উপক্রমণিকা উপসংহার ও মুখবন্ধ: ঈ-কার: শব্দের শুরুতে ঈ-কার

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/উপক্রমণিকা-উপসংহার-ও-মুখ/
উপক্রমণিকা: সংস্কৃত উপক্রমণিকা (উপক্রমণী+কন্‌+আ) অর্থ— (বিশেষ্যে) ভূমিকা, মুখবন্ধ, অবতরণিকা, প্রস্তাবনা; আরম্ভ, সূত্রপাত।বক্তব্য বা পুস্তকের মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত আলোচনাই হচ্ছে উপক্রমণিকা। এর মাধ্যমে বক্তব্য বা পুস্তকের বিষয় সম্পর্কে একটি সাধারণ বা আবছা ধারণা পাওয়া যায়। সংস্কৃত ‍উপক্রম (উপ+√ ক্রম্‌+অ) থেকে উপক্রমণিকা। প্রসঙ্গত, উপক্রম অর্থ (বিশেষ্যে)— আয়োজন, আরম্ভ, সূত্রপাত, চেষ্টা।
ভূমিকা ও মুখবন্ধ পরস্পর সমার্থক।
উপসংহার: উপক্রম বা আয়োজনকে যা সংহার করে তাই উপসংহার। সোজা কথায় সমাপ্তি বা সমাপ্তিসূচক বক্তব্য বা লেখা। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত উপসংহার (উপ+সম্‌+√ হৃ+অ) অর্থ (বিশেষ্যে) সাধারণত বক্তব্য বা গ্রন্থের সমাপ্তির অব্যবহিত পূর্ববর্তী অংশ; সমাপ্তি, পরিশেষ।
বর্ণানুক্রমে শব্দের শুরুতে ঈ-কার
বাংলা বর্ণমালায় বর্ণের সংখ্যা ৫০। তন্মধ্যে ১১টি স্বরবর্ণ  এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।  ১১টি স্বরবর্ণের ১০টি  কার-চিহ্নরূপে ব্যবহৃত হয়। ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে ১৮টি বর্ণ বানানবিধিমতে  শব্দের প্রথম বর্ণে ঈ-কার  নিয়ে  ব্যবহৃত হয়।  এই ১৮টি বর্ণ হলো:  /ক/ গ/ চ/ জ/ ট/ ত/ দ/ ধ/ ন/ প/ ব/ ভ/ ম/ র/ ল/ শ/ স/ হ/ ইত্যাদি।  এই ১৮টি ব্যঞ্জনবর্ণ ছাড়া বাকি ২১টি ব্যঞ্জনবর্ণে শব্দের শুরুতে ঈ-কারের ব্যবহার দেখা যায় না। তন্মধ্যে / ঙ/ ঞ/ য়/ ড়/ ঢ়/ৎ/ং/ঃ/ ঁ/—এই ৯টি বর্ণ দিয়ে কোনো শব্দ শুরু হয় না।
শব্দের প্রথম বর্ণে ঈ-কারের ব্যবহার ই-কারের তুলনায়  কম।  যে ১৮টি বর্ণে শব্দের প্রথমে ঈ-কার হতে পরে তন্মধ্যে কমপক্ষে ছয়টি বর্ণে শব্দের শুরুতে ঈ-কারের ব্যবহার খুব কম। এই বর্ণগুলো হলো: চ ট ধ ম র ল। যেমন: চ— চীবর, চীর; ট— টীকা; ধ— ধী, ধীবর, ধীমান, ধীর; ম— মীন, মীমাংসা; র— রীতি; ল— লীন, লীলা।
শব্দের শুরুতে যে-সকল বর্ণে ঈ-কার হয় না, সেসব বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের অন্য বর্ণেও (মৌলিক শব্দে) ঈ-কারের ব্যবহার বিরল। যেমন: খ/ ঘ/ ঝ/ ঠ/ ঢ/ ণ/ থ/—এসব বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের শুরুতে কিংবা ওই শব্দের পরবর্তী অন্যকোনো বর্ণে সাধারণত (মৌলিক শব্দে) ঈ-কার হয় না।
স্মর্তব্য: ধ,ভ,হ ব্যতীত অধিকাংশ মহাপ্রাণ-ধ্বনির বর্ণে  ঈ-কার দেখা যায় না। আবার, / ছ/ ড/ ফ/ য/ ষ/—বর্ণগুলো দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের শুরুতে ঈ-কার না থাকলেও, এসব বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া শব্দের অন্য বর্ণে   মাঝে মাঝে ঈ-কারের ব্যবহার দেখা যায়। যেমন: ছ— ছত্রী, ছাত্রী; ড— ডাকিনী; ফ— ফণী; য— যন্ত্রী, যাত্রী; ষ— ষষ্ঠী, ষড়যন্ত্রী ইত্যাদি।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!