ওয়ারি কী, ওয়ারি শব্দের অর্থ, ব্যঙ্গ এবং ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি

ড. মোহাম্মদ আমীন

এ পেজের সংযোগ: https://draminbd.com/ওয়ারি-কী-ওয়ারি-শব্দের-অর্/

ওয়ারি কী, ওয়ারি শব্দের অর্থ, ব্যঙ্গ এবং ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি

ওয়ারি
 
ওয়ারি শব্দ দিয়ে কি বুঝানো হয়েছে? ওয়ারি শব্দটা কি বাংলা শব্দ? এই শব্দের অর্থ কী?
 
ওয়ারি ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে তোলা ঢাকা শহরের প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। তখন ওয়ারি ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। সেসময় জলপথই ছিল যোগাযোগের সুবিধাজনক মাধ্যম।তাই ঢাকা শহরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠে অভিজাত আবাসিক এলাকাসমূহ।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে উনিশ শতকের শেষদিকে বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর পূর্বে সপ্তদশ শতকে চকবাজার, বাংলাবাজার, নবাবপুর প্রভৃতি এলাকায় ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের একক ও সমন্বিত উদ্যোগে নাগরিক বসতির পত্তন হয়।
 
সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান ওয়ারি এলাকায় প্রস্তাবিত বসতি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার রাজস্ব প্রশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ছিলেন ফ্রেডরিক ওয়্যার। তাঁর নেতৃত্বে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার জন্য আবশ্যক নানা সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তেলা হয়। তাই ফ্রেডরিক ওয়্যারের নাম অনুসারেই আবাসিক এলাকাটির নামকরণ করা হয় ওয়ারি।
 
প্রথমে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিনামূল্যে কিছু শর্তসাপেক্ষে আবাসিক প্লট বরাদ্দ করা হয়।প্রতি ভিটার খাজনা ধরা হয়েছিল ছয় টাকা। তখন অধিকাংশ সরকারি চাকুরে ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী । এজন্য ওয়ারি হিন্দু-প্রধান এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
 
 
ব্যঙ্গ
‘ব্যঙ্গ’ শব্দের বর্তমান প্রচলিত অর্থ— বিদ্রুপ, ঠাট্টা, মজা, উপহাস, পরিহাস প্রভৃতি। তবে ‘ব্যঙ্গ’ শব্দের আদি ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ছিল অন্যরকম।যার অঙ্গ বিকৃত তাকে ব্যঙ্গ বলা হতো। বিকৃত অঙ্গের মানুষকে দেখে শিশুরা উপহাস করে, শুধু শিশুরা কেন বয়স্কদেরও অনেকে বিকৃত অঙ্গধারীদের নিয়ে ঠাট্টা করে, অযথা পরিহাস করে। অনেকে তাদের জন্মকে অভিশাপ ও পিতা-মাতার পাপের পরিণাম গণ্যে নানা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করে। সমাজ তাদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে না। যেখানে বিকৃত অঙ্গ সেখানে উপহাস, বিদ্রুপ আর ঠাট্টা যেন অনিবার্য ছিল। তাই কালক্রমে বিকৃত অঙ্গের অধিকারী তথা ‘ব্যঙ্গ’ শব্দটি উপহাস-বিদ্রুপ আর ঠাট্টা-মজার সমার্থক হয়ে যায়।
 
 
ফস্টিনস্টি নিয়ে ফষ্টিনষ্টি
 
ফষ্টিনষ্টি বা ফস্টিনস্টি শব্দের অর্থ হাসিঠাট্টা, লঘু পরিহাস, ফাজলামি প্রভৃতি। এটি অতৎসম শব্দ। সে হিসেবে বানান হওয়া উচিত ‘ফস্টিনস্টি’। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দটির বানান মূর্ধন্য-ষ দিয়ে লেখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন পণ্ডিতের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, উচ্চারণের কথা ভেবে অতৎসম সত্ত্বেও ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে অনেকে ফষ্টিনষ্টি লেখার পক্ষপাতী। তাই তারা ‘ফষ্টিনষ্টি’ লিখেন। বাংলা একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ্যাকাদেমিকে অনুসরণ করতে গিয়ে ‘ফস্টিনস্টি’ শব্দটিকে ‘ফষ্টিনষ্টি’ করে দিয়েছেন।
‘বাংলা একাডেমি’ প্রণীত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী অতৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ প্রয়োগ নিষিদ্ধ। সেখানে কেবল উচ্চারণের দোহাই দিয়ে অতৎসম ‘ফষ্টিনষ্টি’ শব্দকে প্রমিত ঘোষণা, বাংলা ভাষা নিয়ে একাডেমির ফষ্টিনষ্টির একটি খারাপ নজির। অবশ্য এরূপ আরো নজির রয়েছে।
উচ্চারণ অনুযায়ী বানান নির্ধারণ করতে গেলে, বাংলা একাডেমিকে, তাদের রীতি ভেঙে আরো অনেক অতৎসম শব্দের বানান পরিবর্তন করতে হয়।আমি মনে করি বাংলা একাডেমি নির্দেশিত প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী শব্দটির বানান ‘ফস্টিনস্টি’ হওয়া সমীচীন।
সূত্র : ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা বানান কোথায় কী লিখবেন এবং কেন লিখবেন।
——————————————
 
— — — — — — — — — — — — — — — — —
প্রতিদিন খসড়া
আমাদের টেপাভুল: অনবধানতায়
error: Content is protected !!