ই এবং ঈ বিধি; বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র; বাংলা বানান: শুদ্ধ বানান শেখার কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীন

ই এবং ঈ বিধি; বাংলা ব্যাকরণ সমগ্র; বাংলা বানান: শুদ্ধ বানান শেখার কৌশল

১. সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং তার কারচিহ্ন ি হবে। যেমন: আরবি, ইংরেজি, ইমান, উনিশ, কাহিনি, খুশি, গাড়ি, জমিদরি, জাপানি, পাখি, পিসি, বর্ণালি, বিবি, বেশি, রানি, রেশমি, সোনালি হাতি, হিজরি, হেঁয়ালি।

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

২. পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে। যেমন: ছেলেটি, মেয়েটি, বইটি, গাছটি।

৩. ক্রিয়াজ্ঞাপক শব্দের বানানে ই-কার হবে। যেমন: করি, ধরি, মরি, চিমটানো, ঝিমানো, মিশানো বিলানো।

৪. বিশেষণজ্ঞাপক ও ঈ-প্রত্যয়ান্ত স্ত্রীবাচক সংখ্যাবাচক শব্দ ছাড়া অন্যান্য সংখ্যাবাচক শব্দের বানানে ই-কার হবে। যেমন—তিন, উনিশ, বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, আশি, পঁচাশি।

৫. অতৎসম শব্দ স্ত্রীবাচক হলেও শব্দটির শেষে ই-কার হবে। যেমন: কাকি, গোয়ালিনি, চাচি, দাদি, দিদি, নানি, পিসি, পাগলি মামি।

৩. যেসব প্রশ্নবাচক বাক্যের উত্তর হ্যাঁ বা না হবে, সেইসব বাক্যে ব্যবহৃত ‘কি’ হ্রস্ব ই-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন: তুমি কি যাবে? তুমি কি খেয়েছ?

সংশ্লিষ্ট শব্দটির বানান জটিল বা প্যাঁচালো মনে হলে, ধরে নেবেন শব্দটি তৎসম হতে পারে। তারপরও যদি সংশয়ে পড়ে যান, ই-কার হবে না কি ঈ-কার হবে, অভিধান দেখারও সুযোগ না-থাকে, তখন কী করবেন? শব্দটি স্ত্রীবাচক কি না দেখুন। তারপর প্রাথমিক ধারণা প্রয়োগ করে ই-কার বসিয়ে দিন। শুদ্ধের ভাগে ৬২ পাবেন, আশা করা যায়।প্রথম বিভাগ।

৭। ভাষা ও জাতির মূল বানান প্রায় সবগুলো অতৎসম। তাই সব ভাষা ও জাতির বানানে ই-কার হবে। যেমন: আরবি, ফরাসি, ফারসি, ইংরেজি, জাপানি, জর্মনি, বাঙালি, পাকিস্তানি, হিন্দুস্থান, আফগানিস্তান, হিন্দি। তবে, ঈয়-প্রত্যয় যুক্ত হলে ভাষা ও জাতির বানানেও ঈ-কার হয়। যেমন: আরব+ঈয়=আরবীয়। অনুরূপ: ফরাসি>ফরাসীয়, ফারসি>ফারসীয়, ইংরেজি> ইংরেজীয়, জাপানি> জাপানীয়, জর্মনি/জর্মন> জর্মনীয়, বাঙালি> বাঙালীয়, হিন্দুস্থান> হিন্দুস্থানীয়, পাকিস্তান> পাকিস্তানীয়, আফগানিস্তান> আফগানিস্তানীয়। (হিন্দুস্থান বানানে স্থান, কিন্তু আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানানে স্তান।) কেন জানতে চাইলে খুঁজে দেখুন শুবাচে।

প্রশ্ন করতে পারেন: শ্রীলংকা, কাশ্মীর, মালদ্বীপ বানানে ঈ-কার কেন। কারণ এগুলো তৎসম। বহুল প্রচলনের কারণে চীন 
বানানে ঈ-কার রেখে দেওয়া হয়েছে।তাহলে ঈদ বানানে কেন ঈ-কার রাখা হয়নি? কারণ ঈ, ঋ, ণ ষ প্রভৃতি খাঁটি সংস্কৃত
 বর্ণ হিসেবে পরিচিত। এ বর্ণগুলো সংস্কৃত শব্দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই মধ্যপ্রাচ্যিক শব্দ বিবেচনায় ঈদ-সহ আরবি-ফারসি 
প্রভৃতি শব্দের বানান সংস্কৃত প্রভাবমুক্ত করে বাঙালি স্বকীয়তায় আনার জন্য ঈ/ঈ-কার দেওয়া হয় না।

৮। ব্যক্তির (প্রাণও বিবেচ্য) ক্ষেত্রে শব্দের শেষে সর্বদা -কারী, -চারী, -আরী হবে। যেমন: কর্মচারী, সহকারী, প্রস্তুতকারী, সহচারী, আকাশচারী, খগচারী, অধিকারী, উপকারী, নভোচারী, অহংকারী। ব্যক্তি না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝালে -কারী, -চারী, -আরী যথাক্রমে -কারি, -চারি ও -আরি হয়ে যাবে। যেমন: রকমারি, তরকারি, দরকারি, পাইকারি, পায়চারি, সরকারি।

৯। কোনো শব্দের অন্ত্যে ঈ-কার থাকলে এবং ওই শব্দের শেষে বহুবচনজ্ঞাপক পদাংশ ‘-গণ, -পরিষদ, -বর্গ প্রভৃতি যুক্ত হলে, ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন: মন্ত্রী> মন্ত্রিগণ, কর্মচারী> কর্মচারিগণ, কর্মী> কর্মিগণ, প্রার্থী> প্রার্থিগণ, সহকারী> সহকারিগণ, কর্মজীবী> কর্মজীবিগণ, মন্ত্রিবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ।

১০. পূজা-অর্চনা বা উপাসনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেবী, দেবীর নামে রাখা প্রাকৃতিক জলাশয়, স্থান কিংবা দেবীর নামের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত শব্দের শেষে ঈ-কার হবে। যেমন: দেবী, শ্রীদেবী, লক্ষ্মী, কালী, চণ্ডী, সরস্বতী, ভাগীরথী।

১১. চন্দ্রবিন্দু থাকলে ওই শব্দে একদম ঈ-কার দেবেন না। কারণ চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত সব শব্দই অতৎসম। যেমন: চিচিংফাঁক, ঘেঁষাঘেষি, ঝুঁকি, ফাঁকিবাজি, ফাঁসি।

দাদি বলে রাঁধি, চন্দ্রবিন্দুয় -কার বসায় গাধি।

১২. শেষে ঈ-কার আছে এমন কোনো তৎসম শব্দকে ঈ-প্রত্যয় (-নী, -ণী ) যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করতে গেলে ঈ-প্রত্যয় (-ণী/-নী) যেখানে বসবে তার আগের ঈ-কার, ই-কার করে দেবেন। যেমন: অধিকারী> অধিকারিণী, অধিবাসী> অধিবাসিনী, অধিরোহী> অধিরোহিণী, প্রতিযোগী> প্রতিযোগিনী, অনুরাগী> অনুরাগিনী, অনুসারী> অনুসারিণী, দুঃখী> দুঃখিনী, পালনকারী> পালনকারিণী।

 কেন?  থাকায় কয়েকটি শব্দের , ণত্ববিধিমতে,  হয়ে গেছে।  নিয়ে ভাববেন না, -এর পর  বসিয়ে দেবেন।

১৩। কোনো শব্দের শেষে ঈ-কার থাকলে (সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দ) এবং এর শেষে -ত, -তা, -ত্ব, প্রত্যয় যুক্ত করলে প্রত্যয়ের আগের ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন: গন্ত্রী>গন্ত্রিত্ব, গন্ত্রিতা, গন্ত্রিত; যন্ত্রী> যন্ত্রিত, যন্ত্রিত্ব; স্থায়ী>স্থা য়িত্ব, দায়ী> দায়িত্ব, মন্ত্রী> মন্ত্রিত্ব, চমৎকারী> চমৎকারিত্ব; কৃতী> কৃতিত্ব, নীতি> নেতৃত্ব, প্রার্থী> প্রার্থিতা, উপকারী> উপকারিতা, সহযোগী> সহযোগিতা, পরাধীন> পরাধিনতা, আত্মীয়> আত্মিয়তা।

সতীর সতিত্ব আর কৃতীর কৃতিত্ব -কার নিয়ে চলন্ত।

১৪। কোনো বিশেষ্য বা বিশেষণের শেষে ঈ-কার থাকলে (সংস্কৃত ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দের ঈ-কারান্ত রূপ) এবং ওই শব্দটি সমাসবদ্ধ হলে ঈ-কার, ই-কার হয়ে যাবে। যেমন: প্রাণী> প্রাণিতত্ত্ব, প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিবিজ্ঞান; মন্ত্রী> মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিসভা, যন্ত্রী> যন্ত্রিবিদ্যা, যন্ত্রিশালা/যন্ত্রিশাল, গন্ত্রী> গন্ত্রিপরিষদ।

১৫. ব্যতিক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে -কৃত, -ভবন, -ভূত ও -করণ প্রভৃতি যুক্ত হলে বিশেষ্যের শেষের অ/আ/ই/ঈ-কার, ঈ-কার করে দেবেন। যেমন: সরল থেকে সরলীকরণ, ভস্ম থেকে ভস্মীকরণ, বক্র থেকে বক্রীকরণ, ব্যক্ত থেকে ব্যক্তীকরণ, বাজি থেকে বাজীকরণ এবং ঘন থেকে ঘনীকরণ, ঘনীকৃত, ঘনীভবন ও ঘনীভূত।

উৎস: ব্যাবহারিক প্রমিত বাংলা বানান সমগ্র, ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.।

ফেসবুক, ফেসবুক-এর বাংলা, ফেসবুক ওয়াল-এর বাংলা; খন্দকার বনাম খোন্দকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন: সভাপতির বাংলা বানান: বাংলা আমার ভালো নেই

#subach

Leave a Comment

You cannot copy content of this page

poodleköpek ilanlarıpoodleköpek ilanları
Casibomataşehir escortCasibomataşehir escort