ইয়াস: ঘূর্ণিঝড় Yash: উচ্চারণ এবং অর্থ: ঘূর্ণিঝড় আম্ফান/ আম্পান: শব্দের অর্থ

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/ইয়াস-ঘূর্ণিঝড়-yash-উচ্চারণ-এব/
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস
Yash (ياش) ওমান সরকারের দেওয়া নাম হতে গৃহীত ঘূর্ণিঝড়ের একটি প্রতীকি নাম। এটি আরবি শব্দ। যার বাংলা প্রতিশব্দ: হতাশা, নিরাশ, অবসন্ন, আশাহত। এবার দেখা যাক, নামটি কীভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে গৃহীত হলো।
ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (WMO) এবং ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য পেসিফিক (ESCAP) এর আটটি সদস্য দেশ (ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড) সমন্বিতভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে থাকে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ESCAP-এ ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন যোগ দেয়। ফলে মোট সদস্য হয় ১৩। প্রতিটি সদস্য দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নামের একটি তালিকা পাঠায়। এর পর WMO এবং ESCAP এর কর্মকর্তৃবৃন্দের নিয়ে গঠিত “প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস (PTC)” ঘূর্ণিঝড়ের নাম চূড়ান্ত করে। এই প্রক্রিয়ায় ওমানের দেওয়া ইয়াস নামটি আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের নাম হিসেবে ‍গৃহীত হয়েছে।
Yash-এর আরবি উচ্চারণ বাংলা ইয়াস (ইআস্‌) উচ্চারণের কাছাকাছি। ইংরেজি উচ্চারণও ইয়াস। তাই শব্দটির বাংলা বানান হবে ইয়াস। কেউ কেউ লিখছেন ‘যশ’। এটি শুদ্ধ নয়। উচ্চারণ ও প্রতিবর্ণীকরণবিধি অনুযায়ী বানানটি হবে— ইয়াস। কারণ ‘ইয়াস’ লিখলে মূল শব্দের উচ্চারণের প্রায় অবিকল হয়। অধিকন্তু, তৎসম ও তদ্ভব শব্দের বানানে সাধারণত অন্তস্থ-য ব্যবহার হয়, বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে য ব্যবহার করা হয় না। অতএব, আরবি ياشশব্দের সঠিক বাংলা বানান হবে ইয়াস। গুটিকয়েক পত্রপত্রিকা বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ পত্রপত্রিকাও ‘ইয়াস’ লিখছে। কিছু কিছু পত্রিকা লিখছে যশ। ‘যশ’ মূল শব্দের উচ্চারণ বিবেচনায় শুদ্ধ নয়।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান/ আম্পান শব্দের অর্থ

আম্ফান (Amphan)/ আম্পান একটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম। যা ২০/৫/২০২০ খ্রি. তারিখ আঘাত হানতে পারে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু উপকূলীয় এলাকায়। ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (WMO) এবং ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য পেসিফিক (ESCAP) এর আটটি সদস্য দেশ: ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ড সমন্বিতভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে আসছে বিশ বছর পূর্ব থেকে।
২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ESCAP-এ ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন যোগ দেয়। ফলে মোট সদস্য হয় ১৩। প্রতিটি সদস্য দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য নামের একটি তালিকা পাঠায়। এর পর WMO এবং ESCAP এর কর্মকর্তৃবৃন্দের নিয়ে গঠিত “প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস (PTC)” ঘূর্ণিঝড়ের নাম চূড়ান্ত করে। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে আইএমডি ১৬৯টি নামের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ১৩টি দেশ থেকে ১৩টি করে নাম নির্বাচন করা হয়। নতুন তালিকায় ঢোকানো হয় পূর্বের তালিকার একটি নাম। সেই নামটি হচ্ছে আম্ফান।
আম্ফান থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। মূল থাই ভাষা হতে উদ্ভূত উভয়লৈঙ্গিক আম্ফান বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ হিসবে ব্যবহৃত হয়। এর আভিধানিক অর্থ প্রচণ্ডতা, দৃঢ়তা, শক্তিমত্তা, বিস্তৃত প্রসারতা, সীমাহীনতা, অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয়, যার সীমা নেই, মেঘের আলয়, ভীষণাম্বর, শক্তিশালী, ভয়ংকর প্রভৃতি।
থাইল্যান্ডে শব্দটি প্রধানত ‘সর্বত্র ভীষণ প্রলয়ে বিস্তৃত স্বাধীনচেতা শক্তি’ অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। আম্ফান মূলত বিশেষণ হিসেবে শক্তি অর্থে
সমধিক ব্যবহৃত। বৈশেষণিক পদ ও শক্তির প্রতীক হিসেবে আম্ফান পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ার্থ প্রকাশ করতে পারে। প্রাচীন থাই বীরদের অনেককে আম্ফান নামে ডাকা হতো। এরা জল-স্থল, অন্তরিক্ষ সর্বত্র অবাধগতিতে ধ্বংসলীলা চালিয়ে নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হতো। কথিত হয়, এই বীরদের জন্য থাইল্যান্ডকে অন্য কোনো শক্তি কখনো পদানত করতে পারেনি। এজন্য তাকে থাইল্যান্ড বা মুক্তভূমি বলা হয়।
error: Content is protected !!