ইউরোপ মহাদেশ : নামকরণ ও ইতিহাস

ইউরোপ মহাদেশ

ড.  মোহাম্মদ আমীন

প্রাচীন গ্রিকপুরাণমতে, ইউরোপা নামে একজন ফিনিশীয় রাজকুমারী ছিল। জিউস ছিল তার রূপে মুগ্ধ। একদিন জিউস একটি উজ্জ্বল সাদা ষাঁড়ের রূপ ধারণ করে ইউরোপকে প্রতারণামূলকভাবে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরনের পর জিউস তাকে ক্রীট দ্বীপে নিয়ে বিয়ে করে। সেখানে তাদের মিনস,

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

রাদামন্থুস ও সার্পেদন নামের তিনটি শিশু জন্মগ্রহণ করে। কথিত হয়, জিউসের স্ত্রী ইউরোপার নামে ইউরোপ মহাদেশের নামকরণ। হোমারের বর্নণায় দেখা যায়, ইউরোপ ছিল ক্রিটের পৌরাণিক রাণী, কোনো ভৌগোলিক স্থান নয়। ইউরোপের মানচিত্র দেখতে অনেকটা ভাঙ্গাচোড়া মাতুজ (matzo) এর মতো। এটি এক ধরণের রুটি। যা ইহুদিরা খেয়ে থাকে।

ইউরোপের ব্যুৎপত্তি নিয়ে নানা মতবাদ ও ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। একটি মতবাদ মনে করে এটি গ্রিক শব্দ ইউরাস (eurus) থেকে ইউরোপ নামের উদ্ভব। যার অর্থ ‘ব্যাপক, বিস্তৃত’ এবং (ops/op-/opt-) অর্থ ‘চোখ, মুখ, মুখায়ব’। এ হিসাবে Europe, শব্দের অর্থ ‘প্রশস্ত দৃষ্টি, বিস্তৃত মুখাবয়ব’ [(glaukopis, ‘ধূসর নয়না’) আথেনা বা boopis (‘ষাঁড় নয়না’) পহরার তুলনায়]। প্রশস্ত পুনর্নির্মিত প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় ধর্মে পৃথিবী নিজেরই একটি বর্ণনামূলক আখ্যান উল্লেখ আছে। আরেকটি মতবাদ মনে করে যে এটি একটি সেমিটিক শব্দের উপর ভিত্তি করে উৎপত্তি যেমন আক্কাদীয় erebu যার অর্থ “নিচে যাওয়া, অস্ত’ (সূর্য প্রসঙ্গে), ফিনিশীয় থেকে কগনাট ‘ ereb  ‘সন্ধ্যা; পশ্চিম’ এবং আরবি মাগরেব, হিব্রু ma’arav (h1regʷos, ‘অন্ধকার)। তবে, মার্টিন লিচফিল্ড ওয়েস্ট বলেন “শব্দবিদ্যাগতভাবে, ইউরোপার নাম এবং যে কোনো আকারের সেমিটিক শব্দের মধ্যের মিল খুব খারাপ”।

পৗরাণিক চরিত্রের নামের উৎপত্তি যাই হোক না কেন, Εὐρώπη খ্রিষ্টপূর্ব  ৬ষ্ঠ শতকে গ্রিক ভূগোলবিদ আনাক্সিমান্দ্রোস এবং হেক্তায়েস প্রথম ভৌগোলিক শব্দ হিসাবে ব্যবহার করেন। আনাক্সিমান্দ্রোস এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সীমানা স্থাপন করেন ককেশাসের ফাসিস নদী বরাবর (আধুনিক রাইওনি), একটি প্রচল যা খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে হেরোডোটাস দ্বারা অনুসৃত হয়। এই প্রচল মধ্যযুগ দ্বারা গৃহীত এবং আধুনিক ব্যবহারে রোমান যুগ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, কিন্তু সে যুগের লেখকগণ যেমন পসেদনিয়াস, স্ট্রাবো এবং টলেমি, টানাইসকে (আধুনিক ডন নদী) সীমানা হিসেবে গ্রহণ করেন।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে “ইউরোপ” শব্দটি প্রথম ৯ম শতকের ক্যারোলিং রেনেসাঁসয় ব্যবহার করা হয়। সে সময় থেকে, শব্দটি গোলকে পশ্চিম চার্চের প্রভাব বুঝাতে ব্যবহৃত, যার বিপরীতে উভয় ইস্টার্ন অর্থডক্স গির্জা এবং ইসলামী বিশ্ব রয়েছে। আধুনিক রীতি ১৯ শতকে “ইউরোপ”-এর আয়তন বাড়ায় কিছুটা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে।

ইউরোপের স্থলবন্দি দেশ

১    অ্যান্ডোরা

২    আর্মেনিয়া

৩    অস্ট্রিয়া

৪    আজারবাইজান

৫    বেলারুশ

৬    চেক রিপাবলিক

৭    হাঙ্গেরি

৮    কসোভো

৯    লিচটেনস্টেইন

১০   লুক্সেমবার্গ

১১   মেসিডোনিয়া

১২   মলদোবা

১৩   সান ম্যারিনো

১৪   সার্ভিয়া

১৫   স্লোভাকিয়া 

১৬   সাউথ ওসেতিয়া

১৭   সুইজারল্যান্ড

১৮   ত্রান্সনিস্ত্রিয়া       

১৯   ভ্যাটিকান সিনি

বিশ্বের অধিকাংশ প্রধান ভাষাসমূহে “ইউরোপা” উৎদ্ভুত শব্দ “মহাদেশ” (উপদ্বীপ) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, চীনায়, Ouzhou শব্দটি ব্যবহার করে; একটি অনুরূপ চীনা-প্রাপ্ত শব্দ Oshu কখনও কখনও জাপানিজে ব্যবহার করা হয যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাপানি নাম, Oshu

ড. মোহাম্মদ আমীন

Rengo, তা সত্ত্বেও কানাকাতা Yoroppa আরো সাধারণভাবে ব্যবহৃত। যদিও, কিছু তুর্কি ভাষায় মূলত ফার্সি নাম ফ্রাঙ্গিস্তান (ফ্র্যাঙ্কসের দেশ) সাধারণভাবে ইউরোপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, এছাড়াও কিছু দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে, যেমন আভরূপা বা ইভরোপা।

ইউরোপ প্রকৃতপক্ষে কোনো মহাদেশ নয়। গ্রিকরা হেলেসপন্ট now the Dardanelles) এর দুই পাশকে চিহ্নিত করার জন্য ও রাজনীতিক সুবিধার্থে ভূখণ্ডটির নাম দেন ইউরোপ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট দুটি দেশই ইউরোপে অবস্থিত। ইউরোপের আয়তন ৩.৯৩ বর্গমাইল এটি পৃথিবীর আয়তনের ৮%। ইউরোপ মহাদেশের আয়তন কানাডার চেয়ে মাত্র ২% বেশি। ইউরোপের জনসংখ্যা ৭৩৩ মিলিয়ন। এটি পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র ১১ ভাগ। পুরোটাই ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত দেশের মধ্যে বৃহত্তম ইউরোপীয়ান দেশ হচ্ছে ইউক্রেইন।

প্যারিসের ডিজনিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রদর্শিত স্থান। প্যারিস ইউরোপের বৃহত্তম শহর। ইতালির রোমে অবস্থিত লা সেপিইনজা বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১,৮৪,০০০।

বার্সেলোনার সাগরাদা ফ্যামিলিয়া চার্চ নির্মাণে পিরামিড নির্মানের চেয়ে অধিক সময় ব্যয় হয়েছে। ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দের এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যা এখনও শেষ হয়নি। ইতালিয়ানেরা বেলা ১১.০০ ঘটিকার পর ক্যাপিকুনো (cappuccino) পান করেন না। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত দ্রব্যসমূহের কেবল ১ ভাগ প্রদর্শন করা হয়। ইউরোপের সর্বোচ্চ পায়খানা মন্ট ব্লান্ক ৪,২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। ছোট দেশ বেলজিয়াম পৃথিবীর সবচেয়ে

প্রকাশক: পুথিনিলয়।

রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ঘনত্বের দেশ। এ দেশে ১০০০ কিলোমিটার রেললাইন আছে। অথচ এর আয়তন ৩০,৫২৮ বর্গকিলোমিটার।  বসনিয়ার পেরুকিকা (Perucica) ইউরোপের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট। গ্রিকের ৪০% অধিবাসী তাদের রাজধানী  এথেন্সে বসবাস করেন। আইসল্যান্ডে কোনো মশা নেই এবং কখনও ছিল না।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জিডিপি অর্থাৎ পৃথিবীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয় তার মূল্য ৭৭.৬ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। তন্মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৭ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার। এরপর যথাক্রমে চায়না, জাপান ও জার্মানি। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, পৃথিবীর মানুষের মাথাপিছু আয় ১৩,১০০ ইউএস ডলার। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে  তা ছিল ১২,৬০০ ইউএস ডলার।

পিসার হেলান মন্দির (The Leaning Tower of Pisa)নির্মাণে ২০০ বছর লেগেছিল। এখনও এটি হেলানো আছে। অস্ট্রেলিয়াকে মহাদেশ ধরলে গ্রিন ল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলেছিল। এ যুদ্ধ চারটি সাম্রাজ্যকে পরিবর্তন করে দেয় বা সম্পূর্ণভাবে ধব্বংস করে দেয়। এ সাম্রাজ্যগুলো হচ্ছে : জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান, অটোমান এবং রাশিয়ান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬২ মিলিয়ন লোক মারা গিয়েছিল। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২.৫%। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নায়ক এডলফ হিটারের জন্মস্থান অস্ট্রিয়া। পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়ায় ১৩,০০০ বসতিহীন গ্রাম আছে। এ গ্রামগুলোর আয়তন ইউরোপ মহাদেশের ৪০%।

ইউরোপ মহাদেশ : নামকরণ ও ইতিহাস


সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

All Link

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

Knowledge Link

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

 

error: Content is protected !!