ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণ: ড়-বিধি; ড় বর্ণে ঈ-কার ও ঊ-কার হয় না কেন: ঈশ্বরচন্দ্রের বর্ণ

 
ড. মোহাম্মদ আমীন 
 
 
সংযোগ: https://draminbd.com/ঈশ্বরচন্দ্রের-বর্ণ-ড়-বিধ/
 
র, ড় এবং ঢ়’ এর উচ্চারণে পার্থক্য থাকলেও তা খুবই সুক্ষ্ম। উপভাষায় এদের উচ্চারণগত পার্থক্য গ্রাহ্য করার মত ধ্বনিতাত্ত্বিক বোধ দুর্লভ। বিভিন্ন উপ-ভাষায় বর্ণ তিনটির উচ্চারণ পার্থক্য প্রায়শ একাকার হয়ে যায়। তাই ‘র ড় ঢ়’ নিয়ে বানান-বিভ্রান্তি হতে দেখা যায়।
সংস্কৃতে ‘ব-য়ে বিন্দু-র’ এর ব্যবহার ছিল কিন্তু ‘ড-য়ে বিন্দু-ড়’ এবং ‘ঢ-য়ে বিন্দু-ঢ়’ ছিল না। বাঙালিরা ‘ড় এবং ঢ়’ উচ্চারণ করায় পটু ছিলেন। তাই পীড়া, মূঢ়, দৃঢ় ইত্যাদির মত ‘ড় ঢ়’ যুক্ত শব্দগুলোর যথার্থ উচ্চারণ ও শুদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘ড এবং ঢ’ বর্ণে বিন্দু বসিয়ে ‘ড় এবং ঢ়’ অক্ষর দুটি সৃষ্টি করেন। উল্লেখ্য, বাংলা ভাষায় ‘ড় এবং ঢ়’ দিয়ে শুরু কোনো অক্ষর নেই। তাই ‘ড় এবং ঢ়’-কে অভিধানে আলাদা বর্ণ হিসেবে দেখানো হয় না। সংগতকারণে র-এর তুলনায় ‘ড় এবং ঢ়’ বর্ণ সমন্বয়ে গঠিত শব্দের সংখ্যা কম।
 
 
ড়-বিধি: ড় বর্ণে ঈ-কার ও ঊ-কার হয় না কেন
গাড়ি বাড়ি নাড়ি কিংবা কড়ি যতই আপনাকে টানুক না কেন, ড়-বর্ণে কখনো ঈ-কার দেবেন না। ড়-বর্ণে ঈ-কার এর স্থলে ই-কার হয়। যেমন: শাড়ি বাড়ি দাড়ি,  দড়ি দাঁড়ি, চিড়িয়াখানা, তাড়ি, হাড়ি, টাকাকড়ি। মনে রাখবেন, ড়-য়ে কখনো ঈ-কার হয় না। আধুনিক বাংলায় কোনো শব্দের বানানে ‘ড়ী’ দেওয়া হয় না।যেমন:  চিড়িয়াখানা ছাড়াছাড়ি হাড়ি মাড়ি তাড়ি ধাড়ি দড়ি ইত্যাদি।
ড়-ছড়া
 
ধাড়ি বুড়ি  নুড়ি ছুঁড়ি
ভাঁড়ি তাড়ি হাঁড়িকুড়ি   
গাড়ি চড়ি তাড়াতাড়ি
নাড়ির টানে ছুটছে বাড়ি
 
মাড়ির ব্যথার ওষুধবড়ি
টাকাকড়ি হাতিঘড়ি
লাঠিছড়ি লালচে শাড়ি
আড়াআড়ি লাঠিছড়ি 
 
নাড়ির টানে শহর ছাড়ি
মায়ের কোলে গড়াগড়ি।
 
 
 
error: Content is protected !!