উত্তম কুমার: মহানায়ক একনজরে

ড. মোহাম্মদ আমীন

উত্তম কুমার: মহানায়ক একনজরে

 ক্লিক করুন: উত্তম কুমার শ্রেষ্ঠ পঞ্চাশ

বাংলা চলচ্চিত্রে মহানায়ক হিসেবে খ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা, চিত্রপ্রযোজক, পরিচালক  ও সুরকার উত্তম কুমার ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা সেপ্টেম্বর  কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। উত্তম কুমার কলকাতার সাউথ

উত্তম কুমার

সাবার্বা‌ন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন। এরপর কলকাতা পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করে। তবে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি। 

পিতামাতা ও ভাইবোন: উত্তম কুমারের পিতার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম চপলা দেবী।পিতামাতার তিন সন্তানের মধ্যে উত্তম কুমার ছিলেন সবার বড়ো। তাঁর ছোটো ভাই তরুণ কুমার ( ১৯৩১ – ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ ) শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন।  

জাম্পত্য জীবন ও পরিবার:  উত্তম কুমার  গৌরী দেবীকে ( ১৯৩০ – ১৯৮১ ) বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায় ( ১৯৫০ – ২০০৩ )। তিনি ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ৫৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান।  উত্তম কুমারের একমাত্র নাতি, গৌরব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বর্তমানে টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেতা।

পরিবার ত্যাগ:  ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে উত্তম কুমার গৌরী দেবীকে ছেড়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর (১৯৩৩ – ২০১৮ ) সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ  ১৭ বছর তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে ছিলেন।

ভাইয়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয়:  উত্তম কুমার  তাঁর ছোটো ভাই তরুণ কুমারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি  চলচ্চিত্রে একত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে মায়ামৃগ, ধন্যি মেয়ে, সপ্তপদী, সোনার হরিণ, জীবন-মৃত্যু, মন নিয়ে, শেষ অঙ্ক, দেয়া নেয়া, সন্ন্যাসী রাজা, অগ্নীশ্বর  প্রভৃতি অন্যতম।

প্রথম চলচ্চিত্র: উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র দৃষ্টিদান।ছবির পরিচালক ছিলেন নিতীন বসু। এর আগে উত্তম

ড. মোহাম্মদ আমীন

কুমার মায়াডোর নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন কিন্তু সেটি মুক্তিলাভ করেনি।বসু পরিবার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে  তিনি প্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

সুচিত্রা সেনের সঙ্গে প্রথম অভিনয়:  উত্তম কুমার সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে প্রথম সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন। সাড়ে চুয়াত্তর মুক্তি পাবার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন। এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তম-সুচিত্রা জুটির সূচনা ঘটে।হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা  এবং সাগরিকা প্রভৃতি  এ জুটির  কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।

অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা:  উত্তম কুমার অভিনীত বাংলা চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২০৩। তন্মধ্যে অধিকাংশ ছবি ব্যবসা সফল। কয়েকটি ছবি এখনো তখনকার মতো সমান জনপ্রিয়। উত্তম কুমার কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রগুলো:  ছোটিসি মুলাকাত (১৯৬৭), দেশপ্রেমী (১৯৮২) ও মেরা করম মেরা ধরম (১৯৮৭)। 

উত্তম কুমার পরিচালিত ও প্রযোজিত চলচ্চিত্র: উত্তম কুমার পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ হলো   কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী (১৯৮১), বনপলাশির পদাবলি (১৯৭৩) এবং শুধু একটি বছর (১৯৬৬)।

উত্তম কুমার প্রযোজিত চলচ্চিত্র:  উত্তম কুমার প্রযোজিত চলচ্চিত্র হচ্ছে (১) গৃহদাহ (১৯৬৭), (২) ছোটিসি মুলাকাত (১৯৬৭) এবং (৩) হারানো সুর (১৯৫৭)।

সত্যজিত রায় ও উত্তম কুমার: উত্তম কুমার সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

জাতীয় পুরস্কার: ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পান। তখন এই পুরস্কারের নাম

উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন

ছিল ‘ভরত’।এর আগে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে অজয় কর পরিচালিত হারানো সুর ছবিতে অভিনয় করে রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট। অর্জন করেছিলেন। ইংরেজি উপন্যাস ‘রানডম হারভেস্ট’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়। প্রযোজক ছিলেন উত্তম কুমার নিজেই। আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে হারানো সুর চলচ্চিত্রের একটি গান।

সুরকার হিসেবে উত্তম কুমার: উত্তমকুমার সুরকার হিসেবেও খ্যাতি ছিলেন। তিনি কাল তুমি আলেয়া ছবির সবগুলো গানের সুরারোপ করেন। ছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়।  এছাড়াও তিনি আরও অনেক গানে সুর দিয়েছেন।

মৃত্যু ও সম্মাননা: ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে জুলাই মহানায়ক উত্তম কুমার কলকাতায় মারা যান।তাঁর সম্মানে কলকাতা মেট্রোর টালিগঞ্জ অঞ্চলের স্টেশনটির নাম রাখা হয়েছে “মহানায়ক উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশন”। গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি পাখি। তার ঠোঁট মেলনো কয়েকটি গান: উত্তম কুমার শ্রেষ্ঠ পঞ্চাশ

এ শুধু গানের দিন এ লগন গান শোনবার


শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
তিনে দুয়ে দশ: শেষ পর্ব ও সমগ্র শুবাচ লিংক

 

error: Content is protected !!