এন্ট্রান্স, এফ এ: এন্ট্রান্স পরীক্ষা, এফ এ পরীক্ষা; ওড়মালা পূগফল কুসুমাস্তীর্ণ কণ্টকাকীর্ণ; নিমোনিক(mnemonic) ও নস্টালজিক(nostalgic)

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/এন্ট্রান্স-এফ-এ-এন্ট্রান/
এফ এ  এবং এন্ট্রান্স দুটোই বাক্যে বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একসময় দশ ক্লাশের পরীক্ষাকে বলা হতো এন্ট্রান্স পরীক্ষা।  পরে এন্ট্রান্স পরীক্ষার নাম হয় মেট্রিক পরীক্ষা, তারপর স্কুল ফাইনাল। বর্তমানে যার নাম মাধ্যমিক।  এন্ট্রান্স পাশ করার পর কলেজে দুই বছর পড়া হতো এফ এ। এফ অর্থ ফাস্ট আর্টস।  পরে এফ এ পরীক্ষার নাম  হয় আই এ। আই এ কোর্স এফ এ কোর্সের মতো দুই বছর মেয়াদের। বর্তমানে এটি উচ্চ মাধ্যমিক।  
“কলেজে এভাবে দুই বছর পড়েও টেস্ট পরীক্ষার শেষে এফ এ পরীক্ষার ফি মাত্র কুড়ি টাকা জোগাড় করতে না পারায়, শরৎচন্দ্র আর এফ এ দিতে পারলেন না।” শরৎচন্দ্র (সংক্ষিপ্ত জীবনী), গোপালচন্দ্র রায়।

ওড়মালা: জবা ফুলের মালা। জবা ফুলের মালাকে ‘ওড়মালা’ বলা হয়। ওড় অর্থ জবা ফুল। শব্দটি সংস্কৃত ওড্র থেকে এসেছে।

পূগফল: আমাকে একটি পূগফল দাও বললে কে বুঝবে যে, আমি সুপারি চাইছি!

কুসুমাস্তীর্ণ ও কণ্টকাকীর্ণ: কুসুমাস্তীর্ণ মানে ফুলে ফুলে সাজানো রাস্তাঘাট, ফুল ছড়ানো বা ফুল ছিটানো রাস্তা, ফুলে ফুলে ঢাকা, কুসুমের আস্তরণে আবৃত। কণ্টকাকীর্ণ মানে কণ্টে আকীর্ণ, কাঁটায় ঘেরা রাস্তা, কাঁটা দিয়ে ছড়ানো রাস্তা, কণ্টকে আকীর্ণ পথঘাট, কোনো ভয়ংকর দুর্গম পথঘাট, কষ্টকর জীবন, বিপৎসংকুল ইত্যাদি।
নিমোনিক(mnemonic) ও নস্টালজিক(nostalgic): নিমোনিক হলো এমন একটি বিষয় ঘটনা বা বস্তু  যেটা কারও আগের কোনো স্মৃতিকে সহজে মনে করিয়ে দেয়, মনে রাখতে পারার সহায়ক, প্রায় ভুলে যাওয়া স্মৃতিকে প্রয়োজনের সময় কিংবা মনে করতে চাইলে সহজে মনে করিয়ে দেয়। যেমন: “শ্বশুর অশ্ব শিশুর মালিক” কথাটি দিয়ে আমরা মনে রাখতে পারি যে, শ্বশুর বানানে প্রথম শ এর নিচে অন্তস্থ ব দিতে হয়।  আগের স্মৃতিপটে থাকা কোনো ঘটনার সাথে বর্তমানের কোনটার মিল পাওয়া।  নস্টালজিয়া হলো স্মৃতিকাতরতা। যে ঘটনা নানা কারণে মনে পড়ে যায় এবং মনে পড়লে স্মৃতি কাতর হয়ে পড়ে। নিমোনিক: স্মৃতিজাগানিয়া; ভুলে যাওয়া কোনো বিষয়কে জাগিয়ে তুলে, স্মরণ করিয়ে দেয়। নস্টালজিক হলো স্মৃতিকাতরতা। কোনো স্মৃতি বা বিষয় বারবার মনে পড়ে এবং মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।
দা কাটা তামাক: এক প্রকার অতি কড়া তামাক। এ তামাক সাধারণত বাজারে পাওয়া যেত না। যারা খেতেন তারাই বাড়িতে তৈরি করে নিতেন। একটা কাঠের টুকরোর ওপর হিংলী তামাক কুঁচিয়ে তাতে কাঁঠালের ভুতুরি, চাঁপা ফুল, পচা পাকা কলা আর চিটে গুড় দিয়ে মেখে কড়ির জারে পচিয়ে দা কাটা তামাক তৈরি করা হতো।
“ আবার কেউ কেউ দা কাটা তামাক পছন্দ করতেন।” আমার দেখা কোল্‌কাতা, প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায়।
error: Content is protected !!