একনজরে পার্বত্য চট্টগ্রাম: পার্বত্য চট্টগ্রাম তথ্যকণিকা

 
ড. মোহাম্মদ আমীন
এই পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/একনজরে-পার্বত্য-চট্টগ্রা/
ড. মোহাম্মদ আমীন
 
বাংলার মানচিত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম
 বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে পরিচিত অঞ্চলটি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দের প্রথমদিকে প্রণীত বাংলার প্রথম মানচিত্রে দেখানো হয়। তখন এর নাম ছিল ‘চাকোমাস’। চাকমা শব্দ হতে নামটির উদ্ভব। এই মানচিত্র প্রণয়নকালে অঞ্চলটি ত্রিপুরা রাজ্যের অধীনে ছিল।
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও  আরাকান 
বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে পরিচিত এলাকাটি  ৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে আরাকানের রাজা দখল করে নেন। তবে ১২৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যভাগে   ত্রিপুরার রাজা  আরাকানের অধিকার থেকে এলাকাটি দখল করে নেন।  ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দের আরাকানের রাজা  এলাকাটি পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়ে নেন।  তখন থেকে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এটি আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
 
চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্‌স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম
মায়ানমারের সঙ্গে এ অঞ্চলের আদানপ্রদান প্রমাণ করে। মোগল আমলে পার্বত্য এলাকা ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সুবা বাংলার অধীনে ছিল। ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্‌স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের  একটি  জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। 
 
সার্কেল সৃজন
১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে ভাগ করা হয়। সার্কেল তিনটি হলো— (১) বোমাং সার্কেল, (২) চাকমা সার্কেল ও (৩) মং সার্কেল।
 
চট্টগ্রাম থেকে পৃথক্‌করণ ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগ হতে শাসন করা হতো। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা হতে পৃথক করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ জেলা সৃষ্টি করা হয়। জেলার শাসনকর্তা হিসাবে সৃজন করা হয় Superintendent of Chittagong Hill Tracts  নামের একটি পদ।  প্রথম Superintendent হিসাবে নিয়োগ পান Captain Magrath. তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে দায়িত্ব পালন করতেন। ব্রিটিশ সরকার নতুন জেলার সাধারণ প্রশাসন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচার এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালনায় অনুসরণের লক্ষ্যে ২০শে জুন ১৮৬০ তারিখের ৩৩০২ নং নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ২২ নং আইন জারি করে। যা একই বছর ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর  হয়। এ আইনের পাশাপাশি  ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ নং আইন, ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ নং আইন (বিসি), ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নং বিধি এবং ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দের ৩নং বিধিসমূহ জারি করা হয়।
 
ডেপুটি কমিশনার
১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলার  শাসনকর্তার পদের নাম পরিবর্তনপূর্বক Deputy Commissioner করা হয়। Capt. T H Lewin ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার প্রথম ডেপুটি কমিশনার।  ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম প্রশাসনিক সদর দপ্তর চন্দ্রঘোনায় স্থাপন করা হয়। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে জেলার সদর দপ্তর রাঙ্গামাটি এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দ হতে জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়। পূর্বে চট্টগ্রাম থেকে এ জেলার শাসন কার্য পরিচালনা করা হতো। Capt. T H Lewin ডেপুটি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর  রাঙ্গামাটিতে চলে আসেন।
জেলা থেকে মহকুমা
১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে মহকুমায় (Sub-Divission) রূপান্তরিত করে চট্টগ্রাম কালেক্টরেটের অধীনে একজন সহকারী কমিশনারের (Assistant Commissioner)  অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
 
Chittagong Hill Tracts Regulation 1900
১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে Chittagong Hill Tracts Regulation 1900 প্রবর্তিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পুনরায় জেলায় উন্নীত করা হয়। জেলার প্রধান বা শাসনকর্তার পদবি পুনরায় Superintendent করা হয়। একই সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও রামগড় নামের তিনটি মহকুমায় বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক মহকুমায় একজন Subdivissional Officer বা মহকুমা প্রশাসক পদায়ন করা হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কাপ্তাই, লামা ও খাগড়াছড়ি মহকুমা গঠন করা হয়। ফলে পুরো জেলায় মহকুমার সংখ্যা ছয়ে উন্নীত হয়। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে Chittagong Hill Tracts Regulation 1900 সংশোধন করা হয় এবং জেলার শাসনকর্তার পদবি Deputy Commissioner করে একজন ICS সদস্যকে পদায়ন করা হয়। তার অধীনস্থ কর্মকর্তাগণের পদবী Deputy Magistrate বা Deputy Collector এবং Sub-Deputy Magistrate বা Sub-Deputy Collector করা হয়।  বর্তমানে জেলা প্রশাসকের অধীনে দুইজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, একজন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, একজন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, একজন উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার ও সহকারী কমিশনারগণ কর্মরত আছেন। সহকারী কমিশনারগণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
 
দেওয়ানি আদালত সৃজন 
১৯০০ খ্রিস্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধানের ৭ ধারা অনুযায়ী জেলার সাধারণ প্রশাসনসহ রাজস্ব, ফৌজদারি ও দেওয়ানি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের উপর ন্যস্ত করা হয়। তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পদাধিকার বলে যুগ্ম জেলা জজ এর ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের এখতিয়ারাধীন এ জেলার ‘দেওয়ানি আদালত’ গঠন করা হয়। তিনি পার্বত্য জেলার দায়রা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রবিধান সংশোধন করে তিনটি পার্বত্য জেলায় দেওয়ানি আদালতের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
 
থানা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ
 ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে  ১১টি থানা পরিষদ ও ৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। পরবর্তীকালে আশির দশকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচীর আওতায় থানাগুলোকে মানউন্নীত করে ‘উপজেলা’ নামকরণ করা হয়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় দশটি উপজেলা ও ৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
 
 পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে বিভাজন
 ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure 1898) এর ৮(১) উপধারার ক্ষমতা বলে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই এপ্রিল বান্দরবান ও লামা মহকুমাকে নিয়ে বান্দরবান  এবং ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই অক্টোবর রামগড় ও খাগড়াছাড়ি মহকুমাকে নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা গঠন করা হয়।
 পার্বত্য জেলা
১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে  এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার নামকরণ করা হয় যথক্রমে, পার্বত্য রাঙ্গামাটি,  পার্বত্য বান্দরবান ও  পার্বত্য খাগড়াছাড়ি জেলা।
 
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রথম  এন্ট্রাস পাশ
চাকমা রাজা ভুবন মোহন রায়, অবিনাশ চন্দ্র দেওয়ান ও কৈলাশ চন্দ্র কুকি— এ তিনজন ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এন্ট্রাস পাশ করেন। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোনো উপজাতি সম্প্রদায়ের কোনো লোক এন্ট্রাস পাশ করেননি। প্রসঙ্গত, ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এন্ট্রাস পরীক্ষা বলবৎ ছিল। এরপর নাম পরিবর্তন করা হয়।
 
দিঘিনালার দিঘি খনন
১৫৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিপুরা মহারাজ গোবিন্দ মাণিক্য দিঘিনালার দিঘি (বড়াদম) খনন করেন। এই দিঘি থেকে এলাকাটির নাম হয় দিঘিনালা। বর্তমানে দিঘিনালা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার একটি উপজেলা। আয়তনের দিক হতে এটি খাগড়াছড়ির বৃহত্তম উপজেলা।
 
প্রথম গেজেটিয়ার
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম গেজেটিয়ার প্রথম প্রকাশিত হয়। সম্পাদনায় ছিলেন আর এইচ খান ও হাচিনশন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, ভূগোল, অর্থনীতি, প্রশাসন, সাহিত্য-সংস্কৃতি, জনজীবন প্রভৃতি বিষয় জানার জন্য এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি দলিল।
 
মাং পোমাং রোয়াজা
 ‘মাং’ মানে গভর্নর; ‘পোমাং’ মানে মহান অধিনায়ক; ‘রুয়াসা’ বা ‘রোয়াজা’ মানে গ্রাম নেতা। রোয়াজা থেকে রাউজান। রাউজান  বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা। 
 
দেংগাওয়াদি আরেদ ফুং 
“দেংগাওয়াদি আরেদ ফুং” হলো বার্মা ও আরাকানের ইতিহাস। এর লেখক: রেভা উপিয়ে ভিক্ষু। বার্মা ও আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য গ্রন্থটি খুবই বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
 
ত্রিপুরার প্রাচীন ইতিহাস
রাজমালা ত্রিপুরা ও ত্রিপুরা রাজ্যের রাজবংশের ইতিহাস। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও শ্রীহট্ট ত্রিপুরা রাজার অধিকারে থাকায় রাজমালায় এসব অঞ্চলের ইতিহাসও বিধৃত হয়েছে। রাজা প্রথম ধর্মমাণিক্যের রাজত্বকালে ১৪৩১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা পদ্যে রাজমালা প্রথম রচিত হয়, পরে বিভিন্ন সময়ে নতুন তথ্য যোগে এটির হালনাগাদ হয়েছে। এ হিসাবে এই গ্রন্থটি চৈতন্যচরিতামৃত এবং কৃত্তিবাসী রামায়ণ থেকে প্রাচীন। এই রাজমালা রাজকীয় রাজমালা নামেও পরিচিত।
 
  কৈলাস সিংহের রাজমালা
কৈলাসচন্দ্র সিংহের (১৮৫১১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ ) রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস প্রকাশিত হয় ১৮৯৬  খ্রিষ্টাব্দে। নাম রাজমালা হলেও এটি রাজকীয় রাজমালা থেকে আলাদা। কৈলাসচন্দ্র বিশ বছর ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণে কর্মরত ছিলেন। তার ঠাকুর্দা ও বাবা ত্রিপুরা রাজসরকারে যথাক্রমে মোক্তার ও সেরেস্তাদার ছিলেন। তিনি বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত ত্রিপুরা-সম্পর্কিত জ্ঞান এবং ব্যাপক পুরাতাত্ত্বিক গবেষণার অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে এবং  আলেকজান্ডার ম্যাকেঞ্জির History of the Relations of the Government with the Hill Tribes of the North East Frontier of Bengal, টমাস হারবার্ট লেউইনের Hill Tracts of Chittagong, হান্টারের Statistical Accounts of Bengal, ষষ্ঠ খন্ড,  জনগণনা ও অন্যান্য সরকারি দস্তাবেজ-সহ বহু আকরপুস্তক পর্যালোচনা করে রাজমালা গ্রন্থটি রচনা করেছেন।  রাজকীয় রাজমালা হতে  পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজমালা নাম রাখার কারণ তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন। কৈলাসচন্দ্র বলছেন,  তৎকালীন ত্রিপুরারাজ (বীরচন্দ্র মাণিক্য) রাজরত্নাকর নামে একটি সংস্কৃত ইতিহাস প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ায় এবং এই নতুন বই ত্রিপুরার ইতিহাসকে বিকৃত করতে পারে আশঙ্কা করে প্রাচীন রাজমালার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য তিনিও এই নাম রাখেন।
 
বাংলা ভাষা ও রাজমালা
 
রাজমালা: ককবরক থেকে বাংলা
চতুর্দশ দেবমন্দিরের পুরোহিত বা রাজপুরোহিত (চন্তাই) দুর্লভেন্দ্র নারান ১২১২ খ্রিষ্টাব্দে ককবরক ভাষায় প্রথম মূল রাজমালা গ্রন্থটি রচনা করেন। ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিপুরার মহারাজা ধর্ম্মমাণিক্য, শুক্রেশ্বর ও বানেশ্বর নামের দুজন বাঙালি পণ্ডিতকে দিয়ে ছয় লহরে বিভক্ত মূল রাজমালা গ্রন্থটি সমকালীন ঘটনা-সহ বাংলায় অনুবাদ করিয়ে নেন। এটি রাজকীয় রাজমালা নামেও পরিচিত। নিচে বাংলায় অনূদিত রাজমালা গ্রন্থের দ্বিতীয় লহরের চারটি লাইন—
“পূর্বব রাজমালা ছিল ত্রিপুরী ভাষাতে
পয়ার গাঁথিল সব সকলে বুঝিতে।।
সুভাষাতে ধর্ম্মরাজে রাজমালা কৈল
রাজমালা বলিয়া লোকেতে নাম হৈল।।”
তৃতীয় লাইনে বর্ণিত সুভাষা হচ্ছে বাংলা ভাষা। মধ্যযুগেও বাংলা, সুভাষা হিসেবে পরিচিত ছিল।প্রসঙ্গত, কৈলাসচন্দ্র সিংহের (১৮৫১— ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ ) রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে। নাম রাজমালা হলেও এটি রাজকীয় রাজমালা থেকে ভিন্ন।
 
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রথম ও প্রধান
বর্তমানে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেরর প্রথম উচ্চ বিদ্যালয়। এটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল রাঙ্গামাটি ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয়
 
 
 
 
এমএ বিএ (পুরুষ)
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রথম এমএ পাশধারী অধিবাসী কুমার কোকোনাদাক্ষ রায়। চাকমা উপজাতির সদস্য বাবু কোকোনাদাক্ষ রায় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে এমএ পাশ করেন। ত্রিপুরা উপজাতির প্রথম এমএ পাশ নির্মলেন্দু ত্রিপুরা। তিনি ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এমএ পাশ করেন।  প্রথম বিএ পাশ করেন যামিনী কুমার দেওয়ান। চাকমা উপজাতির সদস্য যামিনী কুমার ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে বিএ পাশ করেন। ত্রিপুর উপজাতির সদস্য বি কে রোয়াজা ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে বিএ পাশ করেন। সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
এমবিবিএস
পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবে  প্রথম এমবিবিএস পাশধারী উপজাতি ডা. নির্মল চন্দ্র দেওয়ান। চাকমা উপজাতির সদস্য নির্মল চন্দ্র দেওয়ান ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাশ করেন। ত্রিপুরা উপজাতির প্রথম এমবিবিএস ডা. বিশ্বকীর্তি ত্রিপুরা। তিনি ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাশ করেন। সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
প্রথম ইপিসিএস ও প্রথম রাষ্ট্রদূত
 শরদেন্দু শেখর চাকমা ও সনিত রায় উপজাতিদের মধ্যে প্রথম ইপিসিএস। উভয় চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্য। প্রথম রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন  শরদেন্দু শেখর চাকমা। তিনি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান। সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
প্রথম বিলতা যাত্রী ও ডক্টরেট
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী উপজাতির মধ্যে প্রথম বিলাতযাত্রী হলেন সুশীল জীবন চাকমা। তিনি ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বিলাত গমন করেন। উপজাতীয়দের মধ্যে প্রথম ডক্টরেট মানিক লাল দেওয়ান। চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্য মানিক লাল দেওয়ান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
এম ও বিএ  মহিলা (মহিলা)
উপজাতীয়দের মধ্যে প্রথম বিএ পাশ করেন আরতি চাকমা ও চন্দ্রিমা দেওয়ান। চাকমা সম্প্রদায়ের এই দুই মহিলা ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে বিএ পাশ করেন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে তারা এমএ পাশ করেন। এমএ পাশধারী হিসেবেও তারা প্রথম। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রথম বিএ পাশ মহিলা স্বপ্না (মনি) ত্রিপুরা। তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বিএ পাশ করেন। ত্রিপুরাদের মধ্যে প্রথম এমএ পাশ করেন  কৃষ্ণা ত্রিপুরা মিনি। (সুত্র: তারুম, বৈ-সা-বি স্মরণিকা, ১৪০৮/২০০২) সম্পাদনায় শুভাশীষ চাকমা।
 
 

প্রতিদিন খসড়া-২

প্রতিদিন খসড়া-১ : https://draminbd.com/2020/12/27/প্রতিদিন-খসড়া/

প্রতিদিন খসড়া-২ : https://draminbd.com/প্রতিদিন-খসড়া-২/

শুবাচ গ্রুপের লিংক: www.draminbd.com
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
 
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
error: Content is protected !!