ইরাক (Iraq) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (এশিয়া)

ড. মোহাম্মদ আমীন

ইরাক (Iraq)

প্রবাদমতে, ইউফ্রেতিস (Euphrates) নদীর নিকট অবস্থিত ইরিক (Erech) বা ওয়ারকা নামে পরিচিত অর্ক (Uruk) শহর থেকে ইরাক নামের উদ্ভব। প্রত্মতাত্ত্বিকদের ধারণা, আর্ক হচ্ছে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুমেরিয়ান (Sumerian) শহর। যাকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী এক সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল। যাই হোক, এটাই সমধিক যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য যে, মধ্য-পরাসি শব্দ এরাক (Erak) হতে ইরাক নামের উৎপত্তি হয়েছে। এরাক শব্দের অর্থ নিচুজমি। বিগত কয়েক শতক পর্যন্ত আধুনিক ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের অধিবাসীগণ তাদের দেশকে পারসিয়ান ইরাক বা পারস্য-ইরাক বলত। এ অঞ্চলে ইরাক আরাবি (Iraq arabi) নামে একটি প্রসিদ্ধ এলাকা ছিল। ইরাক রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পূর্বে ইরাক আরাবি বাগ্ভঙ্গি দ্বারা বাগদাদ ও বসরাসহ এর আশেপাশের এলাকাকে বুঝানো হতো। ইরাকের প্রাচীন নাম ছিল মোসোপটোমিয়া। গ্রিক মেসোপটোমাস হতে মেসোপটোমিয়া শব্দটি এসেছে। গ্রিক শব্দ মেসো (meso) এবং পটোমাস (potamos) যুক্ত হয়ে মেসোপটোমিয়া নামের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য গ্রিক, মেসো শব্দের অর্থ মধ্যবর্তী এবং পটোমাস শব্দের অর্থ নদী। সুতরাং মেসোপটোমাস বা মেসোপটোমিয়া শব্দের অর্থ নদীর মধ্যবর্তী। এলাকাটি তাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস নদীর মাঝখানে অবস্থিত ছিল। তাই এর নাম রাখা হয় মেসোপটোমিয়া।

ইরাকের আয়তন ৪,৩৭,০৭২ বর্গ কিলোমিটার বা ১,৬৯,২৩৪ বর্গমাইল। আয়তন বিবেচনায় ইরাক পৃথিবীর ৫৯-তম বৃহত্তম দেশ। মোট আয়তনের মধ্যে জলীয় অংশের পরিমাণ ১.১ ভাগ। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের অনুমিত হিসাবমতে, জনসংখ্যা ৩,৭০,৫৬,১৬৯। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৮২.৭/বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা বিবেচনায় ইরাক বিশ্বের ৩৬-তম বৃহত্তম দেশ কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় ১২৫-তম। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে ইরাকের জিডিপি (পিপিপি) ৫২২.৭০০ বিলিয়ন (৩৭-তম) এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ১৪,৫৭১ (৩৭-তম) ইউএস ডলার। একই বছরের হিসাবমতে, জিডিপি (নমিনাল) ২৪০.০০৬ (৪৭-তম) বিলিয়ন এবং সে হিসাবে মাথাপিছু আয় ৬,৪৯১ (৮৮-তম) ইউএস ডলার। গিনি ২৯.৫ এবং এইচডিআই ০.৬৪২ (১২০-তম)। ইরাকের বর্তমান মুদ্রার নাম দিনার। ল্যাটিন দেনি (deni) থেকে দিনার শব্দের উৎপত্তি। উল্ল্যেখ্য ল্যাটিন দেনি শব্দের অর্থ দশ।

ইরাক সরকারিভাবে ইরাক প্রজাতন্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র। বাগদাদ ইরাকের রাজধানী। ইরাকের দক্ষিণে কুয়েত এবং সৌদি আরব, পশ্চিমে জর্ডান, উত্তর-পশ্চিমে সিরিয়া, উত্তরে তুরস্ক এবং পূর্বে ইরান অবস্থিত। ইরাকের পতাকা তিনটি আনুভূমিক ডোরায় বিভক্ত। উপরেরটি লাল, নিচেরটি কালো এবং মাঝখানেরটি সাদা। মাঝখানের সাদা ডোরায় তিনটি তারকা রয়েছে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এ অংশে আল্লাহু আকবর বাক্যটি যুক্ত করা হয়। আরবি ও কুর্দিশ ইরাকের দুটি দাপ্তরিক ভাষা। তবে তুর্কম্যান, অ্যাসিরিয়ান ও আর্মেনিয়ান ভাষাতেও অনেকে কথা বলে। ইরাকের রাজনীতি একটি ফেডারেল সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান।

কোনো ইরাকির অধিকারে থাকা কোনো কিছুর প্রশংসা করলে, যেমন ফুলদানি; ওই ইরাকি সাধারণত প্রশংসার বস্তুটি প্রশংসাকারীকে গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করে। তাই ইরাকে অযথা অন্যের কোনো বস্তুর প্রশংসা করা শোভনীয় মনে করা হয় না। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক ইরাকিদের বিয়ে হয় তাদের চাচাত-মামাত বা ফুপাত ভাইবোনদের মধ্যে। ইরাকের নারীরা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক স্বাধীনতা ভোগ করে। তবে আরব যুদ্ধের পর মেয়েদের অবস্থা অনেক নাজুক হয়ে পড়ে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলো মেয়েদেরকে বোরকা পরতে এবং পশ্চিমাধাচের পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। অধিকন্তু বহু সংখ্যা ইরাকি মহিলা ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির কারণে যৌনদাসী হিসাবে বিক্রি হতে বাধ্য হচ্ছে। ইরাকি পরিবার সাধারণত অনেক বড় হয়ে থাকে। তাদের পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়। অধিকাংশ পরিবার এক বাড়িতে থাকে। পরিবারের সদস্য বৃদ্ধি পেলে বাড়িকে বড় করা হয়। তবু সহজে তারা পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না।

ইরাক মূলত মরুময় দেশ, কিন্তু দজলা ও ফোরাতের মধ্যবর্তী অববাহিকার ভূমি উর্বর। নদীগুলি প্রতিবছর প্রায় ৬ কোটি ঘনমিটার পলি বদ্বীপে বয়ে নিয়ে আসে। দেশটির উত্তরাঞ্চল পর্বতময়। সর্বোচ্চ পর্বতের নাম চিকাহ দার, উচ্চতা ৩,৬১১ মিটার। ইরাকের মানচিত্রের আয়তন দেখতে অনেকটা একটু টুকরো পাই (pie) এর মতো। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্তের ৩৬ মাইল প্রসারিত তটরেখা ছাড়া বাকি পুরোটাই ভূমিবেষ্ঠিত। ইরাকের সঙ্গে ইরানের ১,৪৫৮ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ইরাকি জনগণের অর্ধেক আধুনিক সুযোগ-সুবিধাহীন মরুভূমিতে বসবাস করে। ইরাকের জলবায় মূলত ঊষর। শীতকাল শুষ্ক ও ঠা-া; গ্রীষ্মকাল শুষ্ক, গরম, ও মেঘহীন। উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে ভারী বরফ পড়ে এবং এতে মাঝে মাঝে বন্যার সৃষ্টি হয়। খেজুরের জন্য ইরাক বিখ্যাত। ইরাকে প্রায় ২২ মিলিয়ন খেজুর গাছ রয়েছে। পৃথিবীতে খেজুর উৎপাদনকারী ৩টি দেশের মধ্যে ইরাক হচ্ছে অন্যতম।

১৯৮০-১৯৮৮ এর উপসাগরীয় যুদ্ধে দশ লক্ষ লোক নিহত হয়। যুদ্ধ ইরাককে প্রায় দেউলিয়ে করে দেয়। এ অবস্থায় অর্থের জন্য পাগল হয়ে যায় ইরাক। সাদ্দাম হোসাইন তেলক্ষেত্র দখলের জন্য ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে কুয়েত আক্রমণ করে বসে। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি কোয়লিশন সাদ্দাম হোসেনকে কুয়েত হতে তাড়িয়ে দেয়। তবে তিনি ইরাকের ক্ষমতায় থেকে যায়। ইরাক যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে ৮০০ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকার ৪,৫০০ এর অধিক সৈন্যকে হত্যা করা হয় এবং আহতের সংখ্যা ৩০ হাজার। সবমিলে এ যুদ্ধে ১.৫ মিলিয়ন আমেরিকান নিয়োজিত ছিল। ২০০৩ হতে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ইরাকি মারা যায়। যাদের ৫ জনের মধ্যে চারজনই ছিল বেসামরিক লোক। ইরাকে একসময় অত্যন্ত উঁচু গুণগত মানের স্কুল ছিল। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে উপসাগরীয় যুদ্ধ (Gulf Warৎ) এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার পর দেশটির শিক্ষার মান দ্রুত নিচে নামতে থাকে। এখন ইরাকে ৪০ ভাগের অধিক লোক লিখতে ও পড়তে পারে না।
২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ইরাক আক্রমণে বিশ্বের ৩৫টি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছিল। এ যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৫০ হাজার, গ্রেট ব্রিটেন ৪০ হাজার এবং অস্ট্রেলিয়া ২ হাজার সৈন্য প্রেরণ করে। বাকি ৩২টি দেশ সমর্থন দেয় এবং বিমান আক্রমণের নিরাপত্তা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ফ্রান্স ও জার্মানি এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বের ১০ মিলিয়ন লোক ইরাকে মার্কিন আক্রমণের প্রতিবাদে মিছিল কলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে বাগদাদ চিড়িয়াখানা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। এখানে ৬০০ এর অধিক প্রজাতির প্রাণী ছিল। মার্কিন আক্রমণের পর বাগদাদের চিড়িয়াখানা ব্যাপক ধ্বংস হয়। দস্যুরা এমনভাবে চুরি করেছিল যে, চিড়িয়াখানায় মাত্র ৫০টি জন্তু অবশিষ্ট থাকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়লেও এতে পর্যটকদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় স্থান আছে। সামারা শহর একটি ইউনেস্কো World Heritage Site হিসেবে গণ্য। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলিতে প্রায় ৭০০০ বছরের পুরনো সংস্কৃতির সন্ধান পাওয়া গেছে। মূলত মৃৎশিল্পের নিদর্শনই বেশি। আব্বাসিদ খলিফারা ৮ম শতকে বাগদাদ থেকে রাজধানী সামারায় সরিয়ে নেন, এবং এর ফলে এখানে অনেক নতুন স্থাপত্যের সৃষ্টি হয়। এদের মধ্যে অন্যতম হলো সামারার বিখ্যাত সর্পিলাকার মসজিদ মিনার। ইরাকে মার্কিন-অবস্থান বিরোধীরা ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে মিনারটিতে বোমা হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করেছে। শহরটিতে দুইজন শিয়া ইমামের মসজিদও আছে এবং সেগুলি শিয়া মুসলিমদের তীর্থস্থান।

আরবি ইরাকের সরকারি ভাষা। ইরাকের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি জনগণের মাতৃভাষা আরবি। ইরাকে প্রচলিত আরবি ভাষার লিখিত রূপটি ধ্রুপদী বা চিরায়ত আরবি ভাষার একটি পরিবর্তিত রূপ। কিন্তু কথা বলার সময় ইরাকের লোকেরা আরবির বিভিন্ন কথ্য উপভাষা ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে মেসোপটেমীয় বা ইরাকি আরবি উপভাষাটিতে ১ কোটিরও বেশি লোক কথা বলেন। ইরাকের জনসংখ্যার ৯৭% মুসলিম। খ্রিষ্টানও রয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশ রোমান ক্যাথলিক। ইরাকে চার্চের বাইরে খ্রিষ্টানধর্ম নিয়ে আলোচনা বা খ্রিষ্টানধর্ম বিষয়ক প্রচার নিষিদ্ধ। সেমিটীয় আরবি ভাষার বাইরে ইরাকে বিভিন্ন ইরানীয় ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে কুর্দি ভাষা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ইরাকের জনগণের প্রায় ২০% কুর্দি ভাষায় কথা বলে। ইরাকে দুটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর লোক বাস করে। এটি আরব এবং অন্যটি কুর্দ। কুর্দরা ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ইরাক-মার্কিন যুদ্ধে আমেরিকাকে আক্রমণে সহায়তা করেছিল। তাই মার্কিন পরামর্শে তত্ত্বাবধানে রচিত ইরাকের নতুন সংবিধানে কুর্দিদের স্বায়ত্ত্বশাসন নিশ্চিত করে আনুগত্যের পুরস্কার দেওয়া হয়। আরব-আমেরিকান ইন্সটিটিউটের হিসাব অনুযায়ী ১ লাখ ৪০ হাজার ইরাকি-আমেরিকান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে।

ইরাকের ইতিহাস বিশ্বের অনেক আবিষ্কার ও কৃতিত্বের সঙ্গে জড়িত। প্রাচীন ইরাকে সময় গণনার অন্যতম একক ঘণ্টা, মিনিট ও সেকেন্ড আবিষ্কার হয়েছে। মানব ইতিহাসের যুগপরিবর্তনকারী চাকা, লিখন, নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডার, মানচিত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলের জন্মস্থান হচ্ছে ইরাক। পৃথিবীতে প্রথম লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন হয় ইরাকে। এটি খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে। এটাকে বলা হতো কিউনিফরম (cuneiform)। এ পদ্ধতির লিখনে ৬০০ চিহ্ন ব্যবহার করা হতো এবং প্রতিটি চিহ্ন একটি শব্দ বা শব্দাংশ প্রকাশ করত। সুমেরিয়ান, আক্কাইদিয়ান, ব্যবিলনিয়ান, অ্যাসিইরিয়ান, পারস্য, গ্রিক, আরব, অটোমান প্রভৃতি শক্তিশালী সাম্রাজ্যের অনেক বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়কদের পদভারে মুখরিত ছিল ইরাক। সার্গন, দ্বিতীয় হাম্মুরাবি, সনচেরিব, দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার, সাইরাস দ্যা গ্রেট, আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট, আবুল আব্বাস, হালাগু খান এবং মহান সুলাইমানসহ আরও অনেক বিশ্বখ্যাত রাজন্যবর্গের পদচিহ্নের ইতিহাস ইরাকে বক্ষ ধারণ করে আছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক লিওনার্দ ওলে (Leonard Woolley) নিশ্চিত করেছেন যে, কালো বিড়ালে ভয়, রাতদিনে বার ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টা গণনা এবং নক্ষত্র দ্বারা ভাগ্য গণনা প্রভৃতি ইরাকে প্রথম আবিষ্কার ও চালু হয়। বাইবেল অনুসারে, আব্রাহাম (ইব্রাহিম) যে ঊর নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছেন, তা ছিল দক্ষিণ ইরাকে। ইসহাক নবির স্ত্রী রেবেখা ইরাকের নাহোর নামক স্থানে জন্ম্রগ্রহণ করেন। অধিকন্তু কথিত হয় ইরাক ছিল বাইবেলে বর্ণিত ইডেন গার্ডেনের একটি অন্যতম অংশ। এপিক গিলগামেশ (The Epic of Gilgamesh) পৃথিবীর প্রথম লিখিত গল্প। এখানে পৌরাণিক এক রাজার যুদ্ধ এবং য্দ্ধু করে প্রাচীন ইরাকি শহরকে রক্ষার লোমহর্ষক বিবরণ রয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত গল্প আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পটি এক হাজার বছর আগে ইরাকেই লেখা হয়েছিল।

ইরাকে সাদ্দম হোসেন এক নতুন আইন জারি করেছিল। সেটি হচ্ছে, পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে যিনি কোনো নারীকে হত্য করে, তাহলে তাকে শাস্তি হতে রেহাই দেয়া যাবে। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের পর হতে ইরাকে এ সম্মান-পুনরুদ্ধার অপরাধেক উত্থান দেখা গিয়েছিল। মনুষ্য যুগের সূচনালগ্ন হতে ইরাকের উন্নতি অবনতির সঙ্গে বিশ্বের উন্নতি-অবনতি জড়িয়েছিল। তাই ইরাকের ডাক নাম সভ্যতার দোলনা (cradle of civilization)।

 

error: Content is protected !!