ইকুয়েডর(Ecuador) : নামকরণ ও ইতিহাস

ড. মোহাম্মদ আমীন
ইকুয়েডর (Ecuador)
প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে অবস্থিত ইকুয়েডরের উত্তরে কলাম্বিয়া, পূর্বে ও দক্ষিণে পেরু এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত। সমুদ্র সমতল থেকে অনেক উঁচুতে আন্দেজ পর্বতমালায় অবস্থিত কিটো দেশটির রাজধানী। বিষুবরোখায় অবস্থিত বলে এর নাম হয় ইকুয়েডর। ইকুয়েডর স্প্যনিশ শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘বিষুবরেখা’। ইকুয়েডর পৃথিবীর একমাত্র দেশ, ভৌগোলিক গঠন বিবেচনায় যার নাম করা হয়েছে। এর সরকারি নাম রিপাবলিক ডেল ইকুয়েডর। যার বাংলা অর্থ বিষুবরেখা প্রজাতন্ত্র (The Republic of the Equator)। বিষুবরেখা এ দেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত বন্দর শহর গুয়াইয়াকিল দেশের বৃহত্তম শহর। মূল ভূখ- থেকে প্রায় ৯৬৫ কিমি পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ইকুয়েডরের ভূখ-। ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই আগস্ট দেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে স্পেন হতে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে গ্র্যান কলাম্বিয়া হতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা স্বীকিৃত পায়। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান সংবিধান গৃহীত হয়।
ইকুয়েডরের আয়তন ২,৮৩,৫৬০ বর্গকিলোমিটার বা ১,০৯,৪৮৪ বর্গমাইল। জলীয় ভাগের পরিমাণ মোট আয়তনের ৫%। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, ইকুয়েডরের জনসংখ্যা ১,৬১,৪৪,০০০ এবং প্রতিবর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা ৫৮.৯৫ জন। আয়তনের দিক হতে ইকুয়েডর পৃথিবীর ৭৫-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় এটি ৬৫-তম জনবহুল দেশ। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় এটির অবস্থান ১৫১। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে, ইকুয়েডরের জিডিপি (পিপিপি) ১৮০.২১৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১১,২৪৪ ইউএস ডলার। ইকুয়েডরের মুদ্রার নাম ইউএস ডলার।
পানাম হ্যাট তৈরি হয় ইকুয়েডরে। তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণের জন্য পানামা বন্দরে শিপমেন্ট করার জন্য পাঠানো হয়। পানামা বন্দরেই এগুলো বক্সবন্দি করা হয়। ইকুয়েডরের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট রোসালিয়া আর্তেগা। তিনি ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ২দিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইকুয়েডর প্রতিবছর ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূলের কলা প্রতিবছর রপ্তানি করে। এটি পৃথিবীর যে কোনো দেশের চেয়ে অধিক। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নতমানের কোকোর ৬০ ভাগ ইকুয়েডরে উৎপাদিত হয়। ম্যালেরিয়ার রোগের প্রথম ঔষধ কুইনাইন তৈরির উপাদান সিংকোনা গাছের বাকল প্রথম এই দেশে পাওয়া যায়।
error: Content is protected !!