ইত্যাদি বনাম প্রভৃতি

এবি ছিদ্দিক, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে উল্লেখ করা অর্থ অনুযায়ী ‘ইত্যাদি’ আর ‘প্রভৃতি’ শব্দ দুটি পরস্পরের সমার্থক। অভিধান অনুসারে ‘একই শ্রেণিভুক্ত আরও আছে’ অর্থে ‘ইত্যাদি’ আর ‘প্রভৃতি’ সমার্থক হলেও ব্যাবহারিক প্রয়োগে শব্দ দুটির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্যটি ‘ইত্যাদি’ শব্দের গঠনগত বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ইত্যাদি: ‘ইত্যাদি’ শব্দটির গঠনবিশ্লেষণ দুই উপায়ে সম্ভব। প্রথম উপায় হচ্ছে ‘সন্ধি’। স্বরসন্ধির নিয়মে ‘ইতি’ আর ‘আদি’ মিলে ‘ইত্যাদি’ শব্দটি গঠিত হয়। আবার, সমাসের নিয়মে বিশ্লেষণ করলে— ‘ইতি হতে আদি পর্যন্ত’-ই হচ্ছে ‘ইত্যাদি’। এখানে ‘ইতি’ শব্দটি ‘শেষ’ এবং ‘আদি’ শব্দটি ‘প্রথম’ অর্থ বহন করে। অর্থাৎ, একই শ্রেণিভুক্ত কিছু সংখ্যক নাম উল্লেখ করে ঐ শ্রেণির একেবারে প্রথমটি থেকে শেষটি পর্যন্ত বোঝাতে ‘ইত্যাদি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন—
১. ‘বাংলাদেশে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ইত্যাদি ঋতু বিরাজমান।’ বাক্যটিতে ‘ইত্যাদি’-র মাধ্যমে বাকি তিনটি ঋতুও বিরাজমান, এমনটি বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ, বাক্যটি ইত্যাদি ছাড়া লিখলে লিখতে হবে— বাংলাদেশে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতু বিরাজমান।
২. ‘পরীক্ষার হলে কলম, পেনসিল, স্কেল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসবে।’ এই বাক্যটিতে ‘ইত্যাদি’ শব্দটি দ্বারা পরীক্ষার হলে আরও যেসকল জিনিস প্রয়োজন, যা হলে দেওয়া হয় না; সেসকল জিনিস সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।

প্রভৃতি: বাক্যে কয়েকটি শব্দ/নাম উল্লেখ করার পর একই শ্রেণিভুক্ত আরও কিছু(সবগুলো নয়) শব্দ/নাম আছে, এমনটি বোঝানোর জন্য ‘প্রভৃতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন—
১. ‘বিয়েতে গাজর, শসা, টম্যাটো প্রভৃতি পদের সালাদ লাগবে।’ বাক্যটিতে ‘প্রভৃতি’ শব্দটির মাধ্যমে উল্লেখ-করা পদগুলোর মতো আরও কিছু পদ(সবজি)-এর সালাদ লাগবে, এমনটি বোঝানে হয়েছে; সকল প্রকার সবজির সালাদ লাগবে, এমনটি বোঝানো হয়নি।
২.’ ডালিম, কলা, স্যালাইন প্রভৃতি খাবার নিম্ন রক্তচাপকে স্বাভাবিক করে।’ এই বাক্যটিতে ‘প্রভৃতি’ শব্দটির মাধ্যমে উল্লেখ-করা খাবারগুলোর মতো আরও কিছু খাবার আছে, যেগুলো নিম্ন রক্তচাপকে স্বাভাবিক করে, এমনটি বোঝানো হয়েছে।

সূত্র : শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)

শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা এবং বানান শেখার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিংক :

error: Content is protected !!