ইসরায়েল (Israel) : ইতিহাস ও নামকরণ

কীভাবে হলো দেশের নাম (এশিয়া)

ড. মোহাম্মদ আমীন

ইসরায়েল (Israel)

ইসরাইল এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের একটি ইহুদি রাষ্ট্র। এর উত্তরে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্ডান পূর্ব ও পশ্চিমে যথাক্রমে পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখ- এবং দক্ষিণপশ্চিমে মিশর। ইসরাইলি পতাকায় রয়েছে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ অক্টোবর এটি গৃহীত হয়। এর মাঝখানে তারকা চিহ্নটি দাউদ নবির সিলমোহর।

ইসরায়েল নবির নাম হতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের নাম। ইসরাইল নবির আর এক নাম ইয়াকুব। ইসরায়েল অর্থ ইসরাইল নবি ও তার সন্তানদের দেশ। ইসরায়েল নামের সঙ্গে ইসরায়েলের নবি (The Prophet of Israel) এবং ইসরাইলের শিশু (The Children of Israel) কথাগুলো সংশ্লিষ্ট। ইহুদি সাহিত্যিক ও ইতিহাসবেত্তাগণ বলেন, ইসরাইল নামের উৎপত্তির সঙ্গে আম ইসরায়েল (Am Isra’el) এবং বনি ইসরাইল (Benei Isra’el) ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ইসরাইল শব্দের আক্ষরিক অর্থ ঈশ্বরের জন্য সংগ্রাম। বাইবেলের অন্যতম চরিত্র ইয়াকুবকে (Jacob) দেওয়া অভিধা হিসাবে হিব্রু বাইবেল হতে নামটির উৎপত্তি হয়েছে। আদিপুস্তক (Book of Genesis) অনুযায়ী, ইয়াকুব একজন আগুন্তুকের সঙ্গে একটা নদীর হাটুজলে কুস্তি শুরু করেন। প্রবল অধ্যবসায়ের কারণে ইয়াকুব জয়ী হন। ইয়াকুব ঈশ্বরের পক্ষে অধ্যবসায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন। তাই ঈশ্বর তার নাম পরবির্তন করে ইসরাইল রাখেন। ইসরাইলের নবি ইয়াকুব ও তার উত্তরপুরুষগণ অর্থাৎ ইসরাইলের সন্তানগণ এ ভূখ-ে বসবাস করেন। তাই এর নাম রাখা হয় ইসরাইল।

ইসরায়েলের আয়তন ২০,৭৭০/২২,০৭২ বর্গ কিলোমিটার বা ৮,০১৯/৮,৫২২ বর্গমাইল। তন্মধ্যে জলীয়ভাগের পরিমাণ ২.১২ ভাগ। আয়তন বিবেচনায় ইসরাইল বিশ্বের ১৫৩-তম দেশ। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী ইসরাইলের জনসংখ্যা ৮২,৩৮,৩০০, প্রতিবর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা ৩৮৭.৬৩। জনসংখ্যা বিবেচনায় এর অবস্থান বিশ্বে ৯৬-তম। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে এ অবস্থান ছিল ৯৯-তম। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় বিশ্বের ইসরাইলের অবস্থান ৩৪-তম। জনসংখ্যার মধ্যে ৭৪.৯% ইহুদি, ২০.৭% আরব এবং ৪.৪ ভাগ নন-আরব খ্রিষ্টান ও অন্যান্য। ৯২ % ইহুদি শহরে বসবাস করে।২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের হিসাবমতে ইসরাইলের জিডিপি (পিপিপি) ২৮১.৭৫৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার, সে হিসাবে মাথপিছু আয় ৩৩,৬৫৮ ইউএস ডলার (২৫-তম)। জিডিপি নমিনাল ২৯৮.৮৬৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৩৫,৭০২ ইউএস ডলার (২৫-তম)। গিনি ৩৯.২ এবং এইচডিআই ০.৮৮৮(১৯-তম)। যা অত্যন্ত উুঁচ।

ইসরায়েল ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তবে, বিশ্বের ৫০টা মুসলিম রাষ্ট্রের ৩০টি এখনও ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এ অঞ্চলের গাজা উপত্যকা, পশ্চিমতীর ও গোলান মালভূমি ইসরায়েলের দখলে থাকা বিতর্কিত স্থান। ইসরাইলের মুদ্রার নাম ইসরাইলি নিউ সেকেল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিনসহ বেশিরভাগ আরব এলাকা ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে চলে যায়। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদিবাদীদের কাছে লেখা একপত্রে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধমে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।

১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্রিটিশের সহায়তায় ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হয়। এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসীদের ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫ হাজারে ছাড়িয়ে যায়। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদিদের সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে গিয়ে পৌঁছে। এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সেখানে ইহুদির সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়।

১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত ইহুদি বাহিনী ‘হাগানাহ’ গঠিত হয়। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের অবৈধ রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদিদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনি জনগণের বাড়িঘর ও ক্ষেতখামার দখল করে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করাই ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখন্ডকে দ্বিখণ্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখ-িত করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের জন্য রেখে, বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইসরাইলের সংবিধান লিখিত নয়। অলিখিত সংবিধানে শাসিত পৃথিবীর তিনটি দেশের মধ্যে ইসরায়েল অন্যতম। বাকি দুটো দেশ হচ্ছে ব্রিটেন ও নিউ জিল্যান্ড। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাচিত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডামেয়ার বিশ্বের তৃতীয় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

ইসরায়েলের দক্ষিণে বিশাল নেগেভ মরুভূমি আর উত্তরে বরফাবৃত পর্বতমালা। দক্ষিণে লোহিত সাগরের এক চিলতে প্রবেশপথ রয়েছে। ইসরায়েল একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ক্নেসেট নামের আইনসভার উপর ন্যস্ত। ইসারায়েলের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ খুব কম। তবে মানবসম্পদের দিক থেকে দেশটি পৃথিবীর সেরা হিসাবে গণ্য।
ইসরায়েল ভাষাগত ও সংস্কৃতিগতভাবে বিচিত্র। এথনোলগের ১৫শ সংস্করণ অনুসারে ইসরায়েলে ৩৩টির মতো ছোট-বড় ভাষা ও উপভাষা প্রচলিত। ইসরায়েলি নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান প্রদানের জন্য মূলত আধুনিক হিব্রু ভাষা ব্যবহার করেন। আধুনিক হিব্রু ভাষাটি ১৯শ শতকের শেষ দিকে প্রাচীন হিব্রু ভাষার বিভিন্ন উপভাষার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। বর্তমানে হিব্রু ও আরবি ইসরায়েলের সরকারি ভাষা। ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘটনের পূর্ব পর্যন্ত হিব্রু ছিল ল্যাটিন বা সংস্কৃতির মতো একটি মৃতভাষা। ধর্মকর্ম ছাড়া আর কোনো কাজে এর ব্যবহার ছিল না। ইসরাইল হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র দেশে, যে হিব্রুর মতো একটি মৃতভাষাকে নাগরিকদের লিখিত ও মৌখিক ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রভাষার মর্যদা দিতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েলের পর্যটন মূলত ইহুদী ধর্মের পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দেশটির সর্বত্র ইহুদী ধর্মের ও প্রাচীন সভ্যতার স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রতœতাত্ত্বিক স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইহুদীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান জেরুজালেম। জেরুজালেমের ইহুদী মন্দির ও পশ্চিম দেওয়াল বিখ্যাত। এছাড়া আছে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহেম ও বাসস্থান নাজারেথ। আরও আছে লবণাক্ত মৃত সাগর, যার পানিতে ভেসে থাকা যায়।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ইসরায়ের পৃথিবীর প্রথম স্থানে। জনসংখ্যা বিবেচনায় ইসরায়েলে কলেজ ডিগ্রিপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বিশ্বে সর্বাধিক। মিউজিয়াম ও স্টার্টআপ কোম্পানির সংখ্যতেও একই কথা প্রযোজ্য। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ইসরায়েল কম্পিউটারের এন্টিভাইরাস আবিষ্কার করে। ইসরাইল যতগুলো ভাষার এবং যতসংখ্যক পুস্তকের অনুবাদ প্রকাশ করেছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি করতে পারেনি। মাথাপিছু নতুন বইয়ের সংখ্যা বিবেচনায় ইসরাইলের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। ইসরাইলের বের-শহরে জনসংখ্যা অনুপাতে দাবা গ্র্যান্ড মাস্টারের সংখ্যা বিশ্বে সর্বাধিক। ইসরাইলে নিবন্ধকৃত আইনজীবীদের মধ্যে ৪৪% মহিলা। ইসরাইলের জনগণের গড় আয়ু ৮২ বছর।আয়তনে ছোট হলেও ইসরায়েলের বিমান বাহিনি পরিধি ও শক্তি বিবেচনায় বিশ্বে চতুর্থ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চায়নার পর ইসরায়েলি বিমান বাহিনির স্থান। হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি নেওয়ার পর ইসরাইলের প্রত্যেক নারী-পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণের এ সীমা বালকদের জন্য তিন বছর এবং বালিকাদের জন্য দুই বছর।

আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ইসরায়েল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ হিসাবে পরিচিত। প্রতিদিন তারা নতুন নতুন জিনিস ও আকর্ষনীয় সফটওয়্যার আবিষ্কার করছে। উইন্ডোজ এনটি ও এক্সপি (Windows NT and XP), ভয়েস মেইল সিস্টেম (voicemail system), পেন্টিয়াম-৪, সেন্ট্রিনো প্রসেসর (Centrino processors), এওএল ইনস্ট্যন্ট মেসেঞ্জার প্রযুক্তি (AOL Instant Messenger technology) এবং চিরন্তন আবশ্যক মোবাইল ফোনের আবিষ্কার হয়েছে ইসরায়েলে। মোটোরোলা কোম্পানি ইসরায়েলে সেলফোন আবিষ্কার করে। এসব আবিষ্কার পুরো পৃথিবীর মানুষের জীবনযাত্রা ও আচরণ বদলে দিয়েছে। ইসরায়েলের ছোট্ট ভূখ-ে রয়েছে ৩,৫০০টি অতি উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন বিশালাকার কোম্পানি। উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন আধুনিক কোম্পানির সংখ্যা, গবেষণা ও আবিষ্কারের ধরণ প্রভৃতি বিবেচনায় ইসরায়েলের স্থান সিলিকন ভ্যালির পর দ্বিতীয়। পৃথিবীর যে নয়টি দেশ মহাশূণ্যে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রেরণ করেছে, তন্মধ্যে ইসরায়েল অন্যতম। ইসরাইলি প্রযুক্তির দ্বারা এখন হার্ট টিস্যু রিজেনারেশন সম্ভব হয়েছে।

ইসরায়েলি কাগজি মুদ্রার নাম ইসরায়েলি নিউ সেকল। এ মুদ্রায় ব্রেইল চিহ্ন আছে। যাতে অন্ধরাও সহজে মুদ্রা চিনতে পারে। ইসরায়েল হচ্ছে বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি হার বিবেচনায় পৃথিবীতে তৃতীয়। ইসরাইলের ৫৫ ভাগ নারীপুরুষ বাণিজ্যিক কর্মকা-ে জড়িত। জনসংখ্যা অনুপাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ। ইসরায়েল তাদের নিরাপত্তার জন্য পৃথিবীর অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে অধিক অর্থ ব্যয় করে। এ খরচ অর্ধেক কমালেও ইসরায়েল পৃথিবীর এক নম্বর ধনী দেশে পরিণত হবে।

কৃষিতে ইসরায়েলের উন্নয়ন বিস্ময়কর। সব্জি ও মিষ্টি ভক্ষণে ইসরায়েল পৃথিবীর তৃতীয়। বিগত ২৫ বছরে ইসরায়েলি কৃষির সাতগুণ বিস্তার ঘটলেও কৃষিকাজে পানি ব্যবহারের পরিমাণ একই রয়ে গেছে। পৃথিবীতে ইসরায়েলই হচ্ছে একমাত্র দেশ, যে দেশে একবিংশ শতকে বৃক্ষের সংখ্যা বিংশ শতকের চেয়ে অনেক বেশি। ইলা (Eilat) ও হিলা (Hula) উপত্যাকা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পক্ষি পর্যবেক্ষণ স্থান হিসাবে খ্যাত। স্যাকলিমান পারসিকাম (Cyclamen persicum) ইসরাইলের জাতীয় ফুল। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ভ্যালেন্টাই দিবসে ইসরাইল থেকে ৬০ মিলিয়ন ফুল ইউরোপে পাঠান হয়েছে। ইসরাইলের অন্তর্গত ডেডসি পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান। ডেডসির জলে সহজে ভেসে থাকা যায়। গ্যালিলি সাগর (Sea of Galilee) সমুদ্র সমতলের ০.২১২ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিচুতম সুস্বাদু জলের হ্রদ। জেরুজালেমের মাউন্ট অলিভস (Mount of Olives) হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত বিশ্বের প্রাচীনতম সমাধিক্ষেত্র। হুইপাই ইসরাইলের জাতীয় পাখি।

ইসরায়েলের বাস স্টপেজে দাতব্য প্রদানের জন্য জিদোয়াকা নামের দানবক্স দেখা যায়। ইসরাইলিরা এখানে প্রচুর দান করেন। পৃথিবীর প্রাচীনতম কুকুর-সমাধি ইসরাইলের উপকূলীয় এলাকা আসকেলনে আবিষ্কৃত হয়েছে। ইসরাইলের ২৭৩ মাইল দীর্ঘ তটরেখার এলাকার মধ্যে ১৩৭টি অত্যাধুনিক সৈকত রয়েছে।

২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৮৫০ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। তন্মধ্যে কমপক্ষে ২২% ইহুদি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জনের সংখ্যা বিবেচনা করলে তা ২৪%। অথচ পৃথিবীতে ইহুদির সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২%। বিষয়ভিত্তিক হিসাবে মোট প্রদত্ত নোবেল পুরস্কারের মধ্যে পুরস্কার অর্জনকরী ইহুদির শতকরা হার অর্থনীতিতে ৪১%, চিকিৎসা শাস্ত্রে ২৮%, পদার্থ বিদ্যায় ২৬%, রসায়নে ১৯%, সাহিত্যে ১৩% এবং শান্তিতে ৯%।


মৌরিতানিয়া (Mauritania) : ইতিহাস ও নামকরণ

মরক্কো (Morocco) : ইতিহাস ও নামকরণ

মরিশাস (Mauritius) : ইতিহাস ও নামকরণ

মোজাম্বিক (Mozambique): ইতিহাস ও নামকরণ

বার্মা (Burma) : ইতিহাস ও নামকরণ

কিরগিজিস্তান (Kyrgyzstan) : ইতিহাস ও নামকরণ

জাপান (Japan) : ইতিহাস ও নামকরণ

জাপান (Japan) : ইতিহাস ও নামকরণ

সূত্র:  কীভাবে হলো দেশের নাম, ড. মোহাম্মদ আমীন, পুথিনিলয়, বাংলাবাজার, ঢাকা।

error: Content is protected !!