ঔরস বনাম বীর্য: স্থৈর্য  = স্থির+য;  ধৈর্য= ধীর+য;  কিন্তু বীর্য= বীর+য কেন?

ড. মোহাম্মদ আমীন
সংযোগ: https://draminbd.com/ঔরস-বনাম-বীর্য-স্থৈর্য-স/

ঔরস: তৎসম ঔরস (উরস্‌+অ) শব্দের মূল ও সংস্কৃত ভাষায় দ্যোতিত আভিধানিক অর্থ— (বিশেষণে) নিজ বীর্যে স্বীয় স্ত্রীর গর্ভজাত, ধর্মপত্নীজাত। বাংলায় ‘ঔরস’ শব্দটির অর্থ

ড. মোহাম্মদ আমীন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.

— বীর্য। বলা যায় এটি বীর্য শব্দের মঞ্জুভাষ রূপ। ঔরস্য (উরস্‌+য) শব্দটি ঔরস কথার প্রতিশব্দ। এটাকে অপ্রধান অর্থে বীর্য বলা হয়। সেক্ষেত্রে ঔরস  আর বীর্য সমার্থক।

বীর্য: তৎসম বীর্য শব্দের মুখ্য অর্থ— বীর পরাক্রম শৌর্য বিক্রম তেজ শক্তি প্রভৃতি। বীর্য শব্দের অপ্রধান অর্থ— শুক্র রেত বা ঔরস। ইংরেজিতে যাকে semen বলা হয়। আধুনিক  বাংলা অভিধানমতে, সংস্কৃত বীর্য (বীর+য) অর্থ— (১)বীরত্ব, পরাক্রম, শৌর্য, বিক্রম; (২)তেজ, শক্তি; (৩) শুক্র। অপ্রধান শুক্র শুক্রাণু রেত প্রভৃতি অর্থে বীর্য ও ঔরস সমার্থক।
 শুক্র রেত বা semen অর্থে আভিধানিকভাবে ‘ঔরস’ শব্দটি সমধিক যৌক্তিক। ‘বীর্য ’শব্দটি বীরদ্যোতক  (বীর পরাক্রম শৌর্য বিক্রম তেজ শক্তি ) অর্থে অধিক যৌক্তিক। যদিও রেত শুক্র বা শুক্রাণু অর্থে বীর্য শব্দটির সাধারণ প্রচলন ঔরসের চেয়ে অধিক। তবে মঞ্জুভাষ হিসেবে এই অর্থে ‘ঔরস’ শব্দটি ব্যবহার করা সমীচীন। 
সংস্কৃত নিয়মানুসারে ধৈর্য অর্থাৎ “যাহা ধীরতা থেকে প্রসূত”, স্থৈর্য মানে “যাহা স্থিরতা থেকে উদ্ভূত” (ই+অ=ঐ মাত্রা) । যেমন কি রাঘব মানে যিনি “রঘু থেকে এসেছেন” (অ+অ= আ), মৈথিল/মৈথিলী মানে “যাহা বা যিনি মিথিলা থেকে”, সৌর্য মানে ‘ সূর্য থেকে/সম্বন্ধীয় ‘ (উ+অ= ঔ মাত্রা ধ্বনি), ধার্তরাষ্ট্র মানে ‘ধৃতরাষ্ট্রের পুত্র’, অংশ থেকে আংশিক, সমাজ- সম্বন্ধিত হলো সামাজিক, অর্থ থেকে আর্থিক, ইত্যাদি। বীর্য কেবল বীর মাত্র থেকে/- তে হয় না, তাই বীরের বীরত্ব !  বীর্য অর্থ তেজ, ঊর্জা, শক্তি, যাহা থেকে পরবর্তী প্রজন্ম উৎপাদন হয়। আমাদের বাংলা ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার “বীজ” শব্দটিও বীর্য সম্বন্ধিত।
স্থৈর্য  = স্থির+য;  ধৈর্য= ধীর+য;  কিন্তু বীর্য= বীর+য কেন?
 ‘স্থৈর্য’ ও ‘ধৈর্য’ শব্দের নির্মাণে যথাক্রমে ‘স্থির’ ও ‘ধীর’ শব্দের সঙ্গে প্রত্যয় ‘য’ যুক্ত হয়ে আদ্যস্বরের ‘বৃদ্ধি’ [ই, ঈ>ঐ] ঘটিয়েছে, একই প্রত্যয় ‘য’ ‘বীর্য’ শব্দের নির্মাণে যা ঘটায়নি।
এটা কি বৃদ্ধির নিয়ম থেকে বিচ্যুতি?  না, ওটা বিচ্যুতি নয়; ওটা নিয়মেরই অংশ।  জ্যোতিভূষণ চাকীর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম প্রকাশ ১৯৯৬, তৃতীয় মুদ্রণ ২০১৩) পৃ ১২৩  দেখুন: “১৫.২ প্রত্যয়ের স্বরগত পরিবর্তন: “প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বরগত পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনগুলির নাম গুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।”
 উদ্ধৃতির ভেতরে বলা হয়েছে, ‘কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বরগত পরিবর্তন ঘটে।’ যার মানে স্বরগত পরিবর্তনটি সব ক্ষেত্রে ঘটে না, যেমন আমাদের আলোচনাধীন ‘বীর্য’ শব্দটির নির্মাণের ক্ষেত্রে ঘটেনি।
জানা অজানা অনেক মজার বিষয়: https://draminbd.com/?s=অজানা+অনেক+মজার+বিষয়
শুবাচ গ্রুপের সংযোগ: www.draminbd.com
শুবাচ যযাতি/পোস্ট সংযোগ: http://subachbd.com/
আমি শুবাচ থেকে বলছি
error: Content is protected !!