ঈশ্বর হারলেন যবন জিতলেন

ঈশ্বর, মানে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং ইংরেজ অথ্যাপক লেথব্রিজ হুগলী নদীর তীরে হাওয়া খাচ্ছিলেন। দুজন মাঝে মাঝে নদীর তীরে হাঁটেন।
লেথব্রিজ গর্বের সঙ্গে বললেন, জান ঈশ্বর, আমি ভালো বাংলা জানি। আসলেই, অনেক ভালো বাংলা জানেন মিস্টার লেথব্রিজ। একটু কসরত করলে বাংলা বর্ণ দ-এর উচ্চারণ পর্যন্ত করতে পারেন। ঈশ্বর হেসে বললেন, তাই নাকি? তোমার কি বিশ্বাস হইতেছে না? ঈশ্বর বললেন, তাহলে পরীক্ষা হয়ে যাক। কী বলো? মিস্টার লেথব্রিজ গোঁফের গোড়ায় মুচকি হাসি টেনে বললেন, তথাস্তু। ঈশ্বর বললেন, ওই যে, নদীতে নৌকো দেখতে পাচ্ছ?
পাইতেছি। উহা নৌকো নহে,  উহা তরণি।
নৌকোটা কূলে ভেড়াতে পারবে?
মিস্টার লেথব্রিজ বললেন, ইহা আমার জন্য অত্যন্ত সহজ কাজ হইবে।
সহজ হলে করে দেখাও।
লেথব্রিজ সাহেব অনেকটা আর্ত চিৎকারের ভঙ্গিতে মাঝিকে বললেন, ওহে কর্ণধার! তরণি তটে সংলগ্ন কর ত্বরা।
মাঝি, ইংরেজ সাহেবের কথা কিছুই বুঝতে পারল না। তবু ইংরেজ সাহেবের আর্তচিৎকারে দয়ার্দ্র হয়ে নৌকাটি তীরে ভিড়িয়ে বলল, সাহেব, আপনি কী বলেছেন আমি কিছুই বুঝতে পারিনি।
মিস্টার লেথব্রিজ মাঝির হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন, তোমার অত বুঝিবার প্রয়োজন নাই। তরণিকে তটে আনিতে পারিয়াছি- ইহা আমার জন্য যথেষ্ট হইয়াছে। এইবার হইতে ইংরেজ দেখিবামাত্র তরণিকে তটে সংলগ্ন করিবে।
মাঝি বলল, সাহেব, অমন টাকা দিলে তীরে নয়, কাঁধে তরণি নিয়ে আপনার বাড়ি পর্যন্ত চলে যাব।
ঈশ্বর হতাশ হয়ে বললেন, মাঝি না বুঝে চলে এসেছে।
লেথব্রিজ বললেন, এমন না হইলে কি ব্যবসায় করিতে আসিয়া আমাদের লর্ড ক্লাইভ তোমাদের সম্পূর্ণ দেশ দখল করিয়া নিতে পারিত? তুমি ঈশ্বর বিদ্যার যত বড়ো সাগর হইয়া যাও না কেন, মনে রাখিবে আমাদের তৈরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের অধীনে থাকিয়া তোমাদের শাসন করিবার জন্য আমাদের বাংলা শিক্ষা দিতেছ।
————————
error: Content is protected !!