একনজরে বাংলা সাহিত্য

ড. মোহাম্মদ আমীন

পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক: সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক। মধ্যযুগের শেষদিকে পুঁথি সাহিত্য রচিত হয়। তাঁর জন্ম ১৭৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। মধুমালতি, আমির হামজা (২য় খণ্ড) জৈগুনের পুঁথি ও হাতেমতাই সৈয়দ হামজার বিখ্যাত পুঁথি গ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ট্রাজেডি: ফারসি কবি জামির রচিত ‘লায়লী মজনু’ নামক কাব্যের ভাবানুবাদ অবলম্বনে দৌলত উজির বাহরাম খান ১৫৬০ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ‘লায়লী মজনু’ নামক যে কাব্যটি রচনা করেন সেটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ট্রাজেডি হিসেবে স্বীকৃত। এরপূর্বে বাংলা সাহিত্যে কোন যথার্থ ট্রাজেডি ছিল না।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম অলৌকিকতা-মুক্ত গ্রন্থ: ফারসি কবি জামীর ‘লায়লী মজনু’ নামক কাব্যের ভাবানুবাদ অবলম্বনে দৌলত উজির বাহরাম খান কর্তৃক ১৫৬০ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ ‘লায়লী মজনু’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম অলৌকিকতা বিবরণ মুক্ত গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

প্রাচীনতম লোকসাহিত্য ও প্রাচীনতম ছন্দ : লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ‘ছড়া’। বাংলা সাহিত্যে যত প্রকার লোকসাহিত্য আছে তম্মধ্যে ‘ছড়া’ প্রাচীনতম। ছড়ার ছন্দ বাংলা কবিতার প্রাচীনতম ছন্দ। ছড়ার পূর্বে বাংলা সাহিত্যে অন্য কোন ছন্দ ছিল না। তাই ছড়াকে বাংলা লোকসাহিত্যের উৎস বলা হয়।

মধ্যযুগের প্রথম মৌলিক কাব্য: চট্টগ্রামের কবি দৌলত কাজীর ‘সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী’ কাব্য গ্রন্থকে মধ্যযুগের প্রথম মৌলিক কাব্য বলা হয়।
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী কাব্য বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী কাব্য বৃন্দাবন দাসের (জন্ম ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দ) ‘শ্রীচৈতন্যভাগবত’। কাব্যটি ১৫৪৮ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়। রচনাকালে গ্রন্থটি ‘চৈতন্যমঙ্গল’ নামে পরিচিত ছিল।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য
জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য সংক্রান্ত্র সাহিত্য সৃষ্টির বিষয়ে মধ্যযুগের মুসলিম কবিগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর পূর্বে অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের লেখায় জঙ্গনামা জাতীয় কোনো ধারণা প্রকাশ পায়নি। পনের শতকে রচিত জৈনুদ্দিনের ‘রসুল বিজয়’ মধ্যযুগের প্রথম জঙ্গনামা বা যুদ্ধকাব্য। অতএব, জৈনুদ্দিনের ‘রসুল বিজয়’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম যুদ্ধকাব্য।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসিলম প্রণয়োপাখ্যান লেখক: রোমান্টিক সাহিত্য ধারায় প্রাচীনতম মুসলিম লেখক শাহ মুহাম্মদ সগীর (চতুর্দশ শতকের লেখক) বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক । তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান প্রণয়োপাখ্যানকারী হিসেবে খ্যাত এবং ‘ইউসুফ জোলেখা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণোয়পাখ্যান।

প্রথম মুসলমান মহিলা ঐতিহাসিক: সম্রাট হুমায়ুনের ভগ্নী গুলবদন প্রথম মহিলা মুসলিম ঐতিহাসিক। তিনি তাঁর ভাইয়ের রাজত্বকালের ইতিহাস লিখে  ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাত হয়ে আছেন। তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসের প্রথম মহিলা ঐতিহাসিক হিসেবেও খ্যাত। তাঁর আগে উপমহাদেশের কোনো মহিলা কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখেননি।

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক-পুলিশ: বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ এমদাদ আলী (১৮৭৬-১৯৫৫ খ্রি.) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম পুলিশ, যিনি সাহিত্যিক হিসেবেও অপরিমেয় খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ‘তাপসী রাবেয়া’ তার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক: সাধারণভাবে মীর মশাররফ হোসেনকে প্রথম মুসলিম গদ্য রচনাকারী হিসেবে গুরুত্ব প্রদান করা হলেও তাঁর পূর্বে গোলাম হোসেনের ‘হাড় জ্বালানী’ এবং খোন্দকার সামশুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকীর(১৮০৮-৭০ খ্রি.) ‘উচিৎ শ্রবণ’ (১৮৬০ খ্রি.) এবং শেখ আজিমদ্দির ‘কড়ির মাথায় বুড়োর বিয়ে’ প্রভৃতি গদ্যগ্রন্থ মীর মশাররফ হোসেনের আগের লেখা। তবে তাঁদের উপন্যাসের মধ্যে উপন্যাসের আদর্শমান পুরোপুরি বিকশিত হয় নি। এজন্য মীর মশাররফ হোসেনকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়।

ড. মোহাম্মদ আমীন, বিসিএস (প্রশাসন), দশম ব্যাচ।

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

error: Content is protected !!