এমন কেন?

প্রমিতা দাশ লাবণী

[যারা রবীন্দ্র-নজরুল প্রতিভার সীমাহীন অবদান সম্পর্কে জ্ঞাত এবং তাঁদের এই অসীম অবদানকে ভিত্তি করে আরও এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে; একই সঙ্গে তাঁদের অতিক্রম করার প্রয়াসে বিশ্বাসী কেবল তাঁরা এটি পড়বেন। যারা তাঁদের মহান অবদানকে স্বীকার করেন, শ্রদ্ধায় অবনত হন, পুজো দেন, কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পশ্চাৎবাদীর মতো ওখানেই থেমে থাকতে চান এবং মনে করেন তাাঁদের অতিক্রম করা অসম্ভব- তাঁরা এটি পড়বেন না। এটি আমার লেখা নয়। ড. মোহাম্মদ আমীন স্যারের “শ্রীমতির পরকিয়া” উপন্যাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের কিয়দংশ।উপন্যাসের ঘটনাক্রমে কথাগুলো এসেছে।আগে-পরে অনেক বিষয় আছে। ]
বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা এত উচ্ছৃঙ্খল কেন? রওনক বলল।
শ্রীমতী বলল, একবিংশ শতকে এসে যদি আপনারা কেবল আমাদের ঊনবিংশ শতকের রাবীন্দ্রিক চিন্তা খাইয়ে পুষ্ট করার চেষ্টায় মগ্ন

প্রমিতা দাশ লাবণী

থাকেন, যুগের চাহিদা উপেক্ষা করে রবীন্দ্র প্রতিভার অন্বেষণে পিছুতে পিছুতে আদিম যুগে নিয়ে যান এবং চলমানকালের ভাবীপ্রতিভাকে রবীন্দ্রনাথের “আধমরাদের ঘা দিয়ে তুই বাঁচা’’ অনুরোধকে অবহেলা করে মড়া নিয়ে উৎসবে মেতে থাকেন, পচা লাশের গন্ধ শুঁকে জীবিতদের সৃষ্টির উষ্ণতাকে অযোগ্য মনে করে দূরে সরিয়ে রাখেন, রবীন্দ্রপ্রতিভার বিশাল বিস্তৃত শেকড়কে ভিত্তি করে তার ওপর দাঁড়িয়ে আকাশে শিখার মতো মাথা তোলার পরিবর্তে শেকড়ের সঙ্গে বেঁধে মাটির নিচে পুঁতে রাখার আয়োজন করেন- সেক্ষেত্রে আমরা উচ্ছৃঙ্খল হবো না তো কী হব?

রওনক বলল, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। তাঁকে অতিক্রম করার কিংবা তার সমান হওয়ার যোগ্যতা কারো নেই।
শ্রীমতি বলল, মিথ্যা কথা। উপযুক্ত পরিবেশ ও উত্তম উপাদান না-পেলে শ্রেষ্ঠ বীজও নষ্ট হয়ে যায়। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের নাগরিক রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে, সেখানেই রয়ে গেছি আমরা। প্রবীণরা রবীন্দ্রনাথের প্রাপ্তিকে রূপকথার যক্ষের ধনের মতো আঁকড়ে ধরে বর্তমান প্রজন্মকে যুগের পর যুগ অবহেলা করে চলেছেন। যেন ওটি ছাড়া আপনাদের আর কিছু নেই। আমরা যেন কেউ নই; তাহলে জন্ম দিয়েছেন কেন? যেখানে রবীন্দ্রনাথের ওই বিরল প্রাপ্তিকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পরিবেশ ও উপাদানে ভূষিত করে তোলার কথা, আরও কয়েকটি নোবেল পুরস্কার পাওয়া করা সেখানে আপনারা আমাদের সরিয়ে কেবল মড়া নিয়ে মাতামাতিতে ব্যস্ত হয়ে আছেন, বিজ্ঞানের এমন পরম উৎকর্ষের যুগেও আদিম-পৌরাণিক হিমুজাতীয় বস্তু গিলিয়ে প্রাগৈতিহাসিক যুগে নিয়ে যাচ্ছেন, বিজ্ঞানে বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে স্যাটালাইট উপহার দেওয়ার পরিবর্তে ভূতের বাচ্চা উপহার দিচ্ছেন- সেখানে আমরা অথর্ব হব না তো কী হব?
রিদওয়ান বলল, প্রকাশকেরা বর্তমানকে বাদ দিয়ে বঙ্কিম-রবীন্দ্র কিংবা নজরুল-কালিদাস পুজো করছে, উদ্দেশ্য কেবল আয়; তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নয়। কিন্তু জীবিতদের ন্যূনতম মূল্যায়নও করছে না। ব্যবসার ফাঁদে তারা বকের মতো লোভাতুর হয়ে গেছে অতীতে। এ অবস্থায় প্রতিভা বিকশিত হবে কীভাবে? সাহিত্যকর্ম শুঁটকি-ডালের ব্যবসায় নয়।
শ্রীমতি বলল, প্রতিভা কি আগাছা যে এমনি এমনি গজিয়ে যাবে? পরিচর্যা না করে যদি ফল খেতে চান, আমাদের রুচিবোধকে অবহেলা করে ঊনবিংশ শতকের রুচিবোধে তৃপ্ত হতে চান, তো সেখানে আমরা একবিংশ শতকের উপযুক্ত আধুনিক মনের অধিকারী কীভাবে হব? রবীন্দ্র-নজরুল আমাদের ঐতিহ্যের মূলকে অনেক গভীরে নিয়ে গেছেন, আমাদের উচিত ওই মূলকে ভিত্তি করে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করা, মূলে মাথা গুঁজে অতীত হাতড়ানো নয়।তাঁর আমাদের পুজো চান না, বিকাশ চান।
সূত্র: শ্রীমতির পরকিয়া (উপন্যাস), ড. মোহাম্মদ আমীন।
—————–

All Link

বিসিএস প্রিলি থেকে ভাইভা কৃতকার্য কৌশল

ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা বইয়ের তালিকা

বাংলা সাহিত্যবিষয়ক লিংক

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশবিষয়ক সকল গুরুত্বপূর্ণ সাধারণজ্ঞান লিংক

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/১

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন/২

বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন /৩

কীভাবে হলো দেশের নাম

ইউরোপ মহাদেশ : ইতিহাস ও নামকরণ লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/১

দৈনন্দিন বিজ্ঞান লিংক

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/২

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৩

শুদ্ধ বানান চর্চা লিংক/৪

কীভাবে হলো দেশের নাম

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/১

সাধারণ জ্ঞান সমগ্র/২

বাংলাদেশের তারিখ

ব্যাবহারিক বাংলা বানান সমগ্র : পাঞ্জেরী পবিলেকশন্স লি.

শুদ্ধ বানান চর্চা প্রমিত বাংলা বানান বিধি : বানান শেখার বই

কি না  বনাম কিনা এবং না কি বনাম নাকি

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

ভূ ভূমি ভূগোল ভূতল ভূলোক কিন্তু ত্রিভুবন : ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ

মত বনাম মতো : কোথায় কোনটি এবং কেন লিখবেন

প্রশাসনিক প্রাশাসনিক  ও সমসাময়িক ও সামসময়িক

বিবিধ এবং হযবরল : জ্ঞান কোষ

সেবা কিন্তু পরিষেবা কেন

ভাষা নদীর মতো নয় প্রকৃতির মতো

এককথায় প্রকাশ

error: Content is protected !!