ঋ বর্ণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

ড. মোহাম্মদ আমীন

সংস্কৃত ব্যাকরণে য়, র, ল, ৱ এই চারটি ধ্বনিকে অন্তস্থ ধ্বনি (approximant) বলা হয় [এখানে য় দিয়ে ইংরেজি y বা আইপিএ /j/ ধ্বনি এবং ৱ দিয়ে w বোঝানো হচ্ছে]। অন্তস্থ ধ্বনি আর স্বরধ্বনি খুবই কাছাকাছি ধ্বনি, পার্থক্য হচ্ছে স্বরধ্বনি সিল্যাবল তৈরি করে আর আর অন্তস্থ ধ্বনি নিউক্লিয়াস

তারেক মাহমুদ

হিসেবে সিলেবল তৈরি করে না। য়-এর কারেসপন্ডিং স্বরধ্বনি হচ্ছে ই/ঈ; ৱ-এর কারেসপন্ডিং স্বরধ্বনি হচ্ছে উ/ঊ। তেমনি সংস্কৃত মতে র-এর কারেসপন্ডিং স্বরধ্বনি হচ্ছে ঋ/ঋৃ। বোঝা দরকার, প্রাচীন সংস্কৃতে ঋ-এর উচ্চারণ /ri/ নয়, বরং /:r/। সেটা কেমন? ইংরেজি acre শব্দে অ্যাক্ (বা এইক্)-এর পরে কোন ভাওয়েল ছাড়াই আলাদা সিলেবল হিসেবে র্ উচ্চারিত হতে পারে। একে বলে সিল্যাবিক r। নিজেই সিলেবল তৈরি পারে বলে সংস্কৃত ব্যাকরণে একে স্বরধ্বনি বলা হয়। তৎসম শব্দে প্রচুর পরিমাণে ঋ/ঋৃ ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে সিল্যাবিক l-কে সংস্কৃতে ৯ (লি?) দিয়ে রেপ্রেজেন্ট করা হয়, যদিও একটিমাত্র k:lp>কল্প্ ক্রিয়ামূলে তার ব্যবহার রয়েছে।

সংস্কৃত শব্দগঠন প্রক্রিয়ায় ঋ স্বরধ্বনির মতোই আচরণ করে। যেমন ‘অ’ প্রত্যয় যোগ হলে ধাতুশেষের ই/ঈ স্থানে অয় হয়, উ/ঊ স্থানে অৱ (বাংলা অব) হয়, তেমনি ঋ স্থানে অর্ হয়। যেমন ভী+অ>ভয়, ভূ+অ>ভব, তেমনি ভৃ+অ>ভর।

ঋ আর দীর্ঘ ঋৃ এর পার্থক্যও বোঝা যায় শব্দগঠন প্রক্রিয়ায়। অন প্রত্যয় যোগ হলে ঋ স্থানে অরণ হয় কিন্তু ঋৃ স্থানে ইরণ হয়। সংস্কৃতে কৃ (to do) আর কৃৃৃৃৃ (to scatter) দুইটি আলাদা ক্রিয়ামূল। কৃ+অন> করণ কিন্তু কৃৃৃৃৃ+অন>কিরণ। আবার কৃ+ত>কৃত কিন্তু কৃৃৃৃৃ+ত>কীর্ণ (সংকীর্ণ, বিকীর্ণ)। অনুরূপভাবে উদ’গৃৃৃৃৃ+ত>উদ্গীর্ণ, তৃৃৃৃৃ+ত >তীর্ণ (অবতীর্ণ, বিস্তীর্ণ)।

কিছু স্লাভিক ভাষায় এখনও সিল্যাবিক r-এর ব্যবহার রয়েছে। যেমন একজন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলারের নাম Srna। পাণিনীয় যুগে হলে সেটাকে ‘সৃণা’ লেখা হত। শেষকথা। সংস্কৃত ঋ উচ্চারণ বদলে বাংলায় ‘রি’ হয়ে গেছে। একটি আধুনিক ভাষা হিসেবে বাংলার ঘাড় থেকে ঋ-এর ভূত নামিয়ে ফেলা দরকার। সেক্ষেত্রে ঋ যোগে শব্দগঠনের প্রক্রিয়াকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

সূত্র: ঋ বর্ণের ঐতিহাসি তাৎপর্য, তারেক মাহমুদ, শুদ্ধ বানান চর্চা  (শুবাচ)।


All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

শব্দের বানানে অভিধানের ভূমিকা

আফসোস নিয়ে আফসোস

লক্ষ বনাম লক্ষ্য : বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন

ব্যাঘ্র শব্দের অর্থ এবং পাণিনির মৃত্যু

যুক্তবর্ণ সরলীকরণ আন্দোলন : হাস্যকর অবতারণা

প্রায়শ ভুল হয় এমন কিছু শব্দের বানান/২

গীতাঞ্জলি

রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর

রবীন্দ্রনাথের রাজা

রবীন্দ্রনাথের চতুরঙ্গ

রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা

error: Content is protected !!