এক মিনিটের পাঠশালা (১-১১) : বিসিএস বাংলা

এক মিনিটের পাঠশালা /১

দেখুন তো বানানগুলো ভুল হয় কি না আপনার?
১. নৈঃশব্দ্য ( ভুল নৈঃশব্দ)
২. নৈঃসঙ্গ্য (ভুল নৈঃসঙ্গ )
৩. ন্যক্কারজনক (ভুল ন্যাক্কারজনক)
৪. ন্যূনতম (ভুল নূন্যতম)
৫. পক্ব (ভুল পক্ক)
নৈঃসঙ্গ্য বিশেষ্য, অর্থ একাকীত্ব।নিঃসঙ্গ বিশেষণ, অর্থ একাকী। নৈঃশব্দ্য বিশেষ্য, অর্থ নীরবতা। নিঃশব্দ বিশেষণ, অর্থ নীরব। পক্ব অর্থ পাকা।
এক মিনিটের পাঠশালা /২
লিখুন উপলক্ষ্য, উপলক্ষ্যে ( লিখবেন না : উপলক্ষ, উপলক্ষে)। [লক্ষ্য থেকে উপলক্ষ্য, লক্ষ থেকে উপলক্ষ হয় না।]
লিখুন ঘুস ( লিখবেন না : ঘুষ)
লিখুন ধরন (লিখবেন না : ধরণ)
লিখুন ধারণ (লিখবেন না : ধারন)
লিখুন ধরণি (লিখবেন না : ধরণী)
লিখুন পটোল (লিখবেন না : পটল)
লিখুন পরিবহণ (লিখবেন না : পরিবহন) [ণত্ববিধি অনুযায়ী : পরিবহণ]
লিখুন ব্যাবহারিক ( লিখবেন না : ব্যবহারিক) [ব্যবহার+ ইক= ব্যাবহারিক।]
সূত্র : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
এক মিনিটের পাঠশালা /৩
আলো করা ( উজ্জ্বল করা), কিন্তু আলোকরা(উজ্জ্বলকারী)।
এক কথা ( যে কথার নড়চড় হয় না), কিন্তু একবাক্যে (এক কথায়, বিনা প্রতিবাদে), একনজরে(এক পলকে), বাক্যহারা (নির্বাক, শান্ত)।
এক কুড়ি (বিশটি), কিন্তু একহালি(চারটি)।
এক নলা (গ্রাস; এক নলা ভাত), কিন্তু একনলা (এক নলবিশিষ্ট)।
দুকুল (পিতার বংশ ও মাতার বংশ), কিন্তু দুকূল (দুই তীর), দু-কূল (রেশমি কাপড়)
সে ভাবে (সে চিন্তা করে), কিন্তু সেভাবে ( সেরূপে, সেরকম)।
এক মিনিটের পাঠশালা /৪
‘প্রায়, প্রধান, বহুল, বিশেষ, অনেক, কয়েক, কিছু, নানা, নানান, বহু, বিচিত্র, বিভিন্ন, সব, সারা, হরেক’ ইত্যাদি শব্দ, সম্পর্কযুক্ত শব্দের পূর্বে ফাঁক রেখে বসে। যথা: প্রায় প্রতিদিন, প্রায় স্থানে, প্রধান ডাকঘর, বহুল প্রচলিত, বহুল আলোচিত, বিশেষ বাহক, বিশেষ ঘটনা, অনেক বছর, কয়েক দিন, কিছু গান, নানা মত, নানান রং, বহু দেশ, বিচিত্র পাখি, বিভিন্ন জাতি, সব কথা, সারা দেশ, হরেক রকম।
তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যথা: নানারূপ, নানাবিধ, বহুকাল, বহুক্ষণ, সবকিছু, সারাক্ষণ, কয়েকজন, অনেকক্ষণ, কিছুকাল, অনেকজন, সবশেষে ইত্যাদি।
এক মিনিটের পাঠশালা /৫
১. অকস্ম্যাৎ নয়, অকস্মাৎ (হঠাৎ, সহসা)
২. অগ্নাশয় নয়, অগ্ন্যাশয় (পাচনগ্রন্থি)
৩. অগ্নুৎপাত নয়, অগ্ন্যুৎপাত (আগ্নেয়গিরি থেকে প্রস্তরখণ্ড লাভা ছাই প্রভৃতি উদ্‌গিরণ)
৪. অনিন্দ নয়, অনিন্দ্য (যা নিন্দনীয় নয়, অনিন্দনীয়, অতি সুন্দর)
৫. অন্তেষ্টিক্রিয়া নয়, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (মৃতের সৎকার)
৬. অচিন্ত নয়, অচিন্ত্য (চিন্তা করা যায় না এমন), কিন্তু অচিন্তিত (পূর্বে চিন্তা করা হয়নি এমন, অভাবিত)
এক মিনিটের পাঠশালা /৬
১. অন্তঃসত্তা অর্থ — আত্মা, আমি; কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা অর্থ —গর্ভবতী।
২. অন্তরঙ্গ (অন্‌তরংগো) অর্থ — আত্মীয়, বন্ধু, অভ্যন্থরস্থ অঙ্গ, ঘনিষ্ঠ; কিন্তু অন্তরজ্ঞ (অন্‌তরগ্‌গোঁ) অর্থ — অন্তর্যামী, দূরদর্শী, বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি। 
৩. অন্তস্তলশব্দের অর্থ — মনোমধ্যে, মন, হৃদয় প্রভৃতি।এই অর্থ প্রকাশে ‘অন্তস্থল’ লেখা ভুল। অতএব অন্তস্থল লিখবেন না।
৪. এতদ্বারা (এত+দ্বারা) ভুল, শুদ্ধ হচ্ছে এতদ্দ্বারা (এতদ্+দ্বারা)
৫. অন্তরীক্ষ নয়, অন্তরিক্ষ (আকাশ) লিখুন।
৬. অন্তরীণ নয়, অন্তরিন (গৃহবন্দি) লিখুন।
এক মিনিটের পাঠশালা /৭
১. অসূর্যম্পশ্যা (অশুরজম্‌পোশ্‌শা) : যে নারীকে সূর্যকিরণও স্পর্শ করেনি এমন বা অন্তঃপুরবাসিনী অর্থে অসূর্যম্পশ্যা লিখুন, অসুর্যস্পর্শা লিখবেন না।
২. আবৃতি: আবরণ, আচ্ছাদন, বেষ্টিত স্থান প্রভৃতি অর্থে আবৃতি লিখুন, আবৃত্তি লিখবেন না।
৩. আবৃত্তি : ছন্দ, ব্যঞ্জনা প্রভৃতি অভিব্যক্তি সহকারে উচ্চকণ্ঠে পাঠ অর্থে আবৃত্তি (আবৃত্‌তি) লিখুন, আবৃতি লিখবেন না।
৪. আহূত : আমন্ত্রিত অর্থে আহূত লিখুন, আহুত লিখবেন না।
৫. আহুত : আহুতি অর্থ হিন্দু পূজার হোম। আহুতি দেওয়া হয়েছে এমন অর্থে আহুত লিখুন, আহূত লিখবেন না।
৬. নৈর্ঋত (নোই্‌র্‌রিত্) লিখুন, নৈঋত লিখবেন না।
৭. শিরশ্ছেদ (শিরোশ্‌ছেদ্) লিখুন, শিরচ্ছেদ লিখবেন না।
এক মিনিটের পাঠশালা /৮
১. এক কথা : অর্থ : যে কথার নড়চড় হয় না। যেমন : হাবিব সাহেব এক কথার মানুষ। বাক্যে এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. এককথা : অর্থ : সংক্ষিপ্ত বর্ণন, সংক্ষেপ। যেমন : এককথায় তিনি একজন ভালো মানুষ।এরূপ আরো শব্দ : একগলা, একগাল, একচর, একচালা, একচুল প্রভৃতি।
৩. এ-কার : অর্থ : ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ‘এ’ স্বর যুক্তকরণ চিহ্ন। বাক্যে ‘এ-কার’ শব্দটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন : ‘ছেলে’ শব্দের বানানে দুটো ‘এ-কার’ আছে।
৪. এ কার : অর্থ : এটি কার, ইহা কাহার। যেমন : এ কার বাড়ি?
৫. একার : অর্থ : একজনের। যেমন : তার একার পক্ষে কাজটি কষ্টসাধ্য। বাক্যে এটি বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৬. এ কি : এটি একটি ‘বিস্ময়সূচক’ শব্দ। যেমন : এ কি, তুমি এখনো যাওনি? এ কি সত্য সকলই সত্য, হে আমার চিরভক্ত। ‘এ কি’ কথাটি বাক্যে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৭. এ কী : কথাটির অর্থ ‘এ বিষয়টি কী’, যেমন : এ কী বললে? ‘এ কী’ কথাটি বাক্যে সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এক মিনিটের পাঠশালা /৯
১. উহ্য (উজ্‌ঝো) : বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘উহ্য(√বহ্‌+অ)’ শব্দের অর্থ বহনীয়।
২. ঊহ্য (উজ্‌ঝো) : বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ঊহ্য (√ঊহ্+য) শব্দের অর্থ অনুক্ত, অনুচ্চারিত, অব্যক্ত; প্রকাশিত না হলেও আছে বলে অনুমিত, অনুমেয়, অপ্রকটিত প্রভৃতি।
৩. ঊনবিংশ : উনবিংশ নয়, লিখুন ঊনবিংশ; কিন্তু উনিশ, উনত্রিশ, উনচল্লিশ, উনপঞ্চাশ, উনষাট ইত্যাদি, তবে ঊনত্রিংশ (২৯ সংখ্যক), ঊননবতি(৮৯ সংখ্যক), ঊনষষ্টি (৫৯ সংখ্যক) প্রভৃতি।
৪. ঋগ্বেদ : ‘ঋগ্বেদ’ নয়, লিখুন ঋগ্‌বেদ। বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত সংস্কৃত ‘ঋগ্‌বেদ (ঋক্‌+বেদ)’ হচ্ছে — চতুর্বেদের প্রথম ও প্রধান বেদ
এক মিনিটের পাঠশালা/১০
বানানগুলো ভালোভাবে দেখুন। তারপর ভাবুন, কেমন লেখেন।আমার কিন্তু ভুল হয়।
ভালোভাবে দেখলে এখানেও ভুল পেয়ে যেতে পারেন।
অপাঙ্‌ক্তেয় / অলঙ্ঘ্য / আকাঙ্ক্ষা / আর্দ্র/
উজ্জ্বল / উত্ত্যক্ত / কৃচ্ছ্র / ক্বচিৎ / ক্রূর
ক্ষুন্নিবৃত্তি / জ্যোৎস্না / জোছনা/ জ্যোতিষ্ক / তৎক্ষণাৎ
তদ্ব্যতীত / দুর্নিরীক্ষ্য / দ্ব্যর্থ / দূত্যক্রীড়া
দারিদ্র্য / দৌরাত্ম্য / ন্যুব্জ/ন্যূন
পঙ্‌ক্তি / পরাঙ্মুখ / পার্শ্ব / প্রতিদ্বন্দ্বিতা
প্রতিদ্বন্দ্বী / গার্হস্থ্য
কর্ত্রী।
————————————————————————–
[ ভুল কেন? তা খুঁজে বের করার ইচ্ছে যেন এই যযাতি পড়ার আগ্রহকে
একাগ্র করে দেয়। শেখাও হলো আর খোঁজাও হয়ে গেল। এক ঢিলে দুই পাখি। ]

এক মিনিটের পাঠশালা / ১১

নানাভাবে নানা ভাবে, সেভাবে সে ভাবে।
নানা ভাবে : এই শব্দজোড়ের অর্থ মাতামহ (মায়ের বাবা) চিন্তা করে
নানাভাবে : শব্দটির অর্থ বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন কৌশলে।
প্রয়োগ :
নানা ভাবে সে হয়রানির শিকার হচ্ছে। (নানা মনে করে, সে হয়রানির শিকার হচ্ছে।)
নানাভাবে সে হয়রনির শিকার হচ্ছে। ( বিভিন্ন উপায়ে বা বিভিন্ন দিক হতে সে হয়রানির শিকার হচ্ছে।)
নানা ভাবে, সে নানাভাবে হয়রানির শিকার।
সে ভাবে : এই শব্দ জোড়ের অর্থ সে চিন্তা করে
সেভাবে : শব্দটির অর্থ সেই প্রকারে, সেই উপায়ে, সেই কৌশলে।
দেখুন: : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
error: Content is protected !!