মার্কিন সংবিধানটি গ্রহণ করে। পরের বছর এই সংবিধান সাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী  কেন্দ্রীয় সরকারসহ একক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৭৯১  খ্রিস্টাব্দে সাক্ষরিত এবং দশটি সংবিধান সংশোধনী সম্বলিত বিল অফ রাইটস একাধিক মৌলিক নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো ও রাশিয়ার থেকে জমি অধিগ্রহণ করে এবং টেক্সাস প্রজাতন্ত্র ও হাওয়াই প্রজাতন্ত্র অধিকার করে নেয়। ১৮৬০-এর দশকে রাজ্যসমূহের অধিকার ও দাসপ্রথার বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ দক্ষিণাঞ্চল ও শিল্পোন্নত উত্তরাঞ্চলের বিবাদ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। উত্তরাঞ্চলের বিজয়ের ফলে দেশের চিরস্থায়ী বিভাজন রোধ করা সম্ভব হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা আইনগতভাবে রদ করা হয়। ১৮৭০-এর দশকেই মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ধারণ করে। স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সামরিক শক্তি হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা দান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। ঠাণ্ডা যুদ্ধের শেষভাগে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিশ্বের মাট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমি এবং আলাস্কাতে বর্তমানে যে আদিবাসীরা বাস করে প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে এশিয়া থেকে আসা শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়। কমপক্ষে ১২,০০০ বছর আগে তাদের আসার ব্যাপারটি প্রায় নিশ্চিত। প্রাক-কলাম্বীয় যুগের অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় অগ্রসর কৃষি, স্থাপত্য এবং

প্রকাশক: পুথিনিলয়। দক্ষিণ আমেরিকা।

রাজ্য-সদৃশ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ইউরোপীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দের  নভেম্বর ১৯ তারিখে আমেরিকা অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকোতে এসেছিলেন। এর মাধ্যমে আদিবাসী আমেরিকানদের সাথে ইউরোপীয়দের প্রথম পরিচয় হয়। এর পর অধিকাংশ আমেরিকান আদিবাসীরাই ইউরেশিয়া অঞ্চলের মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে সময় আমেরিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের বাসস্থান ছিল মূলত ফ্লোরিডায়। সে ঔপরিবেশিক কলোনিগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত সেন্ট অগাস্টিন কলোনিটিই টিকে আছে। এছাড়া ফরাসি পশুর লোম ব্যবসায়ীরা গ্রেট লেক্সের নিকটে নিউ ফ্রান্স নামক একটি বাসস্থল গড়ে তুলেছিল। এর পরে স্পেনীয়রা বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তৃত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এই অঞ্চল বর্তমান মেক্সিকোর অন্তর্গত।

প্রথম সফল ইংরেজ উপনিবেশ ছিল ১৬০৭  খ্রিস্টাব্দে জেম্সটাউনে প্রতিষ্ঠিত ভার্জিনিয়া কলোনি এবং ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত প্লিমাথ (Plymouth) কলোনি। ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে ম্যাসাচুসেট্স বে কলোনি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি অর্থায়নের পর ইংরেজদের মধ্যে অভিবাসনের জোয়ার শুরু হয়ে যায়। ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের  মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডে প্রায় ১০,০০০ পিউরিটান বাসস্থান গড়ে তোলে। ১৬১০-এর দশকের  শেষ দিকে ব্রিটিশ সেদেশের বিপ্লবীদের মধ্যে ৫০,০০০ জনকে আমেরিকায় ব্রিটিশ কলোনিসমূহে স্থানান্তর করে। ১৬১৪ খ্রিস্ট্দা থেকে নেদারল্যান্ডের উপনিবেশিকরা হাডসন নদীর নিম্নভূমি জুড়ে এবং ম্যানহাটন দ্বীপ ও নিউ আমস্টারডামে বসতি গড়ে

প্রকাশক: পুথিনিলয়। আফ্রিকা

তুলেছিল। ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে সুয়েডীয়রা ডেলওয়্যার নদীর পাশ জুড়ে একটি  ছোট উপনিবেশ গড়ে তুলে। যার নাম ছিল নিউ সুইডেন। কিন্তু ১৬৫৫ সালে ডাচরা তা অধিকার করে নেয়। ফরাসি এবং ভারতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৭ বছর ধরে ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ চলতে থাকে। ব্রিটেন ফ্রান্সের কাছ থেকে কানাডা দখল করে নেয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলীয় কলোনিসমূহ থেকে ফ্রাঙ্কোফোনের জনগণরা রাজনীতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে ইঙ্গ-ডেনীয় যুদ্ধে ডাচদেরকে পরাজিত করে ব্রিটেন প্রাক্তন ডাচ কলোনিসমূহ দখল করে নেয়। এর পর প্রাক্তন নিউ নেদারল্যান্ডের নাম রাখা হয় নিউ ইয়র্ক। ১৭২৯ খ্রিস্টাব্দে ক্যারোলিনাসমূহের বিভাজন এবং ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দে জর্জিয়ার উপনিবেশিকীকরণের পর ১৩টি পৃথক পৃথক ব্রিটিশ কলোনি সৃষ্টি হয়। এই ১৩টি কলোনি মিলেই পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান।

ড. মোহাম্মদ আমীন

আইনসভা দ্বিকাক্ষিক। নিম্নকক্ষের নাম হাউজ অভ রেপ্রেজেন্টেটিভ্স এবং এর সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সেনেট এবং এর সদস্যসংখ্যা ১০০। ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮ বছর। ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দের  ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দের  ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। তারা ব্রিটিশদের ব্যবহৃত একক হিসাবে মাইল, গজ এবং ফারেনহাইট এককগুলো ব্যবহার করে না। এর পরিবর্তে ইউ.এস গ্যালন এবং ইউ.এস পিন্ট পরিমাণের একক হিসাবে ব্যবহার করে।

স্বাধীনতার ঘোষণা লিখেছিলেন ২ জুলাই থমাস জেফারসন। কংগ্রেস ছিল তখন শাসক দল। জেফারসন তার ল্যাপটপে ঘোষণাটির খসড়া করেছিলেন। সে সময় ল্যাপটপ ছিল এমন একটি লেখার ডেস্ক, যা একজনের ল্যাপ (lap) বা অঙ্কদেশে বসানো যেত। জন অ্যাডামস ও থমাস জেফারসন দুজনেই ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দের  ৪ জুলাই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পাখি ঈগল (Bald Eagle), জাতীয় ফুল গোলাপ, রাজধানী ওয়াশিংটন, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, সংক্ষেপে ওয়াশিংটন ডিসি।

৫০টি অঙ্গরাজ্য নিয় যুক্তরাষ্ট্রের অবয়ব। ক্লিভল্যান্ড ও ওহিও অঙ্গরাজ্যেও ৫২% শিশু আমেরিকান ভাষায় দরিদ্র। যা তৃতীয় বিশ্বের মধ্যবিত্তের বাচ্চাদের চেয়ে ভাল। ১৫৪৫ বর্গমাইল আয়তনের রোডস আইল্যান্ড ক্ষুদ্রতম এবং ৬,৬৩,২৬৮ বর্গমাইল আয়তনের আলাস্কা বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য। আলস্কার ৩০০০ বর্গমাইল আয়তনের জুনেয়াও শহর ডেলওয়ারে অঙ্গরাজ্যের  চেয়ে বড়। এর তটরেখার দৈর্ঘ্য ৬,৬৪০ বর্গমাইল। এটি বাকি ৪৯টি অঙ্গরাজ্যের সম্মিলিত তটরেখার চেয়ে বেশি। আলাস্কা রোডস আইল্যান্ডের চেয়ে আয়তনে ৪২৯ গণ বড় হলেও লোকসংখ্যা রোডস আইল্যান্ডে আলাস্কার চেয়ে বেশি। মন্টানায় মানুষের ৩ গুণ বেশি গরু আছে। প্রতি ১০০০ আমেরিকানের মধ্যে ৮৪৫ জনের, জাপানে ৫৯৩ জনের এবং জার্মানিতে ৫৪০ জনের গাড়ি আছে।

জনসংখ্যা বিবেচনায় ম্যারিল্যান্ডে মিলোনিয়ারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে কেবল বাণিজ্যিকভাবে কফি উৎপাদিত হয়। আটলান্টা শহরের প্রকৃত নাম টার্মিনাস  বা শেষপ্রান্ত বা রেলের শেষ গন্তব্যস্থান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিগান নামক একটি শহর আছে, যাকে প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৩টা শহরের নাম সান্তা ক্লস (Santa Claus)।  লস অ্যাঞ্জেলস ও শিকাগোর পর নিউ ইয়ক যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল শহর। হাওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত শেষ অঙ্গরাজ্য। এটি ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে যুক্ত হয়। এটি পুরো একটি দ্বীপ। আলাস্কা ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছিল। আলাস্কায় অবস্থিত ২০,৩২০ ফু উচ্চতার মাউন্ট ম্যাককিনলি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্বত। মিসিসিপি ও মিসৌরি যুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম ও পৃথিবীর চতুর্থ দীর্ঘতম নদী।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে নিম্নতম তাপমাত্রা -৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট রেকর্ড করা হয় আলাস্কার প্রসপেক্ট ক্রিক (চৎড়ংঢ়বপঃ ঈৎববশ) নামক স্থানে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে ১৯১৩ খিস্টাব্দের ১০ জুলাই রেকর্ড করা হয়েছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। প্রায় সর্বত্র ইংরেজি ব্যবহৃত হলেও আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি ভাষা নেই। দ্বিতীয় সর্বাধিক কথিত ভাষা স্পেনিশ। চায়না ২০১১-২০১৩ বর্ষে যে পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করেছে তা বিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করছে তার চেয়ে বেশি। এখানে ফুটবল কোচ এর বেতন সবচেয়ে বেশি। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান পুলিশ খুন করেছে ১,১০০ লোক। একই বছর কানাডা পুলিশ খুন করেছে ১৪ জন, চায়না ১২ জন এবং জার্মানি ০জন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ৫% শিশু জন্মগ্রহণ করেছে অবিবাহিত পিতামাতার গর্ভে। এখন এ সংখ্যা ৪০%।গড়ে প্রতি সুপার মার্কেট্ ৩০০০ পাউন্ট খাদ্য প্রতিবছর নষ্ট করে। ঢাকা শহরে প্রতি ১০০০ ইট বহনের জন্য শ্রমিককে ১ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকগণ কাজের ফাঁকে যে অবসর যাপন করে তার জন্য দিতে হয় এর পনের গুণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকগণ গড়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের (electronic device)পেছনে ব্যয় করে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিল আর্মস্ট্রং ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের  ২১ জুলাই প্রথম চন্দ্রে অবতরণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ ভাগ লোক এটি বিশ্বাস করেন না। ইউএস ট্রেজারিতে যত অর্থ আছে, তার চেয়ে বেশি আছে অ্যাপল কোম্পানিতে। ৩২ কেনিয়ান যত ভোগ করে সাধারণ একজন আমেরিকান তার চেয়ে বেশি করে। ৩২ জন কেনিয়ানের সম্পদের পরিমাণ সাধারণ একজন আমেরিকানের সমান।

পাঞ্রেরী পাবলিকেশন্স লি.

আমেরিকায় প্রথম যিনি দাসের মালিক হয়েছিলেন তিনি ছিলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ। প্রতি ৩জন আমেরিকানদের মধ্যে একজন মেদবহুল। কমবয়সীদের সিগারেট পান আইনসিদ্ধ কিন্তু ক্রয় করা আইনসিদ্ধ নয়। ভার্জিনিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রেসিডেন্ট জন্মগ্রহণ করেছেন। যে পরিমাণ পিজা খাওয়া হয় তার আয়তন ১০০ একরের চেয়ে বেশি। তারা প্রতিদিন ২২ মিলিয়ন মুরগি খায়। আপনার পকেটে যদি ১০ ডলার থাকে এবং যদি কোনো ঋণ না থাকে তো, আপনি ২৫% আমেরিকানের চেয়ে সুখী। আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত বিমান বন্দর। ম্যারিল্যান্ডের কলেজ পার্ক বিমান বন্দর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত অবচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় প্রচীনতম বিমান বন্দর। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মোট জনসংখ্যার কেবল ১% ধনী লোক মোট সম্পদের ৩৩% এর মালিক।  ৫০% লোক যে সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে তার পরিমাণ কেবল মোট সম্পদের ২.৫%। মার্কিন নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ৪৫,০০০ ইউএস ডলার। ইউএস নেভি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম  কিন্তু বিমান বাহিনি প্রথম। প্রথম রাজধানী ছিল ফিলাডেলপিয়া, ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে করা হয়েছিল।১৬ বছর বয়স হলে গাড়ি চালানোর, ১৮ বছর হলে ভোটাধিকার এবং ২১ বছর বয়স হলে অ্যালকোহল কেনার অধিকার জন্মে। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান মেয়েদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়।

১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দের  ১৮ আগস্ট ভার্জিনিয়া ডেয়ার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমেরিকা মহাদেশে জন্মগ্রহণকারী কোনো ইংরেজ অভিবাসী দম্পতির প্রথম সন্তান। ১৫৯০ খ্রিষ্টাব্দের  ১৮ আগস্ট ভার্জিনিয়া ডেয়ারের পিতামহ জন হোয়াইট আমেরিকার রোয়ানক (Roanoke) কলোনিতে এসে তার নাতনি, কন্যা বা কন্যার স্বামী কারও খোঁজ পাননি। তাদের কী ঘটেছিল এখনও কেউ জানে না। রোয়ানক ভার্জিনিয়া কলোনির অংশ ছিল। ভার্জিনিয়া ডেয়ার এর নামানুসারে এটার নাম রাখা হয় ভার্জিনিয়া। আবার অনেকে মনে করেন, স্যার ওয়াল্টার র‌্যালেগ (Sir Walter Raleigh) ভার্জিনি কুইন প্রথম এলিজাবেথ এর নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখে ভার্জিনিয়া।


উত্তর আমেরিকা (North America) : ইতিহাস ও নামকরণ

এন্টিগুয়া এন্ড বারবুডা (Antigua and Barbuda) : ইতিহাস ও নামকরণ

 দি বাহামাস (Bahamas) : ইতিহাস ও নামকরণ

বার্বাডোস (Barbados ) : ইতিহাস ও নামকরণ

বেলিজ (Belize) : ইতিহাস ও নামকরণ

কানাডা (Canada) : ইতিহাস ও নামকরণ

কোস্টারিকা (Costa Rica) : ইতিহাস ও নামকরণ

কিউবা ( Cuba) : ইতিহাস ও নামকরণ

ডোমিনকা (Dominica) : ইতিহাস ও নামকরণ

 ডোমিনিকান রিপাবলিক (Dominican Republic) : ইতিহাস ও নামকরণ

এল স্যালভেডর (El Salvador) : ইতিহাস ও নামকরণ

গ্রেনাডা (Grenada) : ইতিহাস ও নামকরণ

গুয়েতেমালা (Guatemala) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

আফ্রিকা মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

এশিয়া মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

error: Content is protected !!